ইসরাইলী পণ্য বর্জন ‘আমার’ দায়িত্ব; ‘আমাদের’ নয়!

ইসরাইলী পণ্য বর্জন ‘আমার’ দায়িত্ব; ‘আমাদের’ নয়!

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট -
Thu, Jul 24, 2014
‘আমাদের দায়িত্ব’ কথাটির মধ্যে নিজ দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, যা নেই- যদি বিষয়টিকে ‘আমার দায়িত্ব’ হিসেবে আমি বিশ্বাস করতে পারি। আর সম্প্রতি ইহুদীদের দ্বারা প্যালেস্টাইনে মুসলিম গণহত্যার নৃশংসতা বিশ্ববাসীর নিকট এভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর, ইসরাইলী পণ্য পরিহার বা পরিত্যাগের প্রতিজ্ঞাটা ‘আমার দায়িত্ব’ হিসেবে বিবেচনা না করার বিকল্প কি আর কিছু হতে পারে?
আজ সারা বিশ্বের মুসলমানরা নিজের অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য দ্রব্যাদির দ্বারা কিভাবে ইসরাইলী অর্থনীতি, তথা প্রকারান্তে ইহুদীদের মাথাপিছু আয়ের উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে সহায়তা করছি, আমরা তা নিজেরাই অনুধাবন করতে পারছি না। টুথপেস্ট–ব্রাশ থেকে শুরু করে সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু, সফট ড্রিংক্স, ফাস্টফুড আউটলেট – প্রতিটি ক্ষেত্রেই নামকরা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো কোন না কোনভাবে জড়িয়ে আছে ইসরাইলী মালিকানার সাথে; আমাদের অনেকেরই ধারণার অন্তরালে। প্রতিনিয়ত এসব পণ্যের ব্যবহার পরোক্ষভাবে ধনাত্মক প্রভাব ফেলছে ইহুদীদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে। আর এসব নিয়ে ভাববার এখনই যথার্থ সময়, ‘আমার বর্তমান দায়িত্ব’।
অস্ট্রেলিয়ার মত উন্নত বিশ্বে বসে বর্বর ইহুদীদের আচরণের প্রতি প্রতিবাদের এক ভাষা হতে পারে ‘আমার এই দায়িত্ব’। আমি, তুমি এবং এভাবে আমরা যদি একসাথে পুরো বিশ্বে এসব ইসরাইলী পণ্য না ব্যবহারের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই প্রয়াস ইসরাইলীদের বর্বরতার প্রতিবাদের বেশ জোড়াল এক আঘাত হিসেবে তা অচিরেই আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আর যদি তা নাও হয়, অন্তত আমার নিজের দায়িত্বটুকুকে আন্তরিকতার সাথে পালনে সচেষ্ট হওয়া উচিত প্রত্যেক সচেতন, নৃশংস গণহত্যাবিরোধী, বিবেকবান মানুষের।
এবার কিছুটা পণ্য নিরীক্ষণ বিষয়ক পরামর্শ, যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে ইসরাইলী পণ্য অথবা ইসরাইলকে সহায়তা প্রদানকারী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সনাক্ত করতে। ইন্টারনেটে এ সংক্রান্ত পরামর্শের পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। যেমন, উল্লেখ করা যেতে পারে ‘বারকোড’ দেখে ইসরাইলী পণ্য সনাক্তকরণের পন্থাটি। ইসরাইলী পণ্যের বারকোড এর প্রথম তিন ডিজিট থাকে ‘৭২৯’। উদাহরণস্বরূপ নুডুলসের কথা বলা যেতে পারে। যদি নুডুলসটির পিছনের বারকোডে ‘৭২৯৩৪৫৩৪৫৯০৭০’ লেখা থাকে, তবে এর প্রথম তিন ডিজিট নির্দেশ করবে যে, পণ্যটি ইসরাইলের।
সনাক্তকরণের এই পদ্ধতি ছাড়াও আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহু নামকরা পণ্য ব্যবহার করে থাকে যেগুলো ইসরাইলী অথবা ইসরাইলকে সরাসরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান। যেমনঃ টুথপেস্ট ও ব্রাশ এর মধ্যে রয়েছে পেপ্সডেন্ট, ক্লোজআপ, কোলগেট; সাবান ও ডিটারজেন্ট এর মধ্যে রয়েছে লাইফবয়লাইফবয় গোল্ডলাইফবয় প্লাসলাক্সডেটলডোভস্যাভলনজনসন বেবী সোপসার্ফ এক্সেলহুইলরেক্সোনারবিন ব্লুরিন; শ্যাম্পুর মধ্যে রয়েছে সানসিল্ক, হেডজ এন্ড সোলডার, লাক্স, ক্লিয়ার, ওয়াল ক্লিয়ার, ডোভ; কফি ও চকলেটের মধ্যে রয়েছে ডেইরি মিল্ক, ক্যাডবেরিস, নেসলে, হরলিক্স; কোল্ড ড্রিংক্স ও অন্যান্য পানীয়ের মধ্যে রয়েছে কোকাকোলা, স্প্রাইট, ফান্টা; ইলেক্ট্রনিক্স এর মধ্যে রয়েছে নকিয়া, ইন্টেল, ডেল, এইচপি, এলজি; ক্রীম ও অন্যান্য কসমেটিক্স এর মধ্যে রয়েছে ফেয়ার এন্ড লাভলী, পনডস, জন্সন, সিন্ডেরেলা; মশক নিধন অ্যারোসল এর মধ্যে মরটিন, এডমাস; কলম ও কালির মধ্যে রয়েছে মনটেক্স, লাক্সার, পার্কার এবং জুতা ও পাদুকার মধ্যে রয়েছে বাটা, এডিডাস, অ্যাকশন, নাইকি।
কাজেই, ‘আমার দায়িত্ব’ হিসেবে ইসরাইলী পণ্য বর্জনের প্রতিজ্ঞা করলে নিজ জীবনযাত্রার ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজাতে হবে নিঃসন্দেহে। আপাত দৃষ্টিতে কষ্টসাধ্য মনে হলেও এটা সহজ হতে পারে যদি এটা আপনার কল্পনায় আনতে পারেন যে, কোকাকোলায় একটি চুমুক দিলেন, অর্থাৎ আপনি একটি ফিলিস্তিনি শিশুর রক্ত দিয়ে তৃষ্ণা মেটালেন! একটি ইসরাইলী পণ্য খেলেন তো একজন ফিলিস্তিনি মুসলিম শিশুকে আপনি গুলি করে হত্যা করলেন! এবার পুরোটাই বিবেকবান মানুষ হিসেবে আপনার বিবেচ্য, - ইসরাইলী পণ্য বর্জন ‘আমার দায়িত্ব’, না কি ‘আমাদের দায়িত্ব’?

ইহুদী পণ্য বর্জন : একটি সুলক সন্ধান ( পণ্য ২- পেপসি)
ইহুদী পণ্য বর্জন : একটি সুলক সন্ধান ( পণ্য ২- পেপসি)
এলাকার এক নেতার বাসায় ইফতারের দাওয়াত ছিল। মুনাজাতে হুযুর ফিলিস্তিনের জন্য দোয়া করলেন। দোয়া শেষে জনৈক প্রবীণ আত্মীয়া বলে উঠলেন- জনসন, লরিয়েল, কোক পেপসি আপনারা কেউ খেয়েন না। এগুলো ইহুদীদের পণ্য!
আমি একটু অবাক হলাম, আর খুশী ও হলাম, ফিলিস্তিনের প্রতি তার সহানুভূতি দেখে।
অবাক হলাম কারন
এরা যে ফেইসবুক ব্যবহার করেন না, তা বুঝা যায়। বাকি মানুষরাও খুব বেশী জানেন না, কিন্তু তাও তার কথার প্রতি সমর্থন দিলেন। হয়তো, তাদের ঘরের তরুণরাই তাদের সতর্ক করেছে পণ্য বয়কট করতে। পণ্য বয়কট একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে সফল , সেদিন এই কথাটা খুব মনে হয়েছিলো।
পণ্য বয়কট আসলে কোন সমাধান নয়, কিংবা কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগে কয়েকজন মানুষ কয়েকটা পণ্য বর্জন করলেও কিছু যায় আসবেনা, এমন ধারনা অনেক মানুষের আছে। ধারনা করেই আমরা দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাই। পণ্যের অভাব বোধ করে আর কখনোই বিকপ্ল পণ্য উদ্ভাবনের চিন্তা ও আসে না।
আমরা আসলে পরে কি হবে তা নিয়েই বেশী মাথা ঘামাই, কিন্তু আমাদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা মাথা ব্যাথা করিনা।
ইহুদীরা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই বোনদের উপর যে নির্মম অত্যাচার করছে, শিশুদের হত্যা করছে, বোনদের ধর্ষণ করছে এসব যদি আমরা অন্যায় ভেবে থাকি, একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ করা ঈমানের নুন্ন্যতম দাবী। একজন মুসলিম কোন অন্যায় দেখলে সবার আগে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে, না পারলে মুখ দিয়ে না পারলে মন থেকে অন্যায়কে ঘৃণা করবে। হাদিসে বর্ণিত অন্যায়ের প্রতিবাদের এই সুন্দর সংজ্ঞায়ন ভুলে আমরা ব্যস্ত পণ্য বয়কটে কি লাভ এইসব নিয়ে ফতওয়া জারিতে!
পণ্য বয়কট সেই উপায় যার মাধ্যমে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে পারি। আগে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন, এরপর বিশ্ব মুসলিমের দ্বায়দায়িত্তের হিসাব নিয়েন।
পৃথিবীতে ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকই মুসলিম। আর পণ্য বয়কটের আহ্বান শুধু যে বাংলাদেশের মুসলিমদের প্রতি তা নয়, ইহুদী পণ্য বর্জনের ডাক সারা পৃথিবীর মুসলিম মুসলিম দেশে দেশে চলছে।
তবে পার্থক্য একটাই। কোন কোন দেশে সারা বছরই ইহুদী পণ্য বর্জন করা হয়, আর বাংলাদেশে সিজনাল। পণ্য বয়কট তখনই বেশী কার্যকর হবে যখন এটা দীর্ঘ মেয়াদী হবে, জীবন যাপনের দিনালিপির একটা অংশে পরিণত হবে।
অনেকে বলেন- ফেইসবুক টুইটার এসব ও ইহুদী পণ্য, মার্ক জুকার ইজারাইল ডিফেন্সের বন্ড কিনেছে।
কিন্তু, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওদের আবিস্কার বলেই বর্জন করতে হবে, এই ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ দ্বিমত। মুসলিমদের কোন মিডিয়া নেই। আর ফেইসবুক ইহুদীদের আবিষ্কার হলেও এটা তাদের জন্য গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া। কারন, এই জগতটা চাইলেও ওরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। যদি পারতোই তবে আরব বসন্ত কোনদিন পৃথিবীতে আসতো না, মিশর তিউনেসিয়ার স্বৈর শাসকদের পতন ও কখনো হতো না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো ইহুদীদের আবিষ্কার বলেই এর বেশী বেশী ব্যবহার আমাদের প্রয়োজন। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা যাকে বলে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, গালে মাখার ক্রিম আর কোলার সাথে এসব সামাজিক মাধ্যমের তুলনা দেওয়া মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়।
ইহুদী পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কোম্পানির নাম হোল-
১.পেপসি ও কোকাকোলা কোম্পানী, ফানটা, মিরিন্ডা, সেভেন আপ, স্প্রাইট
২. নেসলে পন্য
৩. ইউনিলিভার পণ্য
৪. বাটা সু কোম্পানী
৫. ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকস্ ফাস্টফুড/কফি শপ
৬- ডিসনি
৭- আইবিএম
৮- লরিয়েল প্যারিস
৯- কিম্বারলি
১০ – জনসন অ্যান্ড জনসন
১১-motorola
১২- সিমেন্স
১৩- নোকিয়া
১৪- সোডা স্ত্রিম
১৫- রেভলন
ধারাবাহিকভাবে এসব পণ্যের সাথে ইহুদীদের সংশ্লিষ্টতার উপর লেখা হবে। এবার আসুন আজকের পণ্য পেপসি প্রসঙ্গে।
পণ্য ২- পেপসি
PEPSI নামের মাঝেই যার লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য। যদিও পেপসির জন্ম ১৮৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বলে অনেকেই এটাকে ইহুদীদের পণ্য বলতে দ্বিধান্বিত হন, কিন্তু একটা জিনিষ আমরা ভুলেই যাই, এই ইজরাইলের জন্ম ফিলিস্তিনে হওয়ার অনেক আগেই আমেরিকায় একটা মিনি ইজরাইলের জন্ম হয়েছিলো, যার জনগনেরাই আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো। সুতরাং, আমেরিকায় জন্ম হওয়া কোন কোম্পানি ইজরাইলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করলে তাতে এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং এটাই স্বাভাবিক।
যা বলছিলাম, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক স্কলার থেকে শুরু করে বিভিন্ন মুসলিম দেশের গণমাধ্যম গুলোতে পেপসির পূর্ণরূপ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।
PEPSI= PAY EVERY PENNY SAVE ISRAIL
পেনি মানে ডলারের ক্ষুদ্রতম একক। আমাদের দেশে যেমন একটাকার কোন মূল্য নেই, অথচ একটাকা দিয়েই সমস্ত অর্থনৈতিক কাজের সূচনা ঠিক তেমনি ইজরাইল এই গুরুত্বপূর্ণ এক পেনি, অর্থাৎ অর্থনৈতিক যে কোন কাজের সুচনায় ব্যবহৃত এই ভাংতি এক টাকা প্রদান করতে বলছে।
বাংলাদেশে এই একটাকা এখন একটি চকলেট সমমূল্য দাম। অনেক ক্ষেত্রেই একটাকা আমরা দোকানদার বা রিকশাওয়ালা না দিতে পারলে দাবী ছেড়ে দেই। অর্থাৎ এই একটাকার ইউজ ভ্যালু অনেক কম, কিন্তু এই যে এই একটা টাকা আমাদের প্রয়োজন হচ্ছেনা, এটা ও ইহুদীরা চায় ওদের রক্ষায় ব্যবহার হোক। আর বাদবাকি আপনার আমার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর তাদের কি পরিমাণ আধিপত্য থাকতে পারে সেটা আল্লাহই জানেন।
আপনি এক পয়সা দিয়ে হলেও ইজরাইলকে রক্ষা করার কাজে জড়িত নেই তো?
পেপসি একটি নামকরা কোমল পানীয় কোম্পানি, যার বিস্তৃতি পৃথিবীর ২০০ দেশে। যা ২২ ধরনের পণ্য উৎপন্ন করে।
এর বার্ষিক আয় ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
এর অন্যতম পণ্য গুলো হোল- frito lay, Tropicana, quaker ইত্যাদি।
বাংলাদেশে পেপসির নতুন পণ্য মিনারেল ওয়াটার আকুয়াফিনাই নতুন যাত্রা করেছে, যা এখন দোকানে দোকানে মামের বদলে পাওয়া যাচ্ছে।
আপনি কি জানেন পেপসির লোগোর মানে?
পেপসির লোগোতে ব্লু সি মানে ইহুদীদের আনন্দ মাখা বিজয়, আর লাল বৃত্ত মানে মুসলিমদের রক্ত। নীল সাগরে মুসলিমের রক্ত দিয়ে সূর্যোদয়ের দৃশ্য। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে নেদারল্যান্ডের লেখক mr.Bendada তার একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদনে পেপসির লোগোর এই ব্যাখ্যা দেন। এছাড়াও তিনি বলেন-“ যদি তুমি pepsi কে উল্টা করো (ısdǝd এভাবে), এবং এর মাঝে একটি 'A' বসাও (ısdɐǝd) যার অর্থ হিব্রু ভাষায় দাড়ায়- ইজরায়েল ।”
১৯৮৭ সালে একটি বিখ্যাত বই প্রকাশিত হয় যার নাম- picture is not shown
এ দেখানো হয়, কীভাবে শূকরের অতিরিক্ত চর্বি প্রক্রিয়াজাত করে পেপসিতে মিশানো হয়। এরপর অবশ্য দেশে দেশে মুসলিমরা পেপসি বর্জনের ডাক দেয়।
২০০৬ সালে আল রিয়াদ পত্রিকায় ও পেপসিতে শুকরের চর্বি মিশ্রিত করার ব্যাপারে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
শুকরই একমাত্র প্রাণী যা ময়লা আবর্জনা, গোবর, মল মুত্র খায় যা এর শরীরে তৈরি করে প্রাণঘাতী জীবাণু ও অণুজীব। তাই , শুকর খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। পেপসি শুধু ফিলিস্তিনে গণহত্যার মদদ দাতাই নয়, বরং পেপসির সাথে মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত সেনসিটিভ ইস্যু হালাল হারাম ও যুক্ত।
গবেষণায় জানা গেছে- পেপসি বানানো হয় pig sausage দিয়ে যা ক্যানসারের ঝুকি বহন করে।
সেদিন এক আত্মীয় বলছিল- পেপসিতে এমন কিছু একটা আছে যা খেলে নেশার মতো লাগে, বা বারবার খেতে মন চায়। মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়।
এই আত্মীয় দিনে গড়ে ৪ লিটার পেপসি খান।
যে পদার্থের কারনে তার এমন বারবার খেতে মনে চায় সেই পদার্থটির নাম- aspartame.এটা এমন এক পদার্থ যা মানুষের মধ্যে নেশা তৈরি করে দেয়, ঐ পণ্য বারবার খেতে। এমনকি ধারনা করা হয়, সামান্য পরিমাণ এলকোহল ও মিশ্রিত করা হয় এসব পণ্যের সাথে।
যদিও উপযুক্ত প্রমাণ নেই, তাই এসব পণ্যকে মাশকুক বা সন্দেহযুক্ত পণ্য বলা হয়।
২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল হামাস সংসদ সদস্য আল আকসা টি ভি কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালেম সালামাহ বলেন-
, “There are companies established by the colonialists and occupiers - large companies with branches all over the world, like Pepsi,Pepsi Cola. This is a well-known company. Pepsi is an acronym. P-E-P-S-I - Pay Every Pence to Save Israel. Pay every pence - pence is one-hundredth of a dollar – to save Israel. Pay every pence to save Israel…”
এই তো কিছুদিন আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও আল নাস টিভিতে মিশরের ধর্মীয় নেতা হাজেম আবু ইসমাইল পেপসি বর্জনের ডাক দিলেন ।তিনি বলেন- " pepsi means- Donate the small change you don't need, but give it to the right cause. If you collect small change, you can buy this drink." They took the first letter of each word - "Pay Every Penny Saving Israel" - and they formed the word "Pepsi."
জানুয়ারি ১৮ ২০০৯ বিবিসি নিউজের বরাতে জানা যায়- KFC, Pepsi , Cocacola, Starbucks et Macdonalds are donating their next 2 weeks of earned revenue to Israel. ^^^ source BBC News^^^^
আপনি যখন পেপসির ইহুদী পণ্য হওয়ার ব্যাপারে গুগলে সার্চ দিবেন, আপনি তথ্য দিয়ে সন্দেহে পড়ে যাবেন। কারন, পেপসি নিয়ে বিতর্ক সাড়া পৃথিবীতে। আর ইহুদী খৃস্টানদের দোসররা পেপসি ইহুদী পণ্য নয় , এই প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত।
মূলত, কোকাকোলার মুখোশ যখন মুসলিম দেশগুলোতে উন্মোচিত হয়ে যায়, তখন আরব দেশগুলোর কোমল পানীয়ের বাজারে রাজত্ব করতে আমেরিকান এই কোম্পানির আবির্ভাব হয়। যার মালিক একজন ইহুদী গুথ ভি লোফ!
কিন্তু ব্যবসার শুরুতেই পেপসি ইজরাইলে ব্যবসা করতে অস্বীকার জানিয়েছিল, যা একধরনের অভিনয় ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কারন, পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে পেপসি ইসরাইলে ব্যবসা শুরু করে, এবং তাদের ইহুদী প্রিতির নানা প্রমাণ দেয়।
পেপসিকোর ইসরাইল প্রীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ ইসরাইলের সবচেয়ে বড় ফুড কোম্পানি strauss এর সাথে পার্টনারশিপ।
স্ট্রস কোম্পানির সাথে বিগত ২০ বছর ধরে পেপসির পার্টনারশিপ অত্যন্ত মজবুত। যা স্ট্রস কোম্পানির ওয়েব সাইটে স্পষ্ট লেখা আছে। লক্ষ্য করে দেখুন, পেপসি ইসরাইলে এসেছে ১৯৯২ সালে, অথচ, ইসরাইলের কোম্পানি স্ট্রস এর সাথে এর বাণিজ্যিক চুক্তি ১৯৯০ সালে শুরু হয়। সুতরাং, বুঝাই যায় ইসরাইলকে বর্জনের যেই অভিনয় পেপসি করেছিলো, সেটা এক সুনিপুণ অভিনয়।
American multinational food and beverage corporation এই ২ কোম্পানিকেই সাবসিডি দিচ্ছে। পেপসি স্ট্রস ইসরাইলে নোনতা স্ন্যাক্সস frito lay উৎপাদন করছে, এতে ২ কোম্পানিরই শেয়ার আছে ৫০ ভাগ করে। শুধু তাই নয়, স্ট্রস কোম্পানির সাথে ইজরাইলের অন্যতম পণ্য sabra hummus ও যুক্ত।
পেপসি আর স্ট্রস কোম্পানি অনেকগুলো বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ। স্ট্রস কোম্পানির অনেক পণ্য বিক্রিতে পেপসিকে ঢালাও লাইসেন্স দেওয়া আছে।
২০০৮ সালে আরেক ইজ্রাইলি ব্র্যান্ড সাব্রা হামাস এর সাথে পেপসি ও স্ট্রস ৫০ ভাগ শেয়ারে রেফ্রিজারেট খাবারের উন্নয়ন ও উৎপাদনে পার্টনার হয়।
ইজরাইলে এমন কোন শিশু নেই যারা স্ট্রস কোম্পানির দুগ্ধজাত পণ্য DANONE আর YO TVATAর নাম জানে না! স্ট্রস কোম্পানি তাদের ওয়েব সাইটে ইসরাইলের প্রতি তাদের সামাজিক দায়িত্ব এবং সমর্থনের ব্যাপারে প্রকাশ্য লিখে রেখেছে।
তারা অধিকৃত প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে। পেপসির সাথে ১৯৯২ সালে chetoos and ruffles প্রক্রিয়াজাত করনের ব্যাপারে তাদের চুক্তি। ১৯৯২ সালে ইসরাইলের sderot এ কোম্পানি স্থাপন করে। ১৯৯৮ সালে frito lay র পার্টনার, ২০০৮ এ সাবরা হামাসের সাথে পার্টনার হয় পেপসি।
অথচ, আপনার আমার আই ওয়াশের জন্য বিভিন্ন যায়গায় লেখা আছে- পেপসি আমেরিকান পণ্য, ইসরাইলে নাকি বিজনেসই করতে চায়নি!
যারা ইসরাইলে বিজনেসই করতে চায়নি, তারা ইসরাইলে ২য় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির সাথে ৫০ ভাগ শেয়ারে কি এমনি এমনি চুক্তিবদ্ধ হয়?
নাকি ইহুদীদের সাথে অতি পিরীতি এর পিছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে?
৫০ ভাগ শেয়ারে থাকা পেপসি স্ট্রস কোম্পানির সকল কাজের অংশীদার। সেই হিসেবে স্ট্রস কোম্পানি বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে ইসরাইলের গোলানি প্লাটুনকে লালন পালন করছে, যারা বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনে বর্বর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত। গোলানি প্লাটুন ইজরাইলের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ, সবচেয়ে দেশপ্রেমিক সৈনিক প্লাটুন হিসেবে পরিচিত। যারা ফিলিস্তিনে হওয়া ইজরাইলের যে কোন অভিযানে হিংস্রতার পরিচয় দিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে।

সুতরাং, ইহুদী ও তাদের দোসরদের পণ্য বর্জন করুন। বর্জন করুন পেপসি ও, যা দিয়ে আপনার ভাইয়ের বুক রক্তাক্ত করার জন্য বুলেট কেনা হয়।
প্রিয়া সাহার ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু গায়েব হওয়া সংখ্যার রহস্যটা কি ?
প্রিয়া সাহার ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু গায়েব হওয়া সংখ্যার রহস্যটা কি ?
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ...কিছুদিন আগে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে গিয়ে বলেছিলো-
“৩৭ মিলিয়ন হিন্দু বাংলাদেশ থেকে গায়েব হয়ে গেছে”।
এটা ঠিক, অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে অনেক হিন্দু জনগোষ্ঠী ভারতে মাইগ্রেট করেছে।
কিন্তু যারা এই তত্ত্বগুলো ছড়ায় তারাও প্রমাণ করতে পারেনি, হিন্দুদের চলে যাওয়ার এই সংখ্যাটা ৩৭ মিলিয়ন। ১৯৭১ তো নয়, ১৯৪৭ এমনকি ১৯০৫ এর হিসেব কষলেও হিন্দুদের মাইগ্রেট হয়ে যাওয়ার সংখ্যাটা ৩৭ মিলিয়ন মিলানো সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে।
কথা হলো- প্রিয়া সাহা এই ‘৩৭ মিলিয়ন’ সংখ্যাটা পেলো কোথায় ?
সম্প্রতি ভারতের সর্বশেষ আদমশুমারি (২০১১) এর অভিবাসন-সংক্রান্ত ডেটা হঠাৎ করে প্রকাশ হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন- দীর্ঘ ৮ বছর পর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ডাকা প্রকাশিত হলো। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর যাবত বিজেপির রাজনীতিবিদরা মুখে মুখে রটিয়ে দিয়েছিলো ভারতে ২ কোটি বাংলাদেশী আছে। কিন্তু ২ কোটির সঠিক সংখ্যটা পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু আদমশুমারি (২০১১) এর অভিবাসন-সংক্রান্ত ডেটা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ভারতে বাংলাদেশে জন্মানো ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যাটা ৩৭ লক্ষ, মোটেও ২ কোটি নয়। (https://bit.ly/2mD8pOJ)
পাঠক ! ভারতে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যাটা লক্ষ্য করেছেন ?
৩৭ লক্ষ।
প্রিয়া সাহার দাবীকৃত সংখ্যাটার কথা মনে আছে ?
৩৭ মিলিয়ন।
প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে যে ৩৭ শব্দটা উচ্চারণ করেছে, এই সংখ্যাটাকে আমার কাছে হাওয়ায় ভেসে আসা শব্দ মনে হয় না, অবশ্যই তার একটা সূত্র আছে। তবে সমস্যা হচ্ছে ‘মিলিয়ন’ না ‘লক্ষ’ তা নিয়ে।
উল্লেখ্য- এসব ক্ষেত্রে লক্ষ (১০০ হাজার) যে মিলিয়ন (১০ লক্ষ) হয়ে যায়, তার বহু নাজির কিন্তু আছে।
হিটলার কত সংখ্যক ইহুদী মেরেছিলো ?
অনেকেই বলে এটা ছিলো ৬০ হাজার অথবা ৬ লক্ষ, কিন্তু প্রচার পেয়েছিলো ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লক্ষ।
একইভাবে ৩ লক্ষ নাকি ৩০ লক্ষ (৩ মিলিয়ন), এমন সংখ্যা নিয়ে আমাদের এলাকাতেও একটা তর্ক আছে।
প্রিয়া সাহার ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যাটা যদি ভারতের আদমশুমারি (২০১১) এর বাংলাদেশী অভিবাসীর ৩৭ লক্ষ থেকে আগত হয়, তবে আরো কয়েকটি জিনিস প্রমাণ হয়-
১) ভারতে বাংলাদেশ থেকে যারা যায়, সব হিন্দু জনগোষ্ঠী, মুসলিম জনগোষ্ঠী কেউ যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠী ভারতে মাইগ্রেট করছে যে তথ্য রটানো হয়, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
২) বাংলাদেশের অধিকাংশ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে টাকা জমায় ভারতে সম্পদ গড়ে। ভারতে পার্মানেন্ট নিবাস বানায়। কারণ তারা বাংলাদেশকে সেকেন্ড হোম আর ভারতকে ফার্ষ্ট হোম ভাবে। কিন্তু ভারতকে তারা আপন ভাবলেও, ভারত কিন্তু তাদের আপন ভাবে না। তাদেরকে অভিবাসী হিসেবেই কাউন্ট করে। এবং প্রয়োজন বোধে একটা সময় তাদের তাড়িয়েও দিতে পারে।
৩) ৩৭ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে ভারতে গিয়েছে নাকি স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়ে আবাস গড়েছে ? যেহেতু তারা বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে (রোহিঙ্গারা যেমন করেছে) কোন স্টেটমেন্ট দেয়নি, সেহেতু বাংলাদেশ থেকে নির্যাতিত হয়ে তারা এসেছে এমন কোন যুক্তি প্রমাণিত হয় না। বরং ভারতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই থাকতে চায় এবং সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে মিশে যেতে চায় সেটা প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়ে ভারতে অভিবাসী হয়, এটাও প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
শুনলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে
পটুয়াখালী শহরে রাস্তায় রাতে ...শুনলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে। যদি সত্যিই সেটা হয়, তবে আমি বলবো, এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ-
১. আমার জানা মতে, ২৮ বছর ধরে ডাকসুতে নির্বাচন হয়নি,
ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য যে একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার, এটাও হয়ত অনেকে ভুলে গেছে।
এ অবস্থায় ২৮ বছর পর যদি ডাকসু’তে নির্বাচিত কমিটি হয়, তবে সেই কমিটির প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে,
ছাত্র সমাজের মধ্যে ডাকসু’র প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করানো।
কিন্তু সেটা না করে তারা যদি শুরুতেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর দিকে হাত দেয়,
তবে ডাকসু’র আর গণতন্ত্র চর্চার যায়গা হলো না, স্বৈরতন্ত্র চর্চার যায়গায় পরিণত হলো।
এই সিদ্ধান্তের পর ডাকসু’র অবস্থান সাধারণ ছাত্রদের নিকট নষ্ট হবে হবে। ডাকসু’তে কোন সিদ্ধান্ত নিলেই সকল ছাত্র সেটা মেনে নিতে চাইবে না। কারণ তারা বলবে- “দূর ! যে সংসদে আমাদের চিন্তাধারার প্রতিফলন হয় না, সেটার সিদ্ধান্ত আবার মেনে নিতে হবে কেন ?”।
উদহারণ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাথে তুলনা করা যায়। প্রত্যেকটি দেশের জনগণের মাঝে জাতীয় সংসদের অনেক গুরুত্ব থাকে। সেখানে কি আলোচনা হয়, কি সিদ্ধান্ত হয়, সেটার জন্য সাধারণ জনতা উৎসুক হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সে ধরনের কোন গুরুত্ব-ই রাখে না। এর কারণ এই সংসদে সাধারণ জনতা চিন্তাধারার কোন প্রতিফলন হয় না, একটি নির্দ্দিষ্ট মহলের চিন্তাধারার প্রতিফলন হয়। ঠিক একইভাবে ডাকসু নামক ছাত্র সংসদে সাধারণ ছাত্রদের চিন্তাধারার প্রতিফলন থাকতে হবে, তাদের চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে কিছু করা মোটেও ঠিক হবে না। আমি বলবো- যারা চাইছে এতদিন পর যে পরিবেশটা তৈরী হয়েছে সেটা নষ্ট হোক, শুধু তারাই এ ধরনের মাথামোটা সিদ্ধান্তকে প্রমোট করতে পারে।
২. অনেকে হয়ত ভাবতে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্ষতি হয়েছে।
আমি বলবো- এ কথাটা ভুল। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর কোন ক্ষতি হয় নি, তারা যেমন ছিলো তেমনই আছে। ক্ষতিটা হলো ডাকসু’র নিজের। তারা সব ছাত্রকে একটা সংসদে আনতে ব্যর্থ হলো। তারা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা টেনে আনলো।
বলাবাহুল্য বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বয়স ৪০ বছরের উপরে। এখন পর্যন্ত কোন ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দল এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি, এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক দল নিজেদের প্রচার করতে পারলেই তারা ক্যাম্পাস দখল করে ফেলবে, এটা একদম অদূরদর্শী চিন্তাধারা। বরং সেই দলগুলোকে নিজের মধ্যে করে নিতে পারলে বরং ডাকসু স্বয়ং সম্পূর্ণতা আরো প্রমাণিত হতো।
সত্যিই বলতে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ, এটা তো আজকে থেকে শুনতেছি না। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা বন্ধ হয়েছে ? প্রত্যেক হলেই ধর্মনির্ভর সংগঠন আছে। হয়ত তারা প্রকাশ্যে বলতে পারতেছে না। মানে আপনি তাদেরকে সংসদে যায়গা দিচ্ছেন না, তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করতেছে। মানে এক সংসদে তাদের সুযোগ না থাকায়, শত শত আন্ডারগ্রাউন্ড সংসদ বসতেছে। অথচ এই সুযোগটা থাকলে, ঐ শত শত আন্ডারগ্রাউন্ড সংসদ মূলধারার চিন্তাধারার সাথে সংযুক্ত হতো। হয়ত সেই সংসদে তাদের প্রতিনিধি থাকতেও পারতো, অথবা নাও পারতো। কিন্তু তারা চিন্তা করতো ডাকসু’র চিন্তাধারাকে নিয়ে। এখানে ডাকসু’কে নিজেকে সফল করার সুযোগ ছিলো।
৩. একটা কথা না বললেই না- খোদ বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি চালু আছে। যদি বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার দরকার হতো, তবে জাতীয়ভাবেই সেটা হতো। কিন্তু সেটা করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও কিন্তু বাংলাদেশের মানচিত্রের বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান নয়, বাংলাদশের ভেতরেরই একটা প্রতিষ্ঠান। সেটা মনে রেখেই ডাকসু নেতাদের চিন্তা করা উচিত।
৪. কিছু ছাত্রকে দেখলাম বোকার মত ৭২’র সংবিধানের কথা বলছে। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত, এখন সময়টা ৭২ নয়, ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়ে ২০১৯ হয়ে গেছে। সংবিধান নিজেই ১৭ বার সংশোধনে গিয়েছে। যে বঙ্গবন্ধু নিজেই সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধুই একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করেছেন। তার কন্যাও বহুবার সংশোধন করেছেন। তারা নিজেও কখন বলেননি ৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা। কারণ তারা সবাই জানে- সময়ের সাথে সবকিছু পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় মানুষের চিন্তাধারা, মানসিকতা, মানুষের ক্যাপাসিটি। যারা সময়ের পরিবর্তন হলেও জনসাধারণের চিন্তাধারায় সীমাবদ্ধতা আনতে চায়, তারা বোকা। এরা এক সময় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপরদিকে বুদ্ধিমানরা সময়ের সাথে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও জনসাধারণের চিন্তাধারার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ায় নেয় এবং নিজেদের কার্যপরিধি ও সিস্টেমের আপডেট করে নেয়। ভুলে গেলে চলবে না- সময়টা ডিজিটাল, মানুষের হাতে এন্ড্রয়েড মোবাইল, সাথে ফোরজি কানেকশন। আপনি চাইলেও জোর করে কারো চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে পারবেন না। বরং বুদ্ধিমত্তা হলো- অধিকতর সুন্দর চিন্তা দিয়ে সকলের চিন্তাধারাগুলো জয় করে নেয়া।
সর্বোপরি এটা স্মরণ রাখতে হবে-
সময়টা এগিয়ে যাওয়ার, পিছিয়ে পড়ার নয়।
ছাত্রদের শক্তি ব্রেনের নিউরনে, কব্জির জোরে নয়।
কাজটা করতে হবে সবাইকে নিয়ে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়।
রাম-বাম দুই ভাই মুসলমানের রক্ষা নাই
রাম-বাম দুই ভাই
মুসলমানের রক্ষা নাই
মুসলমানদের এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় কলকাতার জমিদার রবীন্দ্রনাথ বিরোধীতা করে বলেছিলো- “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয় ? তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা। চাষার ছেলেরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে তাহলে ক্ষেতে ক্ষামারে কাজ করবে কারা?”
সেই রবীন্দ্রনাথের বংশধরেরা আজও সক্রিয়। কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নামক সংগঠনের হাত ধরে কেউ হয়ত গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পেরেছে। যায়গায় মত গিয়েই শুরু করেছে লাল সূতার কারসাজি। বিদ্বেষে নাকের ছিদ্রদয় ফুলায় বলতেছে-
“ মুসলমানদের আবার ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কিসের ?
তোরা থাকবি চিপা-চাপায় অপরাধীর মত,
প্রকাশ্যে সভ্য সমাজে তোরা অস্তিত্ব প্রকাশ করতে পারবি না।
অস্তিত্ব জানান দিলেই গণপিটুনি খাবি,
সাধারণ জনতা তোদের দেখলে দূর দূর করবে,
তোদের দেখলে জলাতঙ্ক রোগীর মত ভয় পাবে,
তোরা এই সমাজে থেকেও হবি সমাজচ্যূত।
বার্মীজ সরকার যেমন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব আর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো,
মোদি সরকার যেমন ভারতের আসামে এনআরসি করে অনেকে অধিকার কেড়ে নিয়েছে,
ঠিক তেমনি ভার্সিটিতেও তোদের অধিকার আমরা কেড়ে নিবো ।
তোরা তোদের ন্যায্য চাওয়ার পাওয়ার কথা বলতে পারবি না,
কারণ তোরা তো নিষিদ্ধ যবন, ম্লেচ্ছ অস্পৃশ্য
তোদের আবার অধিকার কিসের ?”
ছবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাম সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস আর বাম
জিএস সাদ্দাম হোসেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্ম ভিত্তিক সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে তারাই কলকাঠি নাড়ে।
ইহা কি ধর্ম ? নাকি অন্য ধর্ম দমনের কৌশল ??
ব্যাটারী, বিদ্যুত ছাড়া চলে তার বোতল ...ইহা কি ধর্ম ? নাকি অন্য ধর্ম দমনের কৌশল ??
ভারতের গরুর মাংশের জন্য মুসলমান মারার কথা সবার জানা। “কোন মুসলমানের ঘরে গরুর মাংশ আছে”, এতটুকু গুজব শুনলে সারা গ্রামের হিন্দুরা গিয়ে ঐ মুসলমানদের বাড়িতে হামলা করে। টেনে হিচড়ে পিটিয়ে হত্যা করে মুসলমানকে। এরকম শুধু একটা না, হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে ভারতে। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয়, যে ভারতে গরুর মাংশের জন্য মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সে ভারতই আবার গরুর মাংশ রফতানিতে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী হয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির অনেক নেতা আবার এসব গরুর মাংশ রফতানিকারক কোম্পানির মালিক। তারমানে বিষয়টি দাড়াচ্ছে- হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ গরুর মাংশ, এটা হিন্দুরা না মানলেও সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা অজুহাত করে মুসলমান দমন করতে হবে।
এবার আসুন বাংলাদেশের দিকে তাকাই-
সম্প্রতি পুলিশ একটি রহস্যজনক মামলার জট খুলে অবাক হয়ে গেছে। মামলাটা হলো বরিশালের একটি মন্দিরে ভাংচুর ও চুরির ঘটনা। ঘটনাটিকে ঘটে ৫ মাস আগে। হঠাৎ করে বরিশালের অগৈলঝাড়ায় একটি মন্দিরে বড় ধরনের চুরি হয় এবং মন্দিরের মূর্তিগুলো কে বা কারা যেন ভাংচুর করে। এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি পরাণ চন্দ্র শীল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। কিন্তু পুলিশ যেন কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছিলো না। অবশেষে পুলিশ ঐ মামলার বাদী অর্থাৎ মন্দিরের সভাপতিকেই গ্রেফতার করে, সাথে গ্রেফতার করে এক পূজারী মহিলাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেসবাদ করলে বের হয়, তারাই মন্দির ভাংচুর ও চুরি করে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছিলো। (https://bit.ly/2nTrVr0)
এদিকে গত ২২শে সেপ্টেম্বর, একদল মুসলমান বাংলাদেশের গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা বলছেন, আব্দুল আওয়াল নামক এক মুসলিম ব্যক্তির সাথে একটি জমি নিয়ে এক হিন্দু ব্যক্তির দ্বন্দ্ব ছিলো। এরপর দ্বন্দ্বটা মামলা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত ঐ মুসলমানের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু রায় দেয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ করে ঐ হিন্দু ব্যক্তির বাড়ির মন্দিরে কে বা কারা ভাংচুর করে। তখন ঐ হিন্দু ব্যক্তি আব্দুল আওয়াল ও তার পবিবারের নামে মামলা দিয়ে তাদের জেলে ভরে। ঐ মুসলমানরা বলছে, তারা তো আদালতের মাধ্যমেই তাদের জমির অধিকার ফিরে পেয়েছে, তাহলে কেন তারা ঐ মন্দির ভাঙ্গতে যাবে ? তাদের দাবী- হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের মন্দির ভেঙ্গে মুসলমানদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরেছে। এখন জামিনে মুক্তি পেলেও হয়রানী করা হচ্ছে তাদের। তারা হিন্দুদের এ নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। (https://bit.ly/2nTjBYt)
শুধু গাইবান্ধা আর বরিশালে নয়-
এ বছর টাঙ্গাইল (https://bit.ly/2owL6Hp) ও ফরিদপুরেও (https://bit.ly/2n7rkSC) একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মানে হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের মন্দিরে ভাংচুর ও হামলা চালায়।
এদিকে, গাইবান্ধায় মন্দিরে এই কথিত হামলাসহ আরো কয়েকটি ঘটনাকে পূজি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সম্মেলন করেছে, তারা বলছে- পূজা আসলেই তাদের উপর মুসলমানদের হামলা বেড়ে যায়, সরকার নাকি তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। (https://bit.ly/2mkaBLv)
এদিকে, গাইবান্ধার মন্দিরে হামলার খবর ভারতীয় মিডিয়াতেও প্রচারিত করে দাবী করা হয়, বাংলাদেশের হিন্দু অসহায় অবস্থায় আছে।
(https://bit.ly/2omgTuJ)
তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছর কিছুটা হলেও মুখ খুলে বলেছে- মন্দিরে যে হামলার ঘটনা ঘটে তার পেছনে হিন্দুদের নিজেদের কমিটির দ্বন্দ্ব ও জমি নিয়ে বিরোধ থাকে। (https://bit.ly/2mnTcS8)
ত্রাণের টাকা পূজায় কেন ?
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়, এর মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা, শীলাবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন উল্লেখযোগ্য। এসব দুর্যোগে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কতজনকে ত্রাণ দিতে পেরেছে সরকার?
কথা হলো, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে তো একটা ত্রাণ তহবিল আছে।
যেটা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল নামে পরিচিত।
এই ত্রাণ তহবিলে অনেক ধনী মানুষ ও প্রাইভেট কোম্পানি টাকা দিয়ে সাহায্য করে।
এমনকি মুসলমানদের যাকাতের টাকা পর্যন্ত দেয়া হয়, এই ত্রাণ তহবিলে।
কথা হলো- এই টাকা তো দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের পাওয়ার কথা।
কিন্তু এই টাকা থেকে প্রতি বছর দূর্গা পূজা আসলে মণ্ডপ প্রতি ৫০০ কেজি করে চালের সমপরিমাণ অর্থ দেয়া হয়।
এভাবে ১টি-২টি নয়, ৩১ হাজার পূজা মণ্ডপে দূর্যোগগ্রস্তু মানুষের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে হিন্দুদের হাতে।
(https://bit.ly/2n7t0vo)
উল্লেখ্য, ৩১ হাজার পূজা মণ্ডপে অনুদান দিলেও ঢাকা শহরে মাত্র ২৫টা গরুর হাটে সরকার ভর্তুকি দিতে চায় না। উল্টো সরকার গরুর হাটগুলোতে উচ্চ ট্যাক্স বসিয়ে রেখেছে, এতে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় উৎসব কোরবানী দিতে গেলেও সরকারকে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স (হাসিল) দিয়ে কোরবানীর পশু কিনতে হয়।
আসলেই কি হিন্দুদের ৩১ হাজার মণ্ডপ প্রয়োজন, নাকি যত মণ্ডপ তত অনুদানের টাকা লুটপাট ?
১. খবর- “ভুয়া মন্দির দেখিয়ে দূর্গা পূজায় বরাদ্দ ২ হাজার কেজি চাল আত্মসাৎ”
(https://bit.ly/2nQmrxo)
২. কক্সবাজারে ভুয়া মণ্ডপ দেখিয়ে চাল চাওয়া ধৃত
(https://bit.ly/2mXZbNU)
কিন্তু মণ্ডপের সংখ্যা কমাতে বললে, তখন কি হবে ?
উত্তর- ভারতীয় দূতাবাসে বিচার হবে।
এ বছর নারায়নগঞ্জের একটি গ্রামে ৪টি মণ্ডপের দাবী করে হিন্দুরা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান সেখানে ১টি মণ্ডপের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এবং সেটাই করতে বলনে। তখন হিন্দুরা এক হয়ে ঐ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে বিচার দেয় এবং পত্রিকায় তাকে সন্ত্রাসী সাজিয়ে রিপোর্ট করে। (https://bit.ly/2wH8zEc)
কথা হলো-
অনেকে বলে হিন্দুদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান করতে হবে।
কিন্তু হিন্দুরা যদি মুসলমানদের প্রতি এমন শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতা ধারণ করে, তবে কি করে একত্রে সহ অবস্থান করা যায় বলুন ?
তারাই মন্দির ভেঙ্গে মুসলমানদের দোষ দিচ্ছে, আবার ভারতে গিয়ে বিচার দিয়ে আসছে।
তারাই মন্দিরের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করছে, সঠিক মণ্ডপ করতে বললে, ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে বিচার দিয়ে আসছে।
অবস্থা এখন এমন হয়েছে- সরকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হিন্দুদেরকেই নিরাপত্তার নামে পাহাড়া দিচ্ছে,
যেন তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে সরকারের দোষ না দিতে পারে।
এ বছর সরকারীভাবে ৩ লক্ষ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে ঠিক করা হয়েছে, যারা হিন্দুদের পূজার নিরাপত্তা দিবে।
কথা হলো- ৩ লক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ১ দিনের খরচ কত শ’ কোটি টাকা ?
এই টাকা তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ট্যাক্সের টাকা থেকেই আসে।
সেই টাকা শোধ করতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনগণের জীবনযাত্রার খরচ।
কিন্তু সেই ট্যাক্সের টাকা খরচ করে যদি হিন্দুদেরদের নিজেদের উপর ভুয়া হামলা ঠেকাতে, তবে সেই হিন্দুদের প্রতি অন্যান্যরা আস্থা রাখবে কিভাবে ? আপনারা যাই বলেন, এ ধরনের আচরণ কখন ‘মিলেমিশে থাকার ইচ্ছা’ থেকে আসতে পারে না।
বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা
ভারতীয় চূক্তির বিরোধীতা করায় স্ট্যাটাস দেয়া বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যাকারীদের একজন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। অমিত সাহার লাইক লিস্ট ঘেটে দেখা যায় তার অধিকাংশ লাইক ইসকন সংক্রান্ত।
বিশ্বাস না হয় আপনারাও দেখতে পারেন- https://bit.ly/2VgCXDs
বাংলাট্রিবিউন এক ছাত্রলীগ নেতার রেফারেন্স দিয়ে বলতেছে-
ডিএনসিসির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ...
বাংলাট্রিবিউন এক ছাত্রলীগ নেতার রেফারেন্স দিয়ে বলতেছে-
আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যায় নেতৃত্ব দিছে বুয়েট ছাত্রলীগের হিন্দু সদস্য অমিত সাহা। (https://bit.ly/2Mi5eW5)
কিন্তু পুলিশ শুধু ধরছে পিটানোতে তাদের সহযোগী ছাত্রলীগের মুস্তাকিম ফুয়াদ আর মেহেদী হাসান রাসেলকে।
হিসেবটা মিলাইতে পারলাম না।
দূর্গা কোন অসুরকে হত্যা করছে ?
দূর্গা কোন অসুরকে হত্যা করছে ?
দুর্গা পূজার মূল থিম হলো দূর্গা দেবী হত্যা করবে অসুরকে।
২ বছর আগে ভারতে এক পূজা মণ্ডপে সেটাই দেখানো হয় প্রায় ১১ তলা সমান উচু মূর্তি দিয়ে।
দূর্গা দেবী ঠিক আছে, কিন্তু অসুরের মাথায় দেয়া হয় টুপি আর গালে দেয়া হয় দাড়ি।
অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় দূর্গা ও অসুরের আসল প্রতিকৃতি যেন ফুটে উঠে সেই দূর্গা ও অসুরের মাঝে।