কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম-ই ছিল ৭১ এর জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম,মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র চেতনা।
কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম-ই ছিল ৭১ এর জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম,মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র চেতনা।
বর্তমানে নাস্তিক আর ইসলামবিদ্বেষিরা চেতনা শব্দের ব্যবহার করে অপপ্রচার করে মহান স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ নাকি ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার জন্য হয়েছে। তারা এসকল ক্ষেত্রে একান্ত নিজস্ব মত ব্যক্ত করে থাকে । এরা বুঝতে চায়না যে গুটিকয়েক নাস্তিক আর ইসলামবিদ্বেষির মত , ১৫ জন রিটকারীর মত বাংলাদেশের মত নয়, মুসলমানের মত নয় , জনগনের মত নয়। এরা জনগনের প্রতিনিধিত্ব করেনা , জনগনের কাছে পরিত্যাজ্য । মিডিয়ায় টকশো এর মতই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের মত নয় তা এরা জানেনা , জানতেও চায়না।
আসলে প্রকৃত সত্য কি ? মুক্তিযুদ্ধ কি ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হয়েছিল নাকি ইসলাম এর জন্য ? তৎকালীন ৯৫ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশের মুসলমান কি নাস্তিক আর ইসলামবিদ্বেষী হবার জন্য যুদ্ধ করেছিল? দেশের আপামর জনগণ কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে তাই বুঝে? বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অগনিত মানুষ কি আত্মাহুতি দিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের জন্যে, জাতির ইসলাম ও মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার জন্যে?
ইতিহাস কি বলে ?
১. মুসলিম লীগ ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগে পরিণত হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা সম্মেলনে প্রস্তাবিত প্রথম মেনিফেস্টো হিসাবে জনাব শামসুল হক (যিনি আওয়ামী লীগের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন) “মুল দাবী” শীর্ষক একটি পুস্তিকা পাঠ করেন। এতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয় “পাকিস্তান খেলাফত অথবা ইউনিয়ন অব পাকিস্তান রিপাবলিকস বৃটিশ কমনওয়েলথের বাইরে একটি স্বাধীন সার্বভৌম ইসলামী রাষ্ট্র হবে—–”গঠনতন্ত্রের ১০ নং ধারায় বলা হয় “জনগণের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত জ্ঞান, তার উচ্চ নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় নীতিমালা বিস্তার করা”। [সুত্রঃ বদরুদ্দীন উমর, পুর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি থেকে উদৃত; আবু আল সাঈদ, আওয়ামী লীগের ইতিহাস ১৯৪৯-১৯৭১, সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৯৩, পৃঃ১৯৭-২০০]। কাজেই আওয়ামী লীগের জন্মের সময় ধর্মনিরপেক্ষতা নয় বরং সম্মানিত ইসলামের প্রতি বিশ্বাস ও অঙ্গিকার ব্যক্ত করেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে।এমনকি সম্মানিত খিলাফতের আদলে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার ও ব্যক্ত করা হয়েছে।
২. ৭০ এর নির্বাচনি ইশতিহারে ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল কি না ?

১৯৭০ সালের ৭ ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য ১৯৭০ সালের ৬ ই জুন আওয়ামী লীগ ইশতেহার প্রকাশ করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ - সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল - নুহ উল আলম লেলিনের রচনা/সম্পাদনায় সপ্তম পেজের " মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করুন " অংশটুক লিখা রয়েছে- "৬-দফা বা আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচী ইসলাম বিপন্ন করে তুলছে বলে যে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে সেই মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য আমি শেষবারের মতো আহ্বান জানাচ্ছি। অঞ্চলে অঞ্চলে এবং মানুষে মানুষে সুবিচারের প্রত্যাশী কোনও কিছুই ইসলামের পরিপন্থী হতে পারেনা। আমরা এই শাসনতান্ত্রিক নীতির প্রতি অবিচল ওয়াদাবদ্ধ যে, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত ইসলামী নীতির পরিপন্থী কোনও আইনই এ দেশে পাস হতে বা চাপিয়ে দেওয়া যেতে পারেনা "
(মুজিবের রচনা সংগ্রহ, বাংলাদেশ কালচারাল ফোরাম ৮৪-৮৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)... নির্বাচনকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বেতার ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান, সে দেশে ইসলামবিরোধী আইন পাসের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই যাদের ঈমানই আদতে নাজুক আর ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা ফায়েদা করে তোলার কাজে। অতএব আমরা যারা আল্লাহর মজলুম বান্দাদের জন্য সংগ্রাম করছি, তারা ইসলামের বিরোধিতা করা তো দূরের কথা বরং ইসলামের বিধান মতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারই উমেদার, আর সে ব্যাপারে প্রতিবন্ধক হলেন তারাই যারা ইসলাম বিপন্নের জিগির তুলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চান।’’
শেখ সাহেবের ভাষ্যমতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সম্মানিত ইসলাম উনার খিলাপ কাজ করে নাজুক ঈমান আর দুনিয়ার ফায়দার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করেছে তা প্রতীয়মান হয়।
২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও সরকার পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদিস শরীফ খিলাপ কোন আইন পাস হবেনা বলেই ক্ষমতা এসেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ২০.২ অনুচ্ছেদে এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ ১৯৭০ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে মুসলমানের কাছে এই ওয়াদাবদ্ধ হয়ে যে তারা ইসলামের খিলাপ কোন কাজ করবেনা। যার কারণে মুসলমান বিশ্বাস করে তাদের ভোট দিয়েছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধর্ম নিরপেক্ষ বলে মিথ্যাচার করে তারা কি জানেনা আওয়ামীলীগ ইসলাম উনার দোহাই দিয়েই ১৯৭০,২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেছে?
৩. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর তাদের সংবিধান কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনায় তদানীন্তন “পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে গড়ে তোলার” কথা স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছিলো। (দ্রষ্টব্য- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, ২য় খ-,সংযোজন ১, পৃ.৭৯৩)। সেই খসড়া সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সন্নিবেশিত হয়েছিল - “(১) পবিত্র কুরআন শরীফ- পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী আইন পাস করা হবে না,(২) পবিত্র কুরআন ও ইসলামিয়াত শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে,(৩) মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী নৈতিকতা উন্নয়ণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।” (দ্রষ্টব্যঃ ঐ,২য় খ-,পৃ.৭৯৪)
৪. ১৯৭১ এর ১৪ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে নির্দেশাবলী প্রদান করা হয় তার শীর্ষেই “আল্লাহু আকবার” লিখা হয়। তারপর স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, “------বাঙ্গালীর অপরাধ মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্ট পৃথিবীতে,মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশমত সম্মানের সাথে শান্তিতে সুখে বাস করতে চেয়েছে। বাঙ্গালীর অপরাধ মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশমত অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলবার সংকল্প ঘোষণা করেছে।————আমাদের সহায় পরম করুণাময় সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য। এ সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অটল থাকুন। স্মরণ করুন“ মহান আল্লাহ পাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয় সুখকর।” বিশ্বাস রাখুন “ মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।” ( (দ্রষ্টব্যঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮২, ৩য় খ-, স্বাধীনতা ঘোষণার লক্ষ্য), পৃ.১৯-২২)
আল্লাহ আকবর,মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশিত পথে চলা,মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি বিশ্বাস,মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্যের প্রত্যাশা ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বাণী- এ সবই ছিলো সেদিনকার মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মর্মকথা, স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শিক চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ও ভাবাদর্শ।
৫. স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধকে ‘জিহাদ’ বলে প্রচার করা হতো
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ করে জিহাদ বলে প্রচার করা হতো। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের এক কথিকায় বলা হয়-“ওরা আমাদের সাথে যে ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তা হচ্ছে ন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায় কে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ।কোরানের দৃষ্টিতে ওরা শয়তানের বন্ধু ও দোযখী। অতএব মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য। ......অতএব, হে বাঙালী ভাইবোনেরা, আসুন আমরা অন্যায়কারী পশ্চিমা হানাদার পশু ও এদের পদলেহী দালাল কুকুরদের বিরুদ্ধে সার্বিক জেহাদ চালিয়ে আমরা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হই। বিজয় আমাদের আমাদের সুনিশ্চত। "নাসরু-মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহান কারীব"(আবু রাহাত মোঃ হাবীবুর রহমান রচিত) [তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, পঞ্চমখণ্ড, পৃষ্ঠা- ২৮২-২৮৫]
৬. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা- ২৩২ পৃষ্ঠায় ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ কলকাতা বেতার স্টেশন থেকে বিশ্ববাসীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। সর্বশেষে বঙ্গবন্ধু বলেন- May Allah bless you and help in your struggle for freedom. JOY BANGLA. যার সোজা অর্থ- “এ মুক্তিসংগ্রামে মহান আল্লাহ পাক তোমাদের উপর রহমত করুণ এবং সাহায্য করুন। জয় বাংলা।“
৭. মুক্তিযুদ্ধ যে ইসলামের চেতনাই হয়েছিল তার অন্যতম প্রতিষ্ঠিত দলিল ১৯৭১ এর ৭ মার্চ এর শেখ মুজিবর রহমান সাহেবের ভাষন । যার কথা সবারই জানা। রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বললেন “মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়াছি, রক্ত আরো দেব, বাংলাদেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ “।
এই পবিত্র শব্দের উপর ভিত্তি করেই লক্ষ লক্ষ মুসলমানেরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন, শহিদ হয়েছেন। এই একটি মাত্র শব্দ-ই বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে।একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাংগা রাইফেল কাধে নিয়ে পাকিস্থানী বাহীনির আধুনিক অস্ত্রের সামনে কোন বলে নিজের বুক পেতে দিয়েছেন এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই।
৮.মুসলমান উনাদের রক্তের উপর দাঁড়িয়েই যে বাংলাদেশ তার প্রমান নাম না জানা লক্ষ লক্ষ মুসলমান ছাড়াও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত - ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠদে, ৬৮ জন বীরউত্তম , ১৭৫ বীর বিক্রম , ৪২৬ বীর প্রতীকদের অর্থাৎ মোট খেতাব প্রাপ্ত - ৬৭৬ জন এর মাঝে মুসলিম হলেন - ৬৭১ জন, বিধর্মী মাত্র - ০৪ জন। সংখ্যা অনুপাতে মুসলিম হলেন - ৯৯.২৬%। সুতরাং খেতাবপ্রাপ্ত শহীদের তালিকা অনুযায়ী এটাই প্রমানিত হয় যে যুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে এবং ৩০ লক্ষ শহীদের মাঝে মুসলিমের অনুপাত ৯৯% এরও বেশী।যে দেশের ৯৯.২৬% ধর্মের লোক সে দেশ সৃষ্টির যুদ্ধে বীরত্বের জন্য খেতাব পেয়েছে সে দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ যারা বানাতে চায় তারা ইতিহাস সম্পর্কে গন্ডমুর্খ , বকলম।
৯. মুক্তিযুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন উনাদের শহীদ বলা হয় । যদি ধর্মনিরপেক্ষতার জন্যই যুদ্ধ হয় তাহলে শহীদ শব্দ আসে কি করে?
যে চেতনার সাথে দেশের তাবৎ জনগণ সংশ্লিষ্ট। যে প্রেরণা ও স্বপ্ন নিয়ে দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। যেসব মহান উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল সেসব উদ্দেশ্যাবলীই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মর্মমূলে। যে গণচেতনা, যে গণআবেগ, যে গণ আকাংখার সাথে সমষ্টিগতভাবে দেশের জনগণ সংশ্লিষ্ট, মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশের বৃহত্তর জনগণের চিন্তা-চেতনায় যে মনোভাব লালিত তাই হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্ধারক। কারো পক্ষ থেকে কোন কিছু জনগণের উপর আরোপ করলেই তা গণসমর্থিত, গণগ্রাহ্য হয়ে যায় না। বরং তা হবে আরোপিত ও চাপিয়ে দেয়া চেতনা।ইতিহাস থেকে প্রমাণিত সত্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ইসলামী চেতনায়, মুসলমান যুদ্ধ করেছেন ইসলাম পালন করার জন্যই।যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ বানাতে চায় তারা ধোকাবাজ,প্রতারক,মিথ্যাবাদী, দেশদ্রোহী ,ধর্মদ্রোহী , রাষ্ট্রদ্রোহী , সংবিধানদ্রোহী।
যারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা বলে দেশ বিক্রি করতে চায় , তাদের মুখে জুতা মারুন।
যারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা বলে দেশ বিক্রি করতে চায় , তাদের মুখে জুতা মারুন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তি বাহিনী যখন দেশের ৯৫-৯৯ শতাংশ অঞ্চল মুক্ত করে ফেলেছিল, ঠিক তখন ৩রা ডিসেম্বর ভারতীয় আরদালী বাহিনী লুটপাট করার জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশ জুড়ে নজির বিহীন লুটপাট চালিয়েছিলো। ৯৩ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ- যার মূল্য ওই সময় ছিলো ২৭ হাজার কোটি টাকা, তার সবই ভারতীয় আরদালী বাহিনী ১৫টি বিশাল জাহাজে করে বাংলাদেশ থেকে লুট করে নিয়ে যায়। অথচ সেই অস্ত্রের মালিকানা ছিলো পুরোপুরিবাংলাদেশের।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শত শত মিল কারখানার যন্ত্রপাতি, ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যাল, ঘর-বাড়ির গৃহস্থালী জিনিসপত্র পর্যন্ত বাদ যায়নি লোভী ভারতীয় লুটেরাদের হাত থেকে। এসব সম্পদ ও দ্রব্যাদির তখনকার মূল্য ছিলো আনুমানিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। শৌচাগারের বদনাগুলোও বাদ দেয়নি ভারতীয় লুটেরার দল। এছাড়াও যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রদত্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সাহায্যও লুট করে নিয়ে যায় আমাদের পরম মিত্র (!!!) ভারত।
বাংলাদেশে ভারতীয় আরদালীদের লুন্ঠনের ব্যাপারে আজিজুল করিম ‘হোয়াই সাচ এন্টি-ইন্ডিয়ান ফিলিংস এমং বাংলাদেশী?’ শিরোনামে এক নিবন্ধে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ভারতীয় মাসিক ‘অনিক’-এর রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, “ভারতীয় সৈন্যদের লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ছিল প্রায় ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার।”
http://goo.gl/oUkPKd
যারা মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা বলে দেশ বিক্রি করতে চায় , তাদের মুখে জুতা মারুন।
হিন্দু চক্রান্তে শেখ সাহেবের জেলে যাওয়ার ইতিহাস
Image result for শেখ মুজিবুর রহমান কারাবরণ ছবিহিন্দু চক্রান্তে শেখ সাহেবের জেলে যাওয়ার ইতিহাস
অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বই থেকে-------
“১৯৩৮ সালের ঘটনা। শেরে বাংলা তখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং সোহরাওয়ার্দী শ্রমমন্ত্রী। তারা গোপালগঞ্জে আসবেন। বিরাট সভার আয়োজন করা হয়েছে। এগজিবিশন হবে ঠিক হয়েছে। বাংলার এই দুই নেতা একসাথে গোপালগঞ্জে আসবেন। মুসলমানদের মধ্যে বিরাট আলোড়নের সৃষ্টি হল। স্কুলের ছাত্র আমরা তখন। আমার বয়স একটু বেশি, তাই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করার ভার পড়ল আমার উপর। আমি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী করলাম দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে। পরে দেখা গেল, হিন্দু ছাত্ররা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থেকে সরে পড়তে লাগল। ব্যাপার কি বুঝতে পারছি না। এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, সেও ছাত্র, সে আমাকে বলল, কংগ্রেস থেকে নিষেধ করেছে আমাদের যোগদান করতে। যাতে বিরূপ সম্বর্ধনা হয় তারও চেষ্টা করা হবে। এগজিবিশনে যাতে দোকানপাট না বসে তাও বলে দেওয়া হয়েছে। তখনকার দিনে শতকরা আশিটি দোকান হিন্দুদের ছিল। আমি এ খবর শুনে আশ্চর্য হলাম। কারণ, আমার কাছে তখন হিন্দু মুসলমান বলে কোন জিনিস ছিল না। হিন্দু ছেলেদের সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব ছিল। একসাথে গান বাজনা, খেলাধুলা, বেড়ান- সবই চলত।
আমাদের নেতারা বললেন, হক সাহেব মুসলিম লীগের সাথে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন বলে হিন্দুরা ক্ষেপে গিয়েছে। এতে আমার মনে বেশ একটা রেখাপাত করল ................................................................................................................................... হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে একটু আড়াআড়ি চলছিল। গোপালগঞ্জ শহরের আশপাশেও হিন্দু গ্রাম ছিল। দু’একজন মুসলমানের উপর অত্যাচারও হল। আবদুল মালেক নামে আমার এক সহপাঠী ছিল। সে খন্দকার শামসুদ্দীন সাহেবের আত্মীয় হত। একদিন সন্ধ্যায়, আমার মনে হয় মার্চ বা এপ্রিল মাস হবে, আমি ফুটবল মাঠ থেকে খেলে বাড়িতে এসেছি; আমাকে খন্দকার শামসুল হক ওরফে বাসু মিয়া মোক্তার সাহেব (পরে মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন) ডেকে বললেন, “মালেককে হিন্দু মহাসভা সভাপতি সুরেন ব্যানার্জির বাড়িতে ধরে নিয়ে মারপিট করছে। যদি পার একবার যাও। তোমার সাথে ওদের বন্ধুত্ব আছে বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আস।” আমি আর দেরি না করে কয়েকজন ছাত্র ডেকে নিয়ে ওদের ওখানে যাই এবং অনুরোধ করি ওকে ছেড়ে দিতে। রমাপদ দত্ত নামে এক ভদ্রলোক আমাকে দেখেই গাল দিয়ে বসল। আমিও তার কথার প্রতিবাদ করলাম এবং আমার দলের ছেলেদের খবর দিতে বললাম। এর মধ্যে রমাপদরা থানায় খবর দিয়েছে। তিনজন পুলিশ এসে হাজির হয়ে গিয়েছে। আমি বললাম, “ওকে ছেড়ে দিতে হবে, নাহলে কেড়ে নেব।” আমার মামা শেখ সিরাজুল হক (একই বংশের) তখন হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন। তিনি আমার মা ও বাবার চাচাতো ভাই। নারায়ণগঞ্জে আমার এক মামা ব্যবসা করেন, তার নাম শেখ জাফর সাদেক। তার বড় ভাই ম্যাট্রিক পাস করেই মারা যান। আমি খবর দিয়েছি শুনে দলবল নিয়ে ছুটে এসেছেন। এর মধ্যেই আমাদের সাথে মারপিট শুরু হয়ে গেছে। দুই পক্ষে ভীষণ মারপিট হয়। আমরা দরজা ভেঙে মালেককে কেড়ে নিয়ে চলে আসি।
শহরে খুব উত্তেজনা। আমাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। সেদিন রবিবার। আব্বা বাড়ি গিয়েছিলেন। পরদিন ভোরবেলায় আব্বা আসবেন। বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে চৌদ্দ মাইল দূরে। আব্বা শনিবার বাড়ি যেতেন আর সোমবার ফিরে আসতেন, নিজেরই নৌকা ছিল। হিন্দু নেতারা রাতে বসে হিন্দু অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে একটা মামলা দায়ের করল। হিন্দু নেতারা থানায় বসে এজাহার ঠিক করে দিলেন। তাতে খন্দকার শামসুল হক মোক্তার সাহেব হুকুমের আসামি। আমি খুন করার চেষ্টা করেছি, লুটপট দাঙ্গাহাঙ্গামা লাগিয়ে দিয়েছি। ভোরবেলায় আমার মামা মোক্তার সাহেব, খন্দকার শামসুদ্দীন আহমেদ এমএলএ সাহেবের মুহুরি জহুর শেখ, আমার বাড়ির কাছের বিশেষ বন্ধু শেখ নুরুল হক ওরফে মানিক মিয়া, সৈয়দ আলী খন্দকার, আমার সহপাঠী আবদুল মালেক এবং অনেক ছাত্রের নাম এজাহারে দেয়া হয়েছিল। কোনো গণ্যমান্য লোকের ছেলেদের বাকি রাখে নাই। সকাল ন’টায় খবর পেলাম আমার মামা ও আরও অনেককে গ্রেফতার করে ফেলেছে। আমাদের বাড়িতে কি করে আসবে- থানার দারোগা সাহেবদের একটু লজ্জা করছিল! প্রায় দশটার সময় টাউন হল মাঠের ভিতর দাঁড়িয়ে দারোগা আলাপ করছে, তার উদ্দেশ্য হল আমি যেন সরে যাই। টাউন হলের মাঠের পাশেই আমার বাড়ি। আমার ফুফাতো ভাই, মাদারীপুর বাড়ি। আব্বার কাছে থেকেই লেখাপড়া করত, সে আমাকে বলে, “মিয়াভাই, পাশের বাসায় একটু সরে যাও না” বললাম, “যাব না, আমি পালাব না। লোকে বলবে, আমি ভয় পেয়েছি।”
এই সময় আব্বা বাড়ি থেকে ফিরে এসেছেন। দারোগা সাহেবও তার পিছে পিছে বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন। আব্বার কাছে বসে আস্তে আস্তে সকল কথা বললেন। আমার গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখালেন। আব্বা বললেন, “নিয়ে যান”। দারোগা বাবু বললেন, “ও খেয়েদের আসুক, আমি একজন সিপাহি রেখে যেতেছি, এগারটার মধ্যে যেন থানায় পৌঁছে যায়। কারণ, দেরি হলে জামিন পেতে অসুবিধা হবে।” আব্বা জিজ্ঞাসা করলেন, “মারামরি করেছ?” আমি চুপ করে থাকলাম, যার অর্থ “করেছি”।
আমি খাওয়া-দাওয়া করে থানায় চলে এলাম। দেখি আমার মামা, মানিক, সৈয়দ আরও সাত-আটজন হবে, তাদেরকে পূর্বেই গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এসেছে। আমার পৌঁছার সাথে সাথে কোর্টে পাঠিয়ে দিল। হাতকড়া দেয় নাই, তবে সামনেও পুলিশ পিছনেও পুলিশ। কোর্ট দারোগা হিন্দু ছিলেন, কোর্টে পৌঁছার সাথে সাথে আমাদের কোর্ট হাজতের ছোট কামরার মধ্যে বন্ধ করে রাখলেন। কোর্ট দারোগার রুমের পাশেই কোর্ট হাজত। আমাকে দেখে বলেন, “মজিবর খুব ভয়ানক ছেলে। ছোরা মেরেছিল রমাপদকে। কিছুতেই জামিন দেওয়া যেতে পারে না”। আমি বললাম, “বাজে কথা বলবেন না, ভাল হবে না।” যারা দারোগা সাহেবের সামনে বসেছিলেন, তাদের বললেন, “দেখ ছেলের সাহস!” আমাকে অন্য সকলে কথা বলতে নিষেধ করল। পরে শুনলাম, আমার নামে এজাহার দিয়েছে এই কথা বলে যে, আমি ছোরা দিয়ে রমাপদকে হত্যা করার জন্য আঘাত করেছি। তার অবস্থা ভয়ানক খারাপ, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে রমাপদের সাথে আমার মারামারি হয় একটা লাঠি দিয়ে, ও আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে চেষ্টা করলে আমিও লাঠি দিয়ে প্রত্যাঘাত করি। যার জন্য ওর মাথা ফেটে যায়। মুসলমান উকিল মোক্তার সাহেবরা কোর্টে আমাদের জামিনের আবেদন পেশ করল। একমাত্র মোক্তার সাহেবকে টাউন জামিন দেয়া হল। আমাদের জেল হাজতে পাঠানোর হুকুম হল। এসডিও হিন্দু ছিল, জামিন দিল না। কোর্ট দারোগা আমাদের হাতকড়া পরাতে হুকুম দিল। আমি রুখে দাঁড়ালাম, সকলে আমাকে বাধা দিল, জেলে এলাম। সাবজেল, একটা মাত্র ঘর। একপাশে মেয়েদের থাকার জায়গা, কোনো মেয়ে আসামি না থাকার জন্য মেয়েদের ওয়ার্ডে রখল। বাড়ি থেকে বিছানা, কাপড় এবং খাবার দেবার অনুমতি দেয়া হল। শেষ পর্যন্ত সাত দিন পরে আমি প্রথম জামিন পেলাম। দশ দিনের মধ্যে আর সকলেই জামিন পেয়ে গেল।
হক সাহেব ও সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কাছে টেলিগ্রাম করা হল। লোকও চলে গেল কলকাতায়। গোপালগঞ্জে ভীষণ উত্তেজনা চলছিল। হিন্দু উকিলদের সাথে আব্বার বন্ধুত্ব ছিল। সকলেই আমার আব্বাকে সম্মান করতেন। দুই পক্ষের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়ে ঠিক হল মামলা তারা চালাবে না। আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পনের শত টাকা। সকলে মিলে সেই টাকা দিয়ে দেওয়া হল। আমার আব্বাকেই বেশি দিতে হয়েছিল। এই আমার জীবনে প্রথম জেল।
(অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান, পৃষ্ঠা: ১০-১৩)



প্রথম আলোর জঘন্য মিথ্যাচার এবং হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার মুল কারন

Image result for ১ম আলো
প্রথম আলোর জঘন্য মিথ্যাচার এবং হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার মুল কারন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মাত্র ১০% হলেও সরকারী চাকুরীতে তাঁদের উপস্থিতি ২৯%,
২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে দৈনিক প্রথম আলো ‘১০ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।যেখানে দেখানো হয় কিভাবে ১৯৫১ সাল থেকে তুলনামূলকভাবে হিন্দু জনগোষ্ঠী ২২% থেকে কমে ২০১১ সালে ৮.৫% এ এসে ঠেকেছে ।
গত পাঁচ দশকে আনুমানিক ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বী দেশান্তরিত হয়েছে। সে হিসেবে গড়ে বছরে দেশ ছেড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৬১২ জন। https://goo.gl/Qi4sxx, http://archive.is/nCk5V 
ব্যাপারটা খুব ভয়ানক তাইনা? ১০ বছরে (২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্য) ৯ লাখ হিন্দু লাপাত্তা(?)।আবার ৫০ বছরে আনুমানিক ১ কোটি ১৩ লাখ!! 
এক ভীতিকর চিত্র ফুটে উঠে দেশে বিদেশে।চলে প্রপাগান্ডাও।সেই প্রপাগান্ডার মূল বয়ান হচ্ছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিরাপদ নয়, তাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন এবং সেজন্য সংখ্যাগুরু মুসলিমরাই দায়ী।সংখ্যাগুরু মুসলিমদের অত্যাচার, নির্যাতনের ফলেই এই বিশাল সংখ্যক হিন্দু ‘হারিয়ে যায়’! আসলেই কি তাই?

ব্লগ সাইট Alal-o-Dulal এর এডিটরিয়াল টিম এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ের ডাটা নিয়ে স্টাডি করে নিন্মোক্ত উপসংহারে পৌঁছে । তাঁদের হিসেব মতে ‘হারিয়ে যায় হিন্দু’ সংখ্যা আসলে ৫,৪৭,৯৫৩ (পাঁচ লাখ সাতচল্লিশ হাজার নয়শত তিপ্পান্ন)।


চিত্র- ২০০১ এবং ২০১১ সালের হিন্দু জনগোষ্ঠীর তুলনামূলক চিত্র [সোর্সঃ Alal-o-Dulal,Is this the Bangladesh we wanted? Analyzing the Hindu Population Gap (2001-2011), 12 April, 2014, Available at https://alalodulal.org/2014/04/12/hindu-population-gap/ ]

আলাল ও দুলাল সাইটের কাছেও প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ হিন্দু জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়ার কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে তারাও যে ফেলাসি অতিক্রম করতে পারেনি সেটা তাদের ক্যালকুলেশন ও উপসংহার থেকে স্পষ্ট। যে বিষয়কে বেইস ধরে এখানে পর্যালোচনা চলেছে সেটা হচ্ছে এক ধরণের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ ধরনের।অর্থাৎ,আগের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতাকে ধরে নিয়ে একটা আপাত প্রত্যাশিত (Predicted) ধারণার ভিত্তিতে পর্যালোচনা চালিয়েছে প্রথম আলো এবং আলাল ও দুলাল টিম। ধারণা করা হয়েছিল ১.৩৭% হারে হিন্দু জনসংখ্যা বাড়বে এবং সেই অনুপাতে একটা কল্পিত জনসংখ্যাকে ধরে নিয়ে বলা হয়েছে ৯ লক্ষ (প্রথম আলো) বা ৫ লক্ষ (আলাল ও দুলাল সাইট) হারিয়ে গেছে!
জনসংখ্যার হিসেবে এ ধরনের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ বা ধারণা একটি প্রচলিত ম্যাথডলজি।কিন্তু যেহেতু বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর গবেষকদের উচিত ছিল অতি প্রচলিত এই ম্যাথডলজিকে অনেকটা ‘প্রতিষ্ঠিত সত্য’মনে না করে একটু ক্রিটিকাল হওয়া।যে মাপ যন্ত্র দিয়ে মাপা হবে সেটিই যদি ফুটা হয় তাহলে ওজন কিভাবে সঠিক হবে?
মুক্তমনা ব্লগে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ্যার গবেষক ড. দীপেন ভট্টাচার্যের আর্টিকেল থেকে আমরা হিন্দু জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির সঠিক চিত্রটি দেখতে পাই।


টেবিল-১ঃ ১৯৫১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত হিন্দু জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির শতকরা হার (উৎসঃ দীপেন ভট্টাচার্য, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যাগত ভবিষ্যৎ, মুক্তমনা ব্লগ, জানুয়ারী ১২, ২০১৪, https://blog.mukto-mona.com/2014/01/12/39192/)
উপরোক্ত চিত্র থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, হিন্দু জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সমগ্র জনসংখ্যা তুলনায় অনেক অনেক কম। সমগ্র জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার যেখানে গড়ে ৪.৪% সেখানে হিন্দু বৃদ্ধির হার মাত্র ০.৭%! ১৯৯১-২০০১ সাল থেকেই হিন্দু জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির হার আগের দশ বছরের তুলনায় নেমে এসেছে ০.১২%। অথচ তখন সামগ্রিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ২.২৫%।তাহলে ২০১১ সালে এসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরো কিভাবে ১.৩৭% ধরে নিয়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির ধারনা (prediction)করতে পারে? এটাকি ম্যাথডলজিকাল ভ্রান্তি নয়??

মুসলিম জনসংখ্যা স্বাভাবিক হারে বাড়া মানেই আনুপাতিক হারে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়া,কারন হিন্দু জনগোষ্ঠীর মাঝে আনুপাতিক হারে সন্তান জন্ম নিচ্ছে কম।এর জন্য দায়ী কি সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠী?

হিন্দু জনগোষ্ঠী কমার ঐতিহাসিক প্রবণতা 
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের আগে কলকাতা ইউনিভার্সিটির ভু-তত্ত্ব বিদ্যা ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডক্টর এস পি চ্যাটার্জির ‘The Partition of Bengal-A Geographical Study’ নিবন্ধে তৎকালীন হিন্দু-মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যার একটি চিত্র পাওয়া যায়।



৪৭ এ ভারতের চিত্র যেখানে মুসলিম-হিন্দু সংখ্যার অনুপাত দেখা যাচ্ছে (বামে), পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র ৪৭ সালের দেশভাগের পর (ডানে)
শুরুতে ডক্টর চ্যাটার্জি ১৮৮১ সাল থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত অভিভক্ত বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ও উপজাতি বা নৃতাত্ত্বিক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর একটি তুলনা মূলক চিত্র তুলে ধরে (চিত্র ৩ এবং চিত্র ৪) ।
চিত্র ৩ঃ ১৮৮১ সাল থেকে ১৯৪১ সালে হিন্দু-মুসলিম এবং উপজাতী জনসংখ্যার তুলনা (The Partition of Bengal-A Geographical Study,  1947)

উপরোক্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলে; It is clear that the proportion of Hindu has been steadily decreasing, and on the other hand, that of Muslims continually increasing from one census year to the other (Page 2).If the difference goes on multiplying at the present rate, a time will come when the Bengali Hindus will be in a hopeless minority in their homeland).  In the year 2041 Hindus will form less than one-sixth of the total population of Bengal (page 3). The above figures may be interpreted in such a way so as to come to the conclusion that in Bengal the social and economic structure of Muslims is somewhat different from that of Hindus. Hence, on this ground alone Bengali Hindus may claim a separate Homeland for themselves (page 5).  ( Dr. S. P. Chatterjee, The Partition of Bengal-A Geographical Study, Calcutta Geographical Society, Publication No.8, 1947)

Partition of Bengal geo study

চিত্র ৪ঃ হিন্দু মুসলিম জনসংখ্যার পার্থক্য ১৮৮১-১৯৪১ (প্রাগুক্ত)
অর্থাৎ, "এটি পরিষ্কার যে হিন্দুর সংখ্যা আনুপাতিক হারে কমছে এবং অন্যদিকে আদমশুমারির পর আদমশুমারি মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে।এই পার্থক্যের প্রবণতা যদি বর্তমান হারে চলতে থাকে,তাহলে এমন সময় আসবে যখন বাঙ্গালী হিন্দুরা হতাশাজনকভাবে নিজের দেশেই সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। ২০৪১ সালে বাংলায় হিন্দু জনসংখ্যা হবে মোট জনসংখ্যার ৬ ভাগের ১ ভাগেরও কম।উপরোক্ত চিত্র এমন ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যেখান থেকে এই উপসংহারে পৌঁছা যায় যে বাংলায় আর্থ-সামাজিক গঠনের দিক দিয়ে মুসলিদের অবস্থা হিন্দুদের চেয়ে ভিন্ন।অতএব, কেবল এই বাস্তবতায়ই হিন্দুরা নিজেদের জন্য একটি আলাদা ভুখন্ডের দাবী করতে পারে।"  

উপরোক্ত গবেষণায় আরো দেখা যায় সেসময় পুর্ববঙ্গে নিম্নবর্ণের হিন্দু(দলিত/হারিজন/অচ্যুত)ছিল প্রায় ৩১ লাখ (চিত্র ৫) ।পুরো হিন্দু কমিউনিটিকে এক ইউনিট ধরে তখনকার মুসলিম বাংলায়(পুর্ব বাংলায়>পূর্ব পাকিস্তান> বাংলাদেশ)হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৭৯,৮৮,৪৫০ জন (প্রাগুক্ত) ।
চিত্র-৫ঃ দলিত শ্রেণীর হিন্দু (দুই বাংলায়)[প্রাগুক্ত] 
এখানে বলে নেয়া দরকার যে, ডক্টর চ্যাটার্জীর গবেষণা ১০০% বাস্তবায়ন হয়েছে এমন নয়।ফাইনাল পার্টিশনের সময় দেখা গেল মুসলিম বাংলার কয়েকটি জেলা পড়েছে হিন্দু বাংলায়,আর হিন্দু বাংলার কয়েকটি মুসলিম বাংলায় ।ফলে, জনসংখ্যার বন্টনে কিঞ্চিত পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক।সেই হিসেবে আমি দলিত হিন্দুর সংখ্যা ২৭ লক্ষের জায়গায় ৩১ লাখ উল্লেখ করেছি।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যার নিম্নগতি ১৯৪৭ সালেরও বহু আগে থেকে শুরু হয়েছে এবং এর স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা চালু রয়েছে।একই চিত্র আমরা দেখতে পাই পশ্চিম বাংলায়।

টেবিল-২ঃ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু-মুসলিম জনসংখ্যার চিত্র ১৯৫১ থেকে ২০১১ (B.P. Syam Roy, Bengal’s topsy-turvy population growth, The Statesman, 28 September, 2015, http://www.thestatesman.com/news/opinion/bengal-s-topsy-turvy-population-growth/93152.html#6RPLGlm3rs71tB0y.99)
একই চিত্র আমরা দেখতে পাই পুরো ভারতজুড়ে।ভারতের আউটলোক ম্যাগাজিন ২০০৪ সালে এক রিপোর্টে উল্লেখ করে;

The first-ever census report on religion today showed a “high growth” of Muslims at 36 per cent in sharp contrast to the “decline” in the Hindu population to 20.3 per cent in the country. In terms of growth of different religious communities, Hindus showed a decline over the previous decade, their population growing by 20.3 per cent during 1991 and 2001 as compared to 25.1 per cent during 1981-91. On the other hand, the Muslim population grew by 1.5 per cent to 36 per cent during 1991-2001, compared to 34.5 per cent during 1981-91, according to “The First Report on Religion” here ( Outlook India, ‘Muslims grow at 36%, Hindus down to 20.3%’, 06 SEPTEMBER 2004, http://www.outlookindia.com/newswire/story/muslims-grow-at-36-hindus-down-to-203/247555 ). সংক্ষেপে,ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি,যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমানয়ে কমছে।

উপরোক্ত চিত্র দেখলে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, সারা ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দু জনগোষ্ঠীর তুলনায় মুসলিম জনসংখ্যার হার বেশী এবং সেটা ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলেছে।এখন নিশ্চয়ই কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনসংখ্যা কমার জন্য সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের দায়ী করবেনা, করবে কি? তাহলে একই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভিকটিম বানানো হচ্ছে কেন?

সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেইসবুক কেন্দ্রিক হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমার জন্য একমাত্র মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার ও ঘৃণা ছড়ানো হয়, সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত একজন সুস্থ মনের লিবারেল মুসলমানও এক ধরণের হীনমন্যতায় ভোগে।আর কারো কথা জানিনা,আমি নিজে এর ভিক্টিম।কিন্তু এই বিষয়ে দালিলিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি সম্পুর্ন ভিন্ন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি-কমার কারন

এই পর্যায়ে আমরা দেখতে চাই জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা কমছে কেন।আলোচনার সুবিধার্থে হিন্দু-মুসলিম দুই কমিউনিটিকে পাশাপাশি রাখতে পারি আমরা। ১৯৮০ সালের পর থেকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে জনসংখ্যা কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।পরিবার-পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যাপক প্রচার ও প্রচলন যে এক্ষেত্রে সফল সে কথা নিশ্চিত বলা যায়।

‘ছেলে হোক,মেয়ে হোক দুটি সন্তান ই যথেষ্ট’ এর যুগ পেরুনোর পর ‘দুটি সন্তানের বেশী নয়, একটি হলে ভাল হয়’ এর যুগে এসে গড় প্রজনন হার ২০১৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২.২। অর্থাৎ, একটি পরিবারে এখন গড়ে ২ টি করে সন্তান রয়েছে। দুঃখজনক হল হিন্দু পরিবারে স্বাভাবিক এই প্রবণতাও অনুপস্থিত।ফলে তাদের জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধিই হচ্ছেনা।প্রথম আলোর রিপোর্টে নিন্মোক্ত কারনগুলো উল্লেখ হয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার;

হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোট প্রজনন হার তুলনামূলকভাবে কম
দেশত্যাগ
শত্রু সম্পত্তি আইন (অর্পিত সম্পত্তি)
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতন
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাঃ ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তার আঁচ লাগে এ দেশের হিন্দুদের গায়ে।
ভারতে রেখে  সন্তানদের  স্কুলে বা কলেজে পড়াচ্ছেন অনেক পরিবার
অনেক বাবা-মা অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে ভারতে
( উৎসঃ শিশির মোড়ল, ১০ বছরে ৯ লাখ হিন্দু কমেছে, প্রথম আলো, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২)

উপরোক্ত কারনগুলোর মধ্যে আমরা ঐতিহাসিক ও বর্তমান চিত্রের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি শুধুমাত্র প্রজনন হার ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার কারণেই হিন্দু জনগোষ্ঠীর শতকরা হার কমে যাচ্ছে।কেবল মাত্র এই একটি কারণে ভবিষ্যৎ হিন্দু জনসংখ্যার একটি ধারণা পেশ করেছে মুক্তমনা ড. দীপেন ভট্টাচার্য।

টেবিল -৩ঃ  সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হিন্দু জনসংখ্যা (উৎসঃ দীপেন ভট্টাচার্য, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যাগত ভবিষ্যৎ, মুক্তমনা ব্লগ, জানুয়ারী ১২, ২০১৪,)
অর্থাৎ, প্রথম আলো উল্লেখিত কারণগুলোর প্রথমটি ব্যাতীত বাকী সবগুলো ঠেকানো গেলেও আজ থেকে ৪৫ বছর পর বাংলাদেশে শতকরা হিন্দু জনসংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ১.৫% এ! তার মানে এই নয় যে, প্রথমআলো উল্লেখিত কারনগুলো বাংলাদেশে অনুপস্থিত।

উপরোক্ত বিবেচনায় যদি হিন্দু জনগোষ্ঠীর দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে তাহলে দেখা যাবে তাঁদের মধ্যে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে শিক্ষিতের হার বেশী এবং চাকুরীতে উপস্থিতিও রয়েছে বেশী (প্রায় ২৯%)।ফলে, আধুনিক শহুরে জীবনের সামগ্রিক চিত্র হচ্ছে পরিবার ছোট্ট হয়ে আসা।সেই প্রবণতায় উচ্চ শিক্ষিত সমাজের এলিট শ্রেণীর মানুষের মাঝে সন্তান নেয়ার মানসিকতা সাধারন গ্রামের মানুষের তুলনায় বেশ কম।

১৯৪৭ সালে যেখানে দলিত শ্রেণীর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ লাখ,সেখানে ২০১৪ সালে এসে তাঁদের সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখে (Syed Tashfin Chowdhury, Dhaka Dalits push for anti-discrimination law, Aljazeera, 18 Jan 2014)। অর্থাৎ, দলিত জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি দ্বিগুণের চেয়েও বেশী।

উপসংহার

১৯৪৭ সালের হিসেবে পুর্ববঙ্গে উচ্চবর্ণের হিন্দুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লাখ।২০১১ সালে সেই সংখ্যা বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ লাখে। ৪৭ সালের দেশ ভাগের পর পুর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া হিন্দুদের মধ্যে অভিজাত শ্রেণীর হিন্দুদের সংখ্যাই বেশী ছিল।তথাপি, স্বাধীনতার পর স্বাভাবিক সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রজনন হার কমে যাওয়ায় জনসংখ্যার শতকরা অনুপাতে যে আপাত ঘাটতি দেখা যাচ্ছে সেটা দৃশ্যত উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের মধ্যেই বিদ্যমান।এ থেকে এমন উপসংহারে আসা কি ভুল হবে যে, শহুরে, উচ্চ শিক্ষিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এলিট লাইফ স্টাইলের কারণেই প্রজনন হার কম যা তাদের সামগ্রিক জনসংখ্যার নিম্নগতির জন্য প্রধানত দায়ী?