একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত, দেশের অবস্থা আর ভালো না, বরং ক্রমান্বয়ে খারাপ হবে। এন.সি- ২৮৪
একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত, দেশের অবস্থা আর ভালো না, বরং ক্রমান্বয়ে খারাপ হবে।
Related image
একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত, দেশের অবস্থা আর ভালো না, বরং ক্রমান্বয়ে খারাপ হবে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় দেশের অবস্থা খারাপ হয়েছিলো, কিন্তু এবারের সাথে কোন বারেরটা মিলবে না।
কারণ এবার দেশের উপর যেটা হচ্ছে, সেটা শত বছরের ইতিহাসে দেখা যায়নি।
আপনারা দেখেছেন, আমি প্রায় ২ বছর আগ থেকে সতর্ক করে আসছি,
কর্পোরেটোক্রেসি আসতেছে, সেটাই এখন বেশ তোড়জোড় করে শুরু হচ্ছে।
কর্পোরেটোক্রেসি যত বাড়বে, মানুষকে তত চেপে ধরা হবে, মানুষ তত মাথা খারাপ রোগীর মত চিৎকার করতে থাকবে।
মোটামুটি এবারের বাজেট পেশ করার পর বেশ শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে কর্পোরেটোক্রেসি।
সরকার তার আয় কুড়ানোর জন্য পাবলিককে গলা টিপে ধরবে, ট্যাক্স-ভ্যাট চড়াও করবে, সব কিছুর দাম বেড়ে যাবে, মানুষ হাসফাস করতে থাকবে।
আবার সেই বাজেটের বাড়তি আয়ের জন্য নেয়া বিদেশী ঋণদাতাদের শর্তগুলো পূরণ করার জন্য ফেলে দেয়া হবে দেশীয় বিভিন্ন খাত। যার ফলাফল হিসেবে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, ধানের দাম হ্রাস পেয়ে কৃষকের করুণ অবস্থা, জেলেদের মাছ ধরা আটকে রাখা, রিকশা চালকদের রিকশা চালনা বন্ধ করে দেয়া, পুরান ঢাকার মত ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রে আঘাত হানা, মাঝিদের নৌকা চালনায় হস্তক্ষেপ করা, হকারদের তাড়িয়ে দেয়া, বস্তিতে আগুন দেয়া। সরকার যেহেতু বিশ্বব্যাংক, জাপানের সরকারী ফান্ড জাইকা, চীন, ভারত থেকে ঋণ নিয়েছে, সেক্ষেত্রে তাদের শর্তপূরণ করতে করতেই আমাদের সমাজের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। এগুলোকে আমি বলছি সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় কর্পোরেটোক্রেসি।
আরেকটি হলো বহুজাতিক কর্পোরেট ষড়যন্ত্র, এটাও এক ধরনের কর্পোরেটোক্রেসি, যা বেসরকারী পর্যায়ে দানা বাধছে । এরা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। বিদেশী বহুজাতিকরা বাংলাদেশের উৎপাদন খাত কৌশলে শেষ করে তার স্থান দখল করতে চাইছে, এক্ষেত্রে তারা পাশে পাচ্ছে হাইকোর্টের বিভিন্ন বিচারককে। এর মধ্যে আছে ওয়াসার পানি নিয়ে ষড়যন্ত্র, পেছনে কাজ করছে বহুজাতিক ইউনিলিভার। আছে বাংলাদেশের ডেইরি শিল্পকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র, পেছনে কাজ করছে বহুজাতিক অরলা ফুড বা ডানো। এরকম আরো বহু আছে। যেহেতু এই ষড়যন্ত্রগুলো বেসরকারিভাবে আগত, তাই সরকারের সাথে এর দ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে, যার কারণে যারা এই ষড়যন্ত্রগুলো করছে, সরকার মাঝে মধ্যে তাদের বিরুদ্ধ বক্তব্য দিচ্ছে, যদিও বিদেশী লিঙ্ক থাকায় কঠোর কোন অবস্থায় যাচ্ছে না। সেটা ওয়াসার পানি নিয়ে মিজানুর রহমান হোক কিংবা দেশীয় দুধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ঢাবির ফার্মেসী অনুষদের এক শিক্ষকের ল্যাব পরীক্ষা হোক।
কথা হলো- সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে যে কপোরেটোক্রেসি চলতেছে এর বিরুদ্ধে প্রতিকার কি হবে ?
বর্তমানে একটি মহল সরকার বিরোধীতায় মাঠে আছে, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তারা সমালোচনা করছে, আন্দোলন করছে। অনেকে ভাবছে তাদের সাথে মিলিয়ে সরকারের সমালোচনা ও বিরোধীতা করলেই আসলে সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আসলে এই গ্রুপটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে সম্রাজ্যবাদী ডেমোক্র্যাটিক ব্লক মেইনটেইন করা একটি গোষ্ঠী। এদের সাথে দেশীয় ডান-বাম এক হয়ে সরকারের বিরোধীতা করতেছে, সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বলতে এখন শুধু এটাই দৃশ্যমান।
কিন্তু আমার এ্যানালাইসিস বলছে, এই বিরোধীতা বা আন্দোলন করে জনগণের খুব একটা লাভ হবে না।
বিশেষ করে এই আন্দোলনের বুদ্ধি ও নেতৃত্ব যখন সম্রাজ্যবাদী ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের নিয়ন্ত্রণে।
তাই দিনে শেষে জনগণের কোন ফায়দা হবে না। বরং এর ফসলগুলো ডেমোক্রেটিক ব্লক গোষ্ঠীরাই নিয়ে পোটলায় ভরে নিয়ে যাবে।
বিশেষ করে যে খারাপ সময় আসতেছে, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ডেমোক্র্যাটিক ব্লক সদস্যদের পলিসিগত কোন সমস্যা নাই, বরং অনেক স্বার্থ জড়িত আছে। তাই তাদের অধিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা সমালোচনা করে আসলে দিন শেষে আসল সমস্যা সমাধানে জনগণের ভাগ্য খাতায় কিছু যোগ হবে না, বরং পণ্ড শ্রম হবে।
আমার অ্যানালাইসিস বলছে, এই যে দেশে বিরাট সমস্যা (যা সম্পূর্ণ নতুন) আসন্ন, কিন্তু এর প্রতিরোধে জনগণের কোন প্রস্তুতি নেই।
কর্পোরেটোক্রেসির মত অত্যাধুনিক ষড়যন্ত্র রূখতে নতুন কোন পলিসি নেই, নতুন কোন বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রম নেই। সবাই চলমান সিস্টেমের পক্ষে চলতে অভ্যস্ত। কিন্তু কর্পোরেটোক্রেসি রুখে দিতে নতুন একটা সিস্টেমের উত্থান দরকার তার কোন উদ্যোগও নেই। আবার আমরা মিডিয়ায় যে সব নেতা ও গোষ্ঠী প্রধানদের দেখছি, তারাও যে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে, সেটাও আমার মনে হয় না। কারণ অধিকাংশ বিষয়টি জানেই না বুঝেও না। তাদের যদি জানানোও যায়, তবে নতুন করে রিসার্চ করে একটা পাল্টা পলিসি দাড় করানোর মত বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমও তাদের নেই।
আমার কাছে মনে হচ্ছে, ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আসার পর দেশে যে ধরনের একটি সমস্যা তৈরী হয়েছিলো, মানে দেশের ধনীরা দরিদ্র হয়ে গেছিলো আর দরিদ্ররা দুর্ভিক্ষে হাড্ডিসার হয়ে মারা গেছিলো, সেই সময়টা ২০০ বছর পর আবার নতুন করে ফেরত আসতেছে। ফেরত আসতেছে আরো স্ম্যার্ট ও কৌশলী হয়ে। জনগণের একটা পক্ষ (জনগণের ব্লক) যদি নতুন পলিসি দিয়ে সেই পরিস্থিতি সামাল না দিতে পারে, তবে সবাইকে ২০০ বছরের পুরাতন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখার জন্য আবার প্রস্তুত থাকতে হবে।
গতকাল সংসদে দাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে, “বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ২০৪১ সাল নাগাদ বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে”। এন.সি-২৮৩
Related image
গতকাল সংসদে দাড়িয়ে মাননীয় 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে, “বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ২০৪১ সাল নাগাদ বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে”।

গতকাল সংসদে দাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে, “বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ২০৪১ সাল নাগাদ বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে”।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলো, “আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। কেন্দ্রের হাতে শুধু পলিসি তৈরি, মনিটরিং ও বাজেট বরাদ্দের দায়িত্ব থাকবে। বাকি সব ক্ষমতা স্তরে স্তরে ছেড়ে দেওয়া হবে। ” (দৈনিক আমাদের সময়, ২৭ আগস্ট, ২০১৩)
তারমানে ২০১৩ সালে বলেছিলেন, আবারও ক্ষমতায় গেলে (২০১৪তে গিয়েছেন) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করবেন, কিন্তু ২০১৯ ফের সরকার গঠন করে বলতেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করবেন।
২০৪১ সালে স্থানীয় প্রশাসন বা জেলা প্রশাসকের হাতে যদি আর্থিক ব্যয়ের ক্ষমতা যায়, তারপর তারা যদি সুষ্ঠু ব্যয় করে, এরপর গ্রামীন অর্থনীতির উন্নয়ন হবে, “দিল্লী হনুজ দূর অস্ত- দিল্লী এখনও অনেক দূর”।
২০৪১ সাল আসতে আরো ২২ বছর বাকি ! কিন্তু এরমধ্যে আপনার সাবেক অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে দেশ দরিদ্রমুক্ত হবে; এক মেয়র ঘোষণা দিয়েছে, রিকশা চালকরা যেন শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায়, আরেক মেয়র ঘোষণা দিয়েছে ‘ঢাকা হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’।
গ্রামগুলো উন্নয়ন করতে যদি ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তবে ঐ গরীবগুলো কোথায় যাবে ? মাটির নিচে ??
গ্রামীন অর্থনীতি হচ্ছে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি। কৃষির উন্নয়ন মানে গ্রামীন অর্থনীতির উন্নয়ন। কিন্তু বর্তমান সরকারের পলিসি হচ্ছে ‘এন্টি-কৃষি’। যার প্রমান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য- আমরা কৃষি থেকে শিল্পের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেছি। খোদ বর্তমান কৃ্ষিমন্ত্রীর বক্তব্য হলো- “ছেলেমেয়েরা শিক্ষা শেষে গ্রামের মাঠে গিয়ে আর কৃষি কাজ করবে না। তাদের জন্য চাকরি দরকার। সেই চাকরির জন্য শিল্প কারখানা করা দরকার। তাই বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি। ”
আমারা দেখেছি, বর্তমান সরকার নতুন করে ক্ষমতায় আসার আগে একটি শ্লোগান চালু করেছিলো- ‘গ্রাম হবে শহর’।
গ্রাম হবে শহর বলতে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছাবে আর সেই বিদ্যুতে গ্রামের লোকজন আরামসে ক্রিকেট খেলা দেখবে আইপিএল জুয়া ধরবে, ব্যস এতটুকু। আর হ্যা ! গ্রামে পাকা বাড়ি হবে, কিন্তু সেটা গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে উপার্জিত অর্থে না, বাড়ির ছেলেপেলেরা বিদেশে গিয়ে গায়ে খেটে বাড়িতে টাকা পাঠাবে, সেই টাকা দিয়ে পাকা দালান উঠবে। গ্রাম তখন শহরের মত দেখাবে, ব্যস এতটুকুই, কিন্তু গ্রামের অর্থনীতির কোন উন্নয়ন হবে না।
কথা হলো, ২০৪১ সাল নাগাদ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করুন, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু এখনই দেশ বাচানোর জন্য হলেও অর্থনীতির বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরী। ঢাকা শহরে আর ইনভেস্ট না, এখন জেলা শহরগুলো উন্নত করুণ এবং জেলা-উপজেলা-ইউয়িন ও গ্রাম পর্যায়ে কিভাবে উৎপাদন খাতগুলো জাগিয়ে তোলা যায় সে চেষ্টা করুন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একটা বড় কারণ ছিলো- পশ্চিম পাকিস্তানে সব ইনভেস্ট, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান ফাঁকা। এখন হয়ে গেছে একই অবস্থা। ঢাকাকেন্দ্রীক সব উন্নয়ন, বাইরের জেলাগুলো ফাঁকা।
আপনারা নিজেরাই চিন্তা করুন, কোন বাবা যদি তার পরিবারের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে, তবে আগে ঘরের আয় বাড়ায়, তারপর সেই বাড়তি টাকা দিয়ে ঘরের উন্নয়ন করে। অবশ্যই বাইরে থেকে ঋণ করে ঘরের ফার্নিচার গোছায় না। ঠিক একইভাবে ঢাকাকে সুইজ্যারল্যান্ড-পারিস বানাতে যেভাবে বিদেশ থেকে ঋণ আনতেছেন, এটা অস্বাভাবিক। আগে দেশের উন্নয়ন বাড়ান, উৎপাদনশীল খাত জাগিয়ে তুলে সেই অর্থ দিয়ে উন্নয়ন করেন। কিন্তু বাইরের ধার করা টাকা দিয়ে কি উন্নয়ন হয় ?
দেশের একক বা কোষ হলো ‘গ্রাম’, এজন্য সেই গ্রামের অর্থনীতি আগে বাড়ান। কিন্তু মূল একক বাদ দিয়ে বাইরে থেকে ঋণ এনে রাষ্ট্রের উন্নয়ন তো সম্ভবই নয়, বরং বাচিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। বিষয়টি তুলনা করা যায়,মানুষের শরীরের সাথে। মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে বিপকীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং সেই শক্তি হলো মানব শরীরের আসল চালিকা শক্তি। কিন্তু সেই বিপকীয় কার্যক্রম বন্ধ করে আপনি যদি বাইরে থেকে একটা মানুষের হাত-পা নেড়ে চালাতে চান, তবে ঐ মানুষটি কতক্ষণ বাচবে? কিছুক্ষণের মধ্যেই তো মানুষটা মারা যাবে।
তাই বাইরে প্যারিস-সুইজারল্যান্ড বাদ দিয়ে আগে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতগুলোর দিকে নজর দিন, সেগুলো শক্তিশালী করুন। দেশের মার্কেট পুরোপুরি চাহিদা পূরণ হয়ে গেলে প্রয়োজনে বাহিরে রফতানির জন্য উৎপাদকদের সরকারীভাবে সাহায্য করুন। দেশে যা উৎপাদন হয় তা বিদেশ থেকে আমদানি করা বন্ধ করুন, মোটা ট্যাক্স ধার্য করুন। নয়ত দেশ বাচানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আমরা জানি, আওয়ামীলীগ এক সময় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো। বাকশাল শব্দের অর্থ কিন্তু খারাপ না। বাকশাল রাশিয়ান টার্ম দেখে মার্কিনী গণতন্ত্রপন্থীরা তার বিরোধীতা করে, বাকশালকে একটা গালি হিসেবে প্রচার করে। আসলে বাকশাল অর্থ “বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ”। বর্তমান আওয়ামীলীগের যে পলিসি তাতে আওয়ামীলীগ কৃষক ও শ্রমিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই বাকশাল এর ‘ক’ আর ‘শা’টা গায়েব হয়ে গেছে শুধু ‘বাল’টা রয়ে গেছে। তাই শেখ হাসিনাকে বলবো, প্রয়োজনে বাকশালী হোন,সমস্যা নাই। কিন্তু দয়া করে শুধু ‘বাল’ হইয়েন না, তাহলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শেষ হয়ে যাবে।
আজকে দৈনিক প্রথম আলোর শ্লোগান- “শিশুকে ধর্ষকের বিরুদ্ধে লড়াইটা শেখাতে হবে”। এন.সি- ২৮২
আজকে দৈনিক প্রথম আলোর শ্লোগান- “শিশুকে ধর্ষকের বিরুদ্ধে লড়াইটা 
শেখাতে হবে”

Related image
আজকে দৈনিক প্রথম আলোর শ্লোগান- “শিশুকে ধর্ষকের বিরুদ্ধে লড়াইটা শেখাতে হবে”
কেন ভাই, আমার শিশুকে আগে কেন ধর্ষকের বিরুদ্ধে লড়াই শেখাবো, তার আগে আমার শিশু যেন ধর্ষকের কাছে না যায়, সেই ব্যবস্থা করি। আর সমাজের সদস্য হিসেবে সমাজের কোন মানুষ যেন ধর্ষক না হয়ে উঠতে পারে, সে ব্যবস্থা আগে করি। আমি প্রাপ্ত বয়স্ক, বোধ জ্ঞান সম্পন্ন, আমি আমার দিক থেকে আগে আগ্রগামী হই, সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এরপর না হয় আমার শিশুকে ধর্ষক বা নিপীড়ক সম্পর্কে জানানো যেতে পারে এবং অবশ্যই সেটা লাস্ট স্টেজ।
আমি শিশু নিপীড়কের বিরুদ্ধে শিশুকে শিক্ষা দেয়ার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক রিক্সও আছে। যদি নিপীড়নের সময় একজন শিশু নিপীড়কের বিরুদ্ধে অধিক রিয়্যাক্ট করে বসে, তখন নিপীড়ক ঐ শিশুকে হত্যাও করতে পারে। একইভাবে আমরা শিক্ষাচ্ছি, একজন নারী যেন ধর্ষকের বিরুদ্ধে লড়াই করে, প্রতিবাদ করে। আমরা এটাকেই বেশি উৎসাহিত করছি। অবশ্যই একজন নারীর নিপীড়কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত, কিন্তু এতে ঐ নিপীড়কের দ্বারা নারী জীবনহানী বৃদ্ধির সম্ভবনা বৃদ্ধি পাবে।
এজন্য আমি বলছি, আমাদের যেসব মিডিয়া আছে, সেগুলো মূল সমাধান রেখে লাস্ট স্টেজের সমাধান নিয়ে আগে আলোচনা শুরু করেছে। মুসলমানদের ইতিহাসে পাওয়া যায়, তাদের পুরুষরা যখন যুদ্ধে যেতো, বছরের পর পর ফিরতো না, স্ত্রীরা বছরের পর বছর স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতো। এখানে একটা নৈতিক শিক্ষা অদৃশ্যভাবে কাজ করতো, যা ঐ নারীকে নৈতিক অবক্ষয়সূচক কাজ থেকে দূরে রাখতো। অপরদিকে ইউরোপীদের ইতিহাসে পাওয়ায়, ইউরোপীয় পুরুষরা যখন যুদ্ধে যেতো, তখন তাদের স্ত্রীদের এক ধরনের ধাতব প্যান্ট পরিয়ে যেতো, যেন সে অন্য কোন পুরুষের সাথে মিলিত না হতে পারে। যদি খুব শিঘ্রই পুরুষটি ফেরত আসতো তবে সমস্যা ছিলো না, কিন্তু যদি দেরি করতো, তবে ঐ নারীর শরীরে পচন ধরে নারীটি মারা যেতো। তাই বলছি ধর্মীয় নৈতিকতা চর্চা বৃদ্ধিতে যে অদৃশ্যভাবে সংরক্ষণ হয়, সেটা হাজার আইন-নিয়ম-কানুন আর লড়াই যুদ্ধ দিয়েও হয় না।
মূল কথা হলো, আমাদের সমাজে যারা বুদ্ধিদাতা সেজে আছে, তারা কোন বিশেষ কারণ বশতঃ সমস্যার মূল সমাধান চাইছে না, দূরবর্তী ছোট কোন সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে।
একটি বিষয় উল্লেখ করার মত, আমরা দেখছি হঠাৎ করে শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদি ধরে নেই সমাজে হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে একটাও ক্যালকুলেশন করে নিতে হবে,
সমাজে নতুন করে নিশ্চয়ই এমন কিছু প্রবেশ করেছে, যার দরুণ শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ‘নতুন জিনিস’টা কি সেটা খুজে বের করা দরকার আগে।
শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পেছনে কিছু কিছু কারণ, অনেকে আগেই ধরতে পেরেছেন, যেমন-
১) পর্নোগ্রাফী
২) মিডিয়ায় যৌন চুলকানি তৈরী করে এমন নাটক/ওয়েব সিরিজ তৈরী,
৩) সমাজে বিয়ে কঠিন হয়ে যাওয়া
৪) মেয়ে শিশুদের পুরুষ শিক্ষক দিয়ে পড়ানো,
৫) মেয়ে শিশুকে পুরুষ গৃহপরিচালক দিয়ে দেখাশোনা করা।
এছাড়া আরো কিছু কারণ চিহ্নিত করা যেতে পারে-
ক) মিডিয়াতে ছোট বাচ্চাদের দিয়ে বড়দের নাটক/গান তৈরী করা।
খ) ছোট বাচ্চাদের বিদেশী অপসংষ্কৃতির অনুসারে্ উচ্ছৃঙ্খল পোষাক পড়ানো। পাশ্ববর্তী দেশের সাজগোজ দেখে বাচ্চার উপর তা অ্যাপ্লাই করা।
গ) ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচার করা ক্রাইম পেট্রল কিংবা বাংলাদেশের রেডিওগুলোতে প্রচার করা অপরাধীদের নিজ মুখে জীবন কাহিনী মানুষকে অপরাধের দিকে ধাবিত করতে পারে।
ঘ) আর্থিক অসংগতি বৃদ্ধি পাওয়া। অনেক পুরুষ আর্থিক সমস্যার কারণে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে রেখে আসেন, শহরে একা মেসে থাকেন। যদি শহরগুলোতে খরচ কম হতো, স্বামীরা স্ত্রীদের কাছে রাখতে পারতো, তবে এ ধরনের সমস্যা অনেক হ্রাস করা সম্ভব ছিলো বলে মনে হয়।
এ ধরনের নতুন নতুন কি সমস্যা সমাজে বাড়তেছে, যার দরুণ হয়ত সমাজে শিশু ধর্ষণ বাড়তে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করা উচিত। আগে আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেগুলোকে দমন করি, পরে না হয় শিশুকে শিক্ষা দেয়া যাবে।