সাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রের ইসলামবিদ্বেষীতার মুখোশ উন্মোচন – ১





সাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রের ইসলামবিদ্বেষীতার মুখোশ উন্মোচন  ১ 




রবীন্দ্রচর্চা করার আগে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত- মুসলমানদের সম্পর্কে শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় পালিত রবীন্দ্রনাথের কী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল
মুসলিমবিদ্বেষ ওদের জাতিগত। এ অভ্যাস ওদের বহু পুরান।
এ অভ্যাস ওদের দীর্ঘদিনের
এ অভ্যাস ওদের মজ্জাগত ও সহজাত।
মুসলমানদেরকে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালি প্রদান এবং মুসলমানদের প্রতি মিথ্যা কালীমা লেপনের নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করেছে- বঙ্কিম, ঈশ্বরচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, রঙ্গলাল, হেমচন্দ্র, দীনবন্ধু মিত্র, দামোদর মুখোপাধ্যায়, থেকে খোদ রবীন্দ্র ঠগসহ সব হিন্দু লেখকই।
বাংলা সাহিত্যে এসব হিন্দু কবি-সাহিত্যিকদের ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িকতা ও চরম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন মুসলমানরা। বঙ্কিম তার শেখা প্রায় সবকটি গালি আনন্দমঠ উপন্যাসে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করেছে। ম্লেচ্ছ হতে শুরু করে যবন পর্যন্ত। এমনকি প্রাচীনকালে বৌদ্ধদেরকে দেয়া নেড়ে গালিটাকেও সে উহ্য রাখেনি।
শুধু তাই নয়; তারা ম্লেচ্ছ, যবন, নেড়ে বলা ছাড়াও মুসলমানদেরকে পাষ-, পাপিষ্ঠ, পাপাত্মা, দুরাত্মা, দূরাশয়, নরাধম, নরপিশাচ, পাতকী, বানর, এঁড়ে, দেড়ে, ধেড়ে, অজ্ঞান, অকৃতজ্ঞ, ইতর- এ জাতীয় কোনো গালিই দিতে বাদ দেয়নি।
তন্মধ্যে যবন, ম্লেচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় পালিত রবীন্দ্র ঠগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মুসলিমবিদ্বেষ ও হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চাঙ্গা করার জন্য অনেক গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, কবিতা রচনা করেছে। যবন, মেøচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় পালিত রবীন্দ্র ঠগের লেখা তার সমকালীন হিন্দুদেরকে চরম মুসলিমবিদ্বেষী হতে উৎসাহিত করেছিল।
যবন, মেøচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ঠগ কি রকম পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ছিলো, তা একটা প্রমাণেই বুঝা যাবে। তার রীতিমত নভেল নামক ছোটগল্পে সে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছে এভাবে-
আল্লাহো আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে একদিকে তিন লক্ষ যবন সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। ... পাঠক, বলিতে পার ... কাহার বজ্রম-িত হর হর বোম বোম শব্দে তিন লক্ষ মেøচ্ছ কন্ঠের আল্লাহো আকবর ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব-নক্ষত্র।
শুধু রীতিমত নভেলই নয়। যবন, ম্লেচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় পালিত রবীন্দ্র ঠগ তার সমস্যা, পুরান, দুরাশা কাবুলীওয়ালা গল্পে মুসলমানদেরকে জারজ, চোর, খুনী ও অবৈধ প্রণয় আকাংক্ষিণী হিসেবে উপস্থাপন করেছে। (নাঊযুবিল্লাহ!)
বিশেষ করে দুরাশা গল্পের কাহিনীটি আরো স্পর্শকাতর। এখানে দেখানো হয়েছে, একজন মুসলিম নারীর হিন্দুধর্ম তথা ব্রাহ্মণদের প্রতি কি দুর্নিবার আকর্ষণ এবং এই মুসলিম নারীর ব্রাহ্মণ হবার প্রাণান্তকর কোশেশের চিত্র।
যবন, মেøচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ঠগ এমন এক ব্যক্তি যে ভারতবর্ষব্যাপী শুধুমাত্র হিন্দুদের নিয়ে একক ও ঐক্যবদ্ধ হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা পোষণ করতো। মহারাষ্ট্রের বালগঙ্গাধর তিলক ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী শিবাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেছিল উগ্র হিন্দু জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার ও প্রসারের জন্য।
সঞ্চয়িতা কাব্যগন্থে শিবাজী উৎসব কবিতায় যবন, মেøচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় পালিত রবীন্দ্র ঠগ এ আকাঙ্খা করে বলে-
এক ধর্ম কাব্য খন্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত বেঁধে দিব আমি ....
..... এক ধর্ম রাজ্য হবে এ ভারতে এ মহাবচন করিব সম্বল।
শিবাজী-উৎসব নামক কবিতায় যবন, মেøচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী এবং শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ঠগ আরো বলেছে- শিবাজী চেয়েছে হিন্দুত্বের ভিত্তিতে ভারতজুড়ে এক ধর্ম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাঙালিরা সেটা বোঝেনি। না বুঝে করেছে ভুল।
প্রসঙ্গত, গুজরাটী ভাষী প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ÔUrdu and urdu shall be the state language মন্তব্য করে যে অন্যায় করেছিলো; এরচেয়ে শতগুণ অপরাধ করেছিলো শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত বাংলাভাষী রবীন্দ্র ঠগ- ÔThe only possible national language for inter provincial inter-course is Hindi in India মন্তব্য করে। জিন্নাহ এই অপরাধের জন্য মৃত্যুর আগে অনুতপ্ত হয়ে অনুশোচনা করেও অপরাধ থেকে রেহাই পায়নি। কিন্তু শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ঠগ এই মন্তব্যের জন্য কোনো অনুশোচনা না করেও অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়নি। বরং সে নন্দিত সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি হিসেবে আখ্যায়িত। সুতরাং এ দেশীয় তথাকথিত কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ঠগকে যে রাজনৈতিক হীনস্বার্থে ব্যবহার করছে, তা সুস্পষ্ট।
সে আরো স্পষ্ট করে বলেছে, আমি ভারতীয় ব্রহ্মচর্যের প্রাচীন আদর্শে আমার ছাত্রদিগকে নির্জনে নিরুদ্বেগে পবিত্র নির্মলভাবে মানুষ করিয়া তুলিতে চাই। বিদেশী মেøচ্ছতাকে (মুসলমানিত্ব) বরণ করা অপেক্ষা মৃত্যু শ্রেয়, ইহা হৃদয়ে গাঁথিয়া রাখিও।
কিন্তু এতসব ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেয়ার পরও, এতসব লেখার পরও এদেশের মুসলিম নামধারী রবীন্দ্রপূজারী মহলের বোধোদয় হচ্ছে না! নাঊযুবিল্লাহ!

রবীন্দ্র-সাহিত্যের মধ্যে যে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দু মানস সেটি মুসলমানদের কাছে স্বভাবতই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু সেটিকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সুগারকোট লাগানো হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে এই বলে যে- (শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত) রবীন্দ্রনাথ ছিলো অসাম্প্রদায়িক। বলা হচ্ছে- সে উভয় বাংলার কবি, সে বিশ্বকবি ইত্যাদি বহুকিছু।
প্রশ্ন হলো- শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত যবন মেøচ্ছ রবীন্দ্র যে জন্মভূমির স্বপ্ন দেখতো বা কথা বলতো- সেটি কি হিন্দু-মুসলমান উভয়ের? যে চেতনা ও যে ধর্মবিশ্বাসের কথা বলতো- সেটিও কি উভয়ের?
শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত অস্পৃশ্য রবীন্দ্রনাথ তার জন্মভূমি প্রবন্ধে যে জন্মভূমির কথা আলোচনা করেছে, সেখানে আছে মায়ের পূজা, মায়ের প্রতিষ্ঠা, আছে অধিষ্ঠাত্রী দেবী ও ভারতীয় বীণাধ্বনি। সে যে মনে-প্রাণে মূর্তিপূজারী হিন্দু ছিলো তার পরিচয় রেখেছে তার পূজারিনী কবিতায়। সেখানে লিখেছে,
বেদব্রাহ্মণ-রাজা ছাড়া আর কিছু
কিছু নাই ভবে পূজা করিবার।
তার বৌ ঠাকুরানীর হাট উপন্যাসে সে প্রতাব চরিত্রের মুখ দিয়ে মুসলমানদেরকে মেøচ্ছ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে দূর করে আর্য ধর্মকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করার সংকল্প করে। গোরা উপন্যাসে গোরার মুখ দিয়ে ইসলামবিরোধী জঘন্য উক্তি করিয়েছে। সমস্যাপূরণ গল্পে অছিমদ্দিনকে হিন্দু জমিদারের জারজ সন্তান বানিয়েছে।
রবীন্দ্র-মানস বা রবীন্দ্র-চেতনা কতটুকু মুসলিমবিদ্বেষী ছিলো সে রবীন্দ্র-চেতনার পরিচয় তুলে ধরেছে আবুল মনসুর আহমদ। সে লিখেছে, হাজার বছর মুসলমানরা হিন্দুর সাথে একদেশে একত্রে বাস করিয়াছে। হিন্দুদের রাজা হিসেবেও, প্রজা হিসেবেও। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই হিন্দু-মুসলমানে সামাজিক ঐক্য হয় নাই। হয় নাই এই জন্য যে, হিন্দুরা চাহিত আর্য-অনার্য, শক, হুন যেভাবে মহাভারতের সাগর তীরে লীন হইয়াছিল মুসলমানেরাও তেমনি হিন্দু সমাজে লীন হইয়া যাউক। তাদের শুধু ভারতীয় মুসলমান থাকিলে চলিবে না, হিন্দু-মুসলমান হইতে হইবে। এটা শুধু কংগ্রেসী বা হিন্দু সভার জনতার মত ছিল না, শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত যবন মেøচ্ছ রবীন্দ্রের মত ছিল। (সূত্র: আবুল মনসুর আহমদ, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, পৃষ্ঠা ১৫৮-১৫৯।
শুধু তাই নয় ইংরেজ ও ভারতবাসী (রচনাকাল বাংলা ১৩০০ সাল) এবং সুবিচারের অধিকার (রচনাকাল বাংলা ১৩০১ সাল) নামক প্রবন্ধ দুটিতে শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত যবন রবীন্দ্র হিন্দু-মুসলিম সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করেছে। এখানেও মুসলিমবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসেনি শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত অস্পৃশ্য রবীন্দ্র। সুবিচারের অধিকার (রচনাকাল বাংলা ১৩০১ সাল) প্রবন্ধে শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত রবীন্দ্র ইংরাজ সরকারকে মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের জন্য অভিযোগ করে বলে:
অনেক হিন্দুর বিশ্বাস, বিরোধ মিটাইয়া দেয়া গভর্মেন্টের আন্তরিক অভিপ্রায় নহে। পাছে কংগ্রেস প্রভৃতির চেষ্টায় হিন্দু-মুসলমানগণ ক্রমশঃ ঐক্যপথে অগ্রসর হয়- এই জন্য তারা উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মবিদ্বেষ জাগাইয়া রাখতে চায় এবং মুসলমানদের দ্বারা হিন্দুরা দর্প পূর্ণ করিয়া মুসলমানকে সন্তুষ্ট ও হিন্দুকে অভিভূত করিতে ইচ্ছা করে। সর্বদাই দেখতে পাই- দুই পক্ষে যখন বিরোধ ঘটে এবং শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা উপস্থিত হয়, তখন ম্যাজিস্ট্রেট সূক্ষ্মবিচারের দিকে না গিয়ে উভয়পক্ষকেই সমানভাবে দমন করিয়া রাখিতে চেষ্টা করে। কারণ সাধারণ নিয়ম এই যে- এক হাতে শব্দ হয় না।
কিন্তু হিন্দু-মুসলমান বিরোধে সাধারণের বিশ্বাস দৃঢ়বদ্ধমূল হইয়াছে যে- দমনটা অধিকাংশ হিন্দুর উপর দিয়া চলিতেছে এবং প্রশ্রয়টা অধিকাংশ মুসলমানেরাই লাভ করিতেছেন। এরূপ বিশ্বাস জন্মিয়া যাওয়াতে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈর্ষানল আরো অধিক করিয়া জ্বলিয়া উঠিতেছে এবং যেখানে কোনোকালে বিরোধ ঘটে নাই, সেখানেও কর্তৃপক্ষ আগেভাগে অমূলক আশঙ্কার অবতারণা করিয়া একপক্ষের চিরাগত অধিকার কাড়িয়া লওয়াতে অন্যপক্ষের সাহস ও স্পর্ধা বাড়িতেছে এবং চির বিরোধের বীজ বপন করা হইতেছে। কেবল রাগাদ্বেষের দ্বারা পক্ষপাত এবং অবিচার ঘটিতে পারে তাহা নহে, ভয়েতে করিয়াও ন্যায়পরায়ণতার নিক্তির কাঁটা অনেকটা পরিমাণে কম্পিত বিচলিত হইয়া উঠে। আমাদের এমন সন্দেহ হয় যে- ইংরাজ মুসলমানকে মনে মনে কিছু ভয় করিয়া থাকে। এই জন্য রাজদন্ডটা মুসলমানের পা ঘেঁষিয়া, ঠিক হিন্দুর মাথার উপরে কিছু জোরের সহিত পড়িতেছে।

যদিও মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের মনোভাব সবসময়ই ছিলো বৈষম্যমূলক ও দমন-নিপীড়নের উপর নির্ভরশীল; তারপরও ঊনিশ শতকের শেষ দশকে দাঁড়িয়ে শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত মেøচ্ছ রবীন্দ্রের লেখা এই প্রবন্ধে দেখা যায়- মুসলিম সমাজের প্রতি ইংরেজদের কথিত সমানাধিকার প্রদান বা কথিত ন্যায় বিচার করাও শরাব ও পতিতালয়ের পয়সায় লালিত-পালিত যবন মেøচ্ছ অস্পৃশ্য রবীন্দ্রের বরদাশতের বাইরে ছিলো। এ প্রবন্ধে তার বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির একটি স্পষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। অথচ এটা অবশ্যই স্মরণীয় যে ঊনিশ শতকের হিন্দু কথিত জমিদার, মহাজন, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সকলেই ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পদলেহী দালাল।

মুসলমান সমাজের প্রতি যবন, ম্লেচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী রবীন্দ্র ঠগের দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় কণ্ঠরোধ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে। সিডিশন বিল পাস হওয়ার পূর্বদিনে কলকাতা টাউন হলে এই প্রবন্ধটি সে পাঠ করে। এই প্রবন্ধে যবন, ম্লেচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী রবীন্দ্র ঠগ একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলে- কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রন্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষরূপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেল অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল। অপরাধ করিল, দন্ড পাইল; কিন্তু ব্যাপারটি কি আজ পর্যন্ত স্পষ্ট বুঝা গেল না।
এই নিম্নশ্রেণীর মুসলমানগণ সংবাদপত্র পড়েও না, সংবাদপত্রে লেখেও না। একটা ছোট-বড়ো কান্ড হইয়া গেল অথচ এই মূঢ় (মুসলমান) নির্বাক প্রজা সম্প্রদায়ের মনের কথা কিছুই বোঝা গেল না। ব্যাপারটি রহস্যাবৃত রহিল বলিয়াই সাধারণের নিকট তাহার একটা অযথা এবং কৃত্রিম গৌরব জন্মিল। কৌতুহলী কল্পনা হ্যারিসন রোডের প্রান্ত হইতে আরম্ভ করিয়া তুরস্কের অর্ধচন্দ্র শিখরী রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত সম্ভব ও অসম্ভব অনুমানকে শাখা পল্লবায়িত করিয়া চলিল।
ব্যাপারটি রহস্যাবৃত রহিল বলিয়াই আতঙ্কচকিত ইংরেজি কাগজে কেহ বলিল- ইহা কংগ্রেসের সহিত যোগবদ্ধ রাষ্ট্র বিপ্লবের সূচনা; কেহ বলিল- মুসলমানদের বস্তিগুলো একেবারে উড়াইয়া পুড়াইয়া দেয়া যাক, কেহ বলিল- এমন নিদারুণ বিপৎপাতের সময় তুহিনাবৃত শৈলশিখরের উপর বড়-লাট সাহেবের এতটা সুশীতল হইয়া বসিয়া থাকা উচিত হয় না।
এই প্রবন্ধে উল্লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি শব্দ প্রয়োগ লক্ষ্য করলে মুসলমান সমাজের প্রতি যবন, ম্লেচ্ছ, ইসলামবিদ্বেষী রবীন্দ্র ঠগের দৃষ্টিভঙ্গির একটা সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে বলা প্রয়োজন যে- ইসলামবিদ্বেষী, যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগের পরিবারের জমিদারী ছিল পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়া, শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, নওগাঁ প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এইসব অঞ্চল ছিল মুসলমান প্রধান। এই উন্মাসিক মানসিকতা ও বক্তব্য তার জমিদারীতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রতি যবন ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগের দৃষ্টিভঙ্গির একটা উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রায়শ্চিত্ত নাটকে প্রতাপাদিত্যের উক্তি- খুন করাটা যেখানে ধর্ম সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কুখ্যাত, যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগের মুসলিমবিদ্বেষ এবং বিরোধিতার অবস্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। এখানেও সে সাম্প্রদায়িক ভূমিকায় অবতীর্ণ। তার নাটকের এই বক্তব্য হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটায় এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমি তৈরি করে দেয়। তাই ঐতিহাসিকভাবে বলা হয়- বিশ শতকের প্রথম দশক থেকে শুরু হওয়া হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার দায়ভার যবন ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগ কোনো ক্রমেই এড়াতে পারে না।
বর্তমান আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগের শিবাজী উৎসব কবিতা। এই কবিতা এবং ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের অনুষঙ্গে রবীন্দ্র ঠগের মুসলিম বিরোধিতার অবস্থানটি চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভারতের ইতিহাসে বিশেষত মুঘল ভারতের ইতিহাসে শিবাজী একজন ধূর্ত, শঠ, বিশ্বাস ভঙ্গকারী, ধূর্ত সন্ত্রাসী মারাঠা আঞ্চলিক নেতা হিসাবে খ্যাত। তার সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালিত হয়েছিল ন্যায়পরায়ণ মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে।
উনিশ শতকের বাংলা পুনরুত্থানপন্থীরা যবন, ম্লেচ্ছ শিবাজীকে ভারতের বীর হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। এমনকি আঠারো শতকের বাংলার জনজীবন মারাঠা দস্যুদের পুনঃপুনঃ আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
তাদের লুটপাট, হত্যা, রাহাজানি, আর আক্রমণের কবল থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যাকে রক্ষার জন্য নবাব আলীবর্দী খান প্রাণপণ লড়াই করেছিলেন। যবন, ম্লেচ্ছ সন্ত্রাসী মারাঠারা এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষকে বাংলার পশ্চিমাঞ্চল, বিহার ও উড়িষ্যার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিরাণভুমিতে পরিণত করেছিল। বাংলায় মারাঠা বর্গীদের এই হামলার প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেছে কবি গঙ্গারাম। তার লেখা পুঁথির নাম মহারাষ্ট্র পূরাণ পুঁথিটি ঘটনার সমসাময়িককালে অর্থাৎ ১৭৫১ সালে রচিত। এই পুঁথিটি আবিষ্কৃত হয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা থেকে।
ঐতিহাসিক প্রামাণ্য তথ্যে এটা স্বীকৃত যে- পলাশী পূর্ববর্তী সুবে বাংলার অর্থাৎ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল যবন ম্লেচ্ছ মারাঠা দস্যুদের সন্ত্রাসী হামলা, লুণ্ঠন, হত্যা ও আক্রমণে। নবাব আলীবর্দী খান মারাঠা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে তার শাসনামলের প্রায় পুরো সময়কালটি ব্যাপৃত থাকেন।
উনিশ শতকের কথিত হিন্দু উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী এই ঐতিহাসিক সত্য ভুলে সন্ত্রাসী মারাঠাদের আক্রমণ, লুটপাট আর কর্মকা-কে মুসলিমবিরোধী অভিহিত করে হিন্দুদের কথিত গৌরব হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে। প্রধানত এই হিন্দু পুনরুত্থানবাদী আন্দোলনের পটভূমিতে বাংলার হিন্দু সমাজ বিজাতীয় মারাঠাদের গুণকীর্তন আর বন্দনা শুরু করে। যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্র ঠগ ছিলো এই ধারারই শক্তিশালী প্রবক্তা।

   কথিত সেক্যুলার শিক্ষা নয়,মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের মুল








কথিত সেক্যুলার শিক্ষা নয়,মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের মুল 




মাদরাসা শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই ছড়িয়েছে জ্ঞান - বিজ্ঞানের আলো।
নাস্তিক ইসলামবিদ্বেষীরা মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কটুক্তি করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ। তারা বলে থাকে মাদরাসায় নাকি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়না। নাউযুবিল্লাহ। কথিত পশ্চিমা ধাচের সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা নাকি জ্ঞান বিজ্ঞান শেখানো হয়! নাউযুবিল্লাহ। যার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে কথিত মুসলমান মাদরাসায় সন্তানদের পড়ানো নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগে সন্তানদের ভর্তি করায়না। অথচ মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের মুল।
ইতিহাস সাক্ষী অতীতের সকল মুসলিম বিজ্ঞানী , জ্ঞানী-গুনী সবাই মক্তব মাদরাসায় পড়াশোনা করেই জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। বেনিয়া বৃটিশ শাসনের পুর্বে মুসলিম শাসনামলে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাই ছিলো মুল। যেখানে  জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখা সম্পর্কে পড়ানো হত।
মুসলিম শাসনামলের অবদানঃ
মুসলিম শাসনামলের শুরু থেকেই মুসলমানরা বাদশাহ, সুলতান, নবাব এবং তাদের বড় রাজ কর্মচারীদের পদত্ত জায়গীর, আয়মা, আল তগমা, মদ মাশ প্রভৃত্তি লাখেরাজ সম্পত্তি ( নিষ্কর সম্পত্তি যা ওয়াকফ করে দেওয়া হত ) ভোগ করতেন। এসব সম্পত্তির আয় দ্বারা শুধু উনাদের ভরনপোষনই চলতনা, অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ, ইমামবাড়া, মুসাফির খানাসহ নানা জনহিতকর প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হত।
ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার সময় বাংলার এক-চতুর্থাংশ সম্পত্তি ছিল নিস্কর। শুধু বাংলাদেশেই ১৮২৮ থেকে ১৮৪৫ সাল পর্যন্ত কয়েক বছরে অন্তত কুড়ি হাজার নিষ্কর সম্পত্তি বাজেয়াফত হয়। ফলে বহু প্রাচীন মুসলিম বংশ উৎখাত হয় এবং মসজিদমাদরাসা-খানকাহসহ অসংখ্য মুসলিম শিক্ষা ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান লুপ্ত হয়।( মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত আমাদের জাতিসত্তার বিকাশধারা , পৃ ৬০ )
জ্ঞানার্জনে মুসলমান উনাদের গভীর অনুরাগ ,দ্বীন ইসলামী শিক্ষার উন্নয়নে দ্বীন ইসলাম প্রচারক আলিম উনাদের উদ্যোগ এবং পন্ডিত, কবি ,বিদ্যান ব্যক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমুহের প্রতি শাসকদের উদার পৃষ্টপোষকতার ফলে মুসলিম শাসনামলের বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষেত্রে অভুতপুর্ব জাগরন সৃষ্টি হয়। এ যুগে বিরাট সংখ্যক আলিম ও দ্বীন ইসলাম প্রচারক বিভিন্ন স্থানে জ্ঞানার্জনের বহু বিখ্যাত কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত বাংলা ও বাংগালীঃ মুক্তি সংগ্রামের মুলধারা নামক বইয়ের ১৫৩ পৃঃ বলা আছে -
"হযরত ওলী-আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিমগন ও আলেম উনাদের প্রভাবে এবং উনাদের শিক্ষা ব্যবস্থার কল্যানে বাংগালী মুসলমানগন অত্যন্ত উন্নত আধ্যাত্মিক , নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের প্রতিনিধিত্ব করতেন। তেরো শতকের সুলতান রুকনউদ্দীন কায়কাউসের সময় ত্রিবেনীর মাদ্রাসায় উৎকীর্ন একটি শিলালিপি শিক্ষা সম্পর্কে সে যুগের মুসলমান উনাদের চিন্তা-চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে তোমরা জ্ঞানার্জন করো , কেননা জ্ঞানার্জনই প্রকৃত আত্মনিবেদন , এর অনুসন্ধানই মুহব্বত এবং এর চর্চাতেই পরম গৌরব"
মুসলিম শাসনামলে এই দেশে শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি সম্পর্কে আলোচনা প্রসংগে ডক্টর এম এ রহিম লিখেছেন
মুসলমানামলের শিক্ষা ও জ্ঞান গরিমা নানাভাবে বাংলার দ্বীনি ও সাংস্কৃতিক জীবনকে উন্নত করে তোলে। ফলে দেশে এক অভুতপুর্ব আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরন দেখা দেয়। বাংগালী সমাজের সর্বস্তরে শিক্ষার প্রসার ঘটে। জ্ঞানালোপদীপ্ত মুসলিম শাসন ও শাসকদের উদার শিক্ষানীতির প্রভাবে যুগযুগব্যাপী বন্ধনদশা থেকে নিন্মশ্রেনীর হিন্দুদের বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তি সম্ভব হয়। এতদ্ব্যতিরেকে , মুসলমানগন বহু নতুন নতুন শিক্ষা কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার দ্রুত উন্নতির ও শিক্ষা বিস্তারের পথ সুগম হয়। মুসলমান উনারাই প্রথম বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস প্রবর্তন করেন এবং লেখ্যবস্তুরুপে কাগজের প্রচলন করেন।পুস্তক নকল করে প্রচারের রীতি প্রবর্তন করার জন্য বাংলাদেশ মুসলমান উনাদের নিকট ঋণি ( ডক্টর এম এ রহিমঃ বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, পৃ ২৩৪-২৩৫ )
শিক্ষার প্রতি মুসলমান উনাদের ব্যাপক আগ্রহ এবং এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গি হিন্দুদের মাঝেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। এ প্রসংগে ডক্টর এম রহিম  বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস , পৃ ২১৬-২২৭ বলেছেন যে -
" মুসলমান উনাদের পুর্বে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধানত ব্রাম্মনদের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো এবং যে কোন প্রকারের জ্ঞানের ক্ষেত্রে নিন্মবর্নের হিন্দুদের প্রবেশাধিকার নিষীদ্ধ ছিলো। ব্রাম্মনগন তাদের শাস্ত্র জ্ঞানের চর্চায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখত।--- মুসলিম শাসন প্রবর্তিত হওয়ার কারনে সুবিধাভোগী হিন্দুদের কবল থেকে ভাগ্যাহত ও বঞ্চিত হিন্দুরা মুক্তিলাভ করে এবং চিরকালের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের পথ উন্মুক্ত হয়। মুসলমান শাসনাধীনে অব্রাম্মনদের পক্ষে শিক্ষা গ্রহনে ব্রাম্মনদের অসন্তুষ্টি উদপাদনের আর কোন ভয় ছিলোনা। কেননা মুসলিম শাসন ব্যবস্থা মুসলমান-অমুসলমান , উচ্চ-নিচ সকল শ্রেনীর লোকের নিকট পার্থিব, আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির জন্য সমান সুযোগ এনে দেয়। এভাবে মুসলমান আমলে হিন্দু সমাজের অন্ত্যজশ্রেনীর মধ্যেও শিক্ষার প্রসার হয় এবং বঞ্চিত ও অবহেলিত লোকেরা বিদ্যার্জন করে জীবনে উন্নতি করার সমান সুযোগ পায়"
কেমন ছিলো মুসলিম শিক্ষা ব্যবস্থা?
মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা খুবই সহজলভ্য ছিলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছিলো জনসংখ্যার তুলনায় অনেক বশি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সম্পর্কে  ম্যাক্সমুলার উল্লেখ করেছে যে ইংরেজদের ক্ষমতা দখলকালে বাংলায় ৮০ হাজার মক্তবের অস্তিত্ব ছিল। প্রতি ৪০০ লোকের জন্য তখন একটি মাদরাসা ছিল ( সুত্রঃ মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত আমাদের জাতিসত্তার বিকাশধারা , পৃ ৬০ )
মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত বাংলা ও বাংগালীঃ মুক্তি সংগ্রামের মুলধারা নামক বইয়ের ১৫৪-১৫৫ পৃঃ বলা আছে -
মুসলিম শাসনামলে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন হয়। উইলিয়াম এডাম এর ১৮৩৫ খৃঃ সে সম্পর্কে কিছু ধারনা পাওয়া যায়। বাংলার শিক্ষার তৎকালীন অবস্থার উপর জরিপ চালিয়ে সে উল্লেখ করে যে বাংলা ও বিহারে পাচ থেকে পনেরো বছর বয়সের প্রতি ৩০০ জনের বেশি অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর জন্য তখন একটি গ্রাম্য বিদ্যালয় ছিল (উইলিয়াম এডামঃ শিক্ষা রিপোর্ট ১৮৩৫-৩৮ , কলকাতা পৃ ৬-৭ )
 এডাম এর এই রিপোর্ট প্রনয়নকালে বাংলার মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিধ্বস্থ ছিল। মুসলিম শাসনামলে উনাদের সমৃদ্ধির যুগে শিক্ষার অবস্থা অনেক বেশি উন্নত ছিল। প্রাথমিক মক্তব ও পাঠাশালার সংখ্যাও ছিলো অনেক বেশি। মুসলমান উনাদের সামর্থ বেশি ছিলো বলে উনাদের মধ্যে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্তা চালু ছিলো ( ডক্টর এম এ রহিমঃ বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, পৃ ২১৫ )
মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা খুবই সুলভ ছিলো। শিক্ষার পদ্ধতিও ছিলো যথেষ্ট উন্নত। মুসলিম শাসনামলের শিক্ষার অবস্থা সম্পর্কে এইচ জে রাওলিনসন লিখেছে
মুঘল ভারতের উন্নততর শিক্ষা সংস্কৃতি যথেষ্ট পরিমানে তাদের শিক্ষা পদ্ধতিরই ফসল। শিক্ষা দ্বীনি কর্তব্য হিসেবে পরিগনিত হত। ধণী পিতামাতার সন্তানকে ৪ বছর বয়সে কুরআনের একটি আয়াত উৎকীর্ন করা পাথর বসানো শ্লেট দিয়ে একজন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হত। আর গরীব পিতা মাতার সন্তানকে মৌলভী উনাদের দ্বারা পরিচালিত মক্তব বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হত। প্রতিটি মসজিদের সাথেও একটি মক্তব ছিলো( এইচ জে রাওলিসনঃ india a short cultural history, পৃ ৩৭২ )
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায় , মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শাসনামলে পাঠ্য বিষয়রুপে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ,পবিত্র হাদিস শরীফ,দ্বীনতত্ত্ব,ফিক্বহ , আইনশাস্ত্র ও অন্যান্য দ্বীন ইসলামী বিষয়ের পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, অংকশাস্ত্র , চিকিৎসাবিদ্যা , রসায়ন, জ্যোতির্বিদ্যা , কৃষি, জ্যামিতি , গার্হস্থ্য বিদ্যা , সরকারী আইনকানুন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, শাসন কৌশল , ইতিহাস ইত্যাদি পাঠ করানো হত।
ইউরোপিয় পর্যটক বার্নিয়ার ও মানুচি উল্লেখ করে যে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যায়ন ও রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে মুসলমান উনারা ইবনে সিনা ও ইবনে রুশদ এর পদ্ধতি অনুসরন করতেন।
উইলিয়াম এডাম এমনকি উনিশ শতকের প্রথমার্ধেও বাংলার মাদরাসা গুলোতে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যায়ন চালু থাকতে দেখেছে।সে তার ১৮৩৫ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টে উল্লেখ করে যে
দ্বীন ইসলামী বিষয়াদি ছাড়াও প্রকৃতি বিষয়ক দর্শন এবং সাধারন দর্শন শাস্ত্রের গ্রন্থাদির সাথে জ্যামিতি এবং জ্যোতিষশাস্ত্র মাদরাসাগুলোতে পড়ানো হত (উইলিয়াম এডামঃ শিক্ষা রিপোর্ট ১৮৩৫-৩৮ , কলকাতা পৃ ৬-৭ )
হিন্দুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মুসলমান উনাদের তৎকালীন মাদরাসাগুলির তুলনা করে উইলিয়াম এডাম লিখেছে
এ দেশে মুসলমান উনাদের অনুসৃত পাঠ্য পদ্ধতি হিন্দু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচলিত পাঠ্য বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাপক ও উদার ছিলো। এই পাঠ্যক্রম অনুসরন করে শিক্ষিত ব্যক্তিরা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করত ( উইলিয়াম এডামঃ সেকেন্ড রিপোর্ট , পৃ ২৬-২৭ )
তৎকালে মুসলমান উনাদের শিক্ষা সন্বন্ধে উইলিয়াম এ্যাডাম (Willim Adam) মন্তব্য করে যে, এ দেশে মুসলিমগন বহু বেসরকারী বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন এবং উনারা শিক্ষাকে পেশা ও জীবিকা নির্বাহের উপায় বলে গ্রহন করেননি। উনারা একে ন্যায় ও নেকীর কাজ বলে মনে করতেন। সে আমলে প্রথম পর্যায়ের শিক্ষা বাংলা ভাষার এবং উচ্চ শিক্ষা আরবী ও ফারসী ভাষার দেয়া হত। কিন্তু পশ্চিম ও উত্তর ভারতীয় মুসলিমগণ ফারসী ও উর্দুভাষা ব্যবহার করতেন। মুসলমান সমাজের অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে মেয়েরা মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষার সাথে এক বা একাধিক বিষয় যেমন বাংলা, গনিত, আরবী, ফারসী ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করতেন। বিত্তশালী লোকেরা নিষ্কর জমি, ওয়াকফ ও লাখেরাজ সম্পত্তি দান করে এ শিক্ষা ব্যবস্থা উৎসাহ দিতেন [মোঃ হাসানূজ্জামান বিপুল,বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার বৃহত্তর যশোর)

কিভাবে মুসলিম শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে কথিত সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিলো?
১৮৩৭ সালে বর্বর বৃটিশ বেনিয়ারা অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে ফার্সির স্থলে ইংরেজি চালু হয়।অথচ বেনিয়া বৃটিশেরা ক্ষমতা দখলের পরেও ৮০ বছর ফার্সী ভাষা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে চালু ছিলো। এর ফলাফল হল এই, লক্ষ লক্ষ মুসলিম যারা সরকারী বিভিন্ন পজিশনে চাকুরী করতেন উনারা বেকার হয়ে গেলেন,উনাদের জীবনে নেমে এল ঘোর অন্ধকার।ফার্সি ভাষা শেখার ব্যাপারেও আর আগ্রহ থাকল না।ফলে ফার্সিতে রচিত বিপুল সংখ্যক সাহিত্য ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমরা।
বছরের পর বছর, শতকের পর শতক ফার্সিতে যে সাহিত্য মুসলিম জ্ঞানী-গুনীজন তৈরি করেছিলেন তার সাথে বাংলার মুসলিমদের সংযোগ এক প্রকার হারিয়েই গেল। জাতি হিসেবে মুসলমান উনাদের এত বড় ক্ষতি মনে হয় আর কোনটাই নয়।
একই সাথে ১৭৭৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে লাখেরাজ সম্পত্তির (ওয়াকফ) মালিকানা বাদ দেয়ার ফলে হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মক্তব ( যাদের খরচ নির্বাহ হতে এই সম্পত্তি থেকে ) বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আরবী শিক্ষাও হয়ে পড়ে কষ্টকর। কেননা পুর্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য বেতনতো দিতেই হতনা বরং মুঘল আমলে ছাত্রদেরকে বৃত্তি দেয়া হত।ধীরে ধীরে শিক্ষা সংকুচিত হয়ে পড়ে মুসলিম সমাজে।
১৮৪৪ সালে  হার্ডিঞ্জ ঘোষনা করে যে, ইংরেজিতে ডিগ্রীপ্রাপ্তরাই সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবে। ইংরেজদের এই সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্তগুলো মুসলমান উনাদের শিক্ষা-ব্যবস্থার ওপর একের পর এক আঘাত হানে। ১৮১৪ সালে ইংরেজ সরকার ভারতবাসীর শিক্ষার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। শিক্ষাখাতে তারা বার্ষিক এক লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ করে। অথচ অন্যদিকে ১৮১৬ সালে তারা মুসলমান উনাদের শিক্ষার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত হাজী মুহাম্মদ মুহসিন ওয়াকফ তহবিলের সাড়ে বাইশ লাখ টাকা হস্তগত করে। মুসলমান উনারা ৫৫,০০০ টাকা বার্ষিক আয়ের সাড়ে বাইশ লাখ টাকার তাদের এই নিজস্ব তহবিল থেকে নিজেরাই যদি ব্যয় করতে পারত, তবে সরকারি সাহায্যের কপর্দকমাত্র ছাড়াই তারা সারা দেশে নিজেদের শিক্ষার অনেকাংশের ব্যয়-সংকুলান করতে পারত। ( মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত আমাদের জাতিসত্তার বিকাশধারা , পৃঃ ৬১ )
১৮৫৪ সালে Woods Despatch নামে একটি শিক্ষা কমিশন হয় বৃটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।পানিদস্যু , সন্ত্রাসী চার্লস উড ছিল ভারত কন্ট্রোল বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।তার রিপোর্টের প্রস্তাবনা অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থার আদলে ভারতে শিক্ষা কাঠামো তৈরি হয়।
প্রাথমিক স্তরে, মাধ্যমিক স্তরে এবং উচ্চশিক্ষা স্তরে কিভাবে কি পড়ানো হয়ে তার বিভাগ করে দেয়া হয়। উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইংরেজি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষাকে গ্রহণ করা হয়। দেশীয় ভাষা শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইঙ্গ-দেশীয় ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অনুমোদিত কলেজগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি সরকারি অনুদান পেতে শুরু করে (Ali Riaz, 2010).
এই প্রথম পশ্চিমা শিক্ষা (যাকে বলা হল কথিত স্যাকুলার শিক্ষা) এবং দ্বীনি শিক্ষা আলাদা হয়ে গেল। মাদরাসা শিক্ষাকে রাখা হল ব্যক্তিগত পর্যায়ে ( নাউযুবিল্লাহ ) আর কথিত স্যাকুলার শিক্ষায় সরকারী সাহায্য পেতে হলে ইংরেজি শিখতে হবে এমন শর্ত দিয়ে দেয়া হল। এভাবে করে মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থা (যেখানে দ্বীন ও দুনিয়া দুটোরই সমন্বয় ছিল) ও মাদরাসাগুলো পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে আরো সংকুচিত হয়ে পড়লো।
মোদ্দাকথা, পাশ্চাত্য শিক্ষার ফলে বাস্তব অর্থে একটি হিন্দু রেনেসাঁস ঘটে যায় বাংলায়। দুঃখজনক হল, এই হিন্দু রেনেসাঁস কে বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁস বলা হয়ে থাকে ( এম আর আখতার মুকুল, ১৯৮৭) এবং এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের বর্তমান ভাষা, সাহিত্য, কবিতা এমনকি পাঠ্যপুস্তক। নাউযুবিল্লাহ।
উপরোল্লিখিত ইতিহাসে সহজেই প্রমানিত যে ব্রিটিশ আমলের পুর্বে মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম সুতিকাগার। যে ইতিহাসকে বৃটিশেরা হিন্দুদের সহযোগীতায় মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলো।
যার প্রেক্ষিতে তারা বীজ বপন করে দ্বীনহীন, জ্ঞান বিজ্ঞান বিহিন শিক্ষা ব্যবস্থার। যার রেশ এখনো মুসলমান বহন করছে। বর্তমান সিলেবাস বৃটিশদের আশা আকাংখারই প্রতিফলন।
লক্ষ্য কি ছিলো ?
এ সম্পর্কে অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলমগীর রচিত ইতিহাসের আলোকে আমাদের শিক্ষার ঐতিহ্য ও প্রকৃতি বইয়ের ৪৬ পৃঃ বলা আছে -
ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসেও দেখা যায় যে, ব্রিটিশ শাসকরা তদানী ভারতবর্ষকে ইউরোপীয় করার জন্যে ইংরেজী সভ্যতার আলোকে ভারত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করেছিল। তারা ভারতের প্রচলিত নৈতিকতা, মানবতা সমৃদ্ধ উর্দু ও ফারসি ভাষাকে তুলে দিয়ে তদস্থলে ইংরেজি ভাষা রাষ্ট্রীয় ভাষায় অভিষিক্ত করে।  শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি চালু করে সর্বত্র। (Selection fro Educational Research Part 1, P. 23).
টমাস ব্যারিংটন মেকলের পরামর্শে সৃষ্ট ১৮৩৫ সালে শিক্ষা সংক্রান্ত আইনবলে কেবলমাত্র ইংরেজি স্কুল ছাড়া অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সাহায্য লাভের অনুপযুক্ত ঘোষিত হয়। ইংরেজ প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা ঐতিহ্য ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিক থেকে মুসলমান উনাদের চিন্তা-চেতনায় সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। এ সম্পর্কে মেকলের উক্তি থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। সে বলে :
বর্তমানে আমাদের এমন একটি শ্রেণী গড়ে তুলতে হবে, সমাজে যারা শাসক ও শাসিতের মধ্যে দোভাষীর কাজ করবে। তারা রক্ত-গোশত গড়নে ও দেহের রঙে ভারতীয় হবে বটে কিন্তু রুচি, মতামত ও বুদ্ধির দিক দিয়ে হবে খাটি ইংরেজ।
(Woodrow : Macaulay's Minutes on Education in India (1862]) | এই মেকলের মেজাজ ও মানসিকতা সম্পর্কে তার আর একটি দম্ভোক্তি থেকে জানা যায়। সে একবার বলেছিল : ইউরোপীয় যে কোনও ভালো লাইব্রেরির একখানি মাত্র আলমারী ভারত ও আরবের সমগ্র দেশীয় সাহিত্যের চেয়েও বেশি মূল্যবান।"( মুহম্মদ আবদুল মান্নান রচিত আমাদের জাতিসত্তার বিকাশধারা , পৃঃ ৬১ )
যার বাস্তব প্রতিফলন আজ কথিত মুসলিম সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজকে কথিত মুসলমান রক্তে ,বর্নে মুসলমান কিন্তু কাজ-কর্মে, চাল-চলনে, কথা-বার্তায়, আচার-আচরনে, পোষাক-আষাকে , শিক্ষা-দীক্ষায় সকল কিছুতে পশ্চিমাদের অনুসরন-অনুকরন করছে। নাউযুবিল্লাহ। যার মুলে রয়েছে বৃটিশ কতৃক প্রনীত কথিত সেক্যুলার নামক শিক্ষা ব্যবস্থা।
কথিত মুসলমান যদি নিজের মুসলমানিত্ব বজায় রাখতে চায় তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন করার আন্দোলনে এগিয়ে আসতে। নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস বাতিল করে দ্বীন ইসলাম ভিত্তিক সিলেবাস প্রনয়ন করতে হবে।