জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষনা পত্রে কি বলা আছে ?
জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষনা পত্রে কি বলা আছে ?Image result for আদিবাসী
বাংলাদেশের জন্য ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনের United Nation Declaration on the Rights of Indigenous Peoples বা ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’, প্রযোজ্য কিনা। ঘোষণাপত্রটির উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এটি অনেক ক্ষেত্রে সংগতিপূর্ণ নয় এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা বা সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ এবং এই ঘোষণাপত্রের নিম্নোক্ত ধারাগুলো বিশেষভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন :
Article 3 : Indigenous peoples have the right to self-determination. By virtue of that right they freely determine their political status and freely pursue their economic, social and cultural development. অর্থাৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে সেই অধিকার বলে তারা অবাধে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করে এবং অবাধে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিক কর্ম প্রয়াস অব্যাহত রাখতে পারবে।
Article 4 : Indigenous peoples, in exercising their right to self-determination, have the right to autonomy or self-government in matters relating to their internal and local affairs, as well as ways and means for financing their autonomous functions. অর্থাৎ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার চর্চার বেলায় তাদের অভ্যন্তরীণ ও স্থানীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন বা স্বশাসিত সরকারের অধিকার রয়েছে এবং তাদের স্বশাসনের কার্যাবলীর জন্য অর্থায়নের পন্থা ও উৎসের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অধিকার থাকবে।
Article 5 : Indigenous peoples have the right to maintain and strengthen their distinct political, legal, economic, social and cultural institutions, while retaining their right to participate fully, if they so choose, in the political, economic, social and cultural life of the State. অর্থাৎ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী যদি পছন্দ করে তাহলে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের পূর্ণ অধিকার রেখে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক, আইনী, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অক্ষুণ্ণ রাখা ও শক্তিশালীকরণের অধিকার থাকবে।
Article 10 : Indigenous peoples shall not be forcibly removed from their lands or territories. অর্থাৎ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে তাদের ভূমি বা ভূখণ্ড থেকে জবরদস্তিমূলকভাবে উৎখাত করা যাবে না।
Article 20 : 1. Indigenous peoples have the right to maintain and develop their political, economic and social systems or institutions. অর্থাৎ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী তাদের জীবন-জীবিকা উন্নয়নের নিজস্ব ধারা নিশ্চিত করার জন্য এবং তাদের ঐতিহ্যগত ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে নিযুক্ত থাকার জন্য তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বজায় রাখা ও উন্নয়নের অধিকার থাকবে।
Article 30 : 1. Military activities shall not take place in the lands or territories of indigenous peoples, unless justified by a relevant public interest or otherwise freely agreed with or requested by the indigenous peoples concerned. অর্থাৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি কিংবা ভূখন্ডে সামরিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত উপযুক্ত জনস্বার্থের প্রয়োজনে যুক্তিগ্রাহ্য হবে, অন্যথায় যদি সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছায় সম্মতি স্থাপন বা অনুরোধ করে।
উপরোক্ত ধারাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে United Nation Declaration on the Rights of Indigenous Peoples বা ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’ অনুসারে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাদেরকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, স্বতন্ত্র তথা স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। এমনকি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি তারা মনে করে যে তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকবে না বা ভারতেও যোগ দেবে না; তবে তারা স্বাধীন রাষ্ট্র স্থাপন করতে পারবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে থাকলেও তারা যে অঞ্চলে বাস করে সেই অঞ্চলের ভূমির মালিকানা বাংলাদেশের হবে না এবং সে অঞ্চলে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বায়ত্তশাসন, স্বশাসিত সরকার ও তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক ও আইনী কার্যক্রম এবং তা পরিচালনার জন্য স্বনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। উপর্যুক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত হলে প্রকারান্তরে তা এই অঞ্চলের উপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করবে।
Indigenous and Tribal Populations Convention-1957 (No.107) ১৯৫৭ সালে পাস হলেও এ পর্যন্ত বিশ্বের মাত্র ২৭টি দেশ এই কনভেনশনটি র‌্যাটিফাই করেছে। ১৯৭২ সালের ২২ জুন বাংলাদেশও কনভেনশন ১০৭ র‌্যাটিফাই করেছিল। পরে কনভেনশন ১৬৯ পাস হওয়ার পর পূর্বোক্ত কনভেনশন ১০৭ তামাদি হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশ অদ্যাবধি কনভেনশন ১৬৯ র‌্যাটিফাই করেনি। তাই এটি আমাদের দেশের জন্য অবশ্য পালনীয় নয়। এখানে লক্ষণীয় যে এরই মধ্যে ৮টি দেশ এই কনভেনশনকে নিন্দা করে তা থেকে বেরিয়ে গেছে। অন্যদিকে Indigenous and Tribal Populations Convention-1989 (No.169), ১৯৮৯ সালে পাস হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বের মাত্র ২২টি দেশ এই কনভেনশনটি র‌্যাটিফাই করেছে। এই উপমহাদেশের একমাত্র নেপাল ছাড়া আর কোনো দেশ এই কনভেনশনটি র‌্যাটিফাই করেনি।
অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ৬১তম অধিবেশনে আদিবাসী বিষয়ক যে ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে ভোটদানের সময় ১৪৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে, ৪টি দেশ বিপক্ষে, ১১টি দেশ বিরত এবং ৩৪টি দেশ অনুপস্থিত থাকে। বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দেশগুলো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিস্ময়কর অথবা পরিহাসের ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের তথাকথিত আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় খুব সোচ্চার ও পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর বেশিরভাগই কিন্তু নিজ দেশের জন্য আইএলও কনভেনশন ১০৭ বা ১৬৯ ও জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণা পত্রের সিগনেটরি নয়, পক্ষে ভোট দেয়নি এবং র‌্যাটিফাইও করেনি। কাজেই তাদের কুম্ভিরাশ্রু বর্ষণের কারণ ও মতলব বুঝতে সায়েন্টিস্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর উপজাতি, আদিবাসী কিংবা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য এই মায়াকান্নার পেছনে মূলত ভূ-রাজনৈতিক, ভূ-অর্থনৈতিক এবং সর্বোপরি আধিপত্যবাদী স্বার্থই প্রকাশ্যে কিংবা অবচেতনে প্রবলভাবে কাজ করেছে-একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
শান্তি বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমা ছিল রাজাকার
শান্তি বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমা ছিল রাজাকার
পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের পরিক্রমা পরিবর্তনে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ওরফে এমএন লারমা একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ।
এমএন লারমা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ পূনর্গঠনে ব্যস্ত তৎকালীন সরকারকে তাদের দাবি দাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট সময় না দিয়ে, সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক পথ অর্থাৎ সশস্ত্র দল গঠন করে স্বাধীন দেশের স্বাধীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ জনগনের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের সূচনা করেছিল ।
তার জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে রাঙ্গামাটি’র চাকমা উপজাতির একটি পরিবারে । ১৯৫৬ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে । পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৬৩ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাশ করে। ১৯৬৮ সালে কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে থেকে বিএড ডিগ্রী অর্জন করে ।
পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করে এবং চট্টগ্রাম জেলা বার এর একজন সদস্য আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে।

৯৫৬ সালে “জুমিয়া স্টুডেন্ট মুভমেন্ট” গঠনে ভূমিকা রাখে এবং পরবর্তিতে ১৯৬২ সালে পার্বত্য অঞ্চলের যুবকদের নিয়ে একটি সংগঠন “পাহাড়ি ছাত্র সমিতি” গঠন করে ।
তাকে ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী তারিখে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে গ্রেফতার করে ।
পরবর্তীতে দুই বছর পর ৮ মার্চ ১৯৬৫ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে উপজাতিদের অধিকার সমুন্নত রাখার আন্দোলনে রাজনৈতিকভাবে তার অনুসারীদের এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থানরত বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়কে একত্রিত করতে সচেষ্ট হয়।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চাকমা সম্প্রদায়ের বিতর্কিত ভূমিকা সর্বজনবিদিত । তৎকালীন চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল । সে চাকমা সম্প্রদায়ের অধিবাসীদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
সে প্রেক্ষিতে এমএন লারমা চাকমা জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চাকমা এলাকাগুলোতে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলিত হতে থাকে । পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের জানুয়ারীতে মুক্তিযোদ্ধাগণ সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে, বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ১০ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন । দেশে ফেরার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে একযোগে কাজ করা শুরু করেন । পুরো জাতি যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনগঠনে ব্যস্ত তখন এমএন লারমা ১৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” দল গঠন করে ।
নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির এই পরিক্রমায় হঠাৎ করেই এমএন লারমা ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একটি সশস্ত্র শাখা “শান্তিবাহিনী” গঠন করে । বিষয়টি নিয়ে একটি জনশ্রুতি ছিল যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক গঠিত পিস কমিটির কমিটির চিন্তাধারা থেকেই এর বাংলা প্রতিশব্দ “শান্তিবাহিনী” নামটির উৎপত্তি হতে পারে ।

এমএন লারমা গোপনে “শান্তিবাহিনীর” সশস্ত্র দলের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিও চালিয়ে যাচ্ছিল । ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

১০ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে সীমান্তের ওপারে ইমারা গ্রামের বাঘমারা নামক স্থানে শান্তিবাহিনীর কল্যাণপুর ক্যাম্পে প্রীতি গ্রুপের সদস্যদের হামলায় এমএন লারমা নিহত হয় ।
কল্যাণপুর ক্যাম্পের অপারেশন এর ঘটনা সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, প্রীতি গ্রুপের ক্যাপ্টেন এলিন এর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সশস্ত্র দল লারমা গ্রুপের ক্যাম্পে অতর্কিত সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে উক্ত ঘটনা ঘটায় । ঐ সময়কার ঘটনাবলী সম্পর্কে আরও জানা যায়, একই দিনে মতিবান পুলিশ ক্যাম্প হতে ১ মাইল পূর্বে প্রীতি গ্রুপ এমএন লারমার মামার বাড়িতে অবস্থানরত শান্তিবাহিনীর সদস্যদের উপরও আক্রমণ চালায়, যদিও এ আক্রমণে কেউ হতাহত হয়নি ।
এমএন লারমা হত্যাকাণ্ডে পর তার অনুজ সন্তু লারমা জন সংহতি সমিতির দায়িত্বভার গ্রহণ করে । তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আজ অবধি কোথাও কোন মামলা হয়নি অথবা লারমা গ্রুপ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোন প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি । এমএন লারমাকে হত্যা করার বিষয়টির সত্যতা থাকার পরও এ বিষয়ে কোন আন্দোলন অথবা প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেনি ।
অন্যদিকে কল্পনা চাকমার বিষয়টির প্রচারিত গল্পের কোন সত্যতা বা ভিত্তি না থাকলেও বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কল্পনা চাকমা অপহরণ দিবস ও বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে যা উপজাতীয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর স্ববিরোধী ভূমিকারই বহিঃপ্রকাশ ।

এমএন লারমার জীবনের সার্বিক বিষয় মূল্যায়নে বলা যায় সে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব যিনি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র সংগ্রামের জন্ম দিয়েছে, যার প্রতিফল হিসাবে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশকে চরমভাবে মূল্য দিতে হয়েছে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ।
১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার পার্বত্য জুড়ে সামরিক পোশাক পরিহিত অস্ত্রবল নিয়ে এরা কারা ?
১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার পার্বত্য জুড়ে সামরিক পোশাক পরিহিত অস্ত্রবল নিয়ে এরা কারা ?
বাংলাদেশের অায়োতনের ১০ভাগ এলাকা পাবর্ত্য চট্টগ্রাম একটি স্বাধীন জুম্মাল্যান্ড নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
উপজাতি সন্ত্রাসীরা কালো শান্তিচুক্তি সাক্ষর করে দেশের সরকারকে বোকা বানিয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলছে পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি রাঙামাটি বান্দরবনে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থান পার্বত্য চট্টগ্রামের। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ৭৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিমান্তে নেই কোন কাঁটা তাঁরের বেড়া। পাহাড় সিমান্তে দুই শত্রু দেশের সিমানা। দেশ দু’টি হচ্ছে ভারত ও মায়ানমার। যারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ’কে ঘিলে খাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি সহ বিচ্ছিন্নতাবাদ দিয়ে উক্ত অঞ্চলে হানাহানি রক্তপাত বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। একটি শান্তস্বভাবের জাতিকে বেঅাইনি পরামর্শ ও অর্থযোগান দিয়ে ধ্বংস করছে।


পূর্বে পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সামরিক পোশাকে সন্ত্রাসী। এধরণের অভিযান নিয়মিত করা হলে সন্ত্রাসী নির্মূল হবে অনেকাংশ।

ভারত, মায়ানমার বাংলাদেশের উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ ও সন্ত্রাসী সৈন্যদলের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী এ দু’ই দেশ চক্রান্ত করে যাচ্ছে বাংলাদেশ’কে দু’খন্ডিত করে একটি অালাদা রাষ্ট্র গঠন করতে। তাই এই দেশ দু’টি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সকল ভরণপোষণ করে স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছে। তৈরি করেছে সমৃদ্ধ অাধুনিক অস্ত্রসস্ত্রসহ একটি বাহিনী। ভারত, মায়ানমার তাদের দেশে মাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে তাদের। কতিপয় দেশের তৈরি অস্ত্র বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘরে ঘরে। পাহাড়ের প্রতিটি স্থানে দিনে রাতে দেখা মিলে সশস্ত্র পোশাকে সন্ত্রাসীদের।

ভারত সরকারের পরোক্ষ মদদে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে হুমকি-দামকি দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক। স্বাধীন দেশের পরাশক্তি সামরিক বাহিনী ও বিশ্ব জয় করা সেনাবাহিনী’কে কিভাবে উপজাতি সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধের হুমকি দিতে পারে? এতে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃত্য গোষ্ঠীর একটি হিংস্র অংশ ভারতের মদদে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।


অন্য দিকে দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা গুলো বার বার পাবর্ত্যে চট্টগ্রাম সফর করছে। সফরে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়া উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সাথে বিভিন্ন গোপন অালোচনা ও অর্থ বল দিয়ে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃত্য গোষ্ঠীকে অাদিবাসী শব্দ ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে দেশ ভাগের ষড়ষন্ত্র করছে। অান্তর্জাতিক ও দেশের একশ্রেণীর জ্ঞানপাপী কুলাংগারদের চক্রান্তের শিকার পার্বত্য চট্টগ্রাম।


সন্ত্রাসীদের প্রস্তুতি ও হুমকি-দামকির পরেও বাংলাদেশ সরকার এ ব্যপারে কোন সচেতন বা সন্ত্রাসী মোকাবেলার করার মতো কোন কার্যক্রম, পদক্ষেপ নেয়নি। তাই সন্ত্রাসীরা দানা বেধে ক্রমাগত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন পাবর্ত্য বাঙালীদের হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, করে চলছে সন্ত্রাসীরা। এভাবে চলতে থাকলে ঠিক পরবর্তীকাল ইন্দেনেশিয়ার পূর্ব তিমিরের মতো একটি অালাদা রাষ্ট্রর পরিনত হবে বাংলার স্বর্গভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম। বাংলাদেশ হারাবে তার অায়োতনের ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালী হবে রোহিঙ্গাদের মতো পরবাসী। স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে অস্ত্রবল নিয়ে এরা কারা? প্রশাসনের উচিৎ এসকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা।তাদের রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে বিচারের কাঠগড়া দাঁড় করানো। অথবা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়া।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে গোপন চিঠি
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে গোপন চিঠি
বাংলাদেশের বিশাল ভূখন্ড পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে দেশীবিদেশী দাতা সংস্থা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র গুলোর সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে অাঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পাহাড় জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন গহীন অরণ্যে বসে উপজাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের নিজেস্ব ভাষায় চক অাঁকছে কিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অালাদা স্বপ্নের জুমল্যান্ড নামক রাষ্ট্র গঠন করা যায়। সন্ত্রাসীদের লিখিত ভাষার মাধ্যমে পাহাড়ের কয়েকটি স্থানে জনসমর্থন অাদায় ও জুমল্যান্ড গঠনের জনমত তৈরির বার্তা দিচ্ছেন। জুমল্যান্ড গঠনের গোপন চিঠি প্রচার সম্পর্কে কয়েকজন উপজাতীয়’র সাথে কথা বলে জানা যাই, চিঠি গুলো অাঞ্চলিক দলের নেতারা দিয়েছে, তবে সর্বসাধারণে প্রকাশ করতে বারণ করেছে। গোপন চিঠিতে নিজেস্ব ভাষা ব্যবহারে কারণ হচ্ছে জুমল্যান্ড গঠনের কোন সাড়াশব্দ জেনো বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন জানতে না পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কার্বারী জানান, প্রশাসনের অাড়ালে অনেক কিছু হচ্ছে, অামরা পাহাড়ের ভিতরে থাকি বিদায়ী কোন কিছু প্রকাশ করতে পারছি না। পানিতে থেকে কুমিরের সাথে পাল্লা দেওয়া কখনওই সম্ভব্য নয়, তাই অনেক কিছু দেখেও মুখ বুঝে সহ্য করতে হয় অামাদের। অামরা চাইলেও কিছু করতে পারি না, হাত পা বাধা থাকলে কি সাঁতার কাটা যায়? বর্তমানে পাহাড়ে অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অামাদের গ্রামে অাগে কোন জামেলা হলে পাঠির লোক অাসতো, এখন জামেলা ছাড়া সবসময় পাঠির লোক পোষাক পড়ে অস্ত্র নিয়ে সরাসরি চলাফেরা করে। একটি গ্রুপে ২৫ জন থাকে। সেনাবাহিনীর মতো অস্ত্রগোলাবারুদ রয়েছে। হাতে রয়েছে সংযোগ রাখার ষন্ত্রপাতি। মাঝে দুর থেকে মনে হয় সেনাবাহিনী কিন্তু কাছে গেলে দেখি নাকবুচা অামাদের জাতি। খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি বান্দরবনের প্রত্যেক উপজেলায় যাতায়াতের জন্য অালাদা পাহাড়ি পথ রয়েছে। এসব পথে চলাফেরা করে পাঠির লোকজন। সেনাবাহিনী অাসলে তাদের কখনও পাবে না, তারা লোকালয় ও পাহাড়ি পথে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। অার সেনাবাহিনী অাসার খবর বাঙ্গালী সোর্স’রা দিয়ে দেয় তাই পাঠির অস্ত্রধারী লোকদের ধরা সম্ভব্য নয়।


নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কার্বারীর নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।

উপজাতি সন্ত্রাসীরা তাদের সন্ত্রাসী রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলছে পাহাড়ের প্রতিটি স্থানকে। তাদের নিরাপদ অাবাসনের পাশাপাশি যুদ্ধের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প করে থাকার ব্যবস্থাও প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। গভীর অরণ্যে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের স্বর্গভূমি। যেখানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও প্রশাসন এখন পর্যন্তপ্রবেশ করতে পারিনি। বাঙালীকে অপহরণ করেচাঁদার দাবি করে এসব ক্যাম্পে অাটক রেখেনির্যাতন করে, বিশাল পরিমাণ চাঁদা অাদায় করকে ব্যর্থ হলে হত্যা করা হয়। তাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সরকারের জন্য দেশদ্রোহী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বড় হুমকি হয়ে দাড়াবে।

পার্বত্যভূমি থেকে বেশির ভাগ সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে উপজাতি বাহিনী গুলোবাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যে কোন ইস্যুতে।


সরকারের উচিৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা। সেনাক্যাম্প প্রত্যাহরের কারণে পাহাড়ের অনেক জায়গাতে সন্ত্রাসীরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চাচ্ছে ভয়ভীতি ছাড়া। সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারকৃত স্থান দখল করে নিজেদের থাকার ক্যাম্প বানিয়েছে সন্ত্রাসীরা। পুরো পাহাড় এখন সন্ত্রাসীদের গ্রাসের পরিণত হয়েছে।



উপজাতি দালাল অধ্যাপক মেজবাহর কাছে উপভোগ্য হলো উপজাতীয় নারী আর মদ।
উপজাতি দালাল অধ্যাপক মেজবাহর কাছে উপভোগ্য হলো উপজাতীয় নারী আর মদ।
"উপজাতি দালালদের কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হলো উপজাতীয় নারী। বিশ্বাস হচ্ছে না?
এইতো সেদিন ২০১৫ সালের ঘটনা। দিন তারিখটা মনে পড়ছে না। তবে মনে আছে সেদিনের কোলাহলটা। সন্ধার পরে মেসবাহ কামাল স্যার উঠল রাঙ্গামাটি সার্কিট হাউজে। স্যারেরা পাহাড়ে আসলে আপ্যায়নের অন্ত রাখে না শন্তু বাবুরা। বাংলা মদের সাথে সুন্দরী উপজাতীয় নারীর সংমিশ্রন স্যারদের বিবেককে ভূলিয়ে বশ করে ফেলে। এটাই স্যারদের দখলে নিতে শন্তু বাবুর প্রধান হাতিয়ার। সেদিন সার্কিট হাউজে স্যারের আপ্যায়নে ছিলেন এক উপজাতীয় নারী। রাত তখন আনুমানিক দশটা। স্যারের আপ্যায়নে উপজাতীয় মেয়েকে রেখে নিচেই ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ছেলেরা। হঠাৎ উপর থেকে চিৎকারের শব্দ ভেসে আসলো। দৌড়ে আসলেন সেনা সদস্যরা, দৌড়ে গেলেন নীচে অবস্থান নেওয়া উপজাতীয় যুবকেরা। সবাই গিয়ে দেখেন স্যারের কান্ড। সেদিন যে মেয়েটিকে স্যারের কাছে পাঠানো হয়েছিলো সেই মেয়েটি আসল বিষয়টা পূর্বে আন্দাজ করতে পারেনি। তাকে যে স্যারের ভোগ বিলাশের জন্য পাঠানো হয়েছে তা সম্পর্কে মেয়েটি অজ্ঞাত ছিলো, নতুবা স্যারের জন্য উপঠৌকন অন্য মেয়ে ছিলো। এদিকে স্যার ধরে নিয়েছিলো নিত্য বারের মতোই হয়তো মেয়েটি তাকে উঝার করে দিবেন সব। কিন্তু, স্যারের আশায় গুরেবালী। ঘটে গেল ব্যতিক্রম ঘটনা। মেয়েটির চিৎকারে বেধে গেলো গোলমাল।


চিৎকার শুনে যদি সেখানে সেনাবাহিনী না পৌছাতো তবে হয়তো সেদিন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চাপে মেয়েটির জীবন স্যারের লালশায় পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেতো। সারাটা জীবন হৃদয়ে বয়ে রেড়াতে হতো কলঙ্ক। বেচে গেলো সেদিন সতী উপজাতীয় নারীর ইজ্জত। এদিকে এই ঘটনায় সবার সামনে স্যারের মাথা কাটা যাওয়ার উপক্রম। লজ্জায় প্রহর গুনছিলেন কখন রাঙ্গামাটি ছাড়বেন। সেদিন স্যার সূর্য উঠার আগেই রাঙ্গামাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।


এটাই হলো, আমাদের প্রিয় স্যার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামালের পাহাড়ে আগমনের সর্বশেষ কাহিনী। যে কাহিনী শুধু সেদিন লোকমুখে ছিলো, স্থান পায়নি কাগজের পাতায়। আমিও একজন উপজাতি মেয়ে, কিন্ত এই লজ্জা কোথায় রাখবো? কার নিকট নালিশ করবো? কে এর বিচার করবে?

এই সংগঠনগুলো আমাদের স্বাধীনতার লোভ দেখিয়ে আমাদের ইজ্জৎ কেড়ে নিচ্ছে! বিনিময় ওরা হচ্ছে হাজার কোটি টাকার মালিক! আর কিছু ফায়দা লুটে নিচ্ছে সুলতানা কামাল গং! ভগবান এর বিচার করুক, ওরা যেন নরকবাস হয়।
http://archive.is/NZuLv
ফসলের ৪২ পয়সা যায় রাজাকার ত্রিদিবের সন্তান দেবাশীষের ঘরে।
ফসলের ৪২ পয়সা যায় রাজাকার ত্রিদিবের সন্তান দেবাশীষের ঘরে।

স্বঘোষিত রাজা ও রাণী ঠিক কোন যুক্তিতে সাধারণ পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন একর প্রতি জুম ফসলের ৪২ পয়সা? এই অথোরিটি বাংলাদেশের ঠিক কোন আইনে সিদ্ধ? কে দিয়েছে তাদের? বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি তাই উচ্চকিত চিৎকারে বলি, “এই রাজা-গজার সিস্টেম আমি মানিনা”। আমি পাহাড়ে এই রক্তচোষা রাজা-গজা সিস্টেমের বিলুপ্তি চাই।
একজন গরীব কৃষক হাড় পানি করে ফসল ফলান। সেই ফসলের ৪২ পয়সা যায় রাজাকার ত্রিদিবের সন্তান দেবাশীষের ঘরে। স্বঘোষিত রাণী ইয়ায়ন ইয়ান সেই অর্থ দিয়ে হাতে উল্কি আঁকেন। জেনে রাখেন ওটা উল্কি নয় ইয়ান ইয়ান, ওটা পাহাড়ী ভাইয়ের শুকিয়ে কালচে হওয়া রক্ত।

আর আরেকটি ব্যাপার নিয়েও আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের পুরোধারা সমতলে এসে আওয়ামীলীগকে বাকশাল বলে গালি দেন, বি এন পি কে গালি দেন। কারন এই দুই দলই নাকি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। কিন্তু আশ্চর্য হই এই বাম পুরোধারা কেন পাহাড়ের রাজতন্ত্র নিয়ে মুখে ছিপি এঁটে বসে থাকেন “এটি ওদের ইচ্ছে, ওদের পছন্দ” এমন অসাংবিধানিক কথা বার্তা বলে?

কি ভয়ংকর সাংঘর্ষিক চিন্তা ধারা!! মানে দাঁড়ায়, সমতলে গণতন্ত্র হালাল আর পাহাড়ে হারাম। তাই তো!! কথায় কথায় সাম্রাজ্যবাদের ভূত, ঈঙ্গ-মার্কিন শক্তির পিন্ডি চটকায় কিন্তু অঞ্চলভেদে ভিন্ন রূপ বড় অবাক করে। কারনটা জানতে চেয়েও পাইনি।

একটি দেশের দুটি স্থানে দুই রকমের শাসন চলে। আমরা তো এমন একটা সিস্টেমের জন্য আসলে বাংলাদেশকে কল্পনা করিনা। তাহলে এটি মেনে নিতে হবে কেন?

বাংলাদেশের প্রতিটা জেলাতে ক্যান্টনমেন্ট থাকলে, সেনাবাহিনীর অফিস থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে ঠিক কি কারনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থাকবেনা? শান্তিবাহিনী, জে এস এস, এরা দশকের পর দশক নিজেরা নিজেদের মেরে রক্তাক্ত করেছে আমার ভালোবাসার পাহাড়, আমার ভালোবাসার পাহাড়ের ভাইদের, বোনদের।

পাহাড়ের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চাঁদাবাজী করছে দেদারসে, অস্ত্রের ঝংকার তুলছে, মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, আলাদা দেশ চাইছে, আলাদা সরকার চাইছে, ক্রমাগতভাবে এই দেশটাকে তারা দূর্বিষহ করে তুলছে, নিরীহ পাহাড়ী জনতারা তাদের ভয়ে কথা বলতে পারেন না, ব্যবসা করতে পারেন না অথচ তারপরেও সেখানে আইন শৃংখলা বাহিনী থাকবেনা কেন? কে জবাব দেবে তার?


এরা কি আজকে বলতে পারবে নমিসা চাকমা কই? কেন মুকুল চাকমাকে তাদের গোষ্ঠীর লোকেরা খুন করেছে? কেন আজ তাঁড় কন্য নমিসা চাকমা ঘরে ফিরতে পারেনা? কেন আজ প্রভাদ কুমার চাকমা ওরফে কাকলি বাবুর ভয়ে নমিসাকে জীবন নিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়?

পাহাড়ে একজন বাংলাদেশী থাকতে গেলে তাঁকে কেন “সেটেলার” নাম দিয়ে আখ্যায়িত করা হয়? কেন এই রেইসিস্ট আচরণ? কেন এই অবজ্ঞা? কেন এই মানসিক নির্যাতন? আমার দেশের প্রতি ইঞ্চিতে আমার অধিকার রয়েছে। অন্তত সংবিধান আমাকে তাই বলে। আমার নাম কেন সেটেলার?
কই, পাহাড় থেকে সমতলে কেউ থাকতে এলে আমি তো তাঁকে কোনো অবজ্ঞার নাম দিয়ে আখ্যায়িত করিনা!! তাহলে এই বিভাজন কারা তৈরী করে দিলো?


বাংলাদেশের সংবিধানে পাহাড়ের নেতারা তাদের আলাদা অস্তিত্ব চায়। কেন চায়? আলাদা অধিকার চায়। কেন আলাদা অধিকার চায়? অনুচ্ছেদ ২৩ (ক)-এর প্রতিও আমার প্রশ্ন আছে। কেন থাকবে আলাদা অনুচ্ছেদ? সব বাংলাদেশীরা সকলে সমান অধিকার পাবে, এই একটি কথাই কেন যথেষ্ঠ নয় এই ভূখন্ডের জন্য?



মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি চাকমা ও মারমারা
মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি চাকমা ও মারমারা
জাতীয় নিরাপত্তায় চরম হুমকি,,,মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি চাকমা ও মারমারা
বান্দরবান জেলার মিয়ানমার সংলগ্ন দূর্গম উপজেলা থানচি ও রুমা থেকে পাহাড়ী যুবকদের নিয়ে গিয়ে খোদ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দানের চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানের উপজাতীয় বাসিন্দাদের প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমার নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা ভূমিতে পুনর্বাসন ও পাহাড়ী যুবকদের সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মিতে নিয়োগদানের জন্য চিঠির ইস্যু খবর ইতোমধ্যে জাতীয় মিডিয়াগুলোতে আলোচিত হয়েছে।

কিন্তু এবারে পাওয়া গেলো আরো গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এই তিন শতাধিক পাহাড়ী যুবককে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা কর্মরত রয়েছে।

এলাকার বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বান্দরবানের মার্মা সম্প্রদায়ের বেশকিছু যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর জন্য সীমান্ত এলাকা থেকে আরো যুবক সংগ্রহের পাঁয়তারা শুরু করলে এখবর প্রকাশ্যে আসে।

জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যুবকরা ছুটি পেলে বাংলাদেশে আসে। যা এলাকার চেয়ারম্যান, হেডম্যান ও কার্বারীরা জানেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দু দেশের নাগরিক এসব সশস্ত্র প্রশিক্ষিত যুবকরা বাংলাদেশের রাস্তাঘাট চেনে, স্থানীয় ভাষা ও জনগনের সাথে তাদের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ এবং এরা স্থানীয় পাহাড়ী সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিলে যে কোন সময় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে। বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিরাট ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।। একধিক জনপ্রতিনিধি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩ শতের বেশী বাংলাদেশী মার্মা ও চাকমা সম্প্রদায়ের যুবক মিয়ানমারে নিয়মিত সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছে ও কর্মরত রয়েছে।

থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ফো-সু পাড়ার বাসিন্দা মং মং ছেন এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার পর গত ২০১৩ সালে মিয়ানমারে চলে যায়। বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে মংডু জেলায় কর্মরত আছেন।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি বাজার এলাকায় ঙা নু মে মার্মার পুত্র ক্য ই হ্লা মং ৪/৫ বছর যাবৎ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে বুচিডং এ অপারেশনে কর্মরত রয়েছে বলে জানা যায়।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পাই মং পাড়ার (বড় মদক বাজার পাড়া) চিং সা নু মার্মার ছেলে মং হ্লা খই ৩ বছর আগে মিয়ানমারে যায়। বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়মিত সৈনিক হিসেবে মংডুতে কর্মরত রয়েছে। তার বাংলাদেশী ভোটার আইডি নং- ০৩০১৫২১৮১২৪৮।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের খু সা অং পাড়া (তং পাড়া), বড় মদক বিজিবি ক্যম্পের পাশে চ নু প্রায় ১১ বছর যাবৎ মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত। বর্তমানে সেনাবাহিনীতে হাবিলদার পদে কর্মরত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দাবী, বান্দরবান জেলার সাথে মিয়ানমারের প্রায় ১৭৬.৪২ কি. মি. সীমানা রয়েছে। অধিকাংশ দুর্গম ও যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সীমান্তের পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জেএসএস এর সশস্ত্র বাহিনী ও মিয়ানমারের একধিক বিদ্রোহী বাহিনী রয়েছে। স্থানীয়দের জীবনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসব সন্ত্রাসীদের মন যুগিয়ে চলতে হয়।

রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) উল্লিখিত ব্যক্তিদের চিনেন বলে প্রতিনিধির কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রুমা ও থানছি থেকে প্রায় ৩০০ বেশী মার্মা সম্প্রদায়ের যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন। এসব ব্যক্তিরা পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় বসবাস ও যাতায়াত করতে হলে সব বাহিনীকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। ২০০৮ ড্যানিডা কর্মকর্তা সুমন অপহণের ঘটনার জের ধরে আমার বড় ভাই হেডম্যানসহ আরো ২জন কার্বারীকে এএলপি হত্যা করে বলে তিনি জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং বলেন, দূর্গমতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে থানছি উপজেলাকে একসময় মনে হত এটি বার্মার রাজ্য। বার্মার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বাহিনীর আনাগোনা ছিল প্রকাশ্য। কয়েক বছর ধরে পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টেছে। এখানে বিজিবির তিনটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। নতুন নতুন বিওপি করা হচ্ছে। সীমান্ত সড়ক হয়ে গেলে যোগাযোগ যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সন্ত্রাসীদের আনাগোনা কমে যাবে।

তিনি আরো বলেন, তিন পার্বত্য জেলা থেকে মার্মা, চাকমা, ত্রিপুরা জাতির কয়েক হাজার পরিবার মিয়ানমারে বসবাস করছেন। তাদের মধ্য অনেকে আবার বাংলাদেশেও যাতায়ত করেন। বাংলাদেশী প্রায় তিনশত জন মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে রয়েছে।

থানছি ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি বিনা অনুমতিতে অন্যদেশের নাগরিক হয়ে সেনা বাহিনীতে কর্মরত থাকেন সেটি অপরাধ। এবিষয়ে তথ্য নিয়ে মিয়ানমারে নাগরিক হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

বলিপাড়া বিজিবি কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকার পাহাড়ী জনগণ গরীব। তারা কৃষিকাজের জন্য মিয়ানমারে গিয়ে থাকে, আবার ফিরেও আসে। সম্প্রতি কোন যুবক মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছে এমন তথ্য জানা নেই। দিনদিন আমাদের নতুন নতুন বিওপি হচ্ছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্বত্যনিউজকে জানায়, বিষয়টি তারাও জেনেছেন এবং এ বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছেন।

সূত্র মতে, বান্দরবানের রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় মার্মা, ম্রো, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজনের বসবাস। চেহারা, ধর্ম ও ভাষার মিল থাকায় সীমান্তের অপর পাড়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে তাদের সম্প্রদায়গত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মার্মা সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে রাখাইন/মগ নামে অভিহিত করা হয়।

ফলে এ সমস্ত সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারে চলে যায়। কেউ কেউ আবার ফিরেও আসে। আবার অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাদের অনেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে থাকতে পারে। তাদের সাথে এ দেশে থাকা তাদের আত্মীয় স্বজনের যোগাযোগ রয়েছে। সেই সূত্রে আসা যাওয়াও রয়েছে। তাদের সাথে স্থানীয় পাহাড়ী সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। তাই বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি।

কপি:পার্বত্যনিইজ.কম
আত্মস্বীকৃত রাজাকার পুত্র দেশদ্রোহী দেবাশীষ রায় কেনো রাঙামাটি সার্কেল প্রধান?
আত্মস্বীকৃত রাজাকার পুত্র দেশদ্রোহী দেবাশীষ রায় কেনো রাঙামাটি সার্কেল প্রধান?


সম্প্রতি রাঙামাটি অঞ্চলের সার্কেল চিফ বা কথিত রাজা দেবাশীষ রায় পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে তার বিভিন্ন অপতৎপরতার কারণে আলোচনায় আসলেও একজন আত্মস্বীকৃত কুখ্যাত রাজাকার ত্রিদিব রায়ের পুত্র হয়েও রাঙামাটি অঞ্চলের সার্কেল চিফ হওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক অনেক পুরনো।
দেবাশীষ রায়ের বাবা প্রয়াত ত্রিদিব রায় রাঙামাটি সার্কেলের ৫০তম চাকমা রাজা ও সার্কেল চিফ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার সবচেয়ে বড় পরিচয়- সে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী একজন আত্মস্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শুধু প্রবল বিরোধিতাই নয়, দেশ স্বাধীন হওয়ায় সে রাগে, ক্ষোভে ও ভয়ে রাজ্য ও রাজত্ব ছেড়ে পালিয়ে তার প্রিয় পাকিস্তানে চলে যায়।


পাকিস্তান রাষ্ট্রও তাকে অবমূল্যায়ন করেননি। আমৃত্যু দপ্তরবিহীন মন্ত্রীর মর্যাদা দান করেছিল তাকে। এজন্য তাকে বলা হতো পাকিস্তানের উজিরে খামাখা! ৪২ বছর ইসলামাবাদেই ছিল তিনি। ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানেই মারা যায় রাজা ত্রিদিব রায়।

দেবাশীষ রায়ের বাবা প্রয়াত রাজা ত্রিদিব রায়ের আমলনামা ঘেঁটে জানা যায়, পাকিস্তান প্রেমের কারণে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার বিরোধিতা করে এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন দেয়। ১৯৭০- এর দশকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মন্ত্রিসভায় সেমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে। পরে সে পাকিস্তান সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলে। ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আহ্বান জানালেও পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী কোনো অমুসলিম রাষ্ট্রপতি হতে না পারার কারণে ত্রিদিব রায় তা গ্রহণ করতে পারেনি।

প্রিয়জিৎ দেব সরকারের লেখা ‘দ্য লাস্ট রাজা অব ওয়েস্ট পাকিস্তান’ অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে। যুদ্ধ শুরুর পর মে মাসে সে রিজার্ভ বাজার এবং তবলছড়ি বাজারে জনসভায় ভাষণ দেয়। এসব জনসভায় সে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের দামামার মধ্যেও পাকিস্তান সরকারের বিশেষ দূত নিযুক্ত হয়ে পাকিস্তানের পক্ষে জনমত গঠনে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র চষে বেড়ায়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ত্রিদিব রায় আর বাংলাদেশে আসেনি। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের যোগদানের আবেদনের বিরোধিতা করার জন্য পাকিস্তান প্রেরিত প্রতিনিধি দলেও ত্রিদিব রায় প্রধান ছিল। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে প্রণীত দালাল আইনে তার নাম ছিল।


১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ত্রিদিব রায় বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিল। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করার পর সে চূড়ান্তভাবে পাকিস্তান ফিরে আসে। এরপর থেকে সে সেদেশের এম্বাসেডর এট লার্জ ছিল। ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে পাকিস্তান বুড্ডিস্ট সোসাইটির প্রধানের দায়িত্বে ছিল।

২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর ওই লাশ ফেরত নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করে পাকিস্তান। লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি যুদ্ধাপরাধী ও আজীবন পাকিস্তানের মন্ত্রী ত্রিদিব রায়ের মরদেহ।

২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের এক আদেশে ৯০ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা থেকে তার নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় কোনো রাজাকারের নামে বাংলাদেশে কোনো স্থাপনা না থাকার বিধান রয়েছে। এরপর থেকে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে দেবাশীষ রায়ের বাবা আত্মস্বীকৃত রাজাকার ত্রিদিব রায়ের নাম। উঠে এসেছে একাত্তরে তার জঘন্য ভূমিকার নানা ইতিহাসও।

আজ সে রাজাকার ত্রিদিবেরই সন্তান দেবাষিশ পার্বত্য চট্রগ্রামের রাজা সেজেছে। তার পিতার অনুসরণে সেও বাংলাদেশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। পার্বত্য চট্রগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে জুম্মল্যান্ড রাষ্ট্র গঠন করার জন্য সে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে আঁতাত করছে।



সরকারের উচিত এই দেশদ্রোহী রাজাকার সন্তানের সকল ক্ষমতা বাতিল করে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।