গতকাল আগুন লেগেছে রূপনগর খালের উপর তৈরী করা বস্তিঘরে। এন.সি-২১৮
গতকাল আগুন লেগেছে রূপনগর খালের উপর তৈরী করা বস্তিঘরে। 
Related image
গতকাল আগুন লেগেছে রূপনগর খালের উপর তৈরী করা বস্তিঘরে। এই বস্তিঘর নিয়ে আলোচনা একদিন নয়্ বহুদিনের। এই খালের দরিদ্রদের উচ্ছেদ করার ব্যাপারে বহু আগে থেকেই সরকার, হাইকোর্ট ও সিআইএপন্থী মিডিয়া ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো একমত। গতকাল শুধু আগুন দিয়ে সবার মনের খায়েশ পূরণ হয়েছে মাত্র।
আসুন এই রূপনগর খাল নিয়ে বিভিন্ন সংবাদগুলো দেখি-
১) দৈনিক প্রথম আলো, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩
বেহাত হচ্ছে রূপনগর প্রকল্পের লেক (https://bit.ly/2HaXjZ4)
২) কালের কণ্ঠ, ১১ মে, ২০১৬
রূপনগর লেক রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা’র রিট, হাইকোর্টের রুল (https://bit.ly/2OZTAUe)
৩) দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ অক্টোবর ২০১৭
চার নদীর সঙ্গে ২৬ খাল যুক্ত হলে ঢাকা বাঁচবে (২৬ খালের মধ্যে রূপনগর খালও আছে)
(https://bit.ly/2KJLARS)
৪) দৈনিক জনকণ্ঠ, ২১শে জানুয়ারী, ২০১৮
রূপনগর খালের পাশে অবৈধ স্থাপনা ১ মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ (https://bit.ly/2Z0eyqY)
৫) দৈনিক প্রথম আলো, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ঢাকার রূপনগর : ২২ একর লেক দখল করে বস্তিঘর (https://bit.ly/2KChrFf)
৬) দৈনিক কালেরকণ্ঠ, ১৫ মে, ২০১৯
রূপনগর খাল : দখলমুক্ত করা গেলে হতে পারে আরেক হাতিরঝিল
(https://bit.ly/33Fydec)
৭) দৈনিক ইত্তেফাক, ১৫ই মে, ২০১৯
মিরপুরের রূপনগর লেকটি হাতির ঝিলের মতো আধুনিক করার জন্য ৯৭০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এটি কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে নাকি কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
(https://bit.ly/2z6I273)
খালের উপরে গড়ে তোলা বস্তিঘর উচ্ছেদ করে সেখানে হাতিরঝিলের মত প্রকল্প গড়ে উঠলে নিঃসন্দেহে সেখানকার পরিবেশ সুন্দর হবে। কিন্তু একটা কথা কিন্তু থেকেই যায়-
সৌন্দর্য্য্ আগে না মানুষ আগে ?
আপনি যদি পৃথিবীর সব মানুষকে মেরে ফেলেন, তবে অবশ্যই পৃথিবীর পরিবেশ সুন্দর হবে,
পরিবেশের সর্বোচ্চ স্তর প্রাণীদের জন্য অভয়রাণ্য হয়ে গড়ে উঠবে।
কিন্তু সব সুন্দর হলেও সেখানে কিন্তু মানুষ থাকবে না।
আজকে যারা পরিবেশের দোহাই দিয়ে দরিদ্রদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে,
আমি সেই পরিবেশে খ্যাতা পুরি। আমি সেই পরিবেশ চাই না।
যে সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে রাতের আধারে দরিদ্রশ্রেনীর মানুষের বাড়িতে আগুন দিতে হয়,
সেই সৌন্দর্য্যে উপভোগ্য নেই, আছে হাজারো মানুষের হাহাকার, আছে কান্না।
আগে মানুষগুলোকে পূনর্বাসন করা হতো, তারপর বাড়িঘরগুলো ভাঙ্গা হতো,
কিন্তু পরিবেশ সুন্দরের কথা বলে, দরিদ্রদের বাড়িতে আগুন দেয়া,
নিঃসন্দেহে পৃথিবীর নিকৃষ্ট কাজগুলো একটি।
আগুন লাগার পর মেয়র আতিকুর অবশ্য গৃহহীন ৫৫ হাজার লোককে বাউনিয়ার ফ্ল্যাটবাড়িতে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে। আসলে এটাও একটা তামাশা। আগুনে পুড়ে যাওয়ার মানুষগুলোর সাথে এই ধরনের তামাশা না করলেই কি নয় ? কারণ-
-বাউনিয়ার ফ্ল্যাটবাড়ি কবে কমপ্লিট হবে ?
-সেখানে গৃহহীন লোকগুলো আবেদন করলেই ফ্ল্যাট পাবে কি না ?
- এরপর সেই দরিদ্র শ্রেণীর লোকগুলো ৩৮শ’-৪৮শ’ টাকা স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটগুলো কিনতে পারবে কি না ? কারণ প্রতি ফ্ল্যাটের দাম পড়ছে ৩০ লক্ষ থেকে ৬০ লক্ষ, কোনটার দাম ১ কোটিরও বেশি। খবরে এসেছে, দরিদ্রদের জন্য বানানো সেই ফ্ল্যাটগুলো বড়লোকরাই কিনে নিচ্ছে। (https://bit.ly/2NbYDyG)
আবারও ৩টি কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি-
ক) ঢাকা হবে প্যারিস-লস অ্যাঞ্জেলস : জনৈক তথ্যমন্ত্রী
খ) ২০২৪ সালের পর দেশে কোন গরীব থাকবে না : জনৈক অর্থমন্ত্রী
গ) যে দেশের মানুষ আমার পরিবারকে হত্যা করেছে,তাদের আমি দেখে নেবো : জনৈক দেশ প্রধান
No photo description available.
কেন বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ? অতঃপর চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত ??এন.সি- ২১৭
কেন বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বিপর্যয় 
?
অতঃপর চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত ??
Image result for নৌকা
কেন বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ?
অতঃপর চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত ??
২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে কসাইখানাগুলো বন্ধ করে দেয় মোদি সরকার। এতে কাচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় কানপুরের ৩০০ ট্যানারি। এ অবস্থায় চেন্নাই ও কানপুরের বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ী মোদি সরকারের কাছে আবেদন করে ট্যানারিগুলো পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের সীমানা ঘেষে সরিয়ে নিতে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের বেনাপোল থেকে মাত্র ১০০ কিলোর মধ্যে ছোট পরিসরে বানতলা চার্মনগরী ছিলো। কিন্তু সেটা বৃহৎপরিসরে আন্তর্জাতিকভাবে চামড়া প্রডাক্টের আধার হিসেবে তৈরীর উদ্যোগ নেয় ভারতের মোদি সরকার।
আশ্চর্যের বিষয় ভারত সরকার ২০১৭ সালে ঠিক যখন সমস্ত ট্যানারিগুলো একত্রিত করে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসছে, ঠিক তখনই (২০১৭সালে) বাংলাদেশের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বেশ শক্তভাবে রায় দেয় বাংলাদেশের হাজারিবাগের ট্যানারিগুলোকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য, বিচ্ছিন্ন করা হয় গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ। শুধু তাই নয় প্রতিদিন না যাওয়ার জন্য ধার্য করা হয় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। এ সময় বাংলাদেশের মধ্যম ও ছোট ট্যানারিগুলো ক্ষতি পুষাতে না পেরে পুরোপুরি হারিয়ে যায়। বড় ট্যানারিগুলো কোন মত ধার-দেনা করে বেচে থাকে। সেই বকেয়ার প্রভাব এ বছর দেখা যায়- চামড়া না কিনে মাটিতে পুতে ফেলা।
তবে লক্ষণীয়- স্রোতের আঘাতে নদীর এক পাড় ভেঙ্গে যেমন অন্যপারে চর উঠে, ঠিক তেমনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো যখন ধ্বংস করা হচ্ছিলো, ঠিক ঐ সময়ই সীমানার ওপারে বড় পর্যায়ে গড়ে উঠছিলো ‘বানতলা চর্মনগরী’।
২০১৮ তে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে ইতালির শিল্প প্রতিনিধি আসে। তাদের আশ্বাসেই কয়েকদিন পর মমতা ইতালিতে যায় চামড়া শিল্প নগরীর জন্য ইনভেস্ট আনতে।
অতঃপর আজ থেকে মাত্র ১ মাস আগে জুলায়ের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গের উব্দোধন হয় বড় পরিসরে বানতলা চামড়া শিল্প নগরীর। সেখানে থাকছে লেদার গুডস পার্ক, ফুটওয়্যার পার্ক, ৪টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বা সিইটিপি। থাকছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট। যেখানে ছাঁট চামড়া পরিশোধন করে সার ও অন্যান্য জিনিস তৈরী করা যাবে। এই শিল্পনগরীতে শুধু ৫০০ ট্যানারিই থাকছে না, সাথে থাকছে চামড়াজাত পণ্য (জুতা, ব্যগ) ইত্যাদি তৈরীর ১০০ কারখানা, যেখান থেকে তৈরী চামড়া পণ্য বিদেশে রফতানির করা হবে। ইতিমধ্যে সেখানে ৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে, আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে। চামড়া নিয়ে উচ্চতর লেখা-পড়ার জন্য সেখানে আলাদা লেদার টেকনোলোজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে। বানতলা চামড়া নগরী সম্পর্কে ভারতের শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র বলে, “বানতলাকে বিশ্বের সব থেকে বড় লেদার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা। গত ৩ বছর ধরে এই বিষয় নিয়েই কাজ করছি। “
বানতলা চর্মনগরীকে বলা হচ্ছে মেগা লেদার ক্লাস্টার। একসঙ্গে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হওয়ায় একে ডাকা হচ্ছে ‘কর্মদিগন্ত’ নামে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের জন্যসংখ্যা বাংলাদেশের অর্ধেক এবং সেখানে এমন কোন গরু জবাই হয় না যে কানপুর-চেন্নাই থেকে বড় বড় ট্যানারি মালিকদের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে হবে। পাশাপাশি ভারতীয় গরুর চামড়া কোয়ালিটি মোটেও উন্নত নয়, তাই বাংলাদেশের সীমানা ঘেষে বানতলায় পৃথিবীর অণ্যতম বৃহৎ লেদার হাব নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার, সেটা অবশ্যই ভারতীয় নিম্নমানের কাচামাল দিয়ে নয়, বাংলাদেশের উন্নতমানের কাচামাল দিয়ে।
এটা স্পষ্ট- বাংলাদেশের পাট শিল্প ধ্বংস করে যেভাবে সেই শিল্প ভারত নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, ঠিক একই কায়দায় চামড়া শিল্পও নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে এজন্য দুটি বিষয় দরকার ছিলো-
১) আর্থিক দৈন্যতায় বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো যেন চামড়া কিনতে না পারে।
২) সরকারীভাবে যেন কাচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়ে দেয়া হয়।
ইতিমধ্যে দুটিই শর্তকিন্তু পূরণ হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের সাথে সরকার, হাইকোর্ট ও মিডিয়াগুলো একযোগে কাজ করছে। অথচ কাচা চামড়া রপ্তানি করলে দেশী ট্যানারি শিল্প ‍পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে, বেকার হয়ে যাবে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫০ লক্ষ লোক।
আপনারা বাংলাদেশের মিডিয়া খুলে দেখবেন, তারা বাংলাদেশের ট্যানারি মালিকদের দোষারোপ করে বার বলছে বাংলাদেশের চামড়াগুলো যেন রপ্তানি করা হয়। অথচ এটা স্পষ্ট- পুরো ষড়যন্ত্রটা করাই হয়েছে বাংলাদেশের কাচামাল দিয়ে ভারতের বানতলা চামড়া শিল্পনগরীর উত্থ্যানের জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা সাধারণ জনগণ বিষয়টি বুঝতে না পেরে ঐ মিডিয়ার কথাই উঠছি, বসছি।