“মালিবাগে রেললাইন ঘেঁষে কাঁচা বাজার, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা”। এন.সি- ৩৮৪
“মালিবাগে রেললাইন ঘেঁষে কাঁচা বাজার, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা”
Image result for কলম
আজ থেকে ৪দিন আগে হঠাৎ দৈনিক যুগান্তরে একটা খবর দেখে আমার খটকা লাগে-
খবরের শিরোনাম-
“মালিবাগে রেললাইন ঘেঁষে কাঁচা বাজার, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা”
খবরের ভেতরে যাই থাকুক, মূল কথা হলো-
মালিবাগ রেলগেট ঘেষে বিশাল কাঁচা বাজার গড়ে উঠেছে, এই বাজার আসলে রাস্তার অপরপার্শ্বে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত কাঁচাবাজারের সমিতি-ই টাকা খেয়ে বসতে দিয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাঁচাবাজারের অবস্থাও ভালো না, জরাজির্ণ……ইত্যাদি ইত্যাদি”
(https://bit.ly/2UJhoOD)
পুরো খবর পড়ে যেটা বুঝলাম, যে লোক রিপোর্ট করেছে, তার উদ্দেশ্য ঐ এলাকায় ঐ কাঁচাবাজারগুলো না থাকুক, সেটা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থানে হোক বা রেললাইন ঘেষে হোক। এবং সে এও জানে না, ঐ বাজারগুলো স্থানীয় নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কত উপকারে লাগে।
এরপর আমি নিউজখানার সাংবাদিকের নামের দিকে চোখ বুললাম। নাম দেখি ‘একেএম সীমান্ত’।
সীমান্ত সাহেবের পরিচয় খুঁজতে এবার সার্চ দিলাম। পেলাম-
তার পুরো নাম খোরশেদ আলম ভুইয়া। দৈনিক যুগান্তরে রাজধানী পাতায় খবর দেয়। তার সাথে নাকি ভারতের সিনেমা ও নাটক জগতের সাথে গভীর সম্পর্ক আছে। ভারতের অন্যতম ফিল্ম নির্মাণকারী মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ক্যাথারসীস মিডিয়া এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছে সে। সাংবাদিক সীমান্ত সাহেব ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যতত্ত্ব ও পরিচালনা বিষয়ে দেড়যুগ পূর্বে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করে।
(https://bit.ly/2GjKhXL)
যাই হোক, সীমান্ত সাহেব তো আর এমনি এমনি নিউজ করে নাই, তাকে দিয়ে কেউ নিউজ করাইছে, যে চায় না এ এলাকায় উন্মুক্ত কাঁচাবাজার থাকুক, সেটা যেমনই হোক।
কিছুক্ষণ আগে খবরে দেখলাম, মালিবাগ কাঁচাবাজারে আগুন ধরছে।
খুব ভালো কথা। আগুন যত ধরবে, ধরে নিবেন দেশ তত বেশি লস অ্যাঞ্জেলস আর প্যারিস হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আগুন নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নাই, এগুলো উন্নয়ন কাজ বেগবান হওয়ার অংশ।
এবার একটু কষ্ট করে আমার পোস্টের ছবির দিকে তাকান।
ছবিটা গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে ২০১৩ সালে তোলা। বাম অংশে যে ভবনটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা মালিবাগ সুপার মার্কেট আর ডান পাশে মালিবাগ কাঁচা বাজার। দুটোই দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আন্ডারে।
তবে আজকে যখন আগুন লাগলো তখন কিছু ভিডিওতে দেখলাম, মালিবাগ সুপার মার্কেটটা ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে (https://youtu.be/ppV8TyeuWkE, ১:৪৬ সময়ে)।
তারমানে হিসেব খুব সোজা-
বামপাশে মালিবাগ সুপারমার্কেট কংক্রিটের ভবন হওয়ায় তা হাতুড়ি পিটিয়ে ভাঙ্গতে হচ্ছে, কিন্তু ডানপাশে কাঁচাবাজার বেড়া-বাশের হওয়ায় তা আগুন দিয়ে দ্রুত খালি করা হলো। বাহ ! কত সুন্দর পদ্ধতি।
আমি জানি না, মালিবাগ সুপার মার্কেট ভেঙ্গে আর কাঁচাবাজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সে স্থানে নতুন কোন অত্যাধুনিক ভবন গড়ার পরিকল্পনা মেয়র সাঈদ খোকনের আছে কি না ?
তবে এটা অবশ্যই বিশ্বব্যাংকের ‘আরবান রিজিলিয়ান্স প্রজেক্ট’ (ইউআরপি) এর আওতায় সরকারের ‘মার্কেট সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ মেগা প্রকল্প’ এর অংশ হিসেবেই হচ্ছে, যা বার বার জানান দিচ্ছে কাঁচাবাজার ও পুরাতন শপিং সেন্টারগুলোতে আগুন ধরার মধ্য দিয়ে।
বি: দ্র: মালিবাগ এলাকার কেউ থেকে থাকলে দয়া করে পাশে যে মালিবাগ সুপার মার্কেট ভবন ভাঙ্গা হচ্ছে সেটার স্পষ্ট ছবি তুলে কমেন্টে দেন। আর একটি বিষয় খবর নিয়ে জানান- ভেঙ্গে ফেলা ভবন বা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া যায়গায় নতুন করে কি হবে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে দুটি রাজনৈতিক দল- এন.সি- ৩৮৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে দুটি রাজনৈতিক দল-
Image result for কলম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে দুটি রাজনৈতিক দল-
১) ডেমোক্র্যাট
২) রিপাবলিকান
একইভাবে মার্কিন সম্রাজ্যবাদ যখন বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাও দুটি ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে-
১) ডেমোক্র্যাট ব্লক
২) রিপাবলিকান ব্লক
একজন অ্যানালিস্ট হতে গেলে, আপনার এসব ব্লক সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে, তখন তাদের কাজগুলো সহজে ধরতে পারবেন, এবং অনেক কিছুই আগে থেকে অনুধাবন করা সম্ভব।
আমি এ স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া তিনটি ঘটনার কথা বলবো, যেখানে আমার মনে হয়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান ব্লকের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রকাশ্য দেখা যাচ্ছে।
ক) রামকৃষ্ণ মিশন স্কুলের প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের নামের সথে পর্নো নায়িকা মিয়া খলিফা ও সানী লিওনের নামযুক্তকরণ।
ব্যাখ্যা : ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ এমন এক হিন্দু গোষ্ঠী চালায় যারা আসলে ‘রিপাবলিকান ব্লক’ মেইনটেইন করে। উগ্রহিন্দুরা রিপাবলিকান ব্লকের অনুসারী। ভারতের মোদিও রিপাবলিকান ব্লকের সদস্য। মোদির আবির্ভাব রামকৃষ্ণ মিশন থেকে এবং বাংলাদেশে আসলে সে অবশ্যই রামকৃষ্ণ মিশনে আসবে। এখন কথা হলো, রিপাবলিকান ব্লকের সদস্যরা কেন রবীন্দ্রনাথের উপর ক্ষ্যাপা ?
উত্তর হালো- রবীন্দ্রনাথ হলো ডেমোক্র্যাটদের ফিগার। এজন্য রিপাবলিকানরা রবীন্দ্রনাথকে দেখতে পারে না। ভারতের বিজেপি সহ উগ্রহিন্দুরা সব সময় রবীন্দ্রনাথের বিরোধী।
যেমন খবরগুলো দেখুন-
- ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যে রবীন্দ্রনাথে ফের অসম্মান (https://bit.ly/2GlXsHL)
- বিজেপির বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ (https://bit.ly/2GxtPoi)
-কট্টর হিন্দুত্বের কোপে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! (https://bit.ly/2vcYLn6)
অর্থাৎ ভারতে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধচারণ করা রিপাবলিকান ব্লক অনুসারিদের অনেক পুরাতন স্বভাব। এবার বাংলাদেশে রিপাবলিকান ব্লকের রামকৃষ্ণ মিশন রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধচারণ আনতে সানি লিওন ও মিয়া খলিফার নাম নিয়ে আসলো।
বাংলাদেশের মুসলমানরা কি ফায়দা নেবে এখান থেকে ?
ডেমোক্রেট ব্লকের বাংলাদেশের সদস্যরা রবীন্দ্র সংস্কৃতির মাধ্যমে অনেক ‘পয়জন’ বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে ঢুকাচ্ছে। মুসলমানরা এক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকানদের বিরোধ সামনে এনে, আগে প্রশ্ন করতে পারে, আগে তোমরাই ফয়সালা করো রবীন্দ্রনাথ কেমন ? তারপর না হয় আমরা গ্রহণ করবো ??
খ) সম্প্রতি বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌস ভারতের তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রচারণায় যাওয়ার পর বিজেপি বাধ সেধেছে। তারা ফেরদৌসকে কালো তালিকাভূক্ত করে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
উল্লেখ্য এর আগে আমি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেনকে বলেছিলাম ডেমোক্র্যাট ব্লকের সদস্য । বলেছিলাম ডেমোক্রেটরা মাথায় ওড়না আর হিজাব মুড়ে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধচারণ করে, এটা অনেক পুরাতন ‘রাজনৈতিক বিষয়’ এটা নিয়ে মুসলমানদের এত খুশি হওয়ার কিছু নেই। মাথায় কাপড় বা হিজাব মোড়ায় জেসিন্ডা আরডেনের আগে ডেমোক্র্যাট ব্লকের জার্মানির অ্যাঞ্জলা মার্কেল আর তৃণমূলের মমতা অনেক আগেই তা সাফল্যের সাথে দেখিয়েছে।
মুসলমানরা কি ফায়দা নেবে এখান থেকে ?
রিপাবলিকান ব্লকের বিজেপি মুসলমানদের উপর অনেক নির্যাতিন চালায় এটা ঠিক, কিন্তু মুসলমানরা সারা দিন ডেমোক্র্যাটের তৃণমূল তৃণমূল করেও যে অনেক ফায়দা নিতে পেরেছে তাও নয়। তৃণমূল মুখে মুসলমান নিয়ে অনেক কথা বললেও মুসলমানদের সেই তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক-ই বানিয়ে রেখেছে। তবে মুসলমানরা যদি ডেম্রোক্রেট-রিপাবলিকানদের দ্বন্দ্বটা বুঝে ধোকায় না পড়ে দুইপক্ষের দরকষাকশি করতো বা মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থান করতো, তবে অনেক বেশি উপকার পেতে পারতো।
গ) কয়েকদিন আগে আমি রাজেন্দ্র দত্ত নামক এক উগ্রহিন্দু বিজেপির সদস্যের লেখা শেয়ার করেছিলাম, যে পহেলা বৈশাখকে হিন্দুদের অনুষ্ঠান বলে, বাংলাদেশে এর ইসলামীকীকরণ হচ্ছে বলে প্রতিবাদ করেছিলো (https://bit.ly/2XpfL5C)
এখানে আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন, পহেলা বৈশাখ হলো বাংলাদেশে ডেমোক্র্যাট ব্লকের প্রজেক্ট। বাংলাদেশে ডেমোক্র্যাট ব্লকের সদস্যরা এ অনুষ্ঠানকে ধর্মনিরপেক্ষ বানিয়ে তার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলমানদের ধমীয় বাধন ভাঙ্গতে চায়, নতুন পজিশন দাড় করাতে চায়।
বাংলাদেশের মুসলমানরা এর থেকে কি ফায়দা নেবে ?
যেহেতু রিপাবলিকান ব্লকরা পহেলা বেশাখকে হিন্দুত্ববাদী অনুষ্ঠান হিসেবেই প্রচার করতে চায়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা যদি পহেলা বৈশাখ নিয়ে রিপাবলিকান ব্লকের সদস্যদের দৃষ্টিভাঙ্গী তাদের রেফারেন্সেই সামনে নিয়ে আসতো, তবে ডেমোক্র্যাট ব্লক চুপ হয়ে যেতে বাধ্য।
ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশরা বানিয়েছিলো ‘ডিভাইড এন্ড রুল’। তখন তারা মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন দল-উপদল সৃষ্টি করলো এবং সেই দলে দলে লাগিয়ে তারা মুসলমানদের শাসন করতে শুরু করলো। এখন মুসলমানরা যদি পুনরায় উত্থান চায়, তবে তাদেরও ঠিক উল্টা পলিসি গ্রহণ করা উচিত। এখন হয়ত নতুন করে বিরাধীদের মধ্যে দল-উপদল সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, কিন্তু তাদের মধ্যে যে বড় বড় বিভাজন আছে, সেগুলো কাজে লাগায় সেখান থেকে ভালো মানের ফায়দা নিতে পারে। এগুলো নিয়ে স্ট্যাডি করলে, তিনটি সুবিধা-
প্রথমত- মুসলমানরা কারো হয়ে ব্যবহৃত হবে না
দ্বিতীয়ত- মুসলমানরাই একপক্ষ দিয়ে অন্যপক্ষ দমন করতে পারবে।
তৃতীয়ত- সবপক্ষ চিনে ফেলায় মুসলমানদের আলাদা পক্ষ বা শক্তি তৈরী হওয়া সম্ভব।