২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে। এন.সি- ২৩১
২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে।
Image result for জাহাজ
২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে। সেখানে গিয়ে ঐ মহিলা লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহবান করে, তারা যেন মাদ্রাসায় ফান্ডিং না করে বরং কথিত মুক্তবুদ্ধি চর্চায় ফান্ডিং করে। (https://bit.ly/2GSuT5N)
তারও আগের ঘটনা হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা শিতাংশু গুহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলে- “কন্ডিশন পুট করো, মানি ক্যান নট বি স্পেন্ড ইন মাদ্রাসা”। (https://youtu.be/lVXg9ZXJ2-M)
এখান একটি বিষয় স্পষ্ট-
ইসলামবিদ্বেষী মহল সব সময় বলে আসছে- মাদ্রাসার ফান্ডিং যেন বন্ধ করে দেয়া হয়।
আপনারা সবাই জানেন, বাংলাদেশের কোরবানী ঈদে প্রাপ্ত পশুর চামড়া হচ্ছে মাদ্রাসার ফান্ডের একটি বড় অংশ। তাই এই কোরবানীর পশুর চামড়ায় যদি ডিস্ট্রার্ব করা যায়- তবে মাদ্রাসার ফান্ডিং এর একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। তাদের ধারণা- তখনই বন্ধ হয়ে যাবে দেশের অনেক মাদ্রাসা।
সেই টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের পর সবচেয়ে বড় শিল্প ট্যানারি শিল্পের পেছনে লাগে ইসলামবিদ্বেষী মহল। ২০১১ সালে মার্কিনপন্থী আইনজীবি মোনজিল মোর্শেদ পরিবেশ দূষণের অজুহাতে ট্যানারি শিল্প হাজারিবাগ থেকে সরিয়ে সাভারে নিয়ে যেতে রিট করে। সেই রিট ধরে সরকার সাভারের হেমায়েতপুরে একটা যায়গা করে দেয়, কিন্তু সেখানে কোন সুবিধাই নেই একটা ফাকা এলাকা। সেই রিটের আবেদনও ট্যানারি মালিকরা আপিল বিভাগে আটকে রাখে, কিন্তু ২০১৭ সালে এসে ইসকন সদস্য প্রধান বিচারক এসকে সিনহা চূড়ান্ত রায় দেয় সমস্ত ট্যানারি সরে যাওয়ার জন্য।
আপনাদের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে যখন ঢাকার চকবাজারে আগুন ধরলো, তখন একটি মহল হুট হাট প্রচার শুরু করলো পুরান ঢাকার সমস্ত ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার জন্য। তখন কিন্তু আমি আমার পেইজ থেকে প্রতিবাদ করেছিলাম, বলেছি- পুরান ঢাকার সমস্ত ব্যবসা করে যাবে, সমস্যা নেই। কিন্তু যে স্থানে সরে যাবে সে স্থান কি প্রস্তুত আছে ? আগে স্থান প্রস্তুত করে দাও, তারপর সমস্ত ব্যবসায়ীরা সরে যাবে সমস্যা নাই। কিন্তু যায়গা প্রস্তুত না করে যদি জোরজবরদস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়, তবে তা নিজ হাতে দেশীয় বাণিজ্য ধ্বংসের নামান্তর হবে। যাই হোক, সে সময় জনগণের প্রতিবাদের কারণে তাড়াহুড়া থেকে সরে আসে সরকার।
কিন্তু ট্যানারির সময় সে রকম কোন প্রতিবাদ হয়নি। যার কারণে হাজারিবাগের বিদ্যুৎ গ্যাস বিচ্ছিন্ন করে এক হিসেবে গলা ধাক্কা দিয়ে ২০১৭ সালে ট্যানারিগুলো বের করে দেয়া হয় (https://bit.ly/2YwY6y4)।
কথা হলো, ট্যানারিগুলো সাভারে চলে যাক সমস্যা নাই । কিন্তু সেই সাভারের এলাকাটা আগে প্রস্তুত করে নেন। ছবিতে দেখুন, সরকার বলছে- ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ (https://bit.ly/2GTKvWD)।
তারমানে এখনও শেষ হয়নি?
আর যদি শেষ না হয়, তবে ২০১৭ সালে কেন ট্যানারিগুলো সরিয়ে দিলেন কেন ?
কেন একটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি শিল্প ধ্বংস করে দিলেন ?
কেন ৫০ লক্ষ লোকের জীবিকা হুমকির মুখে ফেললেন ?
কেন মাদ্রাসার ফান্ডিং এর একটা বড় সোর্স বন্ধ করে দিলেন ?
যদি নতুন ট্যানারি এলাকা প্রস্তুত না করে গলা ধাক্কা দিয়ে কোন শিল্প বের করেন, তবে বুঝতে হবে আপনাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়, আপনাদের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় শিল্প ধ্বংস করা। কারণ একটা ফাকা যায়গায় ট্যানারি মালিকরা গিয়ে কিছুই করতে পারবে না, মোটামুটি তাদের ব্যবসা যদি ৩-৪ বছর আটকে রাখা যায়, তবে বহু ট্যানারি মালিক ব্যবসা ছেড়ে দিবে।
ট্যানারি শিল্পের এ ধরনের অস্থিরতার কারণে চামড়ার দাম অস্বাভাবিক নেমে যায়। ২০১৫-১৬ সালেও যেখানে একটা কাচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। সেখানে চামড়া নগরী ধ্বংস করে ফেলায় এবার চামড়ার রেট হতে পারে ২০০-৩০০ টাকা। গত বছরই দেখা গেছে অনেকে চামড়া নদী ফেলে দিয়েছে, কেউ মাটিতে পুতে ফেলেছে। কারণ একটা চামড়া পরিবহনে যে খরচ তা ট্যানারি পর্যন্ত নিয়ে বিক্রি করে সে পরিমাণ দাম উঠছে না।
এখানে লক্ষণীয়- প্রতি চামড়া থেকে যদি কমকরে ১ হাজার টাকাও মাদ্রাসায় যায়, তবে ১ কোটি চামড়া থেকে ১ হাজার কোটি টাকা মাদ্রাসাগুলো পেতো। ফলে এই টাকাটা মাদ্রাসা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতো, কিন্তু সেখানেই আটকে দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ দূষণের সমাধান কি ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করে দেয়া ?
সত্যি বলতে বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্প যতটুকু উঠেছে, পুরোটা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। তাদের যদি আরো হেভি প্রসেসিং মেশিং থাকতো, তবে আরো বেশি দামে উন্নত প্রসেসিং এর চামড়া রপ্তানি করতে পারতো। কিন্তু সরকার সেখানে সহযোগীতা তো দূরের কথা, উল্টো পরিবেশ দূষণের অজুহাত দিয়ে ট্যানারিগুলো সরিয়ে দেয়ার নামে ধ্বংস করে দিলো। এখানে একটি কথা সব সময় মনে রাখবেন- মাথা ব্যাথ্যার সমাধান কিন্তু মাথা কেটে ফেলা নয়। কিন্তু সরকার বার বার সেটাই করে। ট্যানারি বর্জ্য্ নিয়ে যদি সরকার আলাদা প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করে দিতো, তবে সেখান থেকে কোলাজেন, অতঃপর সেখান থেকে মূল্যবান জিলেটিন সংগ্রহ করা যেতো। যেটা রফতানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন সম্ভব ছিলো। কিন্তু কিছুই হলো না।
বাংলাদেশে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ হলে কে লাভবান হবে ?
বাংলাদেশে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ হলে সবচেয়ে লাভবান হবে ভারত। চামড়া বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে- বাংলাদেশের গরুর চামড়া অন্যান্য দেশ, এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতীয় গরুর চামড়া থেকে অনেক মোটা, পুরু ও উন্নতমানের। এ কারণে বাংলাদেশী গরুর চামড়া বিশ্বজুড়ে অনেক চাহিদা। একটা গরুর চামড়া ট্যানারি মালিকরা যে দামে কিনে সেটা প্রসেসিং এর পর কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করতো ইউরোপে । কিন্তু চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন ট্যানারি মালিকরা আর চামড়া কিনতে পারছে না, ফলে চামড়ার দাম অনেক পড়ে গেছে। সেই সুযোগ খুব কমমূল্যে চামড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দালালরা এবং লবন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় জমা করে রাখছে। পরবতীতে সময় সুযোগ মত সীমানা পাড়ি দিয়ে চামড়া পৌছে যাচ্ছে ভারতে ”( https://bit.ly/2yKgbtg)। ফলে বাংলাদেশী চামড়া নিয়ে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে ভারতীয় ট্যানারি ব্যবসায়ীরা, অথচ বাংলাদেশের ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এখন ঋাণের দায়ে ভিক্ষার থালা নিয়ে মাঠে নামার অবস্থা।
এই জন্য আমি সব সময় ‘গুজব’ নিয়ে কথা বলি। আপনারা যদি গুজব বলতে, ৫-১০জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলার উপকরণ বুঝেন, তবে ভুল করবেন। তার থেকে বড় গুজব হলো- বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্য বান্ধব, নিরাপত্তা বান্ধব কথা বলে বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পগুলোকে শেষ করে দেয়া। যেমন- আগুনের কথা বলে পুরান ঢাকার ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বংষের ষড়যন্ত্র, সীসা-এন্টিবায়োটিকের কথা বলে দুগ্ধ শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিবেশের কথা বলে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করে দেয়া।
তাই বলছি, যদিও-
মিডিয়া দেশী শিল্পের বিপক্ষে,
বিচারবিভাগ দেশী শিল্পের বিপক্ষে,
সরকার দেশী শিল্পের বিপক্ষে।
কিন্তু তারপরও যদি জনগণ তাদের বানিয়ে দেয়া গুজবে কান না দিয়ে অন্তত দেশী শিল্পের পক্ষে কথা বলে, তবে কিছুটা হলেও ষড়যন্ত্রে বাধা পড়বে। আর সেই বাধাটা হয়ত বাচিয়ে দিতে পারে বড় বড় দেশী শিল্পকে, যার উপর নির্ভর করছে কোটি মানুষের রুটি-রুজি এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা।
অনেকে লিখছে- “কোরবানীর চামড়া মাটির নিচে পুতে ফেলুন”। আমার মনে হয়- এটা ভুল সিদ্ধান্ত। এন.সি-২৩০
অনেকে লিখছে- “কোরবানীর চামড়া মাটির নিচে পুতে ফেলুন”।
আমার মনে হয়- এটা ভুল সিদ্ধান্ত।
Image result for বিমান
অনেকে লিখছে- “কোরবানীর চামড়া মাটির নিচে পুতে ফেলুন”।
আমার মনে হয়- এটা ভুল সিদ্ধান্ত।
আমার জানা মতে ইসলাম ধর্ম মতে কোরবানীর চামড়া খাওয়া নিষিদ্ধ নয়,
অনেক এলাকা, বিশেষ করে আফ্রিকা, মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়াতে মুসলমানরা পশুর চামড়া খায়।
মুসলমানদের জন্য ‘হালাল-হারাম’ বলে একটা বিষয় আছে,
আমার অনেক মুসলমান বন্ধুর সাথে আলাপ করে জেনেছি, তাদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোরবানীর পশুর ৮টি জিনিসকে নিষিদ্ধ (হারাম) বলা হয়েছে, সেই তালিকায় কিন্তু চামড়া নেই।
আসলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে চামড়া খাওয়ার কালচার গড়ে উঠেনি বলেই, এদেশে ট্যানারি শিল্প এত দ্রুত বেড়ে উঠেছে। অপরদিকে অন্য মুসলমান দেশগুলো চামড়া খেয়ে ফেলায় বিধায়, তাদের দেশের ট্যানারি শিল্প অত বেশি প্রসার লাভ করেনি। তবে হা তারাও চামড়ার ট্যানারি নিয়ে কিছু কাজ করে, কিন্তু সেটা অন্য কোন উপায়ে মৃত পশুর চামড়া, ধর্মীয় উপায়ে জবাই করার পশুর চামড়া নয়।
চামড়া খায় কিভাবে ?
হ্যা চামড়া খাওয়া যায়। উচ্চতাপমাত্রা বা গরম পানিতে চামড়া ডুবিয়ে দিলে পশমগুলো উঠে আসে, তখন পুরো চামড়াটা পাওয়া যায়। আমার কিছু বিদেশী মুসলিম বন্ধুর কাছে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম স্বাদ কেমন। তাদের বক্তব্য- একেক স্থানের চামড়ার একের রকম স্বাদ। আফ্রিকার অনেক রাষ্ট্রে গরুর চামড়া দিয়ে অনেক স্পেশাল আইটেম রান্না করা হয়, সেগুলো দেশ বিদেশে প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশেও অনেক এলাকায় গরুর মাথার চামড়ার খাওয়ার প্রচলন আছে, যা নেহারীর পায়ার রবারের মত অংশের সাথে তুলনা করা যায়।
চামড়ায় কি থাকে ?
আসলে আমরা চামড়া বলতে বুঝি শুধু উপরের পশমী অংশ। কিন্তু চামড়া মূল অংশটা কিন্তু থাকে ভেতরের অংশে, যেটাকে বলা হয় কোলাজেন। গরুর চামড়ায় কোলেজেনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে, তাই গরুর চামড়া বেশি উপদেয়। তাই উপরের পশমী অংশটা (বা চাইলে শক্ত অংশটাও) যদি ফেলে দেয়া যায়, তবে ভেতরে কোলাজেন নামক প্রোটিন পাওয়া সম্ভব, যা মাংশের মতই খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য।
চামড়া খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে কি লাভ হবে ?
আসলে আমাদের দেশে এতদিন কোরবানীর চামড়া মসজিদ মাদ্রাসায় দান হিসেবে ব্যবহৃত হতো । কিন্তু গত বেশ কিছু বছর যাবত চামড়ার দাম কমে যাওয়ায়, মসজিদ মাদ্রাসায় সেই টাকা আসছে না। এবং কবে নাগাদ চামড়ার দাম বাড়বে তাও বলা যাচ্ছে না। ট্যানারির মালিকদেরও একটা ধারণা তৈরী হইছে, “যদি আমরা চামড়া না নেই, তবে চামড়া পচে যাবে, চামড়া দেয়ার কোন উপায় থাকবে না। তাই যত কম দামই দেই না কেন, চামড়া আমাদের কাছে আসবেই, না দিয়ে যাবে কোথায় ?” তাই ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিচ্ছে। এতে তারাও যে খুব একটা লাভবান হতে পারছে তা নয়, বরং এই দাম কমার সুযোগ নিচ্ছে পাশ্ববর্তী ভারতীয় চামড়ার ব্যবসায়ীরা। তারা এই কম দামের সুযোগে প্রুচুর পরিমাণে চামড়া কিনে ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় জনগণ যদি চামড়া খাওয়া শুরু করে দেয়, তবে চামড়ার মালিকরা অন্তত এটা ভাবতে পারবে না যে চামড়ার যেই দাম দিবো, পাবালিক সেই দামেই বিক্রি করবে।
এখানে বোঝার বিষয় হলো- বাংলাদেশের চামড়া গুলোর ওজন প্রায় ২০ কেজি থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত হয়। চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হলে ধনীরা হয়ত এগুলো খাবে না, কারণ সেখানে প্রসেসিং এর বিষয় থাকে। কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা (যারা হাত পেতে মাংশ চাইতে পারে না) মাংশের বিকল্প হিসেবে চামড়া খেতে পারে। যদি চামড়ার প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে হয়, তবে প্রতি চামড়ার দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দাড়াবে।
লক্ষনীয়, ইসলাম ধর্মের নিয়ম হচ্ছে- কোরবানীর পশুর সবকিছু কোরবানীকারী ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু যদি অংশ বিক্রি করে, তবে বিক্রির টাকা ব্যবহার করতে পারবে না, সেটা ‘গরীবের হক্ব’ হবে।
আমার বলার উদ্দেশ্য, যদি কোরবানী গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হয়, তবে নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে (যারা হাত পেতে মাংশ চাইতে পারে না) গরুর চামড়া খাওয়ার কালচার শুরু হলে তারা টাকা দিয়ে চামড়া কেনা শুরু করবে, তখন প্রতি চামড়ার মূল্য দাড়াবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। তখন সেই টাকা কিন্তু ধনীরা ব্যবহার করতে পারবে না, এতিম বা গরীবকেই দিতে হবে। ফলে এখন যেমন চামড়া প্রতি ট্যানারি মালিকরা ২-৩শ’ টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে, সেই কাজটা আর করবে পারবে না, তাদেরকে চামড়া খাওয়াওয়ালাদের সাথে প্রতিযোগীতা করেই চামড়া কিনতে হবে। আর এতে চামড়া নিয়ে যে অপচয়টা হচ্ছে সেটাও হবে না, পাশাপাশি এত বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে।
ট্যানারি শিল্পের পাশাপাশি জিলেটিন শিল্প:
ট্যানারি শিল্পের পাশাপাশি আমাদের জিলেটিন শিল্প গড়ে তোলা দরকার। কারণ বাংলাদেশের ঔষধসহ অনেক খাদ্যে জিলেটিনের ব্যবহার আছে। উল্লেখ্য চামড়ার ভেতরের অংশে কোলাজেন নামক উপদান থাকে, সেই কোলাজেন থেকে জিলেটিন তৈরী হয়। পাকিস্তান কিন্তু চামড়ার ট্যানারির থেকে জিলেটিন তৈরীতে বেশি মনোযোগী। বিশ্বব্যাপী হালাল পশু থেকে আগত জিলেটিনের চাহিদাও অনেক। যেহেতু ইউরোপ থেকে আগত জিলেটিনের বড় অংশ হলো শুকর থেকে আগত, আবার চীন বা এসমস্ত রাষ্ট্রে গরুর জিলেটিন থাকলেও সেগুলো ইসলাম ধর্মীয় মতে জবাই করা হয় না। তাই মুসলমানরা হালাল পশু থেকে জিলেটিন উৎপাদন করতে পারে। বাংলাদেশে যেহেতু কোরবানীর সময় প্রচুর পরিমাণে হালাল উপায়ে জবাই করা পশুর চামড়া পাওয়া যায়, সেহেতু সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে জিলেটিন পাওয়া সম্ভব, যা দেশ বিদেশে মুসলিমদের মধ্যে প্রচুর চাহিদা আছে। বাংলাদেশে যদি জিলেটিনের কারখানা তৈরী করা যায়, তবে তখন চামড়া বিক্রির জন্য শুধু ট্যানারির উপর নির্ভর করতে হয় না, জিলেটিন কারাখানাগুলোও চামড়া নিয়ে যাবে। এতে চামড়ার দাম আরো বৃদ্ধি পাবে।
এখন চামড়ার কোলাজেনের কি হচ্ছে ?
এখন যেটা হচ্ছে, চামড়াগুলো ট্যানারিতে যাচ্ছে, সেই চামড়া প্রসেসিং করার সময় চামড়া থেকে ঝরে পড়া কোলাজেনসহ প্রোটিন অংশটুকু বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর চামড়া ধোয়ার সময় ট্যানারিগুলো এমন রং ব্যবহার করছে, যেখানে ভারি ধাতু আছে। সেই ভারি ধাতু মিশ্রিত পানি আর চামড়া থেকে ঝড়ে পরা কোলাজেন ও প্রোটিন মিশ্রিত হয়ে ট্যানারি বর্জ্য্ তৈরী করছে। দেখা যাচ্ছে, সেই বর্জ্যের প্রোটিন অংশটা নিয়ে মাছ ও মুরগীর ফিড কোম্পানিগুলো খাদ্য তৈরী করছে। কিন্তু সেখানে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিছু ভারি ধাতু মিশ্রিত থাকছে। এটা নিয়ে বিদেশী সমর্থিক পরিবেশবাদী গ্রুপগুলোর চিল্লাচিল্লিতে সেই সব ফিড নিষিদ্ধ করছে সরকার। অথচ চামড়া ধোয়ার সময় যদি ভারি ধাতুর রং এর পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব রং এর ব্যবহার করা হয়, তবে কিন্তু সেই ট্যানারির বর্জ্য্গুলো আর বিষাক্ত হয় না। এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের ট্যানারির বর্জ্য থেকে প্রোটিন নিতে না পারায় মাছ ও মুরগীর ফিড কোম্পানিগুলো থাইল্যান্ড বা তারপাশের দেশ থেকে শুকরের মাংশ, চর্বি, হাড় এমনকি কিছু কিছু সময় বিষ্ঠা পর্যন্ত আমদানি করতেছে। অপরদিকে ট্যানারির বর্জ্যগুলো রিসাইক্লিং না হওয়ায় সেগুলো পরিবেশের মধ্যে থেকে তা পরিবেশকে আরো দূষিত করে তুলছে। ফলে ট্যানারিগুলো সব সময় জনগণের চোখে খারাপই থেকে যাচ্ছে। এতদিন হাজারীবাগ দূষিত হয়েছে বলে সরকার জোর করে ট্যানারিগুলো সাভার সরিয়ে দিলো। এতে পথে বসে গেলো ট্যানারিগুলো। এখন সাভারে গেছে, ইতিমধ্যে অনেকে বলছে সাভারের পরিবেশও নাকি ট্যানারি দূষিত করা শুরু করেছে। ৫-১০ বছর পর যখন যখন ট্যানারিগুলো কিছুটা হলেও দাড়াতে পারবে, তখন দেখা যাবে পরিবেশ দূষণের কথা বলে সাভার থেকেও সেগুলো বিতাড়ন করা হয়েছে।
আমি দেখেছি, এখন যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবি দাবী করে, মিডিয়াতে কাজ করে বা সরকার প্রশাসনে আছে, তারা কেউ কোন কিছুর সমাধান চায় না্। শুধু মার মার কাট কাট অবস্থা। তাদের কথা মত না চললেই শেষ করে দাও, মাথা ব্যাথ্যা হয়েছে তো মাথা কেটে ফেলো। অথচ সমস্যাটা সামান্য একটু যায়গায়ই থাকে, সেটুকু অংশ সমাধান করলেই কিন্তু পুরো জিনিসটা নষ্ট করতে হয় না।