বিদেশী বিনিয়োগ বা ঋণের পেছনে ছুটে আমাদের লাভ কতটুকু ? -১   এন.সি-১৭৪
বিদেশী বিনিয়োগ বা ঋণের পেছনে ছুটে আমাদের লাভ কতটুকু ? -১

Image result for ঝাড় বাতিবিদেশী বিনিয়োগ বা ঋণের পেছনে ছুটে আমাদের লাভ কতটুকু ? -১
আসলে বিদেশী বিনিয়োগ বা বিদেশী ঋণ,
আমরা সাধারণ জনগণ যেভাবে মনে করি আসলে সেভাবে আসে না।
মিডিয়ায় মুখে মুখে রটিয়ে দেয় অমুক দিতেছি, তমুক দিতেছি,
কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যায় পুরোটাই ফাকি।
অনেক সময় দেখা যায় প্রকল্পের কথা মুখে মুখে রটে গেছে অনেক,
কিন্তু সেটার কোন খবরই নেই।
যেমন আমরা জেনেছি-
-বাংলাদেশের পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্র বন্দর হবে,
-কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর হবে,
-কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো-
পায়রাতেও গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে না।
সোনাদিয়াতেও গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে না।
আর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছে জাপান।
ঠিক যেভাবে পায়রা বা সোনাদিয়া নিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলো চীন, কিন্তু পরে সেই আশ্বাস যে কোন কারণেই হোক ফিরিয়ে নিয়েছে।
এখন মাতারবাড়িতেও যে গভীর সমুদ্র বন্দর হবে, আদৌ সেটা শিওর বলা যাচ্ছে না।
হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। এটার মধ্যে তাদের ব্যবসায়ীক হিসেব নিকেশ আছে।
আবার ১০টা প্রকল্পের কথা দিলে একটা যদি চূড়ান্ত করে, তবে সেটার টাকাও ঠিকমত দেয় না।
আর দিলেও নানান তালবাহানা ও পলিসি করে।
যেমন, ধরেন- তারা একটা চূক্তি করলো-
অমুক প্রকল্পের জন্য অমুক দেশ ঋণ দেবে।
আমরা ভেবে বসলাম- অমুক দেশ মনে হয় টাকা দিয়ে বাংলাদেশকে ভাসায় ফেলতেছে।
বাস্তবে চূক্তিটা এমনভাবে হয়- বাংলাদেশ দিবে ২০%, তারা হয়ত দিবে ৮০%।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বাজেট করে সেই টাকা খরচ শুরু করে দেয়।
কাজ কিছুটা আগালে খবর আসে, অমুক দেশের অর্থায়নে অমুক প্রকল্পের কাজ শুরু।
এরপর যখন তাদের দেয়ার পালা আসে, তখন দেখা যায়, তারা ঐ প্রকল্পের জন্য নিজের দেশের শ্রমিক ইঞ্জিনিয়ার পাঠায় দিছে, একেক জনের বেতন ৮-১০ লক্ষ টাকা করে ধরা হইছে, সেগুলো তাদের ঋণ হিসেবে কাউন্ট হচ্ছে। এরপর ঐ দেশে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি, মালামাল আসা শুরু করছে, সেগুলোও ঋণ হিসেবে কাউন্ট হচ্ছে। এভাবে বাংলাদেশের কোন প্রকল্পে কথিত ঐ দাতা দেশ নিজের দেশের মালামাল ও শ্রমিক উচু দরে বিক্রিও করলো আবার সেই টাকাটা সুদে আসলে বৃদ্ধি করে ফেরত নিলো। হিসেব করলে দেখা যাবে ৮০% এর মধ্যে ৬০-৭০% এভাবেই তাদের ব্যয় হয়ে যায়্। মানে এসব প্রকল্পে ঋণের নামে তাদের পণ্য/শ্রমিক বিক্রি করতে আসে এবং পরবর্তীতে সুদে আসলে তা ফেরত নেয়। বিষয়টা অনেকটা এরকম যে-
আপনি নিম্নবিত্ত ফ্যামিলির মানুষ। তো বাজারের এক বিলাশবহুল ঝাড়বাতি ব্যবসায়ী আছে। সেই ব্যবসায়ী আপনার এক বন্ধুকে কৌশল করে আপনার কাছে পাঠালো। সেই বন্ধু আপনাকে বুঝালো, ঝাড়বাতি আপনার পরিবারের জন্য খুব দরকার, আপনাকে অনেক উন্নত করবে এই ঝাড়বাতি, আপনার অনেক উপকার হবে, আপনার বাড়ি সিঙ্গাপুর-লস অ্যাঞ্জেলসের বাড়িঘরের মত দেখাবে। টাকার অভাব? সমস্যা নাই সেই বাকিতে দিবে, প্রয়োজনে কিস্তিকে টাকা ফেরত নিবে। এত এত সুবিধা দেখে আপনি নিম্নবত্ত পরিবারের মানুষ হয়েও সেই ঝাড়বাতি কিনে ঘরের ঝুলায় দিলেন। সত্যিই দেখতে সুন্দর বিশালবহুল সেই ঝাড়বাতি দেখে আপনার পরিবারে মূর্খ আন্ডা-বাচ্চারা খুব খুশি। সারাদিন সেটার দিকে তাকায় বসে থাকে।
কিন্তু পরবর্তীতে হিসেব করে দেখলেন ২০ হাজার টাকার ঝাড়বাতি আপনাকে বাকি দেয়ার নাম করে ৮০ হাজার টাকা দাম ধরেছে। এখন মাস শেষে যখন আপনি বেতন পেলেন, তখন সেই ঝাড়বাতির কিস্তি শোধ করার পালা। ঝাড়বাত্তির কিস্তি শোধ করতে গিয়ে দেখলেন- আপনার ছেলের স্কুলের বেতনে শর্ট পড়লো, কয়েক দিন পরিবার শুদ্ধু আলু ভর্তা-ডাল দিয়ে ভাত খেতে হলো, ঈদে বাচ্চাদের জামা কিনে দিতে পারলেন না, এক বাচ্চার অসুখ হলো, কিন্তু তাকে ভালো চিকিৎসা দিতে পারলেন না। মানে আপনার ঘরে ঝাড়বাতি আছে, দেখতে খুব সুন্দর, সবাই বাহবা দেয়, কিন্তু আপনার ঘরের মৌলিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি হয়ে গেলো সেই ঝাড়বাতির কিস্তি দিতে গিয়ে। তবে লক্ষণীয় বিষয়, যে বন্ধুটি আপনাকে ঝাড়বাতির প্রশংসা আপনার গলায় ঝাড়বাতি ঝুলিয়ে দিয়েছিলো, আপনি প্রথম কিস্তি দেয়ার পর সেখান থেকে ১০-২০% কমিশন কিন্তু আপনার বন্ধুর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে সেই ঝাড়বাতি ব্যবসায়ী।
ঠিক একইভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আসলে কথিত দাতা রাষ্ট্রগুলো তাদের পণ্য উচ্চমূল্যে আপনার কাছে বাকিতে গছায় দিচ্ছে। আর সেই টাকা আপনার দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি করে সেখান থেকে কৌশলে কেটে নিচ্ছে। আপনি বুঝতেছেন আপনার খরচ বাড়ছে, কিন্তু কেন বাড়ছে সেটা টের পাচ্ছেন না। আর দেশী যে সব আমলা-কামলারা সেই সব বিদেশী প্রজেক্ট নিয়ে আসছে, নির্দ্দিষ্ট কমিশন ঐ দাতা রাষ্ট্র বা সংস্থার পক্ষ থেকেই আলাদাভাবেই তাদের কাছে পৌছে যাওয়ার কথা। আবার যত প্রজেক্ট তত বালিশকাণ্ড আর পর্দাকাণ্ড, সুতরাং আমলা-কামলাদেরও অন্যপথেও ইনকামের সুযোগ আছে। তাহলে তারা বিদেশীদের ধরে আনবে না কেন ? (চলবে)
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এন.সি -১৭৩
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Related imageআজকে সংসদে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন্নাহার বলেছে, “পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। (https://bit.ly/2lL4y1Y)
সত্যি বলতে, এসব মুখের কথা আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। সরকারকে বাস্তবেই কোটি কোটি ইউক্যালিপটাস আর আকাশমনি গাছ কেটে প্রমাণ করতে হবে, সরকার কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। কারণ এই ইউক্যালিপটাস গাছের ক্ষতির কথা সরকার বহু আগে থেকেই বলছে, কিন্তু সেটা শুধু মুখে মুখে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ইউক্যালিপটাস গাছের নাম দিয়েছিলেন, ‘হতচ্ছাড়া গাছ’। কিন্তু ঐ মুখ পর্যন্ত, বাস্তবে দেশজুড়ে এই ক্ষতিকর গাছ দুটি যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে খোদ সরকারের অবস্থানই প্রশ্ন বিদ্ধ।
উল্লেখ্য, ইউক্যালিপটাস গাছ ক্ষতিকর, এটা বের হওয়ার পর সরকার ২০০৮ সালে গাছটি নিষিদ্ধ করে। ২০১২ সালে সংসদ ভবনের ৪০০ ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ দেয় তৎকালীন স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। (https://bit.ly/2kxhPLm)
কিন্তু সংসদ ভবনে কাটা হলেও দেশজুড়ে ইউক্যালিপটাস বা আকাশমনি গাছের বনায়ন বন্ধ হয়নি। দেশের জন্য ক্ষতিকর এই গাছ নিষিদ্ধেরও ১১ বছরের মধ্যে কেন সরকার কাটতে পারছে না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ করার কারণ আছে।
কে নিয়ে আসলো এই গাছ ? অর্থায়ন করলো কে ??
১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘের UNDP-এর মাধ্যমে এই বিদেশি প্রজাতির গাছ আমাদের দেশে আসে। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে উপজেলা পর্যায়ের “সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি” এবং সরকারের বন বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি, পাইন ইত্যাদি বিদেশি গাছ ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়েছে। গাছটিকে ছড়িয়ে দিতে ব্র্যাকের মত এনজিওরা স্বল্প খরচ ও ঋণে এই গাছের চারা দেশজুড়ে বিতরণ করে। এতে শুধু উত্তরাঞ্চলে ৪০ লক্ষ ইউক্যালিপটাস ছড়িয়ে পড়ে। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে কয়েক কোটি গাছ। শুষ্ক মৌসুমে বরেন্দ্র এলাকায় যে পানি সংকট দেখা দেয়, তার পেছনে অনেক কিছুকে দায়ী করা হলেও মূল কারণ হলো ইউক্যালিপটাস গাছের আধিক্য। অথচ বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, সরকার ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার পরিবর্তে কৃষকদের গম চাষে উব্ধুদ্ধ করতে ঋণ প্রদাণ করে। কারণ গম চাষ করতে কম পানি লাগে, কিন্তু ধানে পানি বেশি লাগে। শুষ্ক মৌসুম আসলে কৃষকরা সেখানে পানি পানি করে, সেই পানি পানি না করতেই গম চাষে উব্ধুদ্ধ করণ। অথচ এর পরেও ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার কথা বাস্তবায়ন করেনি সরকার। (https://bit.ly/2kwXG8dhttps://bit.ly/2kywnKH)
বিষাক্ত ইউক্যালিপটাস গাছে ক্ষতিসমূহ-
১. ইউক্যালিপটাস এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়।
২. সেচ সমস্যার সৃষ্টি করে।
৩. ১০-১২ ফুট সীমানার পানি শোষণ করে।
৪. এর আশে পাশে অন্য গাছ বা ফসল জন্মাতে পারে না।
৫. পাতা ও রেণু মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
৬. পাখি বাসা বাধতে পারে না। সহজে পাখি বসে না। (এজন্য যেখানে ইউক্যালিপটাস গাছ আছে, সেখানে পাখির কিচির মিচির শব্দ শোনা যায় না।)
৭. বেশি পানি শোষণের ফলে উত্তরবঙ্গ মরুভূমির আকার ধারণ করছে।
৮. পূর্ণবয়স্ক ইউক্যালিপটাস গাছ ২৪ ঘন্টায় ৯০ লিটার পানি শোষণ করে মাটিকে শুষ্ক করে তোলে।
৯. এ গাছ লাগানোর ২০-৩০ বছর পর, পাশাপাশি অন্য গাছ জন্মাতে পারে না।
১০. অতিরিক্ত কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে যার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
১১. পাতা সহজে পচে মাটিতে মিশে না।
১২. পুকুরের পানি দূষণ করে।
১৩. মাটির গভীরে সর্বোচ্চ ৩০-৩৬ ফুট পর্যন্ত যায়, ইত্যাদি।
১৪. এর রেণু ও ধূলিকণা মানুষের হাঁপানি রোগ সৃষ্টির সহায়ক।
১৫. এই গাছটিতে অধিক পরিমাণে তেল থাকায় এটা বেশ দাহ্য এবং খোদ এর আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়াতে একে অগ্নি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। আমাদের দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। অথচ এ প্রজাতির গাছের জন্য স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭০০-৮০০ সেন্টিমিটার দরকার। ফলে আশপাশের এলাকা সবসময় শুষ্ক থাকায় দাবানল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
১৬. ইউক্যালিপটাসের পাতার কারণে পরিবেশের অনেক উপকারি পোকা-মাকড় মারা যায়।
(https://bit.ly/2keDB6lhttps://bit.ly/2Md4J2Jhttps://tinyurl.com/y4o6tvv4https://www.youtube.com/watch?v=ZTMCZxP4woU)
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংষের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এই গাছ যতবেশি দিন দেশে থাকবে, ততদিন দেশের জনগণ ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। এ কারণে সরকার মুখে বললেও বাস্তবে এ গাছ কাটায় কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না। এখন যেহেতু সরকার মুখে হলেও স্বীকার করেছে, তাই জনগণের উচিত হবে, সরকার যেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে গাছ কাটা শেষ করে, সেদিকে আওয়াজ তোলা।