ঈদে মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র দুইটা নাটক-এন.সি- ৩২৩
ঈদে মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র দুইটা নাটক-
Image result for স্প্রিং
ঈদে মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র দুইটা নাটক-
১) প্রটেকশন
২) ব্লেড
প্রটেকশন নাটকের মেসেজ হলো অবিবাহিত যুবক বয়সের ছেলেরা মানিব্যাগে কনডম রাখতেই পারে। এটা দোষের কিছু না, বরং সমাজের জন্য ভালো। এ মেসেজটা বাংলাদেশের জন্য নতুন, কিন্তু পাশ্র্ববতী ভারতে অবিবাহিত যুবকদের মধ্যে কনডম ক্রয়ের ভীতি দূর করতে অনেক আগে থেকেই প্রচারণা চালানো হইছে।
‘ব্লেড’ নাটকের মেসেজ হলো, ‘রেডিক্যাল ফেমিনিজম’। স্বাভাবিকভাবে আমরা যে নারীবাদ বা ফেমিনিজম দেখি সেটা হলো লিবারেল ফেমিনিজম। আমি অনেক আগের একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম, সমাজে লিবারেল ফেমিনিজম দেখা যাচ্ছে, খুব শিগ্রই বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রেডিক্যাল ফোমিনিজম ঢুকানোর চেষ্টা করা হবে। আমার মনে হয়, সেই প্রচেষ্টা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। “আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না”- একটা গ্রুপ প্রচার করে। কিন্তু তারাই আবার নারীদের কুংফু শেখায়, ব্যাগে ছুরি রাখতে বলে, কেচি/ব্লেড দিয়ে পুরুষের লিঙ্গ কাটার শিক্ষা দেয় (এই নাটকে সে শিক্ষা দেয়া হয়েছে)। এই ধরনের রেডিক্যাল ফেমিনিজম সমাজে নারী নির্যাতন হ্রাস করা তো দূরের কথা, বরং নারীদের আরো হুমকির মুখে ফেলবে, কারণ এতে উগ্রপুরুষবাদ আরো উস্কে দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে সমাজে নারী নির্যাতন বহুগুনে বেড়ে যাবে নিশ্চিত।
মোস্তাফা সারোয়ার ফারুকী আর তার অনুসারী আশফাক নিপুন ও মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র ক্যাটাগরি প্রায় এক। এরা নাটকের মাধ্যমে ‘মার্কিন ডেমোক্র্যাট ব্লক’র বিভিন্ন মেসেজ থ্রো করে। সত্যিই বলতে নাটকের মাধ্যমে ম্যাস পিপলের ‘মাইন্ড প্রোগ্রামিং’ করানো খুব সোজা। এই গোষ্ঠীটি সেই কাজ সু-কৌশলে করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
আরো পড়তে পারেন-
১) রেডিক্যাল ফেমিনিজম নিয়ে আমার লেখা- https://bit.ly/2QMm3dq
২) ঈদ নাটকে সাবলিমিনাল মেসেজ – https://bit.ly/2Kwx8yu
৩) মাবরুর রশীদ বান্নাহ’র নাটক ‘ব্রা-দার’- https://bit.ly/2ERxvQb
মার্কিন সম্রাজ্যবাদের পেছনে যে কয়টি কর্পোরেট জায়ান্ট পরিবারের কথা বলা তার মধ্যে অন্যতম রকফেলার ফ্যামিলি।এন.সি- ৩২২
মার্কিন সম্রাজ্যবাদের পেছনে যে কয়টি কর্পোরেট জায়ান্ট পরিবারের কথা বলা তার মধ্যে অন্যতম রকফেলার ফ্যামিলি।
Related image
মার্কিন সম্রাজ্যবাদের পেছনে যে কয়টি কর্পোরেট জায়ান্ট পরিবারের কথা বলা তার মধ্যে অন্যতম রকফেলার ফ্যামিলি। সেই রকফেলার ফ্যামিলির কর্ণধার ডেভিড রকফেলার ২০০৮ সালে নিজ হাতে ব্র্যাক ও আড়ংয়ের মালিক ফজলে হাসান আবেদকে পুরস্কৃত করে। পুরষ্কারের নাম - 'ডেভিড রকফেলার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড'। (https://bit.ly/2IreyVyhttps://bit.ly/2Kx28OP)
লক্ষ্য করুণ ফজলে হাসান আবেদকে এমন সময় (২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে) পুরষ্কার দেয়া হয়েছিলো, যখন দেশে কোন নির্বাচিত সরকার ছিলো না, ছিলো মার্কিনপন্থী ফখরুদ্দিন শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা ছিলো। ২০০৬-০৮ এর কথা আমার স্পষ্ট মনে আছে, খালেদা-হাসিনাকে মাইনাস-টু করে ইউনুসকে নোবেল দিয়ে আমেরিকার টার্গেট ছিলো ইউনুসকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। কিন্তু ইউনুসকে নিয়ে সফল হতে না পারায় আমেরিকার সেকেন্ড চয়েজ ছিলো ফজলে হাসান আবেদ, যদিও পরবর্তীতে সেটাও সফল হয় নাই।
আমি আপনাদের আগেই বলেছি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ একজন পাক্কা মিথ্যাবাদী ও প্রতাকর। এন.সি-৩২১
আমি আপনাদের আগেই বলেছি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ একজন পাক্কা মিথ্যাবাদী ও প্রতাকর। 
Image result for স্প্রিং
আমি আপনাদের আগেই বলেছি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ একজন পাক্কা মিথ্যাবাদী ও প্রতাকর। সে নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপায়।
এর আগে সে বলেছে, চাঁদ দেখার ব্যর্থতার দায়ভার নাকি জনগণের।
আর এখন সে চ্যানেল আইয়ের কাছে বলছে, অ্যাস্ট্রোনোমিকাল সংস্থাগুলো নাকি রিপোর্ট দিয়েছে- “খবরদার ! মঙ্গলবার চাঁদ দেখার কোন সম্ভবনা নাই”। (https://bit.ly/2Z4lRt8)
এটা ডাহা মিথ্যা কথা ও স্পষ্ট প্রতারণা।
অ্যাস্ট্রোনোমিকাল সংস্থা আগেই বলেছিলো মঙ্গলাবার চাঁদ দেখার সম্ভবনা আছে এবং বুধবার ঈদ হতে পারে এ মর্মে তারা মিডিয়ার সামনে ব্রিফিংও দেয় (https://bit.ly/2wGxXfW)।
এ ব্যাপারে তাদের প্রেসরিলিজও পড়তে পারেন (https://bit.ly/2K873GD)।
শুধু বাংলাদেশের অ্যাস্ট্রোনোমিকাল সংস্থাগুলো নয়, আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনোমিকাল সংস্থাগুলোও একই রিপোর্ট দিয়েছিলো (https://bit.ly/2Z4tU9e)।
এই লিঙ্কে (https://bit.ly/2WpWXqQmoonsighting.com এর একটি ছবি পাবেন, সবুজ রং এর অংশগুলোতে মঙ্গলবার খালি চোখে চাঁদ দেখতে পাওয়ার সম্ভবনা ছিলো, যেখানে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান আছে। অর্থাৎ এটা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও রিপোর্ট।
একজন প্রকাশ্য মিথ্যাবাদীকে যদি বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়, তবে তার দ্বারা ধর্মকেই কলুষিত করা হবে। সে ধর্ম নিয়ে তামাশা আর প্রতারণার শুরু করেছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। তার কারণে কয়দিন পর মানুষ ইসলাম ধর্মকেই মিথ্যাবাদীর ধর্ম বলে অবজ্ঞা করতে পারে। তাই সাবধান।
বি: দ্র: এই লিঙ্কের ভিডিওর শেষে গেলে- (https://bit.ly/2Z4lRt8) আরো পাবেন,
ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলতেছে- চাঁদ দেখার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রত্যেক সদস্য নামমাত্র টাকা পান, যা ধর্তব্য নয়।
অথচ রিপোর্টের পরের অংশে প্রমাণ হয়, মাসে ১ দিন (সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা লাগতে পারে) চাদ দেখার জন্য প্রত্যেকে ২ হাজার টাকা পান এবং জেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা পান। মাত্র ১ ঘন্টায় ২ হাজার টাকা কি নামমাত্র হতে পারে ? আপনারাই বলুন। 
https://www.facebook.com/noyonchatterjee5/videos/297880054449478/?t=15
একদিনে ৭ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান।এন.সি- ৩২০
একদিনে ৭ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান
Image result for স্প্রিং
একদিনে ৭ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। (https://bit.ly/2WUr21s)
কিন্তু অনেকের বক্তব্য- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান নিজে বিয়ে করেছেন ১৫ বছরের মেয়েকে।
প্রশ্ন হলো, তিনি যেভাবে বাল্যবিয়ে অপরাধ দেখিয়ে, বরকে জেলে ভরছেন, সেই একই শাস্তি তিনি নিজে পান কি না ?
প্রশ্নটা না হয় আপনারা, আনিসুর রহমান সাহেবকে তার ফেসবুক পেইজেই করুন-https://www.facebook.com/anisur.rahman.5076798
(ছবি : স্ত্রী ও বাচ্চার সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান)
সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান সাহেব এক দিনে ৭টা বাল্যবিয়ে বন্ধ । এন.সি- ৩১৯
সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান সাহেব এক দিনে ৭টা বাল্যবিয়ে বন্ধ 
Image result for স্প্রিং
সিরাজগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান সাহেব এক দিনে ৭টা বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেও তার স্ত্রীকে সে কেন ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করছে তার কোন সদুত্তর সে দিতে পারে নাই। এবং না পারার এক পর্যায়ে সে তার ফেসবুক আইডি’র প্রোফাইলখানাও লক করে দিছে।
যাই হোক, এবার আমরা আনিসুর রহমান সাহেবের কাছে আমরা দ্বিতীয় দফা প্রশ্ন করবো-
দ্বিতীয় দফায় প্রথম প্রশ্ন হইলো-
‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ এর বিশেষ বিধান ১৯ ধারায় বলা হইছে- “এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কোন বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্ত বয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং পিতা-মাতা বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে, বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।” (http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_sections_detail.php…)
আমাদের প্রশ্ন হইলো- বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ১৯ ধারা মোতাবেক তিনি এই বিয়েগুলো বন্ধ করতে পারেন কি না ?
দ্বিতীয় দফায় দ্বিতীয় প্রশ্ন হইলো-
age of consent বা `যৌন সম্মতির বয়স' বলে একটা টার্ম আছে। মানে একজন ব্যক্তি কত বছর বয়সে নিজের ইচ্ছায় দৈহিক মিলন করতে পারে। আপনারা যদি age of consent in bangladesh লিখে গুগলে সার্চ দেন, তাহলে পাবেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একজনের যৌন সম্মতির বয়স হইলো ১৪ বছর। এ পর্যন্ত আমাদের কোন সমস্যা নাই।
ম্যাজেস্ট্রেট সাহেবের কাছে আমাদের প্রশ্ন- একটা ছেলে-মেয়ে ১৪ বছর বয়সে বিয়ে ছাড়া সেক্স করলে age of consent অনুসারে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে না। কিন্তু কবুল বলে বিয়ে করে সেক্স করলে অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে। এই বিষয় দুটোর পার্থক্য সম্পর্কে তিনি কি বলেন ?
তার আগের আইডিটি যেহেতু বন্ধ করে দিছে, সেহেতু তার আরেকটা আইডিতে-https://www.facebook.com/100030498769559
সবাই জানান।
বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর ‘বিশেষ বিধান’ (১৯ ধারা) দিয়ে কার্যত বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বৈধ হয়ে গেছে । এন.সি- ৩১৮
বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর ‘বিশেষ বিধান’ (১৯ ধারা) দিয়ে কার্যত বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বৈধ হয়ে গেছে ।
Image result for স্প্রিং
বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ এর ‘বিশেষ বিধান’ (১৯ ধারা) দিয়ে কার্যত বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বৈধ হয়ে গেছে । এ কারণে সরকার যখন আইনটি পাশ করে তখন সারা দেশব্যাপী নারীবাদীরা আন্দোলন করেছিলো বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ‘বিশেষ ধারা’ বাতিল করার জন্য। যদিও তাদের আন্দোলন গ্রহণযোগ্য হয় নাই।
এখানে একটু আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোঝার দরকার আছে। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি প্ল্যান। অপরদিকে আওয়ামী সরকার হলো এন্টি মার্কিন ব্লকের। তাই ডাইরেক্ট তারা সিআইএ’র প্ল্যান বাস্তবায়ন করে নাই, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন সংস্কার করে ২০১৭ সালে ‘বিশেষ বিধান’ চালু করে বাল্যবিয়ে বৈধ করার জন্য যায়গা করে দিছে।
সমস্যা হলো, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের বিশেষ ধারা চালু হলেও জনগণ অজ্ঞতার কারণে তা থেকে সুবিধা নিতে পারে নাই। অপরদিকে বাংলাদেশের অবস্থানকারী মার্কিনপন্থীরা তাদের পরিচালিত মিডিয়া ও এনজিওগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনকে চাপ দিয়ে ‘বিশেষ বিধান -১৯ ধারা’ আড়াল করে আইনের বাকি অংশ থেকে সুবিধা নিচ্ছে এবং বাল্যবিয়ে বন্ধ করে বর, কাজী ও গার্জিয়ানদের জেলে ভরছে। কিন্তু অধিকাংশ জনগণ এখনও জানেই না, বিশেষ বিধান বা ১৯ ধারা মোতাবেক গেলে বাল্যবিয়ে করতে আর কোন বাধাই থাকে না।
আমার মনে হয়, বাল্যবিয়ের বিশেষ বিধান বা ১৯ ধারাটির ব্যাপক প্রচার দরকার। ডিসি অফিস, ম্যাজিস্ট্রেট অফিস, কাজী অফিস এবং মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো ছড়িয়ে দেয়া উচিত, বিশেষ বিধান বা ১৯ ধারা মোতাবেক বাল্যবিয়ে বাংলাদেশে এখন থেকে বৈধ। কোন বাবা-মা চাইলে সন্তানের স্বার্থেই তাকে বাল্যবিয়ে দিতে পারেন। কেউ বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে আসলে তাকে এই আইনের একটি প্রিন্ট কপি দিয়ে বলবেন- “বর্তমান আইনে বাল্যবিয়ে গার্জিয়ান চাইলে বৈধ। আইন দিয়ে প্রমাণ করুণ- আমি অন্যায্য কাজ করছি।” সবাই এক হয়ে শক্ত ও জোরালো প্রতিবাদ করুন, দেখবেন যারা বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে আসছে তারাই লেজ গুটিয়ে পালাবে।
যে আইনের কারণে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বৈধ- http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_sections_detail.php…
এটা একটা প্রিন্ট নিয়ে বাল্যবিয়ের গার্জিয়ানরা রাখবেন।
(ছবি : বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন : ২০১৭ এর ‘বিশেষ বিধান’ বাতিলের দাবীতে নারীবাদীদের বিক্ষোভ)
কয়েকদিন আগে ইউটিউবে একটা নাটক দেখতেছিলাম। এন.সি- ৩১৭
কয়েকদিন আগে ইউটিউবে একটা নাটক দেখতেছিলাম।
Image result for স্প্রিং
কয়েকদিন আগে ইউটিউবে একটা নাটক দেখতেছিলাম।
নাটকের এক দৃশ্যে, প্রাইভেট টিউটরের কাছে কিশোরী ছাত্রী পড়তে বসেছে।
এক পর্যাযে ছাত্রীর ডায়লগটা এরকম-
“ শোনেন স্যার, আপনাকে কেন আনা হয়েছে তা আমি জানি না।
কিন্তু আমি পড়তে পারবো না।
কতবার করে সবাইকে বললাম- আমাকে বিয়ে দাও, বিয়ে দাও
কিন্তু কেউ আমার কথাই শুনে না।
সবার কথা, আগে নাকি আমাকে নিজের পায়ে দাড়াতে হবে
আর এদিকে, আমি যে পরী হয়ে যাচ্ছি, এটা কারো মাথায় নেই
উফ !”
বাস্তবে কোন ছাত্রী তার শিক্ষকের সাথে এভাবে কথা বলে কি না, তার সত্যতা আমি যাচাই করতে পারিনি।
কিন্তু ছাত্রীটি যে বক্তব্য দিয়েছে, সেটা কিন্তু একদম বাস্তব।
আপনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুলগুলোতে যান, ফাইভ, সিক্স, সেভেন এর ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন।
আমি নিশ্চিত এরকম বহু মেয়ে পেয়ে যাবেন।
কোন মেয়ে যখন এ স্টেজে আসে,
তখন গার্জিয়ানরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে।
তখন তাকে তুলনা করা যায়, রাত্রে হঠাৎ পাখা গজিয়ে ওঠা পীপিলিকা বা উইপোকার মত।
যে আলো দেখলেই ঝাঁপ দিতে চায়, এক্ষেত্রে তাকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা অসম্ভব ।
সেহেতু বাবা-মা সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থটাই চায়,
ঝাপ দেয়ার স্থানটা যেন সামাজিকভাবে বৈধ বা ‘বিয়ে করা স্বামী’ হয় সেটা তারা খেয়াল রাখার চেষ্টা করে।
আমি জানি, আমার এ কথায় অনেকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখতে পারেন
হয়ত বলবেন- “আমি নারী জাতিকে হেয় করছি, নারীকে কিভাবে উপরে উঠানো যায় সে চিন্তা করছি না।”
আমি তাদেরকে বলবো- দয়া করে মহাকাশে ভেসে ভেসে চিন্তা করবেন না।
বাস্তবতার নিরীখে চিন্তা করুন।
নারী-পুরুষ সমান বলে মাঠে নারীদের ক্রিকেট খেলতে নামিয়েছেন ভালো কথা,
কিন্তু পুরুষ ক্রিকেটে যত দর্শক হয়,নারী ক্রিকেটে তত দর্শক হয় না কেন ?
নারীদের গ্রাউন্ড সীমানা ছোট কেন ?
নারী ক্রিকেটের ২-৪ মিনিট হাইলাইট দেখতেও আপনি হাপিয়ে যান কেন ?
নারীদের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, ক্যাচ ধরার দৃশ্য দেখে মাঝে মাঝে নিজেই মুচকি হেসে উঠেন কেন ?
এটাই হলো বাস্তবতা, আপনি মুখে মুখে যত নারী-পুরুষ সমান বলে শ্লোগান দেন
বাস্তবে নারী-পুরুষ কতটা সমান তা নারী ক্রিকেট দেখলেই বোঝা যায়।
কাউকে সমান অধিকার দেয়া মানে, তার যতটুকু অধিকার তাকে ততটুকু দেয়া।
পিপড়া আর হাতির সমান অধিকার দাবী করে যদি, পিপড়া আর হাতিকে সমান খাবার দেয়া হয়, তবে তা দুইজনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।
কারণ দুইজনকে সমান খাবার দিলে, হয় একজন না খেতে পেয়ে মারা যাবে, অথবা অন্যজন খাবারের নিচে চাপা পরে মরে যাবে।
হয়ত, বলতে পারেন- তবে কি নারীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে না ?
নারীদের শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে না।
অবশ্যই ভাবতে হবে। তবে সাথে আপনাদের মত আলগা বুদ্ধির লোকেদেরও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
হাতের ৫ আঙ্গুল যেমন সমান নয়, ঠিক তেমনি সমাজের ৫টা মেয়ে সবাই সমান হবে না।
সবাইকে এক থিউরীতে, মানে বিয়ে আটকে পিএইচডি ডিগ্রি নেয়ার বুদ্ধি করবেন
এটা কারো জন্য লাভের থেকে ক্ষতির কারণ হবে।
সমাজে সব ধরনের মানুষ থাকবে এটাই বাস্তবতা।
তাই সমাজে এমন নিয়ম বা আইন থাকবে, যা সবার জন্য যায়।
কিন্তু আজকাল আমাদের সমাজে তথাকথিত আধুনিক বুদ্ধিজীবিদের চিন্তাধারাগুলো স্বৈরতান্ত্রিক
তারা নিজেরা যতটুকু কুয়ার মধ্যে চিন্তা করে, সবার উপর সেটাই চাপিয়ে দিতে চায়।
কিন্তু তারা বুঝতেই চায় না, তার কুয়োর বাইরেও অনেক মানুষ থাকে, তাদের জীবন ধারা থাকে।
সমাজে বহু কোয়ালিটি নারী থাকতে পারে।
এদের কেউ উচ্চ শিক্ষিত হবে,
কেউ স্বল্প শিক্ষিত হবে,
কেউ ভালো গৃহিনী হবে,
কেউ ভালো ব্যবসায়ী/চাকুরীজীবি হবে।
আপনাকে যার যার হিসেব বুঝে সুযোগ করে দিতে হবে।
কিন্তু আপনি বিয়ে আটকে অন্যগুলোর সুযোগ করে দিলে,
সমাজে একটা বড় শ্রেণীর নারীকে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।
আপনি মুখে বলছেন, আপনি নারীর ভালো চান,
কিন্তু সবাইকে এক সিস্টেমে বাধতে গিয়ে আপনি কোন একটা শ্রেণীর নারীর ক্ষতি করছেন, এটা আপনাকে মানতে হবে।
এক্ষেত্রে আমাদের বুদ্ধিজীবি শ্রেণীরও মানসিকতা পরিবর্তন জরুরী।
তারা যেমন- বাঙালীত্ব আর সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্ম ইসলামকে পরষ্পর মুখোমুখি করে দিয়েছে।
কেউ বাঙালী হলে মুসলিম হতে পারবে না, আর মুসলিম হলে বাঙালী হতে পারবে না।
ঠিক একইভাবে তারা প্রচার করছে- কেউ বিয়ে করলে শিক্ষিত হতে পারবে না, আর শিক্ষিত হতে চাইলে বিয়ে করতে পারবে না। এভাবে তারা বিয়ে আর শিক্ষাকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে।
এ ধরনের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা জরুরী।
বিয়ে করলেই পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে, এ ধারণাটা অবশ্যই ভুল।
বাংলাদেশে বহু নারী আছে, যারা বিয়ের পরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে।
এটা অবশ্যই তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও চেষ্টার ফসল।
আবার অনেক শিক্ষিত নারী আছে, যারা বিয়ে করে স্বামী-সন্তান নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের পড়ালেখার ব্যবহারিক কোন উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে কথিত বুদ্ধিজীবিদের দৃষ্টিতে তারাও তো অকর্মা।
তাহলে উপায় কি ?
বিয়ে, ঘর, সংসার বন্ধ করে দেন। তাহলেই সমাধান।
আসলে, মানুষের জীবনে প্রতিটি ইভেন্ট-ই গুরুত্বপূর্ণ।
সেটা লেখাপড়া হোক, বিয়ে হোক, সন্তান হোক।
আপনি যদি কোন বিবাহিত নারীকে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের কথা জিজ্ঞেস করেন,
আমি নিশ্চিত অধিকাংশ বলবে- তার স্বামী-সন্তান নিয়ে ঘর সংসার তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট।
কিন্তু আপনি অমুক-তমুক অজুহাত দিয়ে নারীর বিয়ের বয়সে হস্তক্ষেপ করে
তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টকে সংক্ষিপ্ত করে দিচ্ছেন।
তার মা’ হওয়ার সময়কে সংক্ষিপ্ত করে দিচ্ছেন,
তার সন্তানের সংখ্যাকে সংক্ষিপ্ত করে দিচ্ছেন
স্বামীর সাথে অবস্থানের সময়কে সংক্ষিপ্ত করে দিচ্ছেন
একটা মেয়ে নারীত্বের অনুভব করছে ৯ বছরে
আপনি তাকে বিয়েতে বাধ্য করছেন ১৮ পর্যন্ত টানতে, সার্টিফিকেট এইজে ১৮ হচ্ছে ২০ বছর।
এরপর সেই বয়স অনেকের পৌছে যাচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ বছর।
হাসপাতালগুলোতে যোগাযোগ করুণ, দেখবেন তারা বলবে- বর্তমানে অনেক দম্পত্তির বাচ্চা হচ্ছে না, দেরিতে বিয়ে হওয়ার কারণে। আপনাদের উস্কানিতে বহু মেয়ে মা হতে পারছে না, এর থেকে বড় দুঃখের আর কি হতে পারে ?
অন্যদিকে
পুরুষ হোক আর মহিলা হোক, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মনটা কিন্তু আর ভার্জিন থাকে না।
কারো না কারো সাথে লেনদেন হয়ে যায়।
এর প্রভাব পরে গিয়ে বিবাহিত জীবনে। মুখে যতই বলেন- “তোমার এক্স গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড সম্পর্কে কথা তুলবো না” কিন্তু এক পর্যায়ে কথা কিন্তু উঠেই যায়। এরপর শুরু হয় সন্দেহ, সংসারে অশান্তি, অনেক ক্ষেত্রে ডিভোর্স। এক্ষেত্রেও কম বয়সে বিয়ে অনেক বড় সমাধান।
হয়ত বলবেন, ৯ বছর বয়সে কি একটা মেয়ে ঘর, সংসার বা শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে ম্যাচিউরড হয়?
ঐ যে বললাম- সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না।
কেউ হয় না, আবার কেউ কেউ হয়।
শহরে ২৫ বছরের ছেলে মেয়ে মায়ের হাতে ভাত খায়।
আবার গ্রামের ৮-৯ বছরের ছেলে-মেয়ে সংসারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করে।
তাই সবাইকে এক পাল্লায় মাপা কখনই সঠিক নয়।
“ছেলে-মেয়েকে কম বয়সেই বিয়ে দিতে হবে”- আমি এ বক্তব্যের পক্ষে নই।
কিন্তু কারো কারো কম বয়সে বিয়ে প্রয়োজন হতে পারে।
এটাই বহুমাত্রিক সমাজের বাস্তবতা, এটা আপনাকে মেনে নিতেই হবে।
সেক্ষেত্রে একজন গার্জিয়ান সবচেয়ে ভালো বুঝবে, তার সন্তানের জন্য কোনটা ভালো।
কিন্তু সেখানে আইন করে, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে তাদের জেলে পাঠাবেন,
এটা কখনই সঠিক নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক এগুয়ে আচরণ, কূপমণ্ডুক মানসিকতা,
যাদের সমাজের সকল অংশ সম্পর্কে ধারণা নাই, যারা সমাজের সকল অংশ সম্পর্কে অজ্ঞ
তারাই এধরনের আইনকে সমাজের উপর চাপিয়ে দিতে পারে। এরা কখনই সমাজের জন্য ভালো নয়, বরং সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ।