২০১৫ সালে বুয়েট ছাত্রদের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামক গ্রুপে দীপু সরকার নামক এক হিন্দুর পোস্টের চন্দ্র নাথ। এন.সি- ১৩৪
২০১৫ সালে বুয়েট ছাত্রদের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামক গ্রুপে দীপু সরকার নামক এক হিন্দুর পোস্টের চন্দ্র নাথ

২০১৫ সালে বুয়েট ছাত্রদের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামক গ্রুপে দীপু সরকার নামক এক হিন্দুর পোস্টের চন্দ্র নাথ নামক একজনের কমেন্টে ভারত বিরোধী উত্তর করেছিলেন বুয়েট শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। ঐ কারণে সেই শিক্ষককে তৎকালীন বুয়েট ছাত্রলীগের হিন্দু সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার টেনে হিচরে গায়ে হাত তুলে লাঞ্চিত করে।
একজন শিক্ষক যে মতাবলম্বী হোক, ছাত্ররা শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে এমন নজির বাংলাদেশের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাধারণত দেখা যায় না। কিন্তু সেই নজির স্থাপন করেছিলো বুয়েট ছাত্রলীগের হিন্দু নেতা।
২০১৬ সালে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের করা সিভিল সামিটে গরুর মাংশ দেয়ার অভিযোগে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিলো ছাত্রলীগের হিন্দু সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার। দুইজন সম্মানিত শিক্ষককে সবার সামনে অপমান করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলো। এমনকি বাংলাদেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের একত্রিকরণ বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসতো (বিপক্ষে যেত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের স্বার্থের) সেটা বন্ধ করে দিয়েছিলো শুভ্র জ্যোতি টিকাদাররা। (উল্লেখ্য, এ বছর জুন মাসে শুভ্র জ্যোতি টিকাদার পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করে)
যারা বুয়েটে পড়ে তারা বুয়েটে উগ্রহিন্দুদের দৌরত্ব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে। অনেকের দাবী হলো- বুয়েটে শুধু ইসকন নয়, ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলাদেশ শাখাও সেখানে সক্রিয়। আসলে আমি বুয়েটে উগ্র হিন্দুদের দৌরত্ব সম্পর্কে বলছি এ কারণে, সেখানে কিছু হিন্দু ছাত্রের ভারতপন্থীতা অত্যাধিক বেশি। অর্থাৎ বুয়েটে এমন কিছু ছাত্র নিয়োগ করা আছে, যাদের দেখলে সন্দেহ হয়, তারা ভারতীয় স্বার্থ দেখতে সরাসরি ভারতীয় দূতাবাস থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত কি না ? যারা ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু দেখলে সাথে ব্যবস্থা নেয় এবং হয়ত ভারতীয় দূতাবাস থেকে সরাসরি তাদের শেল্টার দেয়া হয়।
আজকে বুয়েটে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কৃষ্ণপদ রায় যে ঘটনা ঘটালো তাকে আমি অবাক হয়েছি। কারণ যে আওয়ামীলীগ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার করছে, সম্রাট-খালেদের মত নেতাদের ধরে ফেলছে, সেই আওয়ামীলীগ সরকার ঐ সিটিটিভি ফুটেজে এমন কি পাইলো, যা পুরোটা প্রকাশ না করতে তারা ছাত্রদের সাথে হাতাহাতি পর্যন্ত করালো ? নাকি তারা কাউকে বাচাতে চাইছে ? কিন্তু কাকে বাচাতে চাইছে ? কে সেই ছাত্র ??
আমি নিশ্চিত, সেই ছাত্রকে বাচানো আওয়ামীলীগের স্বার্থ হতে পারে না, অন্তত আওয়ামলীগের বর্তমান নীতি সেটা বলে না। তবে সেটা কার স্বার্থ হতে পারে ? অবশ্যই সেটা আওয়ামীলীগের বন্ধু রাষ্ট্রে দূতাবাসের স্বার্থ, যা পালন করতে তারা বদ্ধ পরিকর। এবং এসব ক্ষেত্রেই কেবল আওয়ামীলীগ নো-কম্প্রমাইজ নীতি ফলো করে।
একটা বিষয় খেয়াল করবেন- আবরার হত্যায় প্রথম থেকে নাম আসছিলো ইসকনের সাথে জড়িত অমিত সাহার নাম। এমনকি তার বা তার সমগোত্রীয় কারো বিছানায় ফেলে তাকে হত্যা করা হয় বলে অনেকে বলেছে। এছাড়া অনেক মিডিয়ায় অমিত সাহা যে আবরারকে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে সেই খবরও প্রকাশিত। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মামলার আসামীর লিস্টে অমিত সাহার নাম নাই, এমনকি ছাত্রলীগ থেকে যাদের বহিষ্কার করা হলো তাদের মধ্যেও অমিত সাহার নাম নাই।
তাহলে ক্যালকুলেশন কি বলছে ?
তবে কি অমিত সাহাকে ভারতীয় দূতাবাস থেকেই বাচানোর নির্দেশ ছিলো ?
যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রক্ষা করলো আওয়ামীলীগ !!
বুয়েটে শিক্ষকদের মাধ্যমে কৌশলে ‘ইসকন’ সংগঠনের প্রচার। এন.সি- ১৩৩
Related image
বুয়েটে শিক্ষকদের মাধ্যমে কৌশলে ‘ইসকন’ সংগঠনের প্রচার


বুয়েটে শিক্ষকদের মাধ্যমে কৌশলে ‘ইসকন’ সংগঠনের প্রচার
ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম ‘সুমন সাহা’, ইসকন ধর্ম প্রচারক। তার আইডি (https://www.facebook.com/saha.sumon/) দেখলে বুঝতে পারবেন, বহু আগে থেকেই দেশ বিদেশে ইসকন ধর্ম প্রচারে সে কাজ করেছে । কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে মুসলিম শিশুদের ‘হরে কৃষ্ণ’ শ্লোগান উচ্চারণ করানো ইসকন সংগঠনের ফুড ফর লাইফ কার্যক্রমের সাথেও সম্পৃক্ত সে। ২০১৬ সালে সে নিয়োগ পায় বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগে শিক্ষক হিসেবে।
উল্লেখ্য, ২৮শে মে ২০১৯ তারিখে সাউথ এশিয়ান মনিটরে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিলো- “মন্দির সংখ্যায় ভারতকে ছাড়িয়ে, বাংলাদেশে ইসকনের প্রভাব বাড়ছে”। রিপোর্টটিতে বলা হয়- “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। অভিযোগ রয়েছে ইসকনের ভক্ত-অনুসারি বা দিক্ষিত এমন কমপক্ষে তিন জনকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর চাপ রয়েছে সংগঠনটির। প্রসঙ্গটি তোলা হলে ইসকনের কেন্দ্রীয় স্বামীবাগ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ঈশ্বর গৌরহরিদাস কোন রাখ ঢাক ছাড়াই বললেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকদের ৩/৪ জন করে ইসকনের ভক্ত-অনুসারি রয়েছেন। আর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রেই ২/৩ জন করে থাকছেন।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওখানেও আমাদের একজন নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ। এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮-২০১৩ মেয়াদে গণিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করা তরুণ এই ব্রহ্মচারী আরও জানান, তার বিভাগে ইসকনের অনুসারি কোন শিক্ষক না থাকলেও উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগে একজন শিক্ষক ছিলেন যিনি পরে বিভাগীয় প্রধানেরও দায়িত্ব পালন করেন। (https://bit.ly/2nqlFal)
প্রসঙ্গত বলতে হয়, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন সংগঠনের সদস্য শিক্ষক হিসেবে থাকলে, ঐ শিক্ষকের মাধ্যমে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঐ সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারে সহজ হয়। কারণ ছাত্ররা খুব সহজেই শিক্ষকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঐ সংগঠনে যোগদান করে। আর সেই শিক্ষকটি যদি হয় উক্ত সংগঠনের ‘প্রচার এক্সপার্ট’ তবে তো কথাই নেই। ইসকন সেই কাজটি সুকৌশলে করে থাকে। অর্থাৎ বিশেষ কোন উপায় অবলম্বন করে ঐ শিক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনকে চাপ দিয়ে তারা ইসকন ধর্ম প্রচারে এক্সপার্টদের শিক্ষক হিসেবে হিসেবে প্রবেশ করায়, যা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছে, স্বামীবাগ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ঈশ্বর গৌরহরিদাস। এবং এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ইসকন বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু হিন্দু ছাত্রকে ইসকন নামক সংগঠনের সক্রিয় সদস্যে পরিণত করেছে।
বিষয়টি নিয়ে আমি এ কারণে লিখলাম, কারণ বাংলাদেশীরা অনেক বিষয়েই সচেতন নয়। ছোটবেলায় হরলিক্সে বিজ্ঞাপনে এক শিশুর ডায়লাগ ছিলো- “আমি তো এমনি এমনি খাই”। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশীরাও ঐ শিশুর মত সব সময় ভাবে সবকিছুই মনে হয় এমনি এমনি হয়। আসলে কোন কিছুই এমনি এমনি হয় না, প্রতিটি ঘটনার পেছনে থাকে কোন বিশেষ গোষ্ঠীর বিশেষ স্বার্থ হাসিলে বিশেষ কোন কার্যক্রম বাস্তবায়ন। সেখানে থাকে সুদূর প্রসারী প্ল্যান বাস্তবায়ন, যার খণ্ড অংশ দেখে সে এমনি এমনি মনে করে। এই যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসকন সদস্য বৃদ্ধি হচ্ছে, এর পেছনে দেশের বিরুদ্ধে গভীর কোন ষড়যন্ত্রের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, যা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ পুরোই বেখবর। কিন্তু একটা সময় যখন তা বিষ্ফোরণ হবে, তখন সাধারণ মানুষের আবরারের মত লাশ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
ছাত্রলীগের ছেলেরা জুনিয়রদের থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় খারাপ ব্যবহারের আশ্রয় নেয়। এন.সি- ১৩২
ছাত্রলীগের ছেলেরা জুনিয়রদের থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় খারাপ ব্যবহারের আশ্রয় নেয়
October 8, 2019October 8, 2019

Related image
ছাত্রলীগের ছেলেরা জুনিয়রদের থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় খারাপ ব্যবহারের আশ্রয় নেয়, এটা আমি অস্বীকার করবো না। অনেক ক্ষেত্রে হয়ত মারপিটও করে।
হলের ভেতরে সেটা চড় থাপ্পরও হয় অনেক সময়।
এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে হাড়গোর ভাঙ্গার ঘটনাও ঘটে।
কিন্তু সাধারণ ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলার কালচার এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।
কোন কিছু হলেই পিটিয়ে মেরে ফেলার কালচার এটা মূলতঃ বিজেপি কালচার।
পার্শ্ববর্তী ভারতে এটা বহুল ব্যবহৃত একটি কালচার।
বিরোধী পক্ষকে তারা হাত-পা ভাঙ্গার জন্য মারে না,
একেবারে হত্যার জন্য মারে।
আর বিজেপি যেহেতু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, সেহেতু তাদের বিরোধীপক্ষ মূলত নিয়মিত ধর্ম-কর্ম পালন করা মুসলিমরা। বুয়েটের আবরার ছেলেটা সম্ভবত সেরকম ধার্মীক মুসলমান ছিলো। আর সেই বিজেপি কালচারটাই বাস্তবায়ন গতকালকে দেখা গেলো।
আমার দেখা- শোভন-রব্বানী প্যানেল হয়ত দুর্নীতি করেছিলো, কিন্তু তারা কিন্তু ডাইরেক্ট ফিল্ডে মারামারি করতো না। কিন্তু লিখক ভট্টাচার্য এসেই ঘোষণা দিলো মারামারি করার। প্রকাশ্যে মারামারি করলো, চেয়ার টেনে নিলো, নানান অভদ্র আচরণ কররো। আজকাল মিডিয়া ও স্ম্যার্ট পলিটিক্সের যুগে এগুলো একদম বে-মানান। এসব অভদ্র আচরণ করা মূলত বিজেপির সংস্কৃতি। এজন্য বিজেপির এ ধরনের আচরণকে সবাই গো-মূত্রখোরদের কালচার হিসেবে ছিঃ ছিঃ করে।
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার যেমন উগ্র মারামারির জন্য কুখ্যাত ছিলো,
ঠিক তেমনি ঢাবির বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসও এই মারামারির জন্য কুখ্যাত। শুভ্র জ্যোতি টিকাদার যেমন শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতো, ঠিক তেমনি সনজিতও নিজ দলের সিনিয়র নেতাকে জনসম্মুখে পিটাতে অভ্যস্ত। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিনকে সে ৮ তলা থেকে মারতে মারতে নিচে নামানোর ঘটনা সবার জানা।
একটি বিষয় এখন মোটামুটি শিওর, ছাত্রলীগের মধ্যে এখন ব্যাপক হারে বিজেপিপন্থী ইনফিলট্রেট করেছে। এবং সময়ের পরিক্রমায় তারা নেতৃস্থানীয় পদেও চলে এসেছে। ছাত্রলীগের সবাই খারাপ আমি এটা বলবো না, যদি সবাই খারাপ হতো, তবে একটা সংগঠন কখন টিকে থাকতে পারে না। তবে ছাত্রলীগের মধ্যে বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় পদে এই বিজেপিপন্থীদের অনুপ্রবেশ খুব খারাপ লক্ষণ। একটা সংগঠনকে যদি ধ্বংস করে দিতে চাও, তবে তার মধ্যে এক্সট্রিমিজম প্রবেশ করিয়ে দাও, ছাত্রলীগের মধ্যে বিজেপিন্থীরা কিন্তু সেটাই করছে। সমাজের যে অংশটা ছাত্রলীগের শত্রু ছিলো না, তাদেরকেও ছাত্রলীগের শত্রু বানিয়ে দিচ্ছে। আমি ছাত্রলীগের মধ্যে থাকা সেই ভালো মহলটিকে বলবো, আপনারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন, আপনাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করা সেই বিজেপিপন্থীদের কিক আউট করুন। সংস্কার করে বিজেপিপন্থীমুক্ত ছাত্রলীগ তৈরী করুন। শুধু দায় এড়ানো বহিষ্কার করেই শেষ রক্ষা হবে না, বরং মূল যায়গায় হাত দিতে হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নিন, নয়ত ছাত্রলীগের বিদায় ঘণ্টা বিজেপিন্থীরা দ্রুত বাজিয়ে দিবে নিশ্চিত।
আবরারকে হত্যা করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয় পূজা মণ্ডপ থেকেই। এন.সি- ১৩১
Related image
আবরারকে হত্যা করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয় পূজা মণ্ডপ থেকেই



-1:13
68,708 Views

আবরারকে হত্যা করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয় পূজা মণ্ডপ থেকেই
স্ট্যাটাসটা ছিলো ভারত বিরোধী। ঐ পূজা মণ্ডপে এমন কোন ভারতীয় এজেন্ট ছিলো যে ছাত্রলীগ দিয়ে কাজটি করায়। হতে পারে ঐ ভারতীয় এজেন্ট সে সব ছাত্রলীগের ছেলেকে মণ্ডপে ডাক দেয়
অথবা মণ্ডপে তাদের সাথে কথা হয়। মদ খাওয়ানো ছাড়াও আর্থিক লেনদেন হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
শুধু মদ্যপ হয়ে খুন করেছে, এটা স্বাভাবিক নয়। কারণ মাতাল হলে এ ধরনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়া এবং সেখান থেকে গভীর মমার্থ খুজে বের করার মত মানসিক শক্তি থাকার কথা নয়। বরং পূজা মণ্ডপ থেকেই তাদেরকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আবরারকে উপর্যুপুরি পেটানোর জন্য। আরো সহজ ভাষায় বলতে, অর্থাৎ ছাত্রলীগ ছেলেদের মদ খাওয়ায় আববারের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে দেয়া হয়। অর্থাৎ জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাওয়া লোকগুলোকে লেলিয়ে দেয়া হয় আবারের বিরুদ্ধে, যা মুভিগুলোতে আমরা হরহামেশা দেখি থাকি।
এখানে লক্ষণীয়,স্ট্যাটাসে এমন কিছু ছিলো না, যেটা দেখে ছাত্রলীগ ক্ষেপে যেতে পারে, তাই স্ট্যাটাসের কারণে ছাত্রলীগ ক্ষেপেছে এটা বলা যায় না।
বরং পূজা মণ্ডপ বা সেখানকার কোন ভারতীয় এজেন্টদের বিরুদ্ধে বিষয়টি যায়।
তার দিক নিদের্শনায় কাজটি হয়। মাঝখান দিয়ে শুধু পেটানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ছাত্রলীগ সদস্যদের।
এটা হঠাৎ করে পিটাতে গিয়ে কোন খুন নয়, বরং ইনটেনশেনালী পিটাতে গিয়ে খুন।
বুয়েটের সাথে ভারত ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধের অনেক কারণ আছে- এন.সি- ১৩০
বুয়েটের সাথে ভারত ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধের অনেক কারণ আছে-

Image result for হার্ট


বুয়েটের সাথে ভারত ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধের অনেক কারণ আছে-
১) বুয়েট তৈরী হয়েছে পাকিস্তান আমলে, পাকিস্তান সরকার সেটা করছে। তাই সৃষ্টিগতভাবে বুয়েট একটি ভারতবিরোধী সংগঠন।
২) বুয়েটের সাথে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মামলা চলতেছে। বুয়েট বলে ঢাকেশ্বরী মন্দির আমার যায়গা দখল করছে, আর ঢাকেশ্বরী মন্দির বলে পুরোটা বুয়েটই মন্দিরের যায়গায় বানানো হইছে। বুয়েট যেন তাদের যায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরী হওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে বাধা দিছিলো, বুয়েট হওয়ার সময় সেটা দিতে পারে নাই। বুয়েট থেকে যে মেধাবী ছাত্ররা বের হয়, তাদেরকে ভারত নিজের মেধাবীদের তুলনায় থ্রেট মনে করে। যেমন ২০১৬ সালের বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সামিটের উদাহরণ দেই, তখন কিভাবে গরুর মাংশের অজুহাত দিয়ে সেই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছিলো হিন্দুত্ববাদীরা, অথচ ঐ অনুষ্ঠানটি হলে বাংলাদেশের স্বার্থে এবং ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ হতো। তাই গ্যাঞ্জাম লাগায় যত বুয়েট বন্ধ রাখা যায়, তত ভারতের লাভ।
৪) ২০১২ সালে মুক্তমনা ব্লগে কিছু হিন্দুর ক্ষোভ দেখেছিলাম বুয়েটের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ ছিলো- বুয়েটের ছাত্রতা তুলনামূলক ইসলাম ধর্ম চর্চা বেশি করে। এছাড়া বুয়েটে কিছু হিন্দু শিক্ষক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করায় তারা ক্ষেপে থাকে।
৫) বুয়েটে কোন কোন হলে, হলের পক্ষ থেকে নিয়মিত গরুর মাংশের ফেস্টিভাল হয়, উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা এর ঘোর বিরোধী, এবং বিভিন্ন সিস্টেমে তা বন্ধ করতে চায়।
বলছিলাম- ‘ইমরান যে তুই অপরাধী’ থিউরী ব্যবহার করছে,। এন.সি- ১২৯
বলছিলাম- ‘ইমরান যে তুই অপরাধী’ থিউরী ব্যবহার করছে,
Related image

কয়েকদিন আগে ইমরান খানের ভাষণের পর একটা স্ট্যাটাস দিছিলাম,
বলছিলাম- ‘ইমরান যে তুই অপরাধী’ থিউরী ব্যবহার করছে,
বাংলাদেশীরা এখনও সেই যোগ্যতা অর্জন করে নাই,
বাংলাদেশীদের উচিত ইমরান খানের থেকে শিক্ষা নেয়া।
সম্প্রতি বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর কিন্তু বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গেছে,
বাংলাদেশীরা এখনও ‘তুই অপরাধী’ এ কথাটা বলতে পারে না।
তাহলে বাংলাদেশীদের আসলে এখন কোন যোগ্যতা পয়দা হয় নাই।
গতকাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির রিপোর্টে (https://bit.ly/2VqsyoF) একটি বিষয় স্পষ্ট হয়-
যেই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আবরার হত্যা, অর্থাৎ ফেসবুকে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট ইত্যাদি,
সেই উপলক্ষটা তৈরী করে ‘অমিত সাহা’। সেই আবরারের মোবাইল চেক করে এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তারপর তাকে পিটানোর দায়িত্ব নেয় অন্য সবাই। কিন্তু এরপরেও ‘অমিত সাহা’ নামটি আশ্চর্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় এবং সবাই (পুলিশ, মামলার এজহার, ছাত্রলীগের বহিষ্কার লিস্ট এমনকি মিডিয়া থেকে) অমিত সাহা’র নামটি রহস্যজনকভাবে লুকিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে অমিত সাহা তার নিকট লোকজন নিয়ে বিভিন্ন প্রমাণ সাজানোর চেষ্টা করে, সেই দিন ঘটনার সময় সে উপস্থিতই ছিলো না।
পুরো ঘটনায় যেটা দেখা যায়-
১) অমিত সাহা যে মূল সূচনাকারী, এ কথাটা বুয়েটে অনেক ছাত্রই জানে। কিন্তু তারা এ কথাটা প্রকাশ্যে বলতে পারতেছে না। হাজার হাজার স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল করতে পারতেছে না, বলতে পারতেছে না- অমিত তুই অপরাধী।
২) পুলিশ বলতে পারতেছে না, অমিত সাহা অপরাধী। মামলার আসামীর তালিকায় তার নাম রাখা হয় নাই। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে বার বার জিজ্ঞেস করা হলেও সে অমিতের নামটা জানে না। এমনকি বলতেছে, ঐ রুমে তিনজন থাকতো (তাও অমিত ছিলো না)। পুলিশ অপরাধীকে অপরাধী বলতে পারতেছে না।
৩) ছাত্রলীগ আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, এটা ঠিক। কিন্তু কোন সদস্যের প্ররোচনায় তারা কাজটি করেছে, এ কথাটা তারা বলতে পারতেছে না। প্রয়োজনে নিজের ১১ জন সদস্যকে সে খুনি হিসেবে প্রচার করতেছে, কিন্তু অপরাধীর কথাটা তারা প্রকাশ্যে মুখে উচ্চারণ করতে পারতেছে না। বলতে পারতেছে না- ঐ ঘটনার সূচনাকারী অমিত সাহা।
৪) ভিসি থেকে শুরু করে প্রভোস্ট, সবাই নিজে গালি খাচ্ছে, কিন্তু ঘটনাটা কেন ঘটলো, কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে হলো- সেটা বলতে পারতেছে না।
এই ঘটনা শুধু এবার নয়-
প্রিয়া সাহা বা তার হ্যাজবেন্ডকে বাংলাদেশ অপরাধী বলতে পারে নাই।
হিন্দুদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত ইসরাইলের মোসাদের সাথে মিটিং করে বাংলাদেশের বারাংবার অরাজকতা করার ঘোষণা দিচ্ছে, করছেও। কিন্তু সরকার একবারও বলতে পারে নাই- ওরা অপরাধী।
রানা দাস গুপ্ত, গোবিন্দ প্রামণিকরা বার বার রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করে যাচ্ছে, বিদেশী শক্তিকে উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশের হামলার জন্য কিন্তু তারপরও তারা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে, অপরাধী হিসেবে তাদের ঘোষনা করা যায় নাই। এর কারণ ইমরান খান উগ্রহিন্দুত্ববাদকে যেভাবে প্রকাশ্যে উন্মোচন করেছে, সেই সাহস আমাদের কারো নেই। আমি ইমরান খানের ভাষনের সেই অংশটুকু দিচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ এটা মুখস্ত করুক এবং সেভাবে উগ্রহিন্দুত্ববাদকে তুই অপরাধী হিসেবে বলতে শিখুক, হয়ত এই চর্চাটা আগামীতে বাংলাদেশকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে।
ইমরান খান-
“আমি আরএসএস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে চাই। নরেন্দ্র মোদি আরএসএস এর আজীবন সদস্য। আরএসএস এমন একটি সংগঠন যেটি এডলফ হিটলার এবং মুসোলিনীর হিংস্র আদর্শে অনুপ্রাণিত। নাৎসীরা যে পদ্ধতিতে অন্য সকল জাতি হতে নিজেদের সেরা ভাবতো। একইভাবে আরএসএসও নিজেদের সবার চেয়ে সেরা মনে করে।
আরএসএস ভারত থেকে মুসলমানদের জাতিগত নিধনে বিশ্বাসী, এটা সবাই জানে। আরএসএস হিন্দুত্ববাদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। তারা মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। তারা বিশ্বাস করে মুসলিম শাসনের ফলে হিন্দুত্ববাদের সোনালী যুগের অবসান ঘটেছে। তারা সরাসরি মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। এটা সবাই জানে। গুগল করে আপনি জানতে পারবেন আরএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা গোলকওয়ার। এই ঘৃণার আদর্শ ১৯৪৮ সালে হত্যা করেছে ভারতের অবিসংবাদিত নেতা গান্ধীকে।
এই ঘৃণার আদর্শ আরএসএস এর গুন্ডাদেরকে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২ হাজার মুসলিমকে জবাই করতে প্রেরণা দিয়েছিল। মোদির নির্দেশে গেরুয়া পাঞ্জাবী পরে ৩ দিন ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল আরএসএস এর সন্ত্রাসীরা। তাদের তান্ডবে ২ হাজার মুসলিম নিহত হয় এবং গৃহহীন হয় দেড় লাখ মুসলিম। ”
কৃষ্ণ পদ রায়কে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এন.সি- ১২৭
October 9, 2019
মাত্র ১ মাস আগেই ইসকনের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ রায়কে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর সেই ক্ষত্রিয় রাজকেই পাঠানো হয় বুয়েটের আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সমাধান করতে।