লকডাউন খুললে করোনার গতি কমে আসে !
6t esMSatfpoSnnsoredy 
লকডাউন খুললে করোনার গতি কমে আসে !
জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি অস্বাভাবিকভাবে কমে এসেছে। ২ সপ্তাহ আগে লকডাউন শিথিল দোকানপাট খোলার পর করোনার রিপ্রডাকশন নম্বর হ্রাস পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবে করোনার রিপ্রডাকশন নম্বর বা Ro যেখানে থাকার কথা ২.২-৩.৫ সেখানে এখন জার্মানিতে এর পরিমাণ এখন নেমে এসেছে ০.৭১ এ।
উল্লেখ্য, জার্মানি লকডাউন শিথিল করার পর অনেকে ভবিষ্যতবাণী করেছিলো, জার্মানিতে করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ আঘাত হানবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উল্টো ঘটনা ঘটছে। অর্থাৎ লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি আরো হ্রাস পাচ্ছে। এই রেজাল্ট দেখে আঞ্চলকি সরকাররা তাদের রেস্ট্রুরেন্ট, বার, হোটেলগুলো উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (https://bit.ly/2SWSsk7)
মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের মিডিয়া কিন্তু কখনই প্রমাণিত বাস্তব খবরগুলো করে না, যার কারণে বাংলাদেশের মানুষ করোনাকে বুঝতেও পারে না। গত কয়েকদিনের মিডিয়ায় দেখবেন- “জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার কারণে করোনার গতি বাড়ছে বা বাড়তে পারে’ বলে বহু আজগুবি খবর হয়েছে, কিন্তু যখন বাস্তব প্রমাণ দেখা গেলো- লকডাউন খুললে করোনার গতি কমে, সেই খবর কিন্তু বাংলাদেশের কোন মিডিয়া এখন করে নাই। কারণ সেটা করলে তারা যে এতদিন মানুষকে উল্টো মেরে ফেলার ওষুধ দিছে, সেটা প্রমাণিত হয়ে যাবে।
একই ঘটনা ঘটেছিলো কয়েকদিন আগে। মিডিয়া হু এর বিবৃতি প্রচার করেছে, করোনায় দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ বা ইম্যুউনিটি হয় এর প্রমাণ নেই। রি-ইনফেকশন হচ্ছে, হার্ড ইম্যুনিটি এচিভ সম্ভব না -এসব খবর কিন্তু অনেক হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা যখন হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিলো- করোনা একবার হলে দ্বিতীয়বার হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই, দীর্ঘমেয়াদী ইম্যুনিটি হয়। এই খবরগুলো বাংলাদেশের কোন মিডিয়াকে এখনও আমি প্রচার করতে দেখি নাই। (https://bit.ly/35tqVvk,)
যাই হোক, জার্মানিতে লকডাউন শিথিল করার পর করোনার গতি হ্রাস বা রিপ্রডাকশন নম্বর কমে আসার পর আমার ব্যক্তিগতভাবে একটি কথা মনে হচ্ছে, আপনাদের সাথে তা শেয়ার করি-
আমার মনে হয়, করোনার মত ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপের রোগগুলোর সঠিক ওষধ মনে হয় অধিক সংখ্যক মানুষকে ফেস করানো। বিষয়টি অনেকটা সমুদ্র থেকে ঘূর্ণঝড়গুলো যখন সুন্দরবনে আঘাত করে, সেরকম। দেখা যায় একটা ঝড় সুন্দরবনে বাধাগ্রস্ত হয়ে শুরুতেই অনেক দুর্বল হয়ে যায় বা অনেকাংশ থেমে যায়। যদি সুন্দরবন না থাকতো, তবে সেই ঝড় হয়ত অনেক ভেতরে এসে অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারতো।
আমার ধারণা- করোনাকে যখন স্বাভাবিকগতিতে চলতে দেয়া হয়, তখন সে শুরুতেই বিভিন্ন কমিউনিটিতে প্রবেশ করে বাধার সম্মুক্ষিন হয়, ছোট ছোট কমিউনিটি ভিত্তিক হার্ড ইম্যুনিটিতে আটকা পড়ে বা ব্যক্তি ইম্যুনিটিতে অধিকমাত্রায় বাধার সম্মুক্ষিণ হয়ে কোনভাবে নিজের শক্তি হারাতে থাকে। এবং এক পর্যায়ে সেটা থেমে যায়। হয়ত কিছু এলাকা আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু অধিকাংশ এলাকায় সেটা পৌছাতেই পারে না বা দুর্বল হয়ে গতি হারায়। অর্থাৎ ক্ষতিটা বিস্তৃতি এলাকায় হয় না, অল্প এলাকায় থেকে যায়। কিন্তু যখন লকডাউন-সোশ্যাল ডিসটেন্সিং এর নামে তার স্বাভাবিক চলাচলে বাধা প্রয়োগ করা হলো, তখন সে ছোট ছোট কমিউনিটির হার্ড ইম্যুনিটি বা ব্যক্তি ইম্যুনিটিতে অধিকমাত্রায় বাধার সম্মুক্ষিণ না হয়ে সহজেই অনেক এলাকায় শক্তি নিয়ে ঢুকে পড়ার সুযোগ পায় এবং বিস্তৃত এলাকায় ক্ষতি করে।
লকডাউনের পক্ষে আর হার্ড ইম্যুনিটির বিরুদ্ধে লোকদের আজগুবি হিসেব নিকেষ


6t esMSatfpoSnnsoredy
 
লকডাউনের পক্ষে আর হার্ড ইম্যুনিটির বিরুদ্ধে লোকদের আজগুবি হিসেব নিকেষ প্রায় মিডিয়াতে দেখি, যা বাস্তবতার সাথে মিলে না। যেমন-
"যদি লকডাউন খোলা হয় বা হার্ড ইম্যুনিটির দিকে যাওয়া হয়, তবে দেশের ৮০% লোককে আক্রান্ত হতে হবে। ১৬ কোটি লোকের মধ্যে ৮০% মানে ১২.৮ কোটি এবং এর মধ্যে যদি ২০% লোককে যদি হাসপাতালে যেতে হয়, যার পরিমাণ আড়াই কোটি, আর ১% লোকও যদি মারা যায়, তবে ১২ লক্ষকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। আড়াই কোটি লোককে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষমতা কি আমাদের আছে ? আর মৃত্যুর হিসেবটা একবার চিন্তা করেছেন ১২ লক্ষ।"
এই যে সুন্দর ক্যালকুলেটরে হিসেব-নিকেষ, আপনি যদি এই সংখ্যা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চান, তবে অন্য কথা। কিন্তু বাস্তবতা কিন্তু এই হিসেব মানে না।
প্রথমেই বলি- এই হিসেবে কিন্তু দুইটি জিনিসকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে-
১) পুরো দেশকে একত্র হিসেবে চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি এমন ঘটে না। কারণ ভাইরাস দেশের সীমানা বুঝে না। বরং একটা করে পাড়া-মহল্লা বা কমিউনিটি হিসেবে চিন্তা করে ঘটনাগুলো ঘটে। ধরে নিতে পারি বাংলাদেশে ৮৫ হাজার গ্রাম আছে। এবং গড়ে ৫ টি মহল্লা-পাড়া নিয়ে একটি গ্রাম। তাহলে আমাদের চিন্তা করতে হবে প্রায় ৪ লক্ষ মহল্লা বা কমিউনিটিকে নিয়ে।
২) সময়। কত সময় লাগবে, সেটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
যেভাবে আমাদের বুঝানো হচ্ছে যে, করোনা ভাইরাসের ছড়ানোর গতি অনেক বেশি, কিন্তু বাস্তবে সেরকম পাওয়া যাচ্ছে না। গড় একটি হিসেব করে দেখা গেছে করোনা ভাইরাসের ট্রান্সমিশন রেট গড়ে ২ থেকে ৩ জন। ঠাণ্ডার আবহাওয়ার সুইডেনের স্টকহোমে, যেখানে লকডাউন-সোশ্যাল ডিসটেন্স কিংবা মাস্ক-হ্যান্ড গ্লাবস কিছুই ব্যবহার হয়নি, সেখানে করোনার প্রথম কেস থেকে ৮০ দিন পর বলা হচ্ছে মাত্র ১১% জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হয়েছে। (https://bit.ly/2SFE7Z4) অর্থাৎ পুরো স্টকহোমে ছড়াতে সময় লাগবে কমপক্ষে আড়াই বছর।
অর্থাৎ যেখানে করোনা ভাইরাস খুব গতি নিয়ে আঘাত করেছে সেখানেও করোনা ভাইরাসের গতি ছিলো খুব কম। আর বাংলাদেশের মত গরম দেশে করোনা ভাইরাসের ট্রান্সমিশন রেট কত হবে ? ৪ লক্ষ পাড়া বা মহল্লায় তা ছড়াতে কত সময় লাগবে ? ২ বছর নাকি ৪ বছর ??
হয়ত বলতে পারেন- এখন তো লকডাউন, মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারছে না, তাই করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারছে না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব বোঝা যাচ্ছে না।
এজন্যই তো সুইডেনের স্টকহোমের উদাহরণ আনলাম।
সেটাও যদি না মানেন, তবে তাদেরকে আমি বলবো- পাইলট প্রকল্প মানে কি বুঝেন?
ধরেন কোন একটি প্রজেক্ট নেয়া হলো ৮৫ হাজার গ্রামে।
এরজন্য একটি গ্রামকে প্রথমে বেছে নেয়া হয়। সেই গ্রামের উপর টেস্ট করে তার ফলাফল দেখে সে অনুসারে সারা বাংলাদেশে তা এপ্ল্যাই করা হয়।
এজন্য যেসব এলাকায় করোনায় লকডাউন হইছে, সে রকম একটি এলাকাকে বাছাই করেন প্রথমে।
এরপর দেখেন সেখানে গত ২ মাসে ঠিক কতজন আক্রান্ত হইছে। কতজন মৃত্যুবরণ করছে?
ঐ এলাকার মৃত্যুবরণ সংখ্যা কি স্বাভাবিক মৃত্যুর থেকে বেশি না কম?
যেমন ধরেন- মুহম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, যেখানে ৫০ হাজার লোক গাদাগাদি করে থাকে। সেখানে করোনায় আক্রান্ত ধরা পড়ছে। ১ জন সরকারী হিসেবে মারাও গেছে। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহে ঐ এলাকায় বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা গেছে আরো ১৩ জন, যেটা নিয়ে মিডিয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করা হইছে। এবার প্রতি বছরে হাজারে মৃত্যুহার ৫.৫ ধরে দেখেন ৩ সপ্তাহে ঐ এলাকায় হিসেব মত কতজন মারা যাওয়ার কথা ? ১৭ জনের। কিন্তু মারা গেছে ১৪ জন।
তারমানে ঐএলাকায় করোনা হানা দিয়েছে, কিন্তু গড় মৃত্যুর হিসেব কিন্তু ক্রস করেনি। তারমানে বোঝা যাচ্ছে, আজকে যদি করোনা নামক ভাইরাস নাও থাকতো, তবে ঐ এলাকায় এতগুলো লোকই মারা যেতো এবং সেটা স্বাভাবিক।
একইভাবে ঐ এলাকায় কত লোক অসুস্থ হয়েছে ? কত লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এই হিসেবগুলো করলেই সহজে বের হয়ে যাবে, আসলে ১টা মহল্লায় যদি এমন হয়, তাহলে বাকি মহল্লাগুলোতে কি হবে।
আসলে এই ভাইরাসগুলো বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করার পর বিভিন্ন ফ্যাক্টরের সম্মুক্ষিন হয়। পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট হার্ড ইম্যুনিটির বাধন, সব মিলিয়ে ১৬ কোটি লোকের অধিকাংশের মধ্যে নাও পৌছাতে পারে। আর যতটুকু পৌছায় সেটা সময় নিয়ে পৌছায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন সময় আমরা মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবর শুনি, চিকিৎসা সেবা নেয়ার কথা শুনি, মানুষের মৃত্যুর খবর শুনি, এই ভাইরাস আক্রমনটাও স্বাভাবিকতারই অংশ। সেই স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই মানুষ অসুস্থ হবে, হাসপাতালে যাবে কিংবা মারা যাবে। এবং সেটা হবে সময় নিয়ে। আপনি ২ মাস দেশ বন্ধ করে রাখলেও কোন লাভ হবে না। কারণ ভাইরাস তার গতিতেই ছড়াবে। এজন্য একাধিক বছরও সময় লাগতে পারে। ২ বছর নিশ্চয় সব বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। আর যদি ২ বছর মানুষ লকডাউন করে বসেও থাকেন। তবে দিন শেষে দেখবেন, যতজন লোক মারা যাওয়া, সময় নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া, অসুস্থ হওয়ার কথা, ততগুলো লোকই হয়েছে। ফলে হাসপাতালের উপর স্বাভাবিক যতটুকু চাপ পড়ার ততটুকুই পড়েছে, বেশি পড়েনি।
অর্থাৎ পুরো ঘটনা ঘটেছে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়, সময় নিয়ে। মাঝখান দিয়ে সব বন্ধ করে আপনি বোকার মত ঘরে বসে আছেন।
ভালো কাজ করা সত্যিই ভালো।

5

t esMSatfpoSnnsoredy 
ভালো কাজ করা সত্যিই ভালো।
কিন্তু সেটা যদি নিজের টাকায় হয়। অন্যের থেকে টাকা সংগ্রহ করে সেই টাকা দিয়ে ভালো কাজ করার মধ্যে ক্রেডিট শতভাগ থাকে না, কিছুটা কিন্তু থেকেই যায়। কিনতুটা হলো, ‘ভালো কাজ করার জন্য’ যার তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষ টাকাটা দিলো তার বিশ্বাসযোগ্যতা বা সততা কতটুকু ?
রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে আসলো, অনেককেই দেখেছি, দেশ-বিদেশ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ভালো কাজ করতে, মানে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিলি করতে। কিন্তু সেই সময় ভালো কাজের নামে অনেক ফকিন্নির পুতকে দেখেছি কক্সবাজারে গিয়ে ৫ তারকা হোটেলে থাকতে, মানুষের টাকা ইচ্ছামত উড়াতে। কালেকশন করা টাকা রোহিঙ্গাদের যদি ১০ টাকা দেয়, নিজেরা ৯০ টাকা ভাঙ্গতে। তাই সব ভালো কাজের কথা শুনে ১০ হাত লাফ না দিয়ে, তার পেছনে কারণ নিয়েও চিন্তা করা উচিত।
আজকে দেখলাম বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নিয়ে কথা হচ্ছে। খুব ভালো কথা।
আসলে প্রতিষ্ঠানটির তৈরীকারী কিশোর কুমার দাসকে আমার একটু চালাক গোছের লোক মনে হয়।
তিনি স্বাভাবিক মানুষের থেকে ডোনেশন সংগ্রহ করবেন, সেটাতে কোন সমস্যা দেখি না।
কিন্তু তিনি যখন মানুষের থেকে জাকাত, কোরবানীর পশুর অর্থ সংগ্রহ করবেন, তখন তো একটা কথা উঠবেই।
যেহেতু বিষয়গুলো ধর্মীয় রিলেটেড, তাই জাকাতের টাকা বা কোরবানীর পশু কোন অমুসলিম মানুষের তত্ত্বাবধানে বিলি করার জন্য দেয়া যায় কি না, ধর্মের নিরিখে সেটা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। যেহেতু তার মধ্যে ধর্মীয় অনেক নিয়ম কানুন আছে। ধর্মীয় টাকা খরচ করা যেমন ধর্মীয় বিধান, তেমনি সেই টাকা খরচ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক সিলেক্ট করার নিয়মগুলোও ধর্মীয় বিধানে দেয়া আছে।
কথা হচ্ছে-
তিনি সংগঠনের মূল দায়িত্বে থেকে মুসলমানদের ধর্মীয় টাকা সংগ্রহ করবেন,
তাই প্রশ্ন উঠছে। মুসলমানদের ধর্মীয় ফান্ড সংগ্রহ না করলে কখনই এই প্রশ্ন উঠতো না।
এখানে সমস্যা হচ্ছে তার ধর্মীয় ফান্ড কালেকশনে।
কিন্তু তিনি সেই টাকার দিকে নির্ভিগ্নে হাত বাড়ানোর পথ সুগম করতে দৃশ্যত্ব উপরের পদ থেকে সরে দাড়ালেন, কিন্তু যাওয়ার সময় দোষ মুষলমানদের গাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বললেন-
“দেখেছো! মুসলমানরা কত সাম্প্রদায়িক, একটা ভালো কাজেও ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে”।
আরে ভাই ! এখানে দোষটা তার ধর্মীয় ফান্ডের দিকে হাত বাড়ানোর, দোষটা মুসলমানদের না।
যাই হোক, আসলে কিশোর কুমার দাস বিদেশী কর্পোরেট কোম্পানিতে মার্কেটিং এ চাকুরী করে আসা লোক তো,
তাই তার কথার মধ্যে এসব কৌশল থাকবেই, সেটা সমস্যা না।
আমার কাছে সমস্যা মনে হয়, তিনি মনে হয় বেশি কৌশলী হতে গিয়ে মাঝে মাঝে মিথ্যা কথা বলেন।
যেমন- ২০২০ সালে তিনি দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে শিপ্রা দাসকে বোন হিসেবে অস্বীকার করেছেন (তার ভাষায়- শিপ্রা দাশ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়- http://archive.is/xI30j),
অথচ ২০১৫ সালের প্রথম আলো পত্রিকায় তাদের দুইজনকে ভাই-বোন বলা হয়। (https://bit.ly/2YBwfLK)
আমি জানি না, কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা।
কিন্তু মনে হচ্ছে, তিনি এর সাথে তার ডাইরেক্ট সম্পৃক্ততা হাইড করতে চাইছেন।
কারো যদি মন সত্যিই ভালো থাকে, তবে ভালো কাজে তথ্য লুকানোর দরকার কি ?
মানুষ তো তখনই কথা কাটছাট করে, যখন তার নিজের মধ্যে সমস্যা থাকে, তাই না ?
আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত আছে,


tSc5p sonestorhMaeayd 
আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত আছে,
তাদের সাথে কথা বলে আমি করোনা সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান লাভ করেছি,
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে করোনা হলো সাধারণ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা (সিজনাল জ্বর, সর্দি, ঠাণ্ডা) গোছের একটি রোগ, কিন্তু এর থেকে বেশি কিছু না।
গতকাল কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ এর নেতৃত্বে থাকা চিকিৎসক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সাক্ষাতকার পড়েও একই কথা জানলাম। তিনিও বলছেন- “‘কোভিড-১৯ রোগটি কিন্তু নরমাল ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা ফ্লুর মতো একটি রোগ।” (https://bit.ly/2YBgWTm)
আমার ধারণা, যারা কোভিড-১৯ হওয়ার পর খারাপ পরিস্থিতি হচ্ছে কিংবা মারা যাচ্ছে, সম্ভবত তারা সেকেন্ডারী কোন ইনফেকশনের শিকার। সেটা কোন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। যেমন ব্যাকটেরিয়া ঘটিত নিউমোনিয়া কিংবা টাইফয়েড। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের অতি দৃষ্টি যেহেতু কোভিড-১৯ এর দিকে, তাই ক্ষতিটা হচ্ছে সেখানেই। কারণ আমাদের ভাইরাস আক্রমণের থেকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ অনেক শক্তিশালী ও প্রাণঘাতি। এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে অনেক দ্রুত রোগীর অবস্থা খারাপ হয় এবং মৃত্যু ঘটে। ফলে এদের দ্রুত চিকিৎসা দরকার। দ্রুত অবজারভেশন ও মেডিকেশনের দরকার। কিন্তু আমাদের সবার অতি দৃষ্টি যেহেতু করোনার দিকে এবং সেখানে অতি আতঙ্ক থাকায়, সেকেন্ডারী ইনফেকশনের ক্রিটিকাল রোগীগুলো চিকিৎসা পাচ্ছে না, ফলে তাদের মৃত্যু ঘটছে। অথচ সামান্য এন্টিবায়োটিক প্রয়োগে এই রোগীগুলোকে বাচানো সম্ভব ছিলো। কিন্তু আমরা করোনার টেস্ট ও রেজাল্ট নিতেই ৫-৭ দিন ব্যয় করে ফেলছি, ফলে রোগীরা চলে যাচ্ছে ক্রিটিকাল কন্ডিশনে।
অনেকে ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু এর মহামারীর কথা বলে। আমি ঐ সময়কার একটা ইতিহাস পড়ে জেনেছিলাম, ঐ সময় স্প্যানিশ ফ্লু ভাইরাসের যত না মৃত্যু হয়েছে, তার থেকে বেশি মৃত্যু হয়েছে সেকেন্ডারী ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে। ঐ সময় মাত্র এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার হয়েছে এবং অত উন্নতও হয়নি। ফলে ঐ রোগীগুলো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে মারা যায় বেশি ।
আসলে আমরা সাধারণ জনগণ ভাইরাসকে বেশি ভয় পাই, কিন্তু আমাদের বেশি ভয় পাওয়া উচিত ছিলো ব্যকটেরিয়াকে। কারণ ভাইরাস অসুখগুলো ভুগায় বেশি, কিন্তু মৃত্যু কম। কিন্তু ব্যাকটেরিয়াল অসুখগুলো ভুগায় কম, কিন্তু দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। উল্লেখ্য ভাইরাসের কিন্তু নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার কিন্তু নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে। ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসকে একবারে মারতে পারে, কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে দুই প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাল্টা পাল্টি যুদ্ধ হয় এবং তারপর কেউ জয়ী হয়।
যাই হোক,
আসলে আমাদের ভুল হয়েছে, করোনাকে পাত্তা দেয়া।
আমার মতে- আমরা যদি করোনাকে পাত্তা না দিতাম, তবে করোনাতে হয়ত এত লোকের মৃত্যুও হতো না।
তখন ডাক্তাররা তাদের স্বাভাবিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতো।
তখন স্বাভাবিক যেটা বড় সমস্যা, সেটার দিকে আগে দৃষ্টি পড়তো,
সেটার চিকিৎসা হতো আগে।
করোনাকে বড় করায়, মূল সমস্যাটা থেকে দৃষ্টি সরে গেছে।
ফলে সেটাইতেই মৃ্ত্যু ঘটছে, কিন্তু নাম হচ্ছে করোনার।
আসলে আমরা একটা কথা বোধ হয় ভুলে যাচ্ছি-
রোগ কিন্তু শুধু একটা করোনা না, আরো অনেক রোগ, ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ আছে, মানুষ ডায়বেটিকসে ভুগছে, ব্লাড প্রেসারে ভুগছে, হার্টের সমস্যায় ভুগছে, লিভার-কিডনী জনিত প্রবলেমে ভুগছে, কারো ক্যানসার আছে, কারো অ্যাজমা-টিবি-সিওপিডি আছে। এগুলোর প্রত্যেকটির দিকে কড়া দৃষ্টি রাখা আবশ্যক।
কিন্তু যখনই সবার দৃষ্টি করোনার দিকে আবদ্ধ হচ্ছে, “আগে করোনা টেস্ট করুন”, “আগে করোনা টেস্ট করুন” করতেছে সবাই। তারপর ছোয়াচে রোগের ভয়ে তার সেবা না করে দূর দূর করতেছে সবাই। তখন কিন্তু অন্য জটিল সমস্যাগুলোর থেকে দৃষ্টি সরে যাচ্ছে, ফলে ঐ রোগীগুলো কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে না, ফলে অনেকের জীবন-মরন সমস্যা তৈরী হচ্ছে।
বাংলাদেশে করোনাকে যদি সাধারণ রোগ হিসেবে ট্রিট করা হতো, এবং হাসপাতাগুলোতে কোন রোগী ভর্তি হলে, যেভাবে রক্ত টেস্ট করে বিভিন্ন ইনফেকশন চেক করে, করোনাকে তার মধ্যে একটা রাখতো, এবং যেটা গুরুতর সমস্যা সেটার আগে চিকিৎসা হতো, করোনার নয়। তখন কিন্তু মৃত্যুর হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব ছিলো। তাই আমি একই কথা আবার বলছি- আমাদের ভুল হয়েছে করোনাকে অতি পাত্তা দেয়া।
 লকডাউনের কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, ঈদের অর্থনীতি যদি ধরা যায়, তবে তার কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া সম্ভব


tSc4p sonestorhMaeayd 
আমি একটা কথা আগেও বলেছি, আবারও বলছি-
লকডাউনের কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, ঈদের অর্থনীতি যদি ধরা যায়,
তবে তার কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া সম্ভব।
কিন্তু ঈদের অর্থনীতি যারা যারা ধরতে পারবে না,
তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে এক কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদী কালো সময় আসতেছে, এটা নিশ্চিত।
সেটা ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হোক, আর গণপরিবহণ হোক, শপিং কমপ্লেক্স অথবা মসজিদ-মাদ্রাসা (জাকাত-দান) যাই হোক না কেন।
ইতিমধ্যে করোনার নামে লকডাউন ইউরোপ-আমেরিকায় পরিচিত হয়েছে ‘অর্থনৈতিক আবদ্ধকরণ’ হিসেবে। অর্থাৎ কোন একটি মহল সিন্ডিকেট করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য এই ষড়যন্ত্র চাপিয়ে দিয়েছে, এটা মোটামুটি নিশ্চিত অনেকেই। যেমন- আজকেই সরকার একবার প্রজ্ঞাপন জারি করলো আগামীকাল শপিং কমপ্লেক্স খুলবে, আবার কিছুক্ষণ পর সেটা পিছিয়ে দিয়ে ১০ তারিখ করলো। এটা রহস্যজনক। অর্থাৎ কেউ প্রেসার দিচ্ছে, পুরো ঘটনাকে পিছিয়ে নেয়ার জন্য। কারণ ঐ মহলটির উদ্দেশ্য হলো দেশ ও জনগণের অর্থনীতিকে ক্ষতি করে জনগণকে সমস্যায় ফেলে পরবর্তীতে নিজের কোন বিশেষ স্বার্থ উদ্ধার করা। কিন্তু মানুষজন যদি ঈদের অর্থনীতি ধরতে পেরে ফেলে, তবে মানুষ লকডাউনের ক্ষতির সমস্যা উতরে যাবে এবং তাদের এতদিনের ষড়যন্ত্র তাদের এতদিনের কষ্ট বৃথা হয়ে যাবে।
তাই যে কোন উপায়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। “২ সপ্তাহের মধ্যে মহামারী শুরু হবে”, “আর ২ সপ্তাহের মধ্যে মহামারী শুরু হবে”, এমন বার বার মিথ্যা ভবিষ্যতবাণী করে তারা ধোকা দিয়ে মানুষকে ‘অর্থনৈতিক ভাবে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। ঈদ পর্যন্ত টানার চেষ্টা করতেছে। বাস্তবে এই লোকগুলো উদ্দেশ্য মহামারী দমন নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা।
১০ রোজা শেষ হয়ে গেছে, এখনও যদি জনগণ এদের ষড়যন্ত্র না বুঝে এবং এদের শেকল ছিড়ে সব মুক্ত করতে জোর প্রতিবাদ না করে, তবে আর কিছুই করার নেই।
জনগণকে বুঝতে হবে, ঐ বিশেষ মহল জোর করেই এ শিকল তৈরী করেছে, জনগণ যদি মুখ বুজে থাকে, তবে সেই শিকল কিছুতেই ছিড়বে না। জনগণকেও তাই জোর করে শিকল ছিড়তে হবে। এছাড়া উপায় নেই।