করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রথম যে ভুলটা হয়েছে,


Srf1rt7ohSpon sorlMaeyd 
করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রথম যে ভুলটা হয়েছে,
সেটা হলো মানুষকে বলা হয়েছে, এটা একটা নতুন ভাইরাস। নতুনের জন্য দ্বারা ব্যবহার করেছে ‘নবেল’ শব্দটা। যেহেতু বিষয়টি নতুন, তাই মানুষের কাছে বিষয়টি অজানা। আর অজানাকে মানুষ সব সময় ভয় করে। জানাকে কিন্তু ভয় করে না।
করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এই অজানা তত্ত্বটা ব্যবহার করেই ভুল করা হয়েছে।
যদি বলা হতো- করোনা ভাইরাস আজ থেকে ৯০ বছর আগে আবিষ্কার হওয়া একটি ভাইরাস, যা আমাদের সিজনাল জ্বর-ঠাণ্ডা-সর্দি-কাশীর তৈরী করে। মাঝে মাঝে ভাইরাসটি টাইপ চেঞ্জ করে আসে। এ বছর ভাইরাসটি নতুন একটি টাইপে আসছে, যা তুলনামূলক অসুস্থতা বেশি করতে পারে।
আমার এ কথার মধ্যে কিন্তু কোন ভুল নাই। কিন্তু মানুষ জানলো আসলে করোনা ভাইরাসটি কি ?
এবং কি ধরনের রোগ ঘটায়। এবং তার নতুন টাইপটা কি ধরনের রোগ ঘটাইতে পারে।
স্বাভাবিকভাবে সে কয়েকদিন তার জ্বর-ঠাণ্ডা-কাশী-সর্দি হতে পারে এমন বিষয়গুলো এড়ায় যাবে।
বা সতর্ক থাকবে। এর জন্য কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেমন- গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা, ঠাণ্ডা জাতীয় জিনিসগুলো এড়িয়ে যাওয়া, সব সময় চিকিৎসকের পরমর্শ নেয়া, সেকেন্ডারী ইনফেকশন রুখতে শুরুতেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা, কাশী/শ্বাস প্রশ্বাস নিতে সমস্যা মনে হইলে নেবুলাইজেশন করা, হাপানি রুগীদের সতর্ক থাকতে বলা, বেশি অসুস্থ লাগলে হাসপাতালে যাওয়া।
এগুলো না করে আমরা করলাম কি ?
মানুষকে ভয় দেখিয়ে দিলাম।
বাপরে বাপ ! এটা একটা ভয়ঙ্কর মহামারী।
এমন মহামারী পৃথিবীতে আর আগে আসে নাই।
এটা হইলেই মানুষ মারা যায়। এই ভাইরাস ধরলে আর রক্ষা নাই।
মিনিটে মিনিটে মিউটেশন করে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে,
মেরুর বরফ গোইল্লা এই ভাইরাস বের হয়ে আসছে,
মনুষ্য জাতি এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হবে
এক গির্জায় গিয়ে হাজার লোক শ্বাসকষ্টে মারা গেলো,
শরীরের রোগ প্রতিরোধ এর বিরুদ্ধে অকার্যকর,
শরীরের ভেতর সব অঙ্গপ্রতঙ্গকে এটা অকেজো করে দেয়,
ভেনটিলেটর ছাড়া উপায় নাই
সোশ্যাল ডিসেটেন্স,
লকডাউন,
কারফিউ
পুলিশের পিটানি
জরুরী অবস্থা আর্মি নামাও
জরিমানা করো
মাস্ক
গগলস,
পিপিই
হ্যান্ড স্যানেটাইজার
জীবানুনাশক ছিটাও,
হ্যান্ড গ্লাবস,
১ মি: পর পর হাত ধোও।
এক ঘোষণা ৫০ বার শোনাও,
লাশের ছবি
মর্গে যায়গা নাই,
১৫ দিন পর লাশের স্তুপ
কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর ভবিষ্যত বাণী
বাংলাদেশ ইতালি, স্পেন, আমেরিকা হয়ে গেলো বলে,
ভাইরাস থেকে পালাও সবাই
বাইরে গেলেন তো মরলেন
লাইভে ‘আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’ টাইপের ভিডিও
অজানা ভয়েস রেকর্ডিং পৌছে যাওয়া
রাস্তায় মানুষ করোনায় মরে পরে থাকছে টাইপের ছবি,
সুন্দরবনে লাশ লুকানোর গোপন তথ্য
৬ ফুট কাছে আসা মানে আমাকে হত্যা করা
পেনডেমিক এর বঙ্গানুবাদ মহামারী করা,
সেই অনুবাদের উপর ভিত্তি করে মসজিদ-মাদ্রাসা বন্ধ করা,
গার্মেন্টসে ভীড় তো লাশের স্তুপ,
শপিং করলেন তা মরলেন,
জীবিকার থেকে জীবন বড়
কোন ওসুধে করোনা সারে না, স্বাস্থ্য বিধি হইলো সব কাজ কর্ম বন্ধ করো,
ডাক্তাররা সব মরে ছাফ হয়ে যাচ্ছে, ডাক্তাররা হাসপাতাল থেকে পালাও,
আগে টেস্ট, পরে চিকিৎসা, মরলে ক্রেডিড করোনা,
মানুষ অসুস্থ হয়ে মরে গেলেও বাচাতে যাবেন না,
লাশ পচে গলে যাক, লাশ দেখতে গেলেও ভাইরাস ধরবে।
এলাকায় লাশ দাফন করলে এলাকাও ভাইরাসময় হবে।
এলাকায় করোনা হাসপাতাল করতে দিবেন না।
আতঙ্ক ছড়ালে যদি মানুষ সতর্ক হয়, তবে আতঙ্ক ছড়ানোই ভালো।
এত এত আতঙ্ক ছড়িয়ে কি আমরা সত্যিই লাভবান হয়েছি ?
করোনার বিরুদ্ধে আসলেই কি আমাদের এই আতঙ্ক নামক সতর্কতা কোন কাজ করেছে ?
প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়মকে কি আমরা বিন্দুমাত্র নড়চড় করতে পেরেছি ?
নাকি আতঙ্ক তৈরী করে আরো নিজেদের ক্ষতি করেছি।
এগুলো না করে, যদি স্বাভাবিকভাবে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সব কিছু সম্মুক্ষিন হতাম, তবে কি আরো সুন্দরভাবে করোনাকে দমন করা যেতো না ??
সময় বলে দেবে, অনেক কিছু।
জীবন না জীবিকা ?


tSpuauo1nsnore7fi Madyi 
জীবন না জীবিকা ?
করোনার জন্য লকডাউন/শ্যাটডাউনকে বৈধ করতে অনেকেই শ্লোগান তুলেছিলেন-“জীবন আগে, না জীবিকা আগে ?”
বেশি দূর যাবো না, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের কিছু খরব দেখুন-
১) মুন্সিগঞ্জে করোনা-অভাবে গৃহবধূর আত্মহত্যা!
২) রংপুরে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে দিনমজুর স্বামীর আত্মহত্যা
৩) আর্থিক অনটনে পারিবারিক অশান্তি : কুড়িগ্রামে বৃদ্ধের আত্মহত্যা (https://bit.ly/3cGvJAp)
৪) ঠাকুরগাও:
লকডাউনে অনাহার-ঋণ থেকে আত্মহত্যায় মুক্তি খুঁজলেন পশির(https://bit.ly/3cH99rp)
আচ্ছা, গত ২৪ ঘন্টার মিডিয়ার এই খবরগুলো দেখে,
আপনার কি মনে হয়েছে-
এই লোকগুলোর জন্য জীবন বড় ? না জীবিকা বড় ??
ও বুঝেছি, এ বিষয়ে আপনারা কথা বলতে ইচ্ছুক না ?
কারণ এরা তো গরীব ! আর গরীবরা তো মানুষ না।
আজকে যদি কোন ধনীর দুলাল মারা যেতো, তবে তার জন্য নিশ্চয়ই ফেসবুকে সমবেদনা ঝাড়তেন, রীপ রীপ বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতেন।
ছোটলোকরা না খেয়ে মরেছে, এটাই তো স্বাভাবিক।
এর মধ্যে সমবেদনার কি থাকতে পারে ?
সেলুট আপনার চিন্তাধারাকে!
তবে আপনাদের ধনীদের প্রতি একটা অনুরোধ করবো-
আপনাদের টাইমলাইনে- “জীবন না জীবিকা”,টাইপের স্ট্যাটাস থাকলে কষ্ট করে মুছে ফেলুন।
কারণ ধনীদের জন্য জীবন আগে, জীবিকা পরে হতে পারে।
কিন্তু দরিদ্রদের জন্য জীবন আর জীবিকা সমান জিনিস,
কোনটা, কোনটার থেকে বড় ছোট নয়।
তাই দয়া করে জীবন-জীবিকাকে তুলনা করে দরিদ্রদের সাথে নির্মম পরিহাস করবেন না।
করোনার গুজব নিরসন আপডেট (৩)


tSpuauo1nsnore6fi Madyi 
করোনার গুজব নিরসন আপডেট (৩)
১. হার্ড ইম্যুনিটি করতে গেলে আমাদের অনেক জনগণকে এর জন্য মূল্য দিতে হবে। জনসংখ্যার ঐকিক নিয়ম করে দেখুন, কত মানুষকে এর জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এবং কত মানুষ এতে মারা যাবে।
উত্তর- যারা প্রাকৃতিক এই হার্ড ইম্যুউনিটির বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তারা দুটি জিনিস এড়িয়ে যাচ্ছে। একটি কমিউনিটি, অন্যটি সময়।
হার্ড শব্দের অর্থ ‘পাল’। আপনি যখন বাংলাদেশের মানুষের হার্ড ইম্যুনিটি নিয়ে কথা বলবেন, তখন একটা বাংলাদেশ হিসেব করলে হবে না, বরং বাংলাদেশের মানুষ কতগুলো পাল বা কমিউনিটি তৈরী করে বসবাস করে সে হিসেব করতে হবে। ভাইরাস যখন ছড়াতে থাকবে, তখন সে এক বারে সব এলাকায় যাবে না, বরং ছোট ছোট কমিউনিটির মধ্য দিয়ে ছড়াবে। বাংলাদেশে মহল্লার হিসেব করলে কমপক্ষে ৪-৫ লক্ষ মহল্লা পাবেন, যেখানে মানুষের কমিউনিটি বা পাল আছে। ভাইরাসটি যখন স্প্রেড হবে, তখন সে প্রতিটি কমিউনিটিতে আঘাত করবে এবং সেই কমিউনিটিতে এক সময় হার্ড ইম্যুনিটি এচিভ হবে। এই হার্ড ইম্যুনিটি মহল্লাগুলোতে ভাইরাস বাধাপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে ব্যক্তি ও দলগত (হার্ড) উভয় ইমিউনিটিতে বাধাগ্রস্ত হয়ে এক সময় ভাইরাসটি দুর্বল হয়ে সব এলাকায় নাও পৌছাতে পারে, যা পূর্ববর্তী অনেক ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখা যায়। অর্থাৎ হিসেবটা পুরো দেশজুড়ে হবে না, কারণ ভাইরাস দেশের সীমানা বুঝে না। বরং হিসেবটি মহল্লা বা কমিউনিটির হিসেবে হবে।
দ্বিতীয়তঃ তারা যে ভুলটা করে সেটা হলো- সময়ের বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তারা ঐকিক নিয়ম করে এমন তথ্য প্রকাশ করে মনে হয় যেন সবাই একসাথে হাসপাতালে ঢুকবে বা মারা যাবে। আসলে করোনা ভাইরাসের ছড়ানোর হার এত বেশি না। পুরো বাংলাদেশে ছড়াতে ৩-৪ বছরও লাগতে পারে। তারা যে হিসেবে দেখায় এত কোটি লোকের চিকিৎসা লাগবে, এটা আসলে ৩-৪ বছরে লাগবে, অর্থাৎ বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এত মানুষই চিকিৎসা নিবে। আর যদি অনেক লোক মারাও যায়, তারা ৩-৪ বছরে মারা যাবে। একবারে ঠুস করে মারা যাবে না। বরং বৃদ্ধ ও অসুস্থ যারা বিভিন্ন অসুখে ভুগে মারা যেতো, তারা হয়ত মৃত্যুর সময় করোনা ধরে মারা যাবে। এবং এটা একটি প্রাকৃতিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা সিজনাল ফ্লু এর নামে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। জাস্ট সেটা মিডিয়ায় হাইলাইট করে পাবলিককে ভয় দেখানো হয়েছে।
২. “করোনা একইডসের মত, কখনই হয়ত এই রোগ যাবে না”
উত্তর- পুরো আজগুবি ভয় দেখানো বক্তব্য। আসলে করোনা হলো একটি নরমাল ফ্লু ভাইরাস। ফ্লু ভাইরাসগুলো প্রথমবার এসে কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি করে, এরপর সেটা সিজনাল ফ্লু হয়ে বছর বছর ঘুরে আসে। করোনাও এভাবে বছর বছর ঘুড়ে আসবে সিজনাল ফ্লু হয়ে। এখানে সেই কথাটাই ঘুড়িয়ে ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছে, মানে কখনই যাবে না। এমনকি এইডসের সাথে মিলিয়ে আরো ভয় দেখানো হয়েছে। আসলে এইডস ভাইরাস মানুষের কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর ঢুকে (লুকিয়ে) দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারে, এতে নিউক্লিয়াস তাকে মারতে পারে না। কিন্তু করোনা ভাইরাসের লুকানোর সেই ক্ষমতা নেই। সেই বাইরেই থাকে। ফলে সে একবারেই রোগপ্রতিরোধ দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়।
৩.“করোনায় আক্রান্তদের রক্ত জমাট বেধে স্ট্রোক হচ্ছে”।
উত্তর- কয়েকদিন আগে ফেসবুকে একজন করোনা চিকিৎসা দেয়া মুগদা হাসপাতালের এক ডাক্তারের বক্তব্য শোনাচ্ছিলো। তার বক্তব্য হলো করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর মানুষ করোনা দ্বারা যতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিপার্শ্বিক পরিবেশের দ্বারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে। এই আতঙ্কটা তার পরিবার থেকে শুরু করে হাসপাতালের বেডেও তীব্র আকার ধারণ করে। এই আতঙ্কের কারণে অনেকের রক্তচাপ বেড়ে স্ট্রোক হচ্ছে । কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আতঙ্ক বৃদ্ধির সেই স্ট্রোকের মৃত্যুকেই চালিয়ে দেয়া হচ্ছে করোনা নামে।
৪. বুমবিডি থেকে সাবধান !
ব্যাখ্যাঃ বিভিন্ন ১০-২০ টাকার সাধারণ ওষুধেই যদি বাংলাদেশে করোনা রোগীরা সেরে উঠে, তবে ভ্যাকসিন বা এন্টি ভাইরাল ড্রাগ কোম্পানিগুলো যে জনপ্রতি ৫০-৬০ হাজার ওষুধ বিক্রির প্ল্যান নিয়েছে সেটা আর হবে না। তাই কম টাকার ওষুধে করোনা সেরে গেছে, এমন খবরগুলোকে তারা প্রশ্ববিদ্ধ করতে নানান খবর ছড়াচ্ছে। এমন একটি কাজ করছে ‘বুমবিডি’ নামক একটি সংস্থা। বুমবিডি হলো ভারত ভিত্তিক একটি সংস্থা যারা অনলাইনে টাকার বিনিময়ে ফ্যাক্ট চেকের নাম দিয়ে বিভিন্ন খবরকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বা গুজব বলে রটিয়ে দেয়। এই সংস্থাটি মোদি সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ফ্যাক্টচেকের নাম দিয়ে ভারতের মুসলিম নির্যাতনের খবরগুলোকে গুজব বলে দাবী করতো এবং মায়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে রোহিঙ্গা নির্যাতনের খরবগুলোকে গুজব বলে প্রচার করতো। এরা এখন বাংলাদেশেও তাদের কথিত ফ্যাক্ট চেক শুরু করেছে বুমবিডির নাম দিয়ে। তাই এদের কথিত ফ্যাক্টচেক থেকে সাবধান।
পূর্বের দুটি পর্ব পড়তে-
১ম পর্ব- https://bit.ly/3cF1vxR
২য় পর্ব- https://bit.ly/3dVKHTd
বিজ্ঞান আর অন্ধ-বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য আছে।

t

Spuauo1nsnore6fi Madyi 
বিজ্ঞান আর অন্ধ-বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য আছে।
বিজ্ঞান হচ্ছে যতটুকু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো, ততটুকু মেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
আর অন্ধ বিশ্বাস হলো- পরীক্ষা নিরীক্ষার দরকার নাই, আমি গো ধরে বসে আছি, এটাই সত্যিই। এখন তুমি যতই প্রমাণ দাও, তাল গাছ আমার।
করোনা নিয়ে কিছু পাবলিকের অবস্থা হইছে অন্ধ বিশ্বাসীদের মত।
করোনা নিয়ে তাদের মিডিয়া সে সবক দিছে, সেটা তারা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে নিছে।
এখন করোনা তাদের কাছে হইলো, এক বিশাল দৈত্য। তার ধারে কাছে যাওয়ার ক্ষমতা কারো নাই। তাকে কেউ ছোট করতে চাইলেই আপনাকে তেড়ে মারতে আসবে।
আপনি যদি তাকে হাজারও দলিল-প্রমাণ দেন, তবুও সে করোনাকে উপর থেকে নিচে নামাতে রাজি না।
কারণ করোনা তার বিশ্বাসের মধ্যে ঢুকে গেছে।
আর যা বিশ্বাসের মধ্যে ঢুকে যায়, তাকে দলিল প্রমাণ দিয়ে নড়ানো যায় না।
কেউ নড়াতে গেলে সেই দলিলওয়ালাকে মারতে যায়।
--আপনি যদি বলেন-
করোনা ভাইরাস স্বাভাবিক জ্বর-ঠাণ্ডা-সর্দি বা ফ্লু এর মতই।
সে বলবে- মিথ্যা। এটা এইডসের থেকেও ভয়ঙ্কর।
--আপনি যদি বলেন-
- এ রোগে ২০ টাকার ওষুধে কাজ হচ্ছে,
সে বলবে মিথ্যা বিশ্বাস করি না, এত কম টাকার ওসুধে তা সারবে না।
--আপনি যদি বলেন-
করোনা ভাইরাস হওয়ার পরও অনেক রোগী সুস্থ হচ্ছে।
সে বলবে মিথ্যা। এই রোগ হইলে বাঁচার কোন পথ নাই।
---আপনি যদি বলেন-
গরম পানি খেলে অনেকের এই অসুখ সারছে।
সে বলবে মিথ্যা আমি বিশ্বাস করি না। এত ভয়ঙ্কর ওসুখ গরম পানি খেয়ে সারে না।
---আপনি যদি বলেন-
নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী বলছে লকডাউন ভুল পদ্ধতি।
সে বলবে- নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী কি আমার থেকে বেশি বুঝে ?
---আপনি যদি বলেন-
করোনার ক্ষেত্রে ৮০% রোগী এমনিতেই সুস্থ হয়ে যায়্
সে বলবে- মিথ্যা। এত কঠিন রোগে কেউ সুস্থ হয় না- “যার হয় করোনা, সে আর বাচে না।”
--আপনি যদি বলেন-
৭০ দিন তো হইলো, এখনও তো লাশের স্তুপ পাইলাম না।
সে বলবে- ভাই আর ১৫টা দিন অপেক্ষা করেন, আর মাত্র ১৫টা দিন।
---আপনি যদি বলেন-
প্লাজমা থেরাপিতে অনেকে সুস্থ হচ্ছে।
সে বলবে- আরে ভাই এত সহজ হইলে তো সারা বিশ্বেই হইতোই।
---আপনি যদি বলেন-
বাংলাদেশে প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে আড়াই হাজার লোক মারা যায়, ১০-২০ জন করোনায় মারা গেলে কি সেটা মহামারী হয় ?
উত্তরে সে বলবে- এই যে এত লোক আক্রান্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হওয়া মানেই মহামারী।
---আপনি যদি বলেন, “করোনা ভাইরাস যুবকদের জন্য সমস্যা নয়। ”
সে বলবে- আরে ভাই আনিসুজ্জামানের মত একজন তাগড়া লোক করোনা ভাইরাসে মারা গেলো, আর আপনি বলছেন করোনায় যুবকদের সমস্যা নেই ?
---আপনি যদি বলেন-
করোনার বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করে।
সে বলবে- আরে ভাই মিথ্যা। যদি কাজ করতো, তবে পাওলো দিবালো ৪ বার পরীক্ষা করে ৪ বারই কিভাবে আক্রান্ত (পজিটিভ) হলো ?
---আপনি যদি বলেন- ভাই করোনায় তো তেমন লোক মারা যাচ্ছে না।
সে বলবে- আরে ভাই আপনি জানেন না, লক্ষ লক্ষ লাশ সুন্দববনে নিয়ে মাটিচাপার দেয়ার খবরটা ফেসবুকে শুনেন নাই।
করোনা নিয়ে অতি আতঙ্কিত এই লোকগুলো আসলে করোনা ভুতে আক্রান্ত।
তারা এমন এক ভুত দেখছে, যা দেখে তারা আর কিছুই বিশ্বাস করতে চাইতেছে না।
তাদের বিশ্বাস হইলো ভুতের মধ্যে, বাস্তবে না।
শুধু যে ফেসবুকে এদের অবস্থান, তাই নয়। একজন জানালো, ঢাকার রাস্তায় এমন বহু করোনা ভুতে আক্রান্ত লোকজন পিপিই, চোখের মধ্যে গগলস, হাতে গ্লাবস পড়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার অনেক এলাকায় করোনা শক্ত আঘাত করার পরও ঐ এলাকার বাসিন্দারা এমন করেনি। এমনকি অনেক দেশের ডাক্তাররাও করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়েও এত কিছু পড়তেছে না, যা আমাদের করোনা ভুতে আক্রান্ত বাংলাদেশীরা রাস্তায় পড়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।
করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে পরিবর্তন হবে ইসলাম ধর্ম !


trt15Sp ogtMnnafsyoredm
 
করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে পরিবর্তন হবে ইসলাম ধর্ম !
যারা করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তারা প্রচার করছে, “করোনা বদলে দেবে পৃথিবীকে”। করোনার কারণে মানুষের ব্যবহার, আচার আচরণ, অভ্যাস অনেক কিছুরই পরিবর্তন আসবে।
সে হিসেবে করোনার কারণে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন নিয়ম কানুনেও পরিবর্তন হতে পারে। মুসলমানরা তাদের পূর্বের ধর্ম পরিবর্তন করে নতুন আচার আয়ত্ত করবে। অর্থাৎ ইসলামের এক নতুন ভার্সন তৈরী করবে। আসুন পরিবর্তনের কিছু বিষয় দেখে নেই-
১) দুই জনের হাত মেলানো : দুইজন এক হাত করে মিলালে হয় হ্যান্ডশেক, আর ইসলাম ধর্মে দুইহাত মিলাতে হয়, যাকে বলে মোসাফা। করোনার নামে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ ছিলো হ্যান্ডশেক বা মোসাফা বন্ধ করা। করোনার মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের বহুদিনের এই পুরাতান ঐতিহ্য ধিরে ধিরে ভুলে যেতে পারে।
২) কোলাকুলি : মুসলমানরা সাধারণত ঈদের জামাতের পর কিংবা পরষ্পর মিলিতে হলে এটা করে। সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর নামে সেটাও না করতে বলা হয়েছে। মুসলমানরা এই শিক্ষা রপ্ত করলে মুসলমানদের ঐতিহ্য থেকে কোলাকুলিও বাদ হতে পারে।
৩) নামাজের কাতার : ইসলাম ধর্মের নিয়ম হচ্ছে নামাজের কাতারে এক থাকা, মাঝখানে ফাক না রাখা। কিন্তু স্যোশাল ডিসটেন্সিং এর নামে নামাজের কাতারে মাঝখানে ফাকা রাখা হচ্ছে। যেহেতু করোনা লম্বা সময় ধরে থাকবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, তাই নামাজের কাতারেও দূরত্ব করার স্থায়ী প্ল্যান তাদের আছে।
৪) এক প্লেটে খাওয়া ঃ মুসলমানদের এই কালচাল বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করা যায়। এমনকি মুসলমানদের শেষ নবী কুষ্ট রোগীর সাথে এক প্লেটে খেয়েছেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়। কিন্তু করোনার মত ছোয়াচে রোগে বিশ্বাসীরা এর ঘোর বিরোধী। ফলে মুসলমানরা করোনা পরবর্তী সময়ে মুসলমানরা তাদের এই ঐতিহ্য থেকে সরে যেতে পারে।
৫) এক পাত্রে পানি খাওয়াঃ মুসলমানদের মধ্যে একপাত্র ব্যবহার করে অনেকের পানি খাওয়ার লক্ষ্য করা যায়। আমি অনেক মুসলমানকে বলতে শুনেছি, একজন মুসলমানের রেখে যাওয়া খাবার/পানি অন্য মুসলমান খেলে তার সুস্থতা হয়। কিন্তু ছোয়াচে রোগে বিশ্বাসীরা সেই ঐতিহ্য ত্যাগ করবে।
৬) হাচিকে খারাপ জানা ঃ মুসলমানরা হাচিকে ভালো বলে মনে করে। হাচি দিলে তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। কিন্তু ছোয়াচে বিশ্বাসীরা হাচিকে খুব খারাপ হিসেবে ট্রিট করে। কেউ হাচি দিলেই তার দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়। এমনকি তাকে মারতে আসবে।
৭) মসজিদ বন্ধ করার রীতি চালু ঃ এর আগে মুসলমান তাদের কোন ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করলে প্রতিবাদ করে উঠতো। আর এখন সব মসজিদ বন্ধ করে দিলেও মুসলমানরা তা মেনে নিচ্ছে। অনেক মসজিদ কিছুদিন আজানও বন্ধ ছিলো। মূল কথা হচ্ছে, যারা এতদিন ইসলাম বিদ্বেষ প্রচার করেছিলো, তাদের পরামর্শে মসজিদের দরজায় তালা দিতে মুসলমানরা দ্বিধা করছে না। অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে কোন কারণে-অকারণে মসজিদ বন্ধ করার একটা রীতি চালু হয়ে গেলো।
৮) ঈদগাহে জামাত নিষিদ্ধ ঃ মুসলমানদের একটি পুরাতন ঐতিহ্য। এবার বন্ধও স্বাভাবিককতার সাথে মেনে নিলো মুসলমানরা।
৯) অ্যালকোহল দিয়ে হাত ধোয়া ঃ হ্যান্ড স্যানেটাইজারের নামে অ্যালকোহল দিয়ে হাত ধোয়ার কালচার মুসলমানরা শুরু করলো। যদিও এর আগে অনেকেই সেটা খারাপ বা নিষিদ্ধ বলে মনে করতো।
১০) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে না যাওয়া ঃ ইসলাম ধর্মের একটি কালচার ছিলো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া। কিন্তু ছোয়াচে বিশ্বাস দৃঢ় হওয়ায় মুসলমানরা আর তাকে দেখতে যাবে না, ভাববে তার মাধ্যমে আবার কোন রোগ ছড়াতে পারে।
১১) জানাজা বা দাফনে না যাওয়া ঃ আগে আত্মীয় বা এলাকাবাসী মারা গেলে মুসলমানরা তার জানাজা অংশগ্রহণ করতে যেতো। কিন্তু ছোয়াচে বিশ্বাসী হওয়ার পর তার ভাববে- “সেখানে গেলে আবার কোন রোগে যেন আক্রান্ত হই।”
১২) বৃদ্ধ বাবা মাকে বৃদ্ধনিবাসে প্রেরণ ঃ ইউরোপ আমেরিকায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে বৃদ্ধ নিবাসে পাঠানোর কালচার পুরাতন। কিন্তু মুসলমানদের সেই কালচার এখনও ঢুকে নাই। কিন্তু করোনার মত ছোয়াচে রোগ বিশ্বাসী হওয়ার কারণে এই কালচারল খুব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কারণ বৃদ্ধরা এ ধরনের রোগে বেশি মারা যায় বলে একটি বিশ্বাস তখন ছড়াবে। ফলে বৃদ্ধদেরকে ঘরে রাখা মানে ভাইরাসের ফ্যাক্টরি পালা টাইপের একটা ধারনা জন্মাবে। ফলে বৃদ্ধদেরকে দূর দূর করে বৃদ্ধ নিবাসে দিয়ে আসার কালচার জন্মাবে।
প্রথম আলোর একটি শ্লোগান ছিলো- “বদলে যাও, বদলে দাও”। করোনা সেই বদলের একটি বড় ভার্সন তৈরী করবে, যা থেকে মুসলমানদের ধর্মীয় রীতি-নীতিও বাদ যাবে না। মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ সেটা অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু মিডিয়ায় প্রচারের কারণে অনেক মুসলমান সেটা মেনে নিতে শুরু করেছে, ভাবছে- “জীবন বাচানোর কথা ধর্মেই আছে। জীবন বাচাতে গিয়ে হোক না ধর্মীয় রীতিতে একটু পরিবর্তন, ধর্ম তো মনের ব্যাপার। এতে কি কিছু অশুদ্ধ হয়ে গেলো?”