গত ১৬ই জুলাই দেশী দুধের উপর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে গিয়েছিলো। এন.সি-২৪৬
গত ১৬ই জুলাই দেশী দুধের উপর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে গিয়েছিলো। 
(ক)
Image result for জাহাজগত ১৬ই জুলাই দেশী দুধের উপর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে গিয়েছিলো। সেখানে তারা কিছু রিপোর্ট পেশ করে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। আদালতে উপস্থাপনের পর ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন-
“তরল দুধের ৫০টি নমুনা, ১১টি পাস্তুরিত দুধের ১১টি নমুনা ও ৬টি গোখাদ্য তিনটি সরকারি সংস্থার ল্যাব ও তিনটি বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। মোটামুটি সবক’টি দুধের নমুনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রার বেশি সীসা ও ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে। তবে গোখাদ্যে মাত্রাতিরিক্ত কিছু পাওয়া যায়নি।”
পাঠক পয়েন্ট নোট করুন-
“দুধের মধ্যে ‘সীসা ও ক্যাডমিয়াম’ পাওয়া গেছে, কিন্তু গোখাদ্যে পাওয়া যায়নি।”
প্রশ্ন আসছে- গোখাদ্যে যদি ভারি ধাতু পাওয়া না যায়, তবে পাস্তুরিত দুধের মধ্যে সীসা-ক্যাডমিয়াম আসলো কিভাবে ?
(খ)
২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসের ঘটনা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুঁড়ো দুধে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভয়াবহ মাত্রায় হেভি মেটাল (লেড) পায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। গুঁড়া দুধে সিসার সহনীয় মাত্রা হচ্ছে প্রতি কেজিতে ০.০২ মিলিগ্রাম। অথচ পরীক্ষায় পাওয়া গেছে সহনীয় মাত্রার ৫০ থেকে ২০০ গুণ বেশি পরিমাণে সিসা। তখন কাস্টম হাউসগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়, তারা যেন আমদানি করা গুড়া দুধগুলো পরীক্ষা করে তারপর ছাড়েন।
(https://bit.ly/2ZnEN6G)
প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি প্রতিটি আমাদানি করা দুধের চালান কাস্টমস হাউস থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়া হচ্ছে ?
নাকি কমিশন নিয়ে কাস্টমস হাউসগুলো দেশে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ২০০ গুন বেশি সিসা সমৃদ্ধ গুড়া দুধ ?
পাঠক, আমি সব সময় একটা কথা বলি, সমস্যা ঠিক যায়গায় চিহ্নিত করা দরকার। রোগ নির্নয় করে যেমন মূল সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়, ঠিক তেমনি দুধ নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, আসলে সমস্যাটা কোথায় সেটাও চিহ্নিত করা জরুরী।
একটা জিনিস সবার জানা দরকার-
স্বাভাবিক ভাবে বিভিন্ন কোম্পানিগুলো দেশী খামারিদের থেকে দুধ কিনে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু কোম্পানিগুলো যদি বিদেশী আমদানি করা গুড়া দুধ পানিতে গুলায় তরল দুধ বানায়, তখন ১ কেজি দুধের দাম পড়ে মাত্র ১০ টাকা। অর্থাৎ ৪ গুন বেশি লাভ হয়। এ কারণে খামারিদের থেকে কিছু দুধ কিনে, সেখানে বিদেশী গুড়া দুধ মিশিয়ে দুধের পরিমাণ বেশি করে কোম্পানিগুলো।
এ প্রসঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাক ২১শে আগস্ট, ২০১৫ তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়-
গুঁড়া দুধ থেকে তৈরি হচ্ছে পাস্তুরিত তরল দুধ!
খবরের ভেতরে বলছে-
“অধিক লাভের আশায় কিছু দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান গুঁড়া দুধ থেকে পাস্তুরিত তরল দুধ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। কিন্তু এভাবে গুঁড়া দুধ থেকে তরল দুধ তৈরিতে দুধে গুণগত মান বজায় থাকে না। যা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দু’ভাবে দুধ বাজারজাত করা হয়। একটি তরল, অন্যটি গুঁড়া দুধ। কোম্পানিগুলো চিলিং সেন্টারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গোয়ালা এবং সমিতির মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে। এরপর চিলিং সেন্টার থেকে কুলিং ট্যাংকার (শিতলীকরণ)-এর মাধ্যমে দুধকে দুই ডিগ্রি তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। ওই দুই ডিগ্রি তাপমাত্রার দুধ কুলিং ট্রাকে করে ফ্যাক্টরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রক্রিয়াজাত কারখানায় দুধকে কয়েকটি প্রক্রিয়ার পর প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর রমজানসহ বিভিন্ন উত্সব-পার্বণে যখন তরল দুধের চাহিদা বেশি থাকে, মূলত তখনই অধিক মুনাফার আশায় গুঁড়া দুধ থেকে তরল দুধ তৈরি করে কিছু কোম্পানি।”
(https://bit.ly/2GEw2hd)
লক্ষ্য করুন-
১. যদি খামারিদের দুধে ভারি ধাতু থাকতো, তবে গোখাদ্যে আরো ভয়াবহ মাত্রার লেড-ক্যাডমিয়াম থাকতো। কিন্তু সেটা নেই। তারমানে গো-খাদ্য নয়, ভারি ধাতু ঢুকছে অন্য স্থান দিয়ে।
২. বিদেশী আমদানি করা গুড়া দুধের মধ্যে ৫০-২০০ গুন বেশি মাত্রার ক্ষতিকারক ধাতু আছে। আর সেটা টেস্টের দায়িত্ব হলো কাস্টমস হাউসের, বিএসটিআই’র। আমার মনে হয় না, তারা সঠিকভাবে পরীক্ষা করে সেটা ছাড়ে। শুধুমাত্র কমিশন পেলেই তারা গুড়া দুধগুলো ছেড়ে দিচ্ছে। দেশী গুড়া দুধগুলো যেমন সরকারী সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থায় পরীক্ষা করে দেখা হলো, গুড়া দুধগুলোও তেমন বিভিন্ন ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। আমার ধারণা- দেশী কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন বাড়তে দেশী খামারীদের থেকে দুধ নেয়ার সাথে সাথে বিদেশী আমদানি করা গুড়া দুধও মিক্সড করতেছে, আর সেখান থেকেই ভারি ধাতু ঢুকতেছে পাস্তুরিত দুধে।
৩. আজকে দৈনিক প্রথম আলো খবর করছে- “তরলের বিপদ, গুঁড়ার সুসময়।”
খবরের ভেতরের তথ্য- গুড়া দুধের বিক্রি বাড়ছে, তরল দুধের বিক্রি কমে গেছে।
(https://bit.ly/2YAWhv0)
আমার এক মুসলিম বন্ধু দৈনিক প্রথম আলোকে তাদের ধর্মে বর্ণিত ‘ইবলিশ শয়তান’ বলে ডাকতো। ইবলিশ শয়তান নাকি মানুষকে খারাপ কাজে নামায় দিয়ে কেটে পড়ে। দূরে গিয়ে বলে, -আমি এর কিছু জানি না, আমার কোন দোষ নাই।” প্রথম আলো নাকি তার সেকরম মনে হয়।
আজকে প্রথম আলোর খবর দেখে আমার সে কথাটা মনে পড়লো। দুধ নিয়ে বর্তমানে যে সংকট তৈরী হয়েছে, তার মূলে রয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। সেই অরলা ফুড (ডানো)’র হয়ে গত ১ বছর ধরে বাংলাদেশে দুগ্ধ শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য নানান প্ল্যান/মিটিং করেছে।
৪. হাইকোর্ট যখন দেশের ১৩টি দুগ্ধ কোম্পানিকে বন্ধ করে দিলো, তখন কিন্তু আমি বলেছিলাম, কোন যায়গা দিয়ে ক্ষতিকর বস্তু ঢুকছে, সেটা চিহ্নিত করতে হবে। নয়ত মানুষ লাভের থেকে লোকশানে বেশি পড়বে। যেমন- দুধের ভারি ধাতু যদি গোখাদ্য দিয়ে না এসে, গুড়া ‍দুধ দিয়ে আসে, তাহলে কিন্তু হিতে বিপরীত হবে। মানে- দেশী কোম্পানির দুধের ২ গুন বেশি লেডের ভয়ে ২০০ গুন বেশি লেড খেয়ে ফেলবে, ফলে খুব শিঘ্রই বাংলাদেশে বহু শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে।
৫. আমি একটা কথা বলছি- গুজব খুব খারাপ জিনিস। গুজব বলতে যদি আপনি শুধু ১০টা লোককে পিটিয়ে মারাকে বুঝান, তবে ভুল করবেন। বরং তার থেকে ভয়ঙ্কর গুজব হচ্ছে, দেশী তরল দুধের সম্পর্কে গুজব রটিয়ে বিদেশী গুড়া ‍দুধ শিশুদের মুখে তুলে দেয়া। এতে একদিকে যেমন প্রায় ১ কোটি লোক বেকার হয়ে যাবে, অন্যদিকে বিদেশী আমদানি করা গুড়া দুধ খেয়ে কোটি কোটি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে।
৬. গুড়া ‍দুধ পরীক্ষায় সমস্যা কোথায় ?
গত ২৯শে জুলাই গুড়া নিয়ে হাইকোর্টে কথোপকথন খেয়াল করুন-
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতের কাছে বাজারের গুঁড়ো দুধ পরীক্ষা করতে আদালতের নির্দেশনা চান। কিন্তু দুধ (গুঁড়ো) পরীক্ষার দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইএ'র বলে মন্তব্য করে আদালত বলেন, আপনারা (নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ) কেন পরীক্ষা করছেন না?
জবাবে আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা পরীক্ষা করলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলবে, কেন আমরা তা পরীক্ষা করছি? তবে আদালত আদেশ দিলে সেই প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।
বলাবাহুল্য হাইকোর্ট আইনজীবির এত আগ্রহ দেখেও ঐ দিন গুড়া দুধ পরীক্ষা সম্পর্কে কোন আদেশ না দিয়ে হাইকোর্ট এ বিষয়ে আলোচনা ২ মাস পিছিয়ে দেন। (https://bit.ly/2MtdlRq)
নোট করুন- তারমানে বিদেশী গুড়া দুধ পরীক্ষা করতে অনেক বাধা বিপত্তি আছে।
প্রশ্ন আসে- কিন্তু কেন ? বিদেশী গুড়া দুধের এমন কি আছে, যার কারণে তা পরীক্ষা করতে সমস্যা ? কারা পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ?
৮. ২০০৮ সালে যখন চীনে গুড়া দুধে মেলামাইন পাওয়ার কারণে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয়, তখন বিষয়টি নিয়ে সারা বিশ্ব নড়েচড়ে বসে। তখন বাংলাদেশের ৮টি ব্রান্ডের আমাদানি করা গুড়া দুধে মেলামাইন টেস্ট এর দায়িত্ব পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর নিলুফার ম্যাডামের উপর। High Performance Liquid Chromatography(HPLC) এবং Atomic Absorption Spectroscopy(AAS) এবং Gas Chromatography Mass Spectroscopy (GCMS) প্রযুক্তি দিয়ে খুব সহজেই নির্ণয় হলো বাংলাদেশে আমদানি করা গুড়া দুধে মেলামাইন আছে। সেটা প্রেস ব্রিফিং করে প্রকাশ করাও হলো, সারা দেশের সকল মিডিয়া সেটা প্রকাশ করলেও দৈনিক প্রথম আলো সেই খবর প্রকাশ করলো না। তখন সারা দেশজুড়ে প্রথম আলোর এহেন বিদেশী দালালি সম্পর্কে ছি: ছি: রব উঠেছিলো।
৯. ২০০৮ সালে সেনাশাসনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগকে মেলামাইনের বিষয়টি প্রকাশ করায় প্রচুর চাপের মধ্যে পড়তে হয়। রসায়ন বিভাগ গবেষনা করে বাংলাদেশে প্রচলিত ডানো ফুলক্রীম, নিডো ফর্টিফায়েড, রেডকাউ, ডিপ্লোমা, এনলিন, এবং চীনের ৩টি কোম্পানি য়াশলী-১ , ইয়াশলী-২ এবং সুইট বেবী মোট ৮টি মধ্যে মেলামাইন পায়। কিন্তু সে সময় সেনা সরকার তা অস্বীকার করে। তারা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা(ফাও) এর রেফারেন্স দিয়ে বলে, চীনের তিনটি কোম্পানিতে মেলামাইন আছে, কিন্তু ডানো, নিডো, রেডকাউ, ডিপ্লোমা ও এনলিনের মধ্যে কোন ক্ষতিকারক মেলামাইন নেই।
(বিস্তারিত পড়তে-https://bbc.in/2Yj3YuI)
পাঠক, এটা স্পষ্ট বাংলাদেশের তরল দুধ ও আমদানি করা গুড়া দুধের দ্বন্দ্ব একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এখানে দোষটা আমাদানি করা গুড়া দুধের, কিন্তু চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশী খামারিদের উপর। অথচ দেশি খামারিরা বন্ধ হয়ে গেলে আমদানি করা গুড়া দুধ একচেটিয়ে ব্যবসা করতে পারবে এবং ইতিমধ্যে শুরুও করেছে। এক্ষেত্রে মিডিয়াগুলো মীর জাফরের ভুমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। ভয়ের কথা হলো, যদি দূষিত বস্তু গুড়া দুধ থেকেই এসে থাকে, তবে জাতির লাভ নয় বরং জাতিকে ঠেলে দেয়া হলো আরো ভয়ঙ্কর কিছুর মধ্যে। আমার ধারণা এর সাথে আন্তর্জাতিকভাবে অনেকগুলো মহল জড়িত। বিদেশী গুড়া দুধ যত চলবে, ক্যান্সারের কেমোথেরাপির ব্যবসাও তত বাড়বে। তাই বিদেশী গুড়া দুধ কোম্পানির সাথে আন্তর্জাতিক কেমোথেরাপির ব্যবসায়ীরাও যদি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে, তবেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ফারুক স্যারের পরীক্ষা নিরীক্ষাকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন,। এন.সি- ২৪৫
ফারুক স্যারের পরীক্ষা নিরীক্ষাকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন,
Related image
ফারুক স্যারের পরীক্ষা নিরীক্ষাকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়েছেন,
কিন্তু তিনি যে কথাগুলো বলেছেন- সেটার ভেতরে কিন্তু ঢুকেননি, অনেকেই এড়িয়ে গেছেন।
তিনি একটি প্রশ্ন করেছেন- “আমাদের দেশে যারা তরল দুধ বিক্রি করেন আমরা গবেষণা করে পেলাম যে তারা গুড়া দুধ কেনেন, কিন্তু কেন? আমরা গবেষণায় পেয়েছি দুধের মধ্যে আখের চিনি। দুধে তো থাকার কথা দুধের চিনি, যেটার নাম ল্যাকটোজ। কিন্তু দুধে আখের চিনি কোথা থেকে আসলো। এটা আমরা ঠিক মিলাতে পারলাম না ।“ (https://bit.ly/2YtWFzF)
এর খুব সহজ কারণ হতে পারে, পাস্তুরিত দুধ কোম্পানিগুলো খামারীদের থেকে পাওয়া দুধ থেকে মেশিন দিয়ে ক্রিম তুলে নিয়ে অন্য প্রডাক্ট বানাচ্ছে। এরপর সেই পাতলা দুধ গাঢ় করার জন্য আমদানি করা গুড়া দুধ মেশাচ্ছে, চিনি মেশাচ্ছে। আর সেই আমদানি করা গুড়া দুধের থেকে ক্ষতিকারক ধাতু সীসা চলে আসছে পাস্তুরিত দুধের মধ্যে।
উল্লেখ্য এ বছরের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমান আদালত একটি তরল দুধের কারখানার সন্ধান পায়, যারা ১ কেজি গুড়া দুধে ১০ কেজি তরল দুধ তৈরী করে । (https://bit.ly/2ywxSvW)
আরো উল্লেখ্য ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে আমদানি করা গুড়া দুধে স্বাভাবিকের তুলনায় ২০০ গুন বেশি সীসা ধরে পারে। তখন কাস্টমস হাউসকে তা আমদানি করা গুড়া দুধের চালান পরীক্ষা করে তারপর ছাড়তে বলা হয় (https://bit.ly/2ZnEN6G)। কিন্তু কাস্টমস হাউস আমদানি করা গুড়া দুধের চালান কতটুকু পরীক্ষা করে তারপর ছাড়ে তা সত্যিই চিন্তার বিষয়।
বর্তমানে দুধের মধ্যে ক্ষতিকারক ধাতু আছে বলে শোরগোল উঠতেছে, এর মূল কারণ পাস্তুরিত দুধ কোম্পানিগুলো তাদের দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সেখানে আমদানি করা বিষাক্ত গুড়া দুধ মিক্সড করতেছে, কিন্তু এ কথাটা কেউ বলতে পারতেছে না। সবাই খামারীদের দিকে আঙ্গুল তুলছে। কারণ মূল গোমর ফাস করে দিলে কোম্পানিগুলো মিডিয়াতে প্রচুর পরিমাণে বিজ্ঞাপন দেয়, সেটা দিবে না। আবার খামারীরাও কথাটা বলতে পারতেছে না, কারণ দেশী কোম্পানিগুলোই তাদের দুধ কিনে। তারা যদি মিডিয়ার সামনে এই গোমর ফাঁস করে,তবে তাদের উপর থ্রেট আসবে। কোম্পানিরা সেই সব খামারীদের থেকে দুধ নিবে না। তাদের প্রত্যেকের লুকোচুরির কারণে মূল দূষণটা আসলে কোথায়, সেটা জনগণ ধরতে পারতেছে না।
এখানে বোঝার বিষয় হলো, যদি গরুর খাবার থেকেই ভারি ধাতু আসতো, তবে সেটা আসতো মাটি, পানি, বায়ু থেকে। তাহলে সেখানে তো মানুষও কৃষজ পন্য উৎপাদন করে খাচ্ছে। গরুর খাবার থেকে দুধে ভারি ধাতু নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, মানুষ যে কৃষজ পণ্য শাক সবজী খাচ্ছে, সেখানে তো আরো হাজারগুন বেশি ভারি ধাতু থাকার কথা। কিন্তু সেটা নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছে না। সবকিছু পাশ কাটিয়ে গরু হয়ে দুধে ভারি ধাতু আছে বলে রব তোলা হচ্ছে, এটা সত্যিই রহস্যজনক।
তাহলে উপায় কি ? ভেজাল দুধের দেশী কোম্পানিগুলো বন্ধ করে দেয়া ?
না দেশী কোম্পানি বন্ধ করা যাবে না, কারণ তাদের মাধ্যমেই খামারিদের দুধ সকল জনগণের কাছে আসে। খামারীদের দুধ বন্ধ করলে পাবলিক সেই বিষাক্ত গুড়া দুধই বাজার থেকে কিনে খাবে, তখন হিতে বিপরীত হবে। বর্তমানে হাইকোর্টে অদূরদর্শী আদেশের কারণে ঠিক সেটাই হয়েছে। (https://bit.ly/2YAWhv0)
তাই মূল যায়গায় সমস্যা চিহ্নিত করে মূল যায়গায় আঘাত করতে হবে। অর্থাৎ পাস্তুরিত দুধ কোম্পানিগুলোতে র‌্যাবের সারোয়ার আলমকে অভিজান চালাতে হবে । কোম্পানিগুলো আসলেই আসলেই গুড়া দুধ মিক্সড করে তরল দুধ তৈরী করছে কি না, সেটা সরেজমিনে দেখতে হবে। দেখতে পেলে মোটা অংকের জরিমানা করতে হবে।
আরেকটা সহজ উপায় আছে। কোম্পানিগুলোর তরল দুধে গুড়া দুধের ভেজাল মিক্সড করার মূল কারণ যেহেতু আর্থিক সাশ্রয়, সেহেতু সরকার যদি আমদানি করা গুড়া দুধের উপর ট্যাক্স বাড়িয়ে ৫০-১০০% পর্যন্ত করে, তখন তারা ভুলেও ভেজাল মিশ্রণ করবে না, বরং নিজেরাই এড়িয়ে যাবে।
পাশাপাশি, আমদানি করা গুড়া দুধের পরীক্ষা করা এখন সবচেয়ে জরুরী বিষয়। প্রয়োজনে ১-২টি নয় এক ডজন পরীক্ষাগারে আমদানি করা গুড়া দুধ পরীক্ষা করা উচিত। কোন চালানে ক্ষতিকর কিছু পেলেই যে কোম্পানি থেকে গুড়া দুধ আসছে, তার থেকে সকল আমদানি বন্ধ করে দিতে হবে।
২০০৮ সালে বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রেডকাউ, ডানো, নিডো, এ্যানলিন ও ডিপ্লোমা গুড়া দুধ পরীক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ কি সমস্যায় পড়েছিলো ? এন.সি-২৪৪
২০০৮ সালে বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রেডকাউ, ডানো, নিডো, এ্যানলিন ও ডিপ্লোমা গুড়া দুধ পরীক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ 
কি সমস্যায় পড়েছিলো ?

Image result for জাহাজ
২০০৮ সালে বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রেডকাউ, ডানো, নিডো, এ্যানলিন ও ডিপ্লোমা গুড়া দুধ পরীক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ কি সমস্যায় পড়েছিলো ?
২০০৮ সালে বিশ্বজুড়ে ‘দুধ’ নিয়ে এক ভয়াবহ সংবাদ শোনা যায়। দুধের মধ্যে নাকি বিষাক্ত মেলামাইন মেশানো হয়। মেলামাইন এক ধরনের নাইট্রোজেন যৌগ, ভেজাল দুধে এটা মেশালে দুধ পরীক্ষার সময় তা প্রোটিন সমৃদ্ধ বলে যানান দেয়। অধিক লাভের আশায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এই অপকর্ম করে বসে। এতে চীনে কিছুদিনের মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার শিশু দুধে মেলামাইনে আক্রান্ত হয়ে কিডনী জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়, অনেকে মারা যায়।
২০০৮ সালে বাংলাদেশে তখন বিতর্কিত সেনা শাসন নির্ভর তত্ত্বাবাধয়ক সরকারের শেষ পর্যায়। বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া বিদেশী গুড়া দুধগুলোতে মেলামাইন আছে না নাই, তা পরীক্ষায় জোরালো দাবী উঠে। এক পর্যায়ে সরকার ৮টি বিদেশী কোম্পানির গুড়া দুধ (ডানো ফুলক্রীম, নিডো ফর্টিফায়েড, রেডকাউ, ডিপ্লোমা, এনলিন, এবং চীনের ৩টি কোম্পানি য়াশলী-১ , ইয়াশলী-২ এবং সুইট বেবী) পরীক্ষা করতে সাইন্সল্যাব, বিএসটিআই, আনবিক শক্তি কমিশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে পাঠায়। এই পরীক্ষায় ঢাকার রসায়ন বিভাগের টেস্টে বিদেশী গুড়া দুধগুলোর মধ্যে অতি উচ্চমাত্রায় মেলামাইন পাওয়া যায়। বিশেষ করে রেড কাউয়ে সহনীয় মাত্রা (0.1mg/kg) এর ২৩০০ গুন, ডিপ্লোমায় ৩০০০ গুন, ডানোতে ৪০০ গুন, নিডোতে ৪৫০০ গুন পর্যন্ত পাওয়া যায়। আনবিক শক্তি কমিশনের পরীক্ষায় রসায়ন বিভাগের পরীক্ষার তুলনায় তুলনামূলক কম হলেও মেলাইমানের দূষণের অস্তিত্ব মিলে। যার পরিমাণ যথাক্রমে নিডোতে ১৭০০ গুন, ডিপ্লোমায় ২৮৭০ গুন এবং ডানোতে ৭৪০ গুন সহনীয় মাত্রার বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু সাইন্সল্যাব ও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় তা নির্ণন করা যায় নাই।
সে সময় রসায়ন বিভাগের অনেকেই দাবী করেন, তাদের মেলাইন পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছিলো যা অন্য ল্যাবরেটরিগুলোতে ছিলো না।
বিশেষ করে রসায়ন বিভাগে জাপানি সরকারের সহযোগিতায় প্রাপ্ত High Performance Liquid Chromatography(HPLC) এবং Atomic Absorption Spectroscopy(AAS) এবং Sweden Upsala University -র সহযোগিতায় প্রাপ্ত Gas Chromatography Mass Spectroscopy (GCMS) (যা ঐ সময় Compound Detection Related সর্বাধুনিক প্রযুক্তি) নামের কোটি টাকার প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কোন Element কে খুব সহজেই disintegrate করা যায়।
কিন্তু এই পরীক্ষার পরই ঢাবির রাসায়ন বিভাগের উপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ আসতে থাকে। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খাদ্য ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এএমএম শওকত আলী রসায়ন বিভাগের পরীক্ষা অস্বীকার করে করে বলেন, “ঢাবির রসায়ন বিভাগের পরীক্ষাগার অনুমোদিত নয়, তাই গুড়া দুধের মেলামাইন পাওয়ার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়।”
উপদেষ্টার বক্তব্যের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুধে মেলামাইন পরীক্ষা কমিটির গবেষক ড. নিলুফার নাহার বলেন- “সরকার যে অনুমোদনের কথা বলছে, বিএসটিআই ছাড়া সে রকম কোন অনুমোদিত ল্যাবরেটরি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরকার অনুমোদিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু আমাদের গবেষণার ফলাফলের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। আর আমাদের ল্যাবরেটরি যদি অনুমোদিত নাই হয়, তবে আমাদের কাছে পরীক্ষার জন্য সেম্পল পাঠানো হলো কেন?”
সরকার দেশীয় পরীক্ষা অস্বীকার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) মাধ্যম হয়ে জার্মানির হামবুর্গের ইয়রোফিন্স জিএমবিএইচ পরীক্ষাগারে ৮টি দুধের সেম্পল পরীক্ষার জন্য পাঠায়। তারা দাবী করে, চীনা ৩টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর মাত্রায় মেলামাইন আছে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আর ডেনমার্কের ৫টি গুড়া দুধের মধ্যে কোন সমস্যা নেই।
তাদের রিপোর্ট অনুসারে সরকার ও হাইকোর্ট চীনা ৩টি কোম্পানি নিষিদ্ধ করে, কিন্তু ডানো, রেডকাউ, নিডো, ডিপ্লোমা এবং এনলিন গুড়া দুধের খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই বলে রাষ্ট্রীয় ঘোষণা দেয়।
এক্ষেত্রে ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোর পক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)কে নিকৃষ্ট দালালি করতে দেখা যায়। আর এভাবে করেই আন্তর্জাতিক বিশেষ শক্তিবলে বেচে যায় রেডকাউ, ডানো, নিডো, এ্যানলিন ও ডিপ্লোমা গুড়া দুধ। এরপর থেকে বিদেশী গুড়া দুধের শুদ্ধতা যাচাই নিয়ে কোন সরকারকে আর শক্ত অবস্থানে যেতে দেখা যায় নাই।
ছবি: ২০০৮ সালে দেশের বিভিন্ন ল্যাবে ৮টি বিদেশী গুড়া দুধে মেলামাইন পরীক্ষার রিপোর্ট।