ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে। এন.সি- ১৫১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে।
Image result for বাতি
শুনলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হয়েছে। যদি সত্যিই সেটা হয়, তবে আমি বলবো, এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ-
১. আমার জানা মতে, ২৮ বছর ধরে ডাকসুতে নির্বাচন হয়নি,
ছাত্রদের অধিকার আদায়ের জন্য যে একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার, এটাও হয়ত অনেকে ভুলে গেছে।
এ অবস্থায় ২৮ বছর পর যদি ডাকসু’তে নির্বাচিত কমিটি হয়, তবে সেই কমিটির প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে,
ছাত্র সমাজের মধ্যে ডাকসু’র প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করানো।
কিন্তু সেটা না করে তারা যদি শুরুতেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর দিকে হাত দেয়,
তবে ডাকসু’র আর গণতন্ত্র চর্চার যায়গা হলো না, স্বৈরতন্ত্র চর্চার যায়গায় পরিণত হলো।
এই সিদ্ধান্তের পর ডাকসু’র অবস্থান সাধারণ ছাত্রদের নিকট নষ্ট হবে হবে। ডাকসু’তে কোন সিদ্ধান্ত নিলেই সকল ছাত্র সেটা মেনে নিতে চাইবে না। কারণ তারা বলবে- “দূর ! যে সংসদে আমাদের চিন্তাধারার প্রতিফলন হয় না, সেটার সিদ্ধান্ত আবার মেনে নিতে হবে কেন ?”।
উদহারণ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাথে তুলনা করা যায়। প্রত্যেকটি দেশের জনগণের মাঝে জাতীয় সংসদের অনেক গুরুত্ব থাকে। সেখানে কি আলোচনা হয়, কি সিদ্ধান্ত হয়, সেটার জন্য সাধারণ জনতা উৎসুক হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সে ধরনের কোন গুরুত্ব-ই রাখে না। এর কারণ এই সংসদে সাধারণ জনতা চিন্তাধারার কোন প্রতিফলন হয় না, একটি নির্দ্দিষ্ট মহলের চিন্তাধারার প্রতিফলন হয়। ঠিক একইভাবে ডাকসু নামক ছাত্র সংসদে সাধারণ ছাত্রদের চিন্তাধারার প্রতিফলন থাকতে হবে, তাদের চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে কিছু করা মোটেও ঠিক হবে না। আমি বলবো- যারা চাইছে এতদিন পর যে পরিবেশটা তৈরী হয়েছে সেটা নষ্ট হোক, শুধু তারাই এ ধরনের মাথামোটা সিদ্ধান্তকে প্রমোট করতে পারে।
২. অনেকে হয়ত ভাবতে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর ক্ষতি হয়েছে।
আমি বলবো- এ কথাটা ভুল। ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠনগুলোর কোন ক্ষতি হয় নি, তারা যেমন ছিলো তেমনই আছে। ক্ষতিটা হলো ডাকসু’র নিজের। তারা সব ছাত্রকে একটা সংসদে আনতে ব্যর্থ হলো। তারা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা টেনে আনলো।
বলাবাহুল্য বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বয়স ৪০ বছরের উপরে। এখন পর্যন্ত কোন ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দল এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি, এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক দল নিজেদের প্রচার করতে পারলেই তারা ক্যাম্পাস দখল করে ফেলবে, এটা একদম অদূরদর্শী চিন্তাধারা। বরং সেই দলগুলোকে নিজের মধ্যে করে নিতে পারলে বরং ডাকসু স্বয়ং সম্পূর্ণতা আরো প্রমাণিত হতো।
সত্যিই বলতে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ, এটা তো আজকে থেকে শুনতেছি না। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা বন্ধ হয়েছে ? প্রত্যেক হলেই ধর্মনির্ভর সংগঠন আছে। হয়ত তারা প্রকাশ্যে বলতে পারতেছে না। মানে আপনি তাদেরকে সংসদে যায়গা দিচ্ছেন না, তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করতেছে। মানে এক সংসদে তাদের সুযোগ না থাকায়, শত শত আন্ডারগ্রাউন্ড সংসদ বসতেছে। অথচ এই সুযোগটা থাকলে, ঐ শত শত আন্ডারগ্রাউন্ড সংসদ মূলধারার চিন্তাধারার সাথে সংযুক্ত হতো। হয়ত সেই সংসদে তাদের প্রতিনিধি থাকতেও পারতো, অথবা নাও পারতো। কিন্তু তারা চিন্তা করতো ডাকসু’র চিন্তাধারাকে নিয়ে। এখানে ডাকসু’কে নিজেকে সফল করার সুযোগ ছিলো।
৩. একটা কথা না বললেই না- খোদ বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি চালু আছে। যদি বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার দরকার হতো, তবে জাতীয়ভাবেই সেটা হতো। কিন্তু সেটা করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও কিন্তু বাংলাদেশের মানচিত্রের বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান নয়, বাংলাদশের ভেতরেরই একটা প্রতিষ্ঠান। সেটা মনে রেখেই ডাকসু নেতাদের চিন্তা করা উচিত।
৪. কিছু ছাত্রকে দেখলাম বোকার মত ৭২’র সংবিধানের কথা বলছে। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত, এখন সময়টা ৭২ নয়, ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়ে ২০১৯ হয়ে গেছে। সংবিধান নিজেই ১৭ বার সংশোধনে গিয়েছে। যে বঙ্গবন্ধু নিজেই সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধুই একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করেছেন। তার কন্যাও বহুবার সংশোধন করেছেন। তারা নিজেও কখন বলেননি ৭২’র সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা। কারণ তারা সবাই জানে- সময়ের সাথে সবকিছু পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় মানুষের চিন্তাধারা, মানসিকতা, মানুষের ক্যাপাসিটি। যারা সময়ের পরিবর্তন হলেও জনসাধারণের চিন্তাধারায় সীমাবদ্ধতা আনতে চায়, তারা বোকা। এরা এক সময় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অপরদিকে বুদ্ধিমানরা সময়ের সাথে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও জনসাধারণের চিন্তাধারার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ায় নেয় এবং নিজেদের কার্যপরিধি ও সিস্টেমের আপডেট করে নেয়। ভুলে গেলে চলবে না- সময়টা ডিজিটাল, মানুষের হাতে এন্ড্রয়েড মোবাইল, সাথে ফোরজি কানেকশন। আপনি চাইলেও জোর করে কারো চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে পারবেন না। বরং বুদ্ধিমত্তা হলো- অধিকতর সুন্দর চিন্তা দিয়ে সকলের চিন্তাধারাগুলো জয় করে নেয়া।
সর্বোপরি এটা স্মরণ রাখতে হবে-
সময়টা এগিয়ে যাওয়ার, পিছিয়ে পড়ার নয়।
ছাত্রদের শক্তি ব্রেনের নিউরনে, কব্জির জোরে নয়।
কাজটা করতে হবে সবাইকে নিয়ে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়।
রাম-বাম দুই ভাই মুসলমানের রক্ষা নাই। এন.সি- ১৫০
Image result for বাতি
রাম-বাম দুই ভাই
মুসলমানের রক্ষা নাই
রাম-বাম দুই ভাই
মুসলমানের রক্ষা নাই
মুসলমানদের এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় কলকাতার জমিদার রবীন্দ্রনাথ বিরোধীতা করে বলেছিলো- “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয় ? তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা। চাষার ছেলেরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে তাহলে ক্ষেতে ক্ষামারে কাজ করবে কারা?”
সেই রবীন্দ্রনাথের বংশধরেরা আজও সক্রিয়। কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নামক সংগঠনের হাত ধরে কেউ হয়ত গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে পেরেছে। যায়গায় মত গিয়েই শুরু করেছে লাল সূতার কারসাজি। বিদ্বেষে নাকের ছিদ্রদয় ফুলায় বলতেছে-
“ মুসলমানদের আবার ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কিসের ?
তোরা থাকবি চিপা-চাপায় অপরাধীর মত,
প্রকাশ্যে সভ্য সমাজে তোরা অস্তিত্ব প্রকাশ করতে পারবি না।
অস্তিত্ব জানান দিলেই গণপিটুনি খাবি,
সাধারণ জনতা তোদের দেখলে দূর দূর করবে,
তোদের দেখলে জলাতঙ্ক রোগীর মত ভয় পাবে,
তোরা এই সমাজে থেকেও হবি সমাজচ্যূত।
বার্মীজ সরকার যেমন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব আর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো,
মোদি সরকার যেমন ভারতের আসামে এনআরসি করে অনেকে অধিকার কেড়ে নিয়েছে,
ঠিক তেমনি ভার্সিটিতেও তোদের অধিকার আমরা কেড়ে নিবো ।
তোরা তোদের ন্যায্য চাওয়ার পাওয়ার কথা বলতে পারবি না,
কারণ তোরা তো নিষিদ্ধ যবন, ম্লেচ্ছ অস্পৃশ্য
তোদের আবার অধিকার কিসের ?”
ছবি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাম সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস আর বাম
জিএস সাদ্দাম হোসেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু’র সভায় ধর্ম ভিত্তিক সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে তারাই কলকাঠি নাড়ে।
আওয়ামীলীগের মধ্যে একটা সুবিধাবাদী প্যানেল প্রবেশ করা আছে। এন.সি- ১৪৯
আওয়ামীলীগের মধ্যে একটা সুবিধাবাদী প্যানেল প্রবেশ করা আছে
আজ থেকে ৫ সপ্তাহ আগের লেখা। লেখাটা পড়ুন, সমসাময়িক ঘটনার জন্য তার মধ্যে চিন্তার খোরাক আছে।
Related imageলেখার মধ্যে আমি বলেছিলাম- আওয়ামীলীগের মধ্যে একটা সুবিধাবাদী প্যানেল প্রবেশ করা আছে, যারা আওয়ামীলীগের থেকে সুবিধা নিয়ে থাকে, এবং সুযোগ পেলে আওয়ামীলীগকে ছোবল মারে। এদের আন্তর্জাতিক রাজনীতি দৃষ্টিকোন থেকে রিপাবলিকান ব্লকের সদস্য বলেছিলাম।
আমি বলেছিলাম- এই ব্লক সদস্যরাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আমি এও বলেছিলাম- এই রিপাবলিকান ব্লকের অনেক লোক আওয়ামীলীগের মধ্যে প্রবেশ করে থাকতে পারে, যদিও তাদের সবার নাম আমার জানা নাই। আমি শেষে পরামর্শ হিসেবে বলেছিলাম- “আওয়ামীলীগ যদি এই রিপাবলিকান ব্লকের সদস্য ও তাদের পলিসিগুলো বাদ দিতে পারতো, তবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির ধরনই পাল্টে যেতো এবং ব্যাপক জনপ্রিয় একটা দলে পরিণত হতো আওয়ামীলীগ।” একই সাথে বলেছিলাম- “তরুণ আওয়ামী সদস্যদের মধ্য থেকে এই ক্ষতিকর আগাছাগুলো (তাদের পলিসিগুলোসহ) ঝেড়ে ফেলার একটা ডাক আসলে মন্দ হয় না।”
যাই হোক, ক্যাসিনোকাণ্ডের পর একটা তথ্য শুনে অবাক হলাম- যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালিদ মাহমুদ ভুইয়া দুইজনই নাকি এক সময় ফ্রিডম পার্টি করতো। যেই ফ্রিডম পার্টি তৈরী করেছিলো বঙ্গবন্ধুর খুনিরা (রিপাবলিকান ব্লক)।
সাথে আরো একটা খবর দেখলাম- ওবায়দুল কাদের নাকি বলেছে- যারা ফ্রিডম পার্টি থেকে আওয়ামীলীগের ভেতর লোক ঢুকিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।”


আমি রাজনৈতিক কোন বিশ্লেষণ দেশী রাজনীতি দিয়ে করি না,
আমি বিশ্বাস করি, দেশী রাজনীতি হচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটা ক্ষুদ্র অংশ।
তাই যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি যে যত বেশি বুঝতে পারবে,
দেশী রাজনীতি, অতীত-ভবিষ্যত তার জন্য বোঝা তত সহজ হয়ে যাবে।
এজন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোঝা অ্যানালিস্ট থাকা খুব জরুরী।
যার যত বেশি এ ধরনের যত বুঝদার লোক থাকবে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সে তত বেশি দূরদর্শী ও স্বাবলম্বী হবে।
আওয়ামীলীগের রাজনীতি নিয়ে আমার খুব বেশি গবেষণা নাই।
তবে আমি অতীত-বর্তমান জোড়া লাগিয়ে একটা গ্রাফ তৈরী করতে পারি।
আমার দৃষ্টিতে আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন দুটি শ্রেণীর অস্তিত্ব দেখা যায়।
একদল হলো – আওয়ামীলীগের মূল প্যানেল।
আরেকদল হলো- আওয়ামীলীগের মূল প্যানেলে নয়, কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে, আওয়ামীলীগের থেকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হওয়া একটা গ্রুপ। এবং আওয়ামীলীগের মূল কেন্দ্র থেকে তাদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয় (অথবা চুপ করানো হয়)।
এবার আসি আন্তর্জাতিক আলোচনায়।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মার্কিন সম্রাজ্যবাদ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুইটা ব্লক দেখা যায়।
১) ডেমোক্র্যাট ব্লক, ২) রিপাবলিকান ব্লক।
প্রায় সকল দেশেই এদের সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রবেশ করানো থাকে।
ডেমোক্র্যাট ব্লক সদস্যরা মূলত মিডিয়া, শুশীল, পরিবেশবাদী, বিচারবিভাগ, গণতন্ত্রপন্থী, সেক্যুলার, নাস্তিক, মডারেট মুসলিম, সংস্কৃতিবাদী, গবেষক, নারীবাদী, এনজিও কর্মী, যুদ্ধবিরোধী, সংখ্যালঘুদরদী, সাহিত্যিক, সেলিব্রেটি বেশ ধরে থাকে।
অপরদিকে রিপাবলিকান ব্লক সদস্যরা-ব্যবসায়ী, আর্মি পারসন, পাকিস্তানবিরোধী, জঙ্গীবিরোধী, নাস্তিক নয় কিন্তু মুসলিমবিরোধী, কট্টরপন্থী, উগ্রহিন্দুত্ববাদী, উগ্রজাতীয়তাবাদী, সংখ্যালঘু হিসেবে নয় তবে হিন্দুদের আলাদা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, ৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করা, ১/১১ এর সূচনাকারীর মত লক্ষণগুলো তাদের মধ্যে দেখা যায়। সব লক্ষণ যে সবার মধ্যে দেখা যাবে বিষয়টি এমন নয়, কোন কোন লক্ষণ কখন কখন এদের সাথে মিলে যায়।
আমার কাছে মনে হয়,
দ্বিতীয় গ্রুপটা, মানে রিপাবলিকান ব্লক সদস্যরা আওয়ামীলীগের মূল প্যানেল নয়, কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত হয়েছিলো এবং এখনও সুবিধা প্রাপ্ত হচ্ছে।
এবং হয়ত তাদের আন্তর্জাতিক কানেকশন থাকার কারণে আওয়ামীলীগ তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেয়। বিএনপির সাথেও এদের বিশেষ ঘনিষ্টতা আছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে, এরা আওয়ামীলীগের দ্বারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হলেও দিন শেষে আওয়ামীলীগকে ছোবল মারতে তারা ভুল করে না।
এরকম কয়েকজনকে আমার মনে হয়-
১) সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার
২) মেয়র সাঈদ খোকন
৩) এসকে সিনহা
৪) রানা দাস গুপ্ত
৫) প্রিয়া সাহার স্বামী মলয় সাহা
৬) শাহরিয়ার কবির
৭) মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুর রশীদ
এরকম আরো বহু সদস্য আওয়ামীলীগের নামে-বেনামে ভেতরে প্রবেশ করা থাকতে পারে, কিন্তু তাদের সম্পর্কে হয়ত আমার ধারণা নাই বা আমি জানি না। এরা ক্ষণিক আওয়ামী পলিসির সাথে যুক্ত হওয়ার ভান দেখিয়ে সুবিধা নিতে পারে, নিজের অবস্থা দৃঢ় করতে পারে।
আমার কাছে মনে হয় ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো ঐ বিশেষ গ্রুপের সদস্যরাই। অর্থাৎ আর্মির মধ্যে ঢুকে থাকা রিপাবলিকান ব্লকের সদস্যরাই। অনেক ঐতিহাসিক ডকুমেন্টে বলে ঐ হত্যাকাণ্ডের সাথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জড়িত এবং ঐ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টও ছিলো রিপাবলিকান জেরাল্ড ফোর্ড।
আমার মনে হয়, মানুষের কাছে আওয়ামীলীগের যত বদমান শুনতে হয়, তার ৮০% হচ্ছে রিপাবলিকান ব্লকের সাথে লিয়াজো রাখার কারণে তাদের আচরণগুলো আওয়ামী সরকারের উপর ছাপ পড়ে বিধায়। আওয়ামীলীগ যদি এই ব্লকের সদস্য ও তাদের পলিসিগুলো বাদ দিতে পারতো, তবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির ধরনই পাল্টে যেতো এবং ব্যাপক জনপ্রিয় একটা দলে পরিণত হতো আওয়ামীলীগ। আমি বলবো, এখানে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক সামর্থের অভাব এবং স্বাবলম্বী না হওয়াই বড় কারণ হিসেবে আমার কাছে ধরা দেয়। তবে তরুণ আওয়ামী সদস্যদের মধ্য থেকে এই ক্ষতিকর আগাছাগুলো (তাদের পলিসিগুলোসহ) ঝেড়ে ফেলার একটা ডাক আসলে মন্দ হয় না।
 বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে শেখ সেলিম পরবর্তীতে কোন সম্পর্ক হয়েছিলো কি না ? এন.সি- ১৪৮
 বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে শেখ সেলিম পরবর্তীতে কোন সম্পর্ক হয়েছিলো কি না ?

Image result for বাতিঅতি সম্প্রতি ১ মাস আগে একটি টিভি চ্যানেলে (নিউজ টুয়েন্টিফোর) বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কেএম শফিউল্লাহ শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদিও কিছু সময় পর অনিবার্যকারণবশত সেই মন্তব্যটি খবরের লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলে টিভি কর্তৃপক্ষ। সে খবরে মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বলেছিলেন- “শেখ ফজলুল করিম সেলিম এ হত্যাকাণ্ডের দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন না।”
পরবর্তীতে অন্যান্য সাংবাদিকরা মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “শেখ সেলিমের সঙ্গে খন্দকার মোশতাকের ভালো যোগাযোগ ছিলো। খোন্দকার মোশতাক সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি গণভবনে গিয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ওইদিনই তিনি মার্কিন দুতাবাসে গিয়েছিলেন।” (https://bit.ly/2ogu14o)
এখান থেকে আসলে ৩টি প্রশ্ন আসতেছে –
১) বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে শেখ সেলিম পরবর্তীতে কোন সম্পর্ক হয়েছিলো কি না ?
২) বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পরবর্তীতে যে ফ্রিডম পার্টি তৈরী করলো, সেই ফ্রিডম পার্টির সদস্য খালিদ মাহমুদ ভুইয়ার মত ফ্রিডম পার্টির সদস্যকে যুবলীগের উচু পদে বসালেন।
৩) শুনতেছি, যুবলীগ সভাপতি সম্রাটকে নিজ বাসায় নিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে শেখ সেলিম। বিষয়টি সত্য মিথ্যা জানি না। যদি সেটা সত্যই হয়, তবে বলতে হবে শেখ সেলিম তাহলে রাষ্ট্রের ভেতর আলাদা শক্তি, যাকে রাষ্ট্রের আইন-কানুনের তোয়াক্কা করতে হয় না।
কথা হলো-
শেখ সেলিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই,
কিন্তু তাই বলে রাষ্ট্রীয় আইনের উর্ধ্বে থাকতে পারে না।
খোদ শেখ হাসিনাকেও আইন কানুন মানতে হয়।
দেশে অবৈধ ক্যাসিনো দিয়ে যুবলীগ যে অন্যায় করেছে, তার জন্য যুবলীগের সভাপতি সম্রাট অবশ্যই আইনের আওতায় আসার যোগ্য। কিন্তু সেই সম্রাট বা ক্যাসিনোর পক্ষে যেভাবে শেখ সেলিম ও তার বোন জামাই ওমর ফারুক কাজ করে যাচ্ছে, যা একটা সভ্য দেশে কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। রাষ্ট্রের ভেতরে পৃথক শক্তির অবস্থান অবশ্যই উপড়ে ফেলার যোগ্য।
আমার ব্যাকআপ পেইজ- https://www.facebook.com/noyonchatterjee66/
দেশে রেনিটিডিন উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এন.সি- ১৪৭
দেশে রেনিটিডিন উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধRelated image
দেশে রেনিটিডিন উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ
তাহলে বিকল্প কি ?
যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য রেনিটিডিন একটি অপরিহার্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খাবার আধাঘন্টা আগে একটা ওষুধ না খেলে অনেকের গ্যাস ফর্ম করে মরা মরা অবস্থা হয়। অনেকের পুরাতন মাত্রায় কাজ হয় না, ডাক্তারের কাছে গিয়ে নতুন নতুন মাত্রা নিয়ে আসে। গত বেশ কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ঔষুধ হলো এই গ্যাস্ট্রিকের ঔষুধটি।
কিন্তু সম্প্রতি বের হয়েছে, এই রেনিটিডিন ওষুধের মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারের উপাদান রয়েছে। আমি এই বিষয়টি অবশ্য অনেক আগেই লিখেছিলাম, সম্রাজ্যবাদীরা এক ওষুধ দিয়ে হয়ত তাৎক্ষনিক রোগ সারায়, কিন্তু সেটা দিয়ে আরেক রোগ তৈরী করে, আবার সেই রোগের চিকিৎসা করে টাকা কামাই করে। ঘাটলে অনেক ওষুধের মধ্যে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া যাবে, কারণ তারাই আরেক ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে ক্যান্সারের কেমোথ্যারাপির ব্যয়বহুল ওষুধ বিক্রি করে অনেক লাভ করে থাকে।
যাই হোক, আজকে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো, বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রিকের এই ওষুধ সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো- এই যে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষকে এই ওষুধে অভ্যস্ত করা হলো, তাদের কি হবে ? তারা তো এই ওষুধ ছাড়া একদিনও থাকতে পারবে না ?
আসলে একটা কথা না বললেই না, আমি সকল কমিউনিটির জীবন সম্পর্কে জ্ঞান নেয়ার চেষ্টা করি। কারণ কোন জ্ঞানই ফেলে দেয়ার মত নয়। আমি দেখেছি মুসলমানদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে অনেক কিছুর সমাধান ছিলো, কিন্তু পরবর্তীতে মুসলমানরা সেই সমাধানগুলো গ্রহণ করতে পারেনি, কিন্তু সেটা নিয়ে গেছে অমুসলিমরা। যেমন- মুসলমানদের শেষ নবীর জীবন পড়লে দেখতে পারবেন, তিনি ভিনেগার (সিরকা) খেতেন এবং অন্যকে তা খেতে উৎসাহিত করেছেন। ভিনেগার খেলে কিন্তু গ্যাস্ট্রিক সেরে যায়। এই বিষয়টি ইউরোপ-আমেরিকায় দেখা যায়। তারা ভিনেগারে খুব অভ্যস্থ। খাওয়ার সময় যেভাবে ওষুধ খাওয়া হয়, সেভাবে যদি পানিতে মিশিয়ে সামান্য পরিমাণে ভিনেগার খাওয়া যায়, তবে কিন্তু গ্যাস ফর্ম করে না। কিন্তু বাংলাদেশের এই কালচারটা আমি খুব একটা দেখি না, বাংলাদেশের মানুষ বেশি অভ্যস্ত সেই ক্যান্সার উৎপাদনকারী রেনিটিডিনে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ে, সাথে তৈরী হয় ভিন্ন কোন রোগ। অথচ ভিনেগারে অভ্যস্ত হলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় খরচ অনেক কমে যেতো। কিন্তু আমাদের ভিনেগারকে উৎসাহিত করা হয় না, কারণ এতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর বড় বিজনেস বন্ধ হয়ে যাবে।
আমার মনে হয়, সম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট ওষুধ কোম্পানিগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া এখন খুব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ কেউ জানতেছে না, কোন ওষুধের মধ্যে অন্য কোন ভয়ঙ্কর রোগ তৈরীকারী উপাদান লুকিয়ে আছে। মনে রাখবেন- সম্রাজ্যবাদীদের মূল উদ্দেশ্য কখন রোগ সারানো নয়, বরং রোগ নিয়ে ব্যবসা করা।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসা হিসেবে গ্রিন-পলিসি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। এক্ষেত্রে মুসলমানরা তাদের পূর্ব ইতিহাস দেখতে পারে, কারণ সেখানে অনেক সহজ সমাধান উল্লেখ করা যাছে, যা আধুনিক মেডিকেল সাইন্সের কাছেও বিষ্ময়ের কারণ বটে।
আমার ব্যাকআপ পেইজ- https://www.facebook.com/noyonchatterjee66/
ইহা কি ধর্ম ? নাকি অন্য ধর্ম দমনের কৌশল ?? এন.সি- ১৪৬
Related image
ইহা কি ধর্ম ? নাকি অন্য ধর্ম দমনের কৌশল ??
September 30, 2019
আজকের লেখা। তবে পাবলিশ ৬ নম্বরে।

ইহা কি ধর্ম ? নাকি অন্য ধর্ম দমনের কৌশল ??
ভারতের গরুর মাংশের জন্য মুসলমান মারার কথা সবার জানা। “কোন মুসলমানের ঘরে গরুর মাংশ আছে”, এতটুকু গুজব শুনলে সারা গ্রামের হিন্দুরা গিয়ে ঐ মুসলমানদের বাড়িতে হামলা করে। টেনে হিচড়ে পিটিয়ে হত্যা করে মুসলমানকে। এরকম শুধু একটা না, হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে ভারতে। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয়, যে ভারতে গরুর মাংশের জন্য মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সে ভারতই আবার গরুর মাংশ রফতানিতে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী হয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির অনেক নেতা আবার এসব গরুর মাংশ রফতানিকারক কোম্পানির মালিক। তারমানে বিষয়টি দাড়াচ্ছে- হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ গরুর মাংশ, এটা হিন্দুরা না মানলেও সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা অজুহাত করে মুসলমান দমন করতে হবে।
এবার আসুন বাংলাদেশের দিকে তাকাই-
সম্প্রতি পুলিশ একটি রহস্যজনক মামলার জট খুলে অবাক হয়ে গেছে। মামলাটা হলো বরিশালের একটি মন্দিরে ভাংচুর ও চুরির ঘটনা। ঘটনাটিকে ঘটে ৫ মাস আগে। হঠাৎ করে বরিশালের অগৈলঝাড়ায় একটি মন্দিরে বড় ধরনের চুরি হয় এবং মন্দিরের মূর্তিগুলো কে বা কারা যেন ভাংচুর করে। এ ঘটনায় মন্দিরের সভাপতি পরাণ চন্দ্র শীল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। কিন্তু পুলিশ যেন কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছিলো না। অবশেষে পুলিশ ঐ মামলার বাদী অর্থাৎ মন্দিরের সভাপতিকেই গ্রেফতার করে, সাথে গ্রেফতার করে এক পূজারী মহিলাকে। তাদেরকে জিজ্ঞেসবাদ করলে বের হয়, তারাই মন্দির ভাংচুর ও চুরি করে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা দায়ের করেছিলো। (https://bit.ly/2nTrVr0)
এদিকে গত ২২শে সেপ্টেম্বর, একদল মুসলমান বাংলাদেশের গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা বলছেন, আব্দুল আওয়াল নামক এক মুসলিম ব্যক্তির সাথে একটি জমি নিয়ে এক হিন্দু ব্যক্তির দ্বন্দ্ব ছিলো। এরপর দ্বন্দ্বটা মামলা ও আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত ঐ মুসলমানের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু রায় দেয়ার কিছুদিন পর হঠাৎ করে ঐ হিন্দু ব্যক্তির বাড়ির মন্দিরে কে বা কারা ভাংচুর করে। তখন ঐ হিন্দু ব্যক্তি আব্দুল আওয়াল ও তার পবিবারের নামে মামলা দিয়ে তাদের জেলে ভরে। ঐ মুসলমানরা বলছে, তারা তো আদালতের মাধ্যমেই তাদের জমির অধিকার ফিরে পেয়েছে, তাহলে কেন তারা ঐ মন্দির ভাঙ্গতে যাবে ? তাদের দাবী- হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের মন্দির ভেঙ্গে মুসলমানদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরেছে। এখন জামিনে মুক্তি পেলেও হয়রানী করা হচ্ছে তাদের। তারা হিন্দুদের এ নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। (https://bit.ly/2nTjBYt)
শুধু গাইবান্ধা আর বরিশালে নয়-
এ বছর টাঙ্গাইল (https://bit.ly/2owL6Hp) ও ফরিদপুরেও (https://bit.ly/2n7rkSC) একই ধরনের ঘটনা ঘটে। মানে হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের মন্দিরে ভাংচুর ও হামলা চালায়।
এদিকে, গাইবান্ধায় মন্দিরে এই কথিত হামলাসহ আরো কয়েকটি ঘটনাকে পূজি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা সম্মেলন করেছে, তারা বলছে- পূজা আসলেই তাদের উপর মুসলমানদের হামলা বেড়ে যায়, সরকার নাকি তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে না। (https://bit.ly/2mkaBLv)
এদিকে, গাইবান্ধার মন্দিরে হামলার খবর ভারতীয় মিডিয়াতেও প্রচারিত করে দাবী করা হয়, বাংলাদেশের হিন্দু অসহায় অবস্থায় আছে।
(https://bit.ly/2omgTuJ)
তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছর কিছুটা হলেও মুখ খুলে বলেছে- মন্দিরে যে হামলার ঘটনা ঘটে তার পেছনে হিন্দুদের নিজেদের কমিটির দ্বন্দ্ব ও জমি নিয়ে বিরোধ থাকে। (https://bit.ly/2mnTcS8)
ত্রাণের টাকা পূজায় কেন ?
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ হয়, এর মধ্যে বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা, শীলাবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন উল্লেখযোগ্য। এসব দুর্যোগে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কতজনকে ত্রাণ দিতে পেরেছে সরকার?
কথা হলো, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে তো একটা ত্রাণ তহবিল আছে।
যেটা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল নামে পরিচিত।
এই ত্রাণ তহবিলে অনেক ধনী মানুষ ও প্রাইভেট কোম্পানি টাকা দিয়ে সাহায্য করে।
এমনকি মুসলমানদের যাকাতের টাকা পর্যন্ত দেয়া হয়, এই ত্রাণ তহবিলে।
কথা হলো- এই টাকা তো দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকের পাওয়ার কথা।
কিন্তু এই টাকা থেকে প্রতি বছর দূর্গা পূজা আসলে মণ্ডপ প্রতি ৫০০ কেজি করে চালের সমপরিমাণ অর্থ দেয়া হয়।
এভাবে ১টি-২টি নয়, ৩১ হাজার পূজা মণ্ডপে দূর্যোগগ্রস্তু মানুষের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে হিন্দুদের হাতে।
(https://bit.ly/2n7t0vo)
উল্লেখ্য, ৩১ হাজার পূজা মণ্ডপে অনুদান দিলেও ঢাকা শহরে মাত্র ২৫টা গরুর হাটে সরকার ভর্তুকি দিতে চায় না। উল্টো সরকার গরুর হাটগুলোতে উচ্চ ট্যাক্স বসিয়ে রেখেছে, এতে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় উৎসব কোরবানী দিতে গেলেও সরকারকে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স (হাসিল) দিয়ে কোরবানীর পশু কিনতে হয়।
আসলেই কি হিন্দুদের ৩১ হাজার মণ্ডপ প্রয়োজন, নাকি যত মণ্ডপ তত অনুদানের টাকা লুটপাট ?
১. খবর- “ভুয়া মন্দির দেখিয়ে দূর্গা পূজায় বরাদ্দ ২ হাজার কেজি চাল আত্মসাৎ”
(https://bit.ly/2nQmrxo)
২. কক্সবাজারে ভুয়া মণ্ডপ দেখিয়ে চাল চাওয়া ধৃত
(https://bit.ly/2mXZbNU)
কিন্তু মণ্ডপের সংখ্যা কমাতে বললে, তখন কি হবে ?
উত্তর- ভারতীয় দূতাবাসে বিচার হবে।
এ বছর নারায়নগঞ্জের একটি গ্রামে ৪টি মণ্ডপের দাবী করে হিন্দুরা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান সেখানে ১টি মণ্ডপের প্রয়োজনীয়তা দেখেন এবং সেটাই করতে বলনে। তখন হিন্দুরা এক হয়ে ঐ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে বিচার দেয় এবং পত্রিকায় তাকে সন্ত্রাসী সাজিয়ে রিপোর্ট করে। (https://bit.ly/2wH8zEc)
কথা হলো-
অনেকে বলে হিন্দুদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান করতে হবে।
কিন্তু হিন্দুরা যদি মুসলমানদের প্রতি এমন শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতা ধারণ করে, তবে কি করে একত্রে সহ অবস্থান করা যায় বলুন ?
তারাই মন্দির ভেঙ্গে মুসলমানদের দোষ দিচ্ছে, আবার ভারতে গিয়ে বিচার দিয়ে আসছে।
তারাই মন্দিরের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করছে, সঠিক মণ্ডপ করতে বললে, ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে বিচার দিয়ে আসছে।
অবস্থা এখন এমন হয়েছে- সরকার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হিন্দুদেরকেই নিরাপত্তার নামে পাহাড়া দিচ্ছে,
যেন তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করে সরকারের দোষ না দিতে পারে।
এ বছর সরকারীভাবে ৩ লক্ষ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে ঠিক করা হয়েছে, যারা হিন্দুদের পূজার নিরাপত্তা দিবে।
কথা হলো- ৩ লক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ১ দিনের খরচ কত শ’ কোটি টাকা ?
এই টাকা তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ট্যাক্সের টাকা থেকেই আসে।
সেই টাকা শোধ করতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনগণের জীবনযাত্রার খরচ।
কিন্তু সেই ট্যাক্সের টাকা খরচ করে যদি হিন্দুদেরদের নিজেদের উপর ভুয়া হামলা ঠেকাতে, তবে সেই হিন্দুদের প্রতি অন্যান্যরা আস্থা রাখবে কিভাবে ? আপনারা যাই বলেন, এ ধরনের আচরণ কখন ‘মিলেমিশে থাকার ইচ্ছা’ থেকে আসতে পারে না।
ইমরান খানের ভাষণ ও ‘তুই অপরাধী’ থিউরী । এন.সি- ১৪৫
ইমরান খানের ভাষণ ও ‘তুই অপরাধী’ থিউরী

Image result for বাতি
ইমরান খানের ভাষণ ও ‘তুই অপরাধী’ থিউরী
কয়েকদিন আগে, একটা গান ভাইরাল হইছিলো। গানটার শিরোনাম ছিলো- “ও মাইয়া ও মাইয়া তু্ই অপরাধী রে”, ঐ গানে একটা ছেলে তার প্রেমিকাকে অপরাধী বলে উল্লেখ করে।
এই যে কাউকে অপরাধী বলা, এর মধ্যে কিন্তু বিরাট একটা গোমর রয়ে গেছে। কাউকে অপরাধী বলার মধ্যে আছে ক্ষমতা, আছে কর্তৃত্ব, আছে নিজের পৃথক অস্তিত্ব স্বীকার করতে অপরকে বাধ্য করা।
সম্প্রতি ইমরান খানের জাতিসংঘে দেয়া একটা ভাষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। ইমরানের খানের ভাষণটা খেয়াল করবেন-
১) সে পরিবেশ দূষণের জন্য অভিযুক্ত করেছে কথিত সুপার পাওয়াদের।
২) মানি লন্ডারিং এর সুবিধাপ্রাপ্ত হিসেবে অভিযোগ করেছে পশ্চিমাদের।
৩) মুসলামরা শুধুই মুসলমান, উগ্রবাদী আর মডারেট বলে কোন ভাগ নেই। পশ্চিমারা এই দুইভাগে ভাগ করে মুসলমানদের এক ঘরে করে। এখানেও পশ্চিমাদের দোষ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সে।
৪) মুসলমানদের শেষ নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করলে মুসলমানরা প্রতিবাদ করবেই। কিন্তু সেটাকে উগ্রবাদ হিসেবে প্রচার করা যাবে না। পশ্চিমারা সেটা একচেটিয়া করে বলে দেখিয়ে দিলেন ইমরান খান।
৫) সোভিয়েতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে। এতে পাকিস্তানের ৭০ হাজার লোক মারা গেছে, ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এখানেও মূল দোষী আমেরিকা।
৬) আফগানিস্তানের স্বাধীনতাকামীদের সন্ত্রাসী নয়, আফগানিস্তান দখল করতে যাওয়া আমেরিকার হলো দখলদার রাষ্ট্র।
৭) পাকিস্তানে কোন জঙ্গী নেই, ভারত নিজেই হামলাকারী সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।
৮) পাকিস্তানের অর্থনীতি ক্ষতি করতে চাওয়ায় ভারত অপরাধী।
৯) কাশ্মীরীদের অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য ভারত দোষী।
১০) হিন্দুত্ববাদীরা অপরাধী, সন্ত্রাসী, জঙ্গী।
১১) বাজারের লোভে মোদির পক্ষ নেয়ায় সুপারপাওয়ারদের দোষী সাব্যস্ত।
১২) ভারতে কোন হামলার ঘটনা ঘটলে তার জন্য দোষী হবে মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত।
১৩) মুসলমানদের বন্দি রাখার বিরুদ্ধে কথা না বলায়, পশ্চিমারা দোষী।
১৪) কাশ্মীরের মুসলমানরা স্বাধীনতাকামী হলে এর জন্য ভারত সরকার দোষী।
১৫) পাকিস্তান যদি পরমাণু হামলা চালায়, এর জন্য পাকিস্তান দোষী হবে না। দোষী হবে বিশ্বশক্তিরা। কারণ তারা কাশ্মীরের ইস্যুকে সমাধান করেনি।
ইমরানের এই ভাষণটা থেকে মুসলমানদের অনেক কিছু শেখার আছে। ইমরান যে কথাগুলো বলেছে, এখানে কিন্তু নতুন কিছু নেই, কিন্তু যে চর্চাটা করেছে সেটা মুসলমানদের মধ্যে থেকে হারিয়ে গেছিলো। সেটা হলো- অপরাধীর দোষ চোখে আঙ্গুল দিয়ে বলা ‘তুই অপরাধী’।
অনেকে বলতে পারে- ইমরান খান অমুক এলাকায় সৈণ্য দিয়ে আক্রমণ করে না কেন ?
আমি বলবো- ইমরান খানের এই ‘তুই অপরাধী’ থিউরী হাজারটা যুদ্ধ বাহিনী পাঠানোর থেকেও বেশি শক্তিশালী। কারণ মুসলমানের তো শক্তি আছে, কিন্তু হীনমন্যতা তাকে গ্রাস করেছে। সে অপরাধীকে অপরাধী বলতে পারে না। অপরদিকে অমুসলিমরা মুসলমানদের উপর ফলস ‘তুই অপরাধী’ থিউরী চালিয়ে দিচ্ছে, যদিও মুসলমানরা দায়ী না হোক।
যেমন-
ক. মুসলমানরা দোষী নয়, তারপরও সকল মুসলমানদের উপর জঙ্গীবাদ নামক অপরাধের ওজন চাপিয়ে রাখা হয়েছে। এতে মুসলমানরা তাদের উপর অন্যায়ের প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে ভয় পায়, যদি তারা জঙ্গী ট্যাগ খায়।
খ. তারা নারীদের পণ্য বানাবে, এতে অপরাধী হবে না। কিন্তু মুসলমানরা নারীদের সেভ করতে কোন কার্যক্রম নিলে সেটা মুসলমানরা অপরাধী হয়ে যাবে, নারী স্বাধীনতাহরণ কারী হয়ে যাবে।
গ. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিছু না করলেও ভারতীয় মিডিয়ায় ছাপা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে জঙ্গী আছে । বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থ্যান হচ্ছে। অথচ ভারত প্রতিদিন সীমান্তে কত মানুষ মারতেছে, বাংলাদেশ ভারতকে কিছুই বলতে পারছে না।
ঘ. প্রিয়া সাহা গংরা বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে অপরাধী বলতেছে, মোসাদের সঙ্গে মিটিং করতেছে, প্রকাশ্যে ভারতীয় দূতাবাস, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বলতেছে, সৈন্য আনতে বলতেছে। তারা যেটা করতেছে সেটা স্পষ্ট রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, কিন্তু সেটা আমরা আমরা প্রকাশ্যে বলতে পারতেছি না্, বলতে পারতেছি না- তুই অপরাধী।
ঙ. হাতে লাল সূতা পড়ে ভার্সিটিগুলোতে তারা সারাদিন মানুষ পিটায়তেছে। কিন্তু তাদেরকে আমরা দোষী বলতে পারি না। অথচ তারা ভার্সিটিতে আইন করতে চায়, যেন মুসলমানরা নিষিদ্ধ হয়, অর্থাৎ নিজের অধিকারের কথা বলতেও অপরাধী হয়।
চ. রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে তাদের পার্মানেন্ট অপরাধী বানায় দেয়া হয়েছে। তারা যেটা করবে সেটাই অপরাধ হবে। কিন্তু যারা তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিলো, তাদের উপর গণহত্যা চালালো তাদেরকে কেউ অপরাধী বলতে পারলো না।
ছ. বাংলাদশের একটা ধর্মের লোকেরা নিজেদের ধর্মীয় উপসানালয় নিজেরাই ভেঙ্গে মুসলমানদের দোষ দিয়ে দেয়, অপরাধী বানায় বলে- ‘তুই অপরাধী’।
জ. ভারতে বিজেপি ইচ্ছামত গরুর মাংশের বিজনেস করতেছে, সমস্যা নাই। কিন্তু মুসলমানরা গরুর কথা বললেই তুই অপরাধী।
অন্য জাতির সত্যিকারের দোষটা ধরিয়ে দেয়া,
প্রকাশ্যে বলা- “তুই অপরাধী”।
এটা একটা বিরাট ক্ষমতা।
এই ক্ষমতাটা মুসলিম জাতি হারিয়ে ফেলেছে বহুদিন আগে।
শুধু রাষ্ট্রনায়ক নয়, সাধারণ মুসলমানরা অন্য জাতির দোষটা প্রকাশ্যে বলতে পারে না।
লুকিয়ে বলে, নয়ত চেপে যায়, যদি তারা কিছু মনে করে,
যদি তাকে সাম্প্রদায়িক, জঙ্গী ট্যাগ দেয়। তাকে অন্যরা খারাপ মনে করে।
আমার মনে হয়, ইমরানের থেকে সেই শিক্ষা নিয়ে মুসলমানদের আবার তুই অপরাধী বলা শিখতে হবে।
চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে অন্য জাতির দোষটা।