গরুর শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হচ্ছে বিষ। এন.সি-২৭৮
গরুর শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হচ্ছে বিষ
Image result for মরুভূমি
ছবি দেখলেই ভয় পেয়ে যাবেন,
গরুর শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হচ্ছে বিষ
এই গরুর মাংশ যে খাবে, তার জীবন শেষ।
কোরবানীর ঈদ আসলেই মিডিয়া ভরে যায় এসব গুজবে,
পদ্মা সেতুতে ১ লক্ষ মাথা লাগার গুজব থেকে এই গুজব কিন্তু কম কিছু নয়।
ছবিতে উল্লেখিত সংবাদটা বাংলানিউজ২৪ এ এসেছে, ৭ই জুলাই। ছবি বলে দিচ্ছে কোন হাটের ছবি, যদিও এখন দেশে কোথাও কোরবাণীর হাট বসেনি, তাহলেই এই ছবি দিয়ে ভয় বৃদ্ধির মানেটা কি ?
খবরের ভেতরে পড়ে দেখুন- গরুকে নাকি মোটাতাজা করা হচ্ছে- ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন ওষুধ দিয়ে। প্রথম দুটো ওষুধ হচ্ছে করটিকোস্টেরয়েড গ্রুপের হরমোন। আর তৃতীয়টা এলার্জি সমস্যায় দেয়, কেউ কেউ গরুর রুচি বৃদ্ধিতে এটা ব্যবহার করে। (https://bit.ly/2XPGfNo)

ড আজিজ সিদ্দিকী নামক ভেটেরিনারি ডাক্তার, যিনি আমেরিকা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি করে আসছেন, তিনি vetsbd.com তিনটি আর্টিকেল লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন অর্থাৎ করটিকোস্টেরয়েড গ্রুপের ওষুধগুলো নিয়ে বলেছিলেন, আসুন সে লেখাগুলোর বিশেষ অংশটুকু পড়ি-
“ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে। ঢাকা শহরের হাটগুলো ক্রমেই জমে উঠছে। ব্যাপারীরা গাদাগাদি ঠাসাঠাসি ভাবে ট্রাক ভর্তি হাজার হাজার কোরবানীর গরু নিয়ে ঢাকা শহরমুখী হচ্ছে । প্রায় প্রতিদিনই পত্রপত্রিকায় কোরবানীর গরু মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়া সম্ভন্ধীয় রিপোর্ট প্রকাশিত হচ্ছে । রিপোর্ট গুলোর মুল বক্তব্যে ঘুরেফিরে আসছে স্টেরয়েড হরমোনের অপব্যবহার। বিভিন্ন বাণিজ্যিক নামে ডেক্সামেথাসন নামের স্টেরয়েডের কথাই শোনা যাচ্ছে বেশী। আজকে স্টেরয়েড যেন একটি আতঙ্ক, একটি ভীতির নাম। পত্রপত্রিকার রিপোর্টের ফলে জনমনে এক ধরনের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে যে, মোটাতাজা এই সব কোরবানীর গরুর মাংশ কতটুকু নিরাপদ?
কোরবানীর গরুগুলো দুই ধরনের হয়, দেশীয় ও ভারতীয়। ভারতীয় গরু তুলনামুলকভাবে সস্তা। কোরবানীর হাটে বিক্রি না হলে এগুলোর আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই তাই বাজারে প্রতিযোগিতাও প্রবল। এগুলো চেনার জন্য যদিও বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই তবে এদের চিনতে পারাটা সবার জন্যই ভালো। কারণ সত্যিকারের স্টেরয়েড সমস্যা ভারতীয় গরুতেই বেশী। …….গরু মোটাতাজাকরনে ডেক্সামেথাসনের কোন ভূমিকা নেই তবে মোটাতাজাকরন কালীন সময়ে মূলত যেসব গরু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অর্থাৎ সীমান্তের ওপার হতে আসে সেসব গরুতে কিছু মেডিকেল অবস্থার সৃষ্টি হয় বা হতে পারে। প্রাণীস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা উভয় বিচারে জবাইপূর্ব ঐসব গরুতে ডেক্সামেথাসন ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। ডেক্সামেথাসনের এই ব্যব হার মোটাতাজাকরন সম্পর্কিত নয় এটি চিকিৎসা সম্পর্কিত। ডেক্সামেথাসন একটি প্রেসক্রিপশন ড্রাগ অর্থাৎ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত এর ক্রয়বিক্রয় ও ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের ফার্মেসিগুলোতে গিয়ে যে কেউ এটি কিনতে পারেন। ফলে অবৈধ উপায়েও ডেক্সামেথাসন ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে শতকরা কতভাগ কোরবানীর গরুতে এর ব্যবহার হচ্ছে তার কোন পরিসংখ্যান জানা নেই। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় ভারতীয় গরুগুলোতেই এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশী। অর্থাৎ ডেক্সামেথাসন ব্যবহারের শুরুটা সীমান্তের ওপার হতেই শুরু হয়। এই শুরুটা প্রধানত কোরবানীর গরু পরিবহন পরিস্থতির সাথে সম্পর্ক যুক্ত।
(বিস্তারিত পড়তে পারেন-
ক) কোরবানীর মোটাতাজা গরু ও স্টেরয়েড নিয়ে গন-আতঙ্ক (১)
(https://bit.ly/2JxRYfJ)
খ) কোরবানীর মোটাতাজা গরু ও স্টেরয়েড নিয়ে গন-আতঙ্ক (২)
(https://bit.ly/2LmgEtU)
গ) কোরবানীর মোটাতাজা গরু ও স্টেরয়েড নিয়ে গন-আতঙ্ক (৩)
(https://bit.ly/2XLiJWX)
এখানে বোঝার বিষয় -
১. ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন টাইপের ওষুধগুলো সে সকল গরুর প্রয়োজন হয়, যেসব গরু দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে আসে। বাংলাদেশের গরুর এ ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভারত থেকে যেসব গরু আসে, সেগুলো সুদূর রাজস্থান, হরিয়ানা প্রদেশ থেকে আসে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে। এ কারণে এসব গরুকে এ ধরনের হরমোন প্রচুর পরিমাণে পুশ করতে হয়। এজন্য দেখবেন, কোরবানীর আগে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এসব ওষুধ প্রচুর পরিমাণে প্রবেশ করে, এগুলোও সেই ভারত থেকে আসা গরুগুলোকে কোরবানী পর্যন্ত পুশ করার জন্য। তাই ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন সমস্যা যদি থাকে, তবে সেটা ভারতীয় গরুতে থাকবে, বাংলাদেশী গরুতে না।
২. ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন ও পেরিঅ্যাকটিন ওষুধ দিয়ে কেউ তাৎক্ষণিক গরুর কিডনী অকেজো করে শরীরে পানি জমিয়ে গরুকে মোটাতাজা দেখাতে পারে কেউ কেউ। কিন্তু সেটার সম্ভবনাও খুব কম, কারণ সেটা খুবই রিস্কি একটা কাজ। গরুর এক্ষেত্রে মারা যাওয়ার সম্ভবনা বেশি। দেশী গরু যেহেতু দেশে রেখে দেয়া যায়, তাই খামারি বা ব্যবসায়ীদের এ ধরনের রিক্সে যাওয়ার সম্ভবনা নেই। কিন্তু ভারতীয় গরুরগুলোর যেহেতু ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা নাই, এবং দীর্ঘরাস্তা পাড়ি দেয়ার কারবে সেগুলোর অবস্থা এমনিতেই খারাপ থাকে, তাই তাৎক্ষনিকভাবে গরুকে মোটা তাজা দেখাতে গরুর লাইফ রিক্সের মধ্যে যদি ফেলা হয়, তবে সেটা ভারতীয় গরুতেই হবে, দেশী গরুতে নয়।
৩. ডেইরি ও পোলট্রির মত গরু মোটাতাজাকরন বা বীফ ফেটেনিং প্রাণীজ কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য বিশ্বের সকল দেশেই বীফ ফেটেনিং করা হয়। তবে আমাদের দেশে মূলতঃ কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এই কর্মযজ্ঞটি সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কোরবানীর ঈদের ৩-৪ মাস আগে থেকে অর্থাৎ রোজার মাস থেকেই শুরু হয় গরু মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়া। সারাদেশে অজস্র ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী ভাইয়েরা এই সময়ে কোরবানী উপযোগী গরুগুলোকে প্রচুর পরিমাণে খাইয়ে নাদুসনুদুস করে তুলেন। একটু লাভের আশায় কৃষক ভাইয়েরা বিগত ৩-৪ মাস কখনো কখনো ধার দেনা করে প্রতিটি গরুর পিছনে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করেছেন আর অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন এগুলোকে তরতাজা, মাংসল আর আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু অসাধু মিডিয়া সেই সব খামারিদের কাছে ঈদের সেলামি চাইতে গেলে তারা হয়ত কখন কখন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আর তখনই ঘটে ঘটনা। রাগ ঝেড়ে মিডিয়া কর্মীরা দেশী গরু মোটা করতে ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন ওষুধ ব্যবহার করছে বলে খবর রটিয়ে দেয়, যদিও মিডিয়া কর্মীরা নিজেরাই জানে না, এসব ওষুধের প্রকৃত ব্যবহার কোথায় ।
মিডিয়ায় এসব ভুল নিউজের কারণে বিশুদ্ধ মানে দেশী গরু সম্পর্কে জনমণে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, আর যে সব ভারতীয় গরুতে আসলেই ‘ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন’ ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা আড়ালে থেকে যায়। অথচ প্রকৃত সত্যটা অর্থাৎ ভারতীয় গরুতে এসব ওষুধ ব্যবহারের খবর কোন মিডিয়া বিশেষ কারণে প্রকাশ করে না।
স্বৈরাচার খুব খারাপ শব্দ, গণতন্ত্র খুব ভালো শব্দ । এন.সি-২৭৭
স্বৈরাচার খুব খারাপ শব্দ, গণতন্ত্র খুব ভালো শব্দ
Image result for মরুভূমি
স্বৈরাচার খুব খারাপ শব্দ, গণতন্ত্র খুব ভালো শব্দ
জঙ্গী-সন্ত্রাসী খুব খারাপ শব্দ, ‘মানসিক অসুস্থ’ খুব ভালো শব্দ
বিষমকামী খুব খারাপ শব্দ, সমপ্রেমী খুব সুন্দর শব্দ
বাল্যবিয়ে খুব খারাপ শব্দ, জিএফ-বিএফ খুব ভালো শব্দ
‘পর্দা’ বা ‘আবদ্ধ’ খুব খারাপ শব্দ, কিন্তু নারী স্বাধীনতা খুব সুন্দর শব্দ।
মানুষ মনস্ত্বাতিকভাবে শব্দের ধোকায় পড়ে
অধিকাংশ মানুষ শব্দ চয়ন দেখেই ভালো-মন্দ বিচার করে নেয়, শব্দের ভেতরে ঢুকতে চায় না।
অথচ সেই খারাপ শব্দের আড়ালে যে কেউ তাকে মন্দ জিনিস দিতে পারে, এটা সে বুঝতে পারে না।
সম্রাজ্যবাদীরা মানুষের এই মনস্তত্ব নিয়ে খেলে,
সুন্দর সুন্দর শব্দ দিয়ে তাদের স্বার্থের পক্ষে প্রচার চালায়,
আর তার স্বার্থ বিরুদ্ধে জিনিসগুলোকে খারাপ শব্দ দিয়ে প্রচার করে।
এতে সাইকোলোজিক্যালি ঐ মানুষটি সম্রাজ্যবাদীদের পক্ষে চলে আসে আর নিজ স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে চায়।
একটা বৃহৎগোষ্ঠীকে কন্ট্রোল করার এর থেকে আর ভালো কোন সিস্টেম থাকতে পারে না।
অর্থাৎ আগে যেমন অস্ত্র দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হতো, এখন নিয়ন্ত্রণ করা হয় বিশ্বাস বা বিলিভ দিয়ে।
মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, এইসব চটকদার শব্দ, আর সেই শব্দের পেছনে ছুটতে থাকে সে।
যদিও এইসব চটকদার শব্দের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, সম্রাজ্যবাদীদের বিভিন্ন স্বার্থ।
আজকে এরশাদ মারা গেছে, এরশাদের উপাধি ছিলো ‘স্বৈরাচার’।(মিশরের সিসিকে কিন্তু স্বৈরাচার উপাধি দেয়া হয় না)
কিন্তু কেন তাকে সেই উপাধি পেতে হয়েছিলো ?
কারণ- সে যেভাবেই ক্ষমতায় আসুক,
ক্ষমতায় আসার পর সম্রাজ্যবাদীদের কথা ঠিকমত শুনছিলো না।
সে নিজেই হয়ত দুর্নীতি করেছে, কিন্তু সেই দুর্নীতিতে সম্রাজ্যবাদীদের ভাগ দেয়নি।
এটাই তার অপরাধ। আর এ কারণে তাকে উপাধি দেয়া হয় স্বৈরাচার।
আন্তর্জাতিক সব ব্লকের দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলো সব একযোট যায় তাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য। ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ভরা হয় জেলে। জেল খেটে বের হলেও কেউ তাকে আর বিশ্বাস করেনি কেউ, এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দেয়া হয়নি। কারণ একবার ক্ষমতা পেলে যদি আগের মত করে বসে, এই ভয়ে।
এরশাদের মত অনেকেই ক্ষমতা আকড়ে থাকে, দুর্নীতি করে, নারীঘটিত আরো অনেক কিছুই করে,
কিন্তু সাথে বিদেশী ব্লকের স্বার্থও দেখে, তাই তাদেরকে ‘স্বৈরাচারি’ বলে গালি শুনতে হয় না। সবার একযোগে বিরোধীতাও পোহাতে হয় না।
এরশাদের মৃত্যুতে এ বিষয়টি আলোচনা করছি, কারণে এখানে জনগণের অনেক কিছু শেখার আছে।
কোনটা দেশের স্বার্থ, কোনটা বিদেশের স্বার্থ, এগুলো বোঝার দরকার ।
মিডিয়া কোনটাকে ভালো বলছে, কোনটা খারাপ করছে,
কোনটা কার স্বার্থে বলছে, এগুলো যাচাই করার দরকার।
শুধু শব্দ শুনলেই যেন লাফ না দেয়, কারণ মিডিয়ার পেছনে আছে সম্রাজ্যবাদীরা,
কোন সুন্দরের আড়ালে বিষ, আর কোন মন্দের আড়ালে যে রত্ন লুকিয়ে আছে, সে নিজেও জানে না।