জন্মনিয়ন্ত্রনব্যবস্থা মুসলিম সংখ্যা হ্রাসে কাফির - মুশরিকদের ষড়যন্ত্র


জন্মনিয়ন্ত্রনব্যবস্থা মুসলিম সংখ্যা হ্রাসে কাফির - মুশরিকদের ষড়যন্ত্র





Image result for জাহাজজন্মনিয়ন্ত্রন কাফির মুশরিকদের ষড়যন্ত্র

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ফয়সালা দিয়ে রেখেছেন মুসলমান উনারা তাদের সবচাইতে বড় শত্রু হিসাবে পাবে ইহুদী ও মুশরিকদের তথা বির্ধমীদের
যখন এই কাফির বিধর্মীরা মুসলামানদের উপকারের কথা বলে বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করে, একাধিক সন্তান না নেয়ার প্রচারনা চালায় তখন প্রশ্ন জাগে তাদের উদ্দেশ্য কি?
The telegraph পত্রিকায় নিউজ এসেছে, Islam is the only religion growing faster than the world's population, and it will be the largest in the world by 2070, research has found (http://bit.ly/2mP1CMH).
এটা তারা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে মুসলমানদের সংখ্যা পৃথিবীর সব ধর্মের লোকদের চাইতে বেশি হবে, এই সংখ্যাধিক্যতা তাদের কাছে বিরাট এক হুমকী তারা বোঝে মুৃসলামানদের সংখ্যা বেড়ে গেলে একসময় সমগ্র পৃথিবীতে তাদেরর কর্তৃত্ব থাকবে না
যেটা মার্কিন উপদেষ্টা হেনরী কিসিঞ্জারের "National Security Study Memorandum 200 তে উল্লেখ রয়েছে The study falsely claimed that population growth in the so-called Lesser Developed Countries (LDCs) was a grave threat to U.S. national security. অর্থাৎ কিছু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির একটি গুরুতর হুমকি মনে করা হয়
Adopted as official policy in November 1975 by President Gerald Ford, NSSM 200 outlined a covert plan to reduce population growth in those countries through birth control.
প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড কর্তৃক নভেম্বর 1975 সালে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে NSSM 200 জন্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই দেশগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য একটি গোপন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে
কিসিঞ্জার তাদের দেশ আমেরিকাকে কথিত হুমকীর হাত থেকে বাঁচাতে যে পদক্ষেপ নেয় যেটাতে বলা হয়েছে, There were several measures that Kissinger advocated to deal with this alleged threat, most prominently, birth control and related population-reduction programs.
কিসিঞ্জার তাদের হুমকির মোকাবেলা করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন, জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যা-হ্রাস প্রোগ্রাম (সূত্র: http://www.larouchepub.com/ot/1995/2249_kissinger_food.html)
আর এ জন্য ১৯৭৫ সালে ১৩ টি দেশকে ঐ সময় চিহিৃত করা হয়, Thirteen countries are named in the report as particularly problematic with respect to US security interests: India, Bangladesh, Pakistan, Indonesia, Thailand, the Philippines, Turkey, Nigeria, Egypt, Ethiopia, Mexico, Colombia, and Brazil. (https://en.wikipedia.org//National_Security_Study_Memorand)
আমরা এই লিষ্টের দিকে তাকালে আমাদের দেশকে প্রথম দিকেই দেখতে পাই যেটা আমেরিকা তথা পশ্চিমাদের কাছে হুমকী অার এ হুমকী নিরসন করতে তারা তৎপর হয়েছে বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে, তৎপর হয়েছে জনসংখ্যা কমাতে
একারনে তারা মুসলমানদের সংখ্যা কমানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে যেমন বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, পরিবার পরিকল্পনা পদ্মতির মাধ্যমে একাধিক সন্তান না নেওয়া ইত্যাদি আর আমরা তাদের গাধার নাকে বেধেঁ সেই মূলা পিছনে ছুটছি , ভূলে গিয়েছি ইসলামের আর্দশ বাল্যবিবাহ ও অধিক সন্তানের ফযিলতের কথা


জনসংখ্যা হ্রাস কৌশল এবং আমেরিকার ষড়যন্ত্র
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী Henry Kissinger ১৯৭৪ সালে National Security Council এর ভাষনে ঘোষনা করে- তৃতীয় বিশ্বের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রায়োরিটি হবে জনসংখ্যা হ্রাস যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য বিদেশ বিশেষ করে স্বল্পউন্নত দেশ থেকে প্রচুর ও ক্রমবর্ধমানহারে মিনারেল দরকার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা এবং মিনারেল সম্পদ ও সরবরাহ স্ভাবিক রাখার জন্য জনসংখ্যা নীতি আবশ্যক"
১৯৭৯ সালে জনসংখ্যা হ্রাস নীতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের national security policy এর সর্বাধিক প্রায়োরিটির বিষয় এজন্য রকফেলার কন্টাক্টর Henry Kissinger, Alexander Haig, and Ed Muskie তৎকালীন ইউএস প্রেসিডেণ্ট জিজম কার্টারের সময় Global 2000 নামে একটি জনসংখ্যা হ্রাস নীতি সংক্রান্ত একটি পেপার লেখে কিসিন্জার তার জনসংখ্যা নীতি ঘোষনায় বলে বর্তমান যে জনসংখ্যা আছে তা থেকে অরো ২ বিলিয়ন হ্রাস করতে হবে সে ২ বিলিয়ন ঘোষনা করলেও প্রকৃত পক্ষে পৃথিবীর জনসংখ্যার ২/৩ অংশ হ্রাস করার জন্য জনসংখ্যা হ্রাস নীতি ঘোষনা করে পৃথিবীর মিনারেল, কৌশলগত সম্পদ ও তার উৎস এবং পানিসহ পুরো পৃথিবীর নিয়ন্ত্রন নেয়ার জন্য বিশ্ব শাসক এলিট (London Square Mile Rothschilds, - Rockefellers, - Bushs, U.S.
Council of Foreign Relations) জনসংখ্যা হ্রাস নীতির সূচনা করা হয়
METHODS OF DEPOPULATION:
AIDS: AIDS হল প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ভাবিত bio weapons এটি উদ্ভব এবং পরিচালনা করে World Health Organisation এবং যুক্তরাষ্ট্রের Department of Defence. এউএস কংগ্রেস আফ্রিকাতে দ্রুত মৃত্যুর হার বৃদ্ধির জন্য দুভিক্ষের সাথে AIDS উন্নয়ন কর্মসূচীতে ফান্ড সরবরাহ করে (আফ্রিকা পরবর্তিতে বিভিন্ন দেশে এটি ছড়ায়ে পড়ে) ইন্ডিয়ার দক্ষিন অংশে AIDS ব্যবপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে
STERILIZATION: তৃতীয় বিশ্বের দেশে জোরপূর্বক বন্ধাত্বকরণ প্রক্রিয়া চাতুরীর সাথে সূচনা করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যেসকল মহিলারা ভ্যাকসিন গ্রহন করছে সেখানের মহিলারা ভ্যাকসিন গ্রহন করার ফলে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করতে পারবে নাএজন্য ফিলিপাইন এবং মেক্রিকোর মহিলাদেরকে প্রথম গায়না পিগ হিসেবে এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয় HCG Vaccine ভ্যাকসিন গ্র্রহনের কারণে মহিলাদের শরীরে নতুন করে সন্তান গ্রহনে বাধা প্রদান করে
HCG vaccineএর মাধমে দক্ষিন অফ্রিকার কালো মহিলাদেরকে তাদের অনিচ্ছা বা অজান্তেই বন্ধা করা হচ্ছে নতুন সন্তান প্রসবের পর তাদেরকে ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে হসপিটাতাল ত্যাগ করতে দেয়া হয় না সদ্যজাত কালো বাচ্চাদের যারা জম্মের সময়ই AIDS আক্রান্ত হয়নি তাদেরকে হসপিটাল ত্যাগের পূর্বে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয় ভ্যাকসিন গ্রহন করার কিছূ দিন পরই দেখা যায় বাচ্চাটি AIDS আক্রান্ত হয়েছেকিছূ আমেরিকান ইন্ডিয়ান আদিবাসিদের biopharmaceutical crops উদ্ভাবনের মাধ্যমে 80% মহিলাদেরকে বন্ধা করা হয়েছেDr. Ignacio Chapela উল্লেখ করে মেক্সিকোতে ড্রাগ কোম্পানিগুলো spermicidal corn(স্পার্মনাশক) পরীক্ষা করছে Dr. Chapela এর মতে এই মহা দানবিক প্লান গ্রহন করছে globalists (রকফেলার,রথচাইল্ড,মরগান সিএফআর) পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যারা পৃতিবীর বর্তমান জনসংখ্যাকে 80% হ্রাস করতে চায়
DEPLETED URANIUM:
যুক্তরাষ্ট্রের National Security Council এর রিপোর্ট Global 2000 Report; Vision of a Gloomy World.(1980). উদ্দেশ্যর আংশ হিসেবে Depleted uranium ব্যবহার করা হচ্ছেএই রিপোর্ট সুপারিশ করে যে, ইউএস সরকারের ইচ্ছানুসারে পৃথিবীর বিভিন্ন রকম মিনারেল সহ কৌশলগত সম্পদের উৎসের উপর নিয়ন্ত্র বজায় রাখার জন্য তৃতীয় বিশ্বের জনসংখ্যা হ্রাস করা আবশ্যকফলে এটা স্পষ্ট যে, depleted uranium অস্ত্র Middle East, Central Asiaতে ব্যবহার ব্যবহার করা হচ্ছে কেননা এসকল এলাকা মিনারেল রিসোর্সে সমৃদ্ধ এবং জায়োনিস্ট Anglo-American রা এসকল এলাকার নিয়ন্ত্রন গ্রহন করতে চায় depleted uranium সমৃদ্ধ Carpet and grid বোমা ব্যবহার করা হয়েছে ইরাক, পূর্ব ইউরোপ এবং আফগানিস্তানে যার ফলে এসকল এলাকা স্থায়ী রেডিওএকটিভ দূষনের শিকারএগুলো জনস্বাস্থ ধ্বংস ও জেনেটিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে
2001 সালে আফগানিস্থানে উচ্চমাত্রার Carpet and grid ব্যবহার করার কারনে যে সকল পর্বতে প্রচুর বরফ জমে থাকে যা পাকিস্থান ও ইন্ডিয়ায় পানি সরবরাহ করছে তা মারাত্বক দূষনের সম্মুখিন হয়েছে radioactive contaminants এর মাধ্যমে এশিয়ার এই অঞ্চলে গোপন ও অদৃশ্যভাবে পারমানবিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে
VACCINATIONS:
উপকারের কথা বলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার কথা বলে দেয়া হলেও Deficit Hyperactivity Disorders, Autism, Asthma, Skin Disorders, Cancers and Diabetes সহ স্বাস্থগত অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে
WORLD CONVERSION OR DESTRUCTION?
Albert Einstein তত্ব দিয়েছে যে- without the bee, humanity would only survive for four years. 2007 সালেই দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর ৫০% মৌমাছি উধাও হযে গেছে এবং পুরা বিশ্বথেকে সর্ম্পর্ন মৌমাছিই এখন উধাও হয়ে যাবার পথে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের্ একে গবেষক উল্লেখ করে- A researcher at Emory University in Georgiareports13: If beehive colony collapse continues at the past years rate then 5 ½ billion people could starve todeathwithin five years which is 2012.

জন্ম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে- আন্তর্জাতিক চক্রান্ত,যার মাধ্যমে মুসলমানদের চরিত্র নষ্ট , সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখার নীল নকশা
ইহুদী প্রচার মাধ্যমগুলোর কারণে মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি সমস্যা নিয়ে চিন্তিত ইহুদীরা এ বিষয়টি জনসংখ্যা বিস্ফোরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে এবং বলা চলে তা প্রায় প্রতিষ্ঠিত করিয়েছে
প্রচারণা চালানো হয়, বাংলাদেশের মোট আয়তন এক লাখ ৪৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এর মধ্যে ভূমির পরিমাণ এক লাখ ৩৩ হাজার ৯১০ বর্গকিলোমিটার বাকি জায়গা নদ-নদী ও পানিয়াশয় ভূমির মধ্যে আবার শতকরা ৬৭ ভাগ চাষযোগ্য, ১৬ ভাগ বনাঞ্চল, ৪ ভাগ তৃণভূমি এবং ২ ভাগ স্থায়ী শস্য উৎপাদন ক্ষেত্রএত মানুষের জন্য এত কম জায়গা নাকি সমস্যা!

কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে যে দেশের ভূ-ভাগ বাড়ছে সে তথ্য একবারও উচ্চারণ করা হয়না পাশাপাশি বিশেষভাবে একেবারেই বলা হয়না যে, আনুপাতিক হারে বাংলাদেশের ভূমি শুধু উর্বরই নয় বরং বসবাসের যোগ্য যার কারণেই আজ বাংলাদেশ
. বিশ্বে চতুর্থ চাল উৎপাদনকারী দেশ
. সবজি উৎপাদনে তৃতীয়ঃ রফতানি ৫০ দেশে
. বিশ্বে মাছ উৎপাদনে ৪র্থ
. আলু উৎপাদনে ৮ম
. আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম
. ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ ৭
. তৈরী পোষাক শিল্পে দ্বিতীয়
. ১২৫টি দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ
রাশিয়া, চীন, ভারত,আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ইতোমধ্যে বিশাল বিশাল মরুভূমি, বনজঙ্গল যেমন রয়েছে তেমনি তাদের ভূমি এত উর্বরও নয়সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে হিসাব দেখানো হয় তা যথার্থ নয়
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শুধু ইউরোপ , আমেরিকাতেই নয় বরং জনসংখ্যাবিদদের মতে আগামী পঞ্চাশ বছরে এশিয়ায় জাপানের জনসংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে কারণ সেসকল দেশে জন্মহার কমছে, অন্যদিকে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে যার কারনে সেসকল দেশ অধিক সন্তান জন্মদানের জন্য নানাবিধ পুরষ্কার ঘোষণা করছে যেমন- . বিনামূল্যে জমি বিতরণ করছে কানাডা সরকার!
. জনসংখ্যা বাড়াতে সিঙ্গাপুরে মন্ত্রণালয়
.হিন্দু জনসংখ্যা বাড়াতে ১০ সন্তান নেওয়ার আহ্বান!
. সার্বিয়ায় জনসংখ্যা বাড়াতে ভালোবাসার ভোজ
. জনসংখ্যা বাড়াতে জাপান সরকারের উদ্যোগ
. ডেনমার্কে জনসংখ্যা বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা!
. জনসংখ্যা বাড়াতে রাশিয়ার পরিবারগুলোর প্রতি প্রেসিডেন্ট পুতিনঃ কমপক্ষে ৩টি শিশু নিন
. ফিনল্যান্ডে জনসংখ্যা বাড়াতে বেবি বোনাস
. জনসংখ্যা বাড়াতে চায় স্পেন সরকার
১০.জনগনকে খরগোশের মতো সন্তান জন্মদানের আহবান পোল্যান্ড সরকারের! 
১১. মিজোরামে ৪ টি করে সন্তান জন্ম দিতে চার্চের আহবান
এই যখন প্রকৃত অবস্থা তখন এদেশে তথা মুসলিম বিশ্বে এখনও বেশ কিছু কথাকথিত দ্বীনী ও দুনিয়াবী শিক্ষিত লোক জন্ম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বলে থাকে
আর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমেও এর প্রয়োজনীয়তা ঢালাওভাবে প্রচার করে জনগণকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধও করা হয়ে থাকে মূলত জন্ম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে- একটি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত, যার মাধ্যমে মুসলমানদের চরিত্র নষ্ট করার তথা মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকিয়ে তাদের সংখ্যা হ্রাস করার একটি নীল নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে অথচ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা এমন মেয়ে বিয়ে কর যাদের সন্তান অধিক হয় কেননা, ক্বিয়ামতের ময়দানে আমার উম্মাহর আধিক্য দ্বারা আমি অন্যান্য নবী আলাইহিমুস সালামগণের মাঝে ফখর করব সুবহানাল্লাহ!
প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনের মতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে মূলত জনসংখ্যা মানব সম্পদ কাজেই এর হ্রাস নয় বরং যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই মুসলমানদের দ্বীন ও দুনিয়ার উন্নতি সম্ভব তাই ইহুদীরা নিজেদের সংখ্যা হ্রাসের ভয়ে তথা মুসলমানদের উন্নতি রোধকল্পে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ঠেকিয়ে রাখতে চায় অতএব, মুসলমান সাবধান হোন, সচেতন হোনজন্মনিয়ন্ত্রণ নয়, অধিক সন্তান কামনা করুন

জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেশের উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি!
আশির দশকেও দেশে পরিবারপিছু পাঁচ-ছয়টি করে সন্তান খুব চেনা দৃশ্য ছিল সে সময় কুফরি স্লোগান ছিল ছেলে হোক, মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট নাউযুবিল্লাহ! পরে তা আরো সংশোধন করে নতুন কুফরি স্লোগান চালু করা হয়, দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয় নাউযুবিল্লাহ! যে শ্লোগানের মাধ্যমে দেশকে বিপদজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলা হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে দেশে গড় জন্ম হার ছিল ৬., ২০১১ সালে তা নেমে এসেছে ২.- দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তা ২-এর নিচেও নেমে গেছে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশ ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী তা কমে হয়েছে ১.৩৪ শতাংশ সর্বশেষ হিসাবমতে, দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ৮ শতাংশ
জনসংখ্যা বৃদ্ধির রাশ টেনে ধরা দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, যা জনসংখ্যাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে তারা বলছেন, গড় জন্ম হার ২-এর নিচে নেমে গেলে অদূর ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক হারে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে সে ক্ষেত্রে ৩০ বছরের মধ্যেই দেশে মাথাভারী জনসংখ্যা বা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যেতে পারে তখন নবীন-প্রবীণে ভারসাম্য থাকবে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাবে প্রবীণরা দেশের ও জাতির জন্য বোঝা হয়ে দেখা দেবে, কারণ কর্মক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা-পুনর্বাসন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে
এখন বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেয়ে জনসংখ্যার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেয়া বেশি জরুরি নয়তো বিপদ বেশি দূরে নয় বিশ্বের অনেক দেশই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছে কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় অন্য দেশ থেকে মানুষ ধার করতে হয়েছে বাংলাদেশে এখন পজিটিভ পপুলেশন গ্রোথ একেবারেই ভারসাম্যের শেষ সীমায় চলে এসেছে এমনকি খুলনা-রাজশাহীতে জন্ম হার জাতীয়ভাবে প্রত্যাশিত হারের চেয়েও নিচে নেমে ১.-এ ঠেকেছে ঢাকা বিভাগেও যদি জন্ম হার কোনোভাবে নিম্নগতির হয়ে যায় তবে তা দেশের জন্য অবশ্যই নেগেটিভ গ্রোথ হয়ে উঠবে
বর্তমানে গড় জন্ম হার ২. এ হারে জনসংখ্যা বাড়লে ২০৪৭ সাল নাগাদ দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রবীণদের সংখ্যা বেড়ে যাবে অর্থাৎ নবীন-প্রবীণে ভারসাম্য থাকবে না তখন বয়স্ক ব্যক্তিরা দেশের ও জাতির জন্য বোঝা হয়ে দেখা দেবে কারণ একদিকে তারা কর্মক্ষমতা হারাবে, অন্যদিকে তাদের চিকিৎসা-পুনর্বাসন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে দেশে এখন মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশের বেশি মানুষই কর্মক্ষম, যাদের মধ্যে বড় অংশই তরুণ
বর্তমানে দেশে প্রবীণদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই দারিদ্র্যের শিকার, যাদের মৌলিক চাহিদা পূরণেরও সামর্থ্য নেই যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং পারিবারিক ও সামাজিক নীতিগত অবক্ষয়ের কারণে প্রবীণদের প্রতি অবজ্ঞামূলক আচরণ দেখা যায়, যা মর্যাদার জায়গা থেকেও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কষ্টের সামনে যত প্রবীণ বাড়বে ততই এ সমস্যা বাড়বে
আমাদের মূল সমস্যা জনসংখ্যা নয় যে পরিমাণ জায়গা আছে তা যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে এ জনসংখ্যাই শক্তিতে পরিণত হবে বিশেষ করে সুষ্ঠু নগরায়ণ ও জন ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি কোন এলাকায় কত মানুষ বসবাস করবে, তা ঠিক করে দেওয়া, সেখানে কী পরিমাণের অবাসন-রাস্তাঘাট প্রয়োজন হবে, তা আগে পরিকল্পনা করার সময় এসেছে
জনসংখ্যার কারনেই জাতীয় উন্নয়ন কর্মকা-কে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তবে জন্ম নিয়ন্ত্রন করলে, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর বাংলাদেশ এ রকম সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে এরপর দেশে যুবকদের চেয়ে বৃদ্ধের সংখ্যা বাড়বে বর্তমানের বাড়ন্ত তারুণ্য যাবে পড়ন্ত বেলায়
জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে জনসংখ্যা সুবিধা আখ্যা দিয়ে বলছেন, একটি জাতির জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতি একবারই আসে এ সুবিধা সামগ্রিকভাবে যত ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, জাতীয় উন্নয়নও তত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় যুবশক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে না পারলে ঐ রাষ্ট্র অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবেই টিকে থাকে তাই বাংলাদেশের কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে হবে গুণগত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
উন্নয়ন ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে অধিক জন্মহারের অনেক দেশই এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে এ জাতিগুলোতে যখন তরুণরা এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশি হয়েছে তখনই দেশগুলোর পরবর্তী উন্নয়নের গতিমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যার দিক থেকে দারুণ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দেশের প্রতি তিনজনে দুই জনই উপার্জনক্ষম নির্ভরশীল ও বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সঞ্চয় বাড়ছে
বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা-সুবিধার মত পরিস্থিতি নিয়ে ১৯৬৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে পূর্ব এশীয় দেশ চীন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উন্নতি করেছিল চীন বিপ্লবের পথ সুগম এবং এর পরের উত্থান ঘটেছে তারুণ্যের এমন বিস্ফোরণেই ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া এবং নাইজেরিয়া একইরকম জনসংখ্যা সুবিধা অর্জন করেছিল কোরিয়া যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে আর নাইজেরিয়া এতে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ না করায় অনুন্নত দেশই রয়ে গেছে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পপুলেশন কাউন্সিলের দেশীয় পরিচালক ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞ ড. ওবায়দুর রব বলেন, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সসীমা মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ই তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা গড়ে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মূল সময় এবং কর্মজগতে প্রবেশের সময়ও এটি কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশে এখনও এ তরুণদের উন্নয়ন ও সহায়তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ও সহায়তায় বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করতে হবে
দেশের জনসংখ্যা কাঠামোতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কাজ করতে সক্ষম মানুষের চেয়ে অক্ষম মানুষের সংখ্যা কম প্রতি তিন জনের দুই জনই উপার্জন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ যদি করা হয় তাহলে তা বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর হবে তখন উলটো বেশি করে সন্তান গ্রহণ করার জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করা লাগবে যেমন করছে অমুসলিম দেশসমূহ জনসংখ্যা মহান আল্লাহ পাক উনার দান, খাছ রহমত তাই জন্মনিয়ন্ত্রন নয় , বেশি করে যাতে সবাই সন্তান গ্রহণ করেন সে বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা সরকারের দায়িত্ব এবং কর্তব্য
বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে- এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে, এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়ঙ্কর।এন.সি-২৩৫
বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া 
বলতেছে- এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে,
এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়ঙ্কর।
Image result for জাহাজ
বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে- এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে,
এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়ঙ্কর।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ বলতেছে না, এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নিলো কিভাবে ?
কিংবা এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নেয়ার পেছনে কে দায়ী ?
অথচ এই বিষয়টি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিএস-সিবিএন সহ অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এসেছে।
খবর বলছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ শিশুর উপর পরীক্ষামূলকভাবে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেংভেক্সিয়া’ প্রয়োগ করে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি।
২০১৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, “If people who never had dengue are vaccinated and later become infected, the vaccine may provoke a much more severe form of the illness.”
অর্থাৎ যাদের আগে ডেঙ্গু হয় নাই, তাদের শরীরের যখন ডেংভেক্সিয়া’ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়, তখন সেই ভ্যাক্সিন উৎসাহিত করে আরো কঠিন মাত্রার অসুস্থতা।
(https://nyti.ms/2kFhl1A)
২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারীর এবিএস সিবিএন নিউজ বলছে-
The Philippines late last year halted the vaccination of public school students with the vaccine Dengvaxia after French drug maker Sanofi disclosed that it might increase the risk of severe dengue in recipients not previously infected by the mosquito-borne virus.
অর্থাৎ যাদের শরীরে ডেঙ্গু আগে হয় নাই, এ ডেঙ্গু ভ্যাক্নিন দেয়ার ফলে আরো মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।
আরো বলা হচ্ছে-
Dr. Antonio Dans, an epidemiologist from the University of the Philippines, earlier warned that Dengvaxia could act like a primary infection for those who had never had dengue.
If they were bitten by a mosquito carrying the virus after the vaccination, it could allegedly be akin to getting dengue a second time, which often leads to far more severe symptoms and potentially death if bad cases are not treated quickly, he said.
অর্থাৎ Dr. Antonio Dans (epidemiologist) বলছে- যাদের শরীরে ডেঙ্গু হয় নাই তাদের জন্য এই ভ্যাক্সিনটি প্রাইমারী ইনফেকশন হিসেবে কাজ করবে। এরপর যদি তাকে ডেঙ্গু জীবানু বাহিত মশা কামড় দেয়, তখন তার মধ্যে মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হতে পারে।
এরপর ভ্যাকসিন দেয়ার পরবর্তী কি ঘটছে, সেখানে বলা হচ্ছে-
Dr. Erwin Erfe, head of the PAO Forensic Laboratory, said the 4 children they examined contracted dengue 6 months after receiving the vaccine.
The fatalities had internal bleeding, enlarged organs and petechial rashes. One of them died within 24 hours after experiencing dengue symptoms, he told radio DZMM.
ভ্যাক্সিন দেয়ার ৬ মাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন শিশুকে Dr. Erwin Erfeপরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর কারণ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, অর্গানগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে এবং লাল বর্ণের র‌্যাশ হচ্ছে।
(সূত্র: https://bit.ly/2YD43EV)
আমার ধারণা- নতুন ধরনের ডেঙ্গু তৈরী হওয়ার কারণ।ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ বাচ্চার উপর স্যানোফি’র ভ্যাক্সিন টেস্ট, যার দরুণ এক বছরের মাথায় দেশটিতে ভয়ঙ্কর রকমের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী হিসেবে আক্রান্ত হয় ১ লক্ষ এবং মারা গেছে প্রায় ৫শ’।
স্যানোফি’র ভ্যাক্সিনেশনের ফলে নতুন মাত্রায় জন্ম নেয়া ডেঙ্গুটি ভিয়েতনাম, কলোম্বিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে (এক থেকে দেড় বছর) বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। খুব শিঘ্রই এটি বাংলাদেশকে অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে যাবে।
আমার কথা হলো, এই নতুন মাত্রার ডেঙ্গুটি যে এসেছে বা আসছে তা তো আজ থেকে দেড় বছর আগেই বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয় এবং সেই নতুন জ্বরের লক্ষণগুলো কি হবে তাও প্রকাশ হয়ে যায়। এবং এই ঘটনার সাথে যে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি জড়িত সেটাও তো মোটামুটি প্রকাশ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশে কোন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট বা সরকার-বিরোধীদল প্রকাশ করতেছে না কেন ?
আমি একটা জিনিস দেখেছি, কোন অপকর্মেযদি কোন বহুজাতিক কোম্পানি বা ইহুদীরা জড়িত থাকে (স্যানোফির প্রধান এক ইহুদী), তখন কেন যেন সবাই সেটা এড়িয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। আজ থেকে দেড় বছর আগেই যদি আমরা জানতাম, বহুজাতিক ওষধ কোম্পানি স্যানোফি টেস্টের ফলে এক নতুন ধরনের ডেঙ্গু জন্ম নিয়েছে এবং সেই ডেঙ্গুতে রোগির মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে কি বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে পারতো না ?
ছবি: স্যানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন টেস্টের বিরুদ্ধ ফিলিপাইনে গণমানুষের বিক্ষোভ এবং (নিচে) ফিলিপাইন থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার হয়ে বাংলাদশে এসে পৌছেছে ভয়ঙ্কর মাত্রার ডেঙ্গু।
Image may contain: 2 people
সরকার আজকে ঘোষণা দিয়েছে, দেশের সমস্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় যৌন-প্রজনন শিক্ষা চালু করবে । এন.সি-২৩৪
সরকার আজকে ঘোষণা দিয়েছে, দেশের সমস্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় যৌন-প্রজনন শিক্ষা চালু করবে 
Related image
সরকার আজকে ঘোষণা দিয়েছে, দেশের সমস্ত স্কুল ও মাদ্রাসায় যৌন-প্রজনন শিক্ষা চালু করবে (https://bit.ly/2yFO3as)।
এ বিষয়টি নিয়ে গত মার্চে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, লেখাটা আবার শেয়ার করলাম। https://bit.ly/2MDSKd7
Noyon chatterjee 5
গতকালকে বিবিসি বাংলা’র একটা খবর ভাইরাল হইছে,
খবরের শিরোনাম: “স্কুলে যৌন শিক্ষা: বাংলাদেশে ‘জেনারেশন ব্রেকথ্রু’ প্রকল্পের ক্লাসরুমে যা পড়ানো হচ্ছে”
৩৫০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে স্কুলের বাচ্চাদের এমন সব বিষয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, যা সাধারণভাবে আলোচনা করতে বাংলাদেশের মানুষ লজ্জা বোধ করতো। দাবী করা হচ্ছে, “দুই বছর মেয়াদী এই কোর্সে, শিক্ষার্থীরা বয়ঃসন্ধিকালীন এসব অবশ্যম্ভাবী ইস্যুগুলো সম্পর্কে জানছে। তারা শিখছে প্রজননস্বাস্থ্যের নানা দিক। যৌনবাহিত এবং যৌনাঙ্গবাহিত রোগ সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে। শিখছে এসব রোগ থেকে দূরে থাকার উপায়।....... বিদ্যালয়ের একটি বিশেষ শ্রেণীকক্ষে গত ৫ বছর ধরে এসব শিখছে বিদ্যালয়টি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা। বাংলাদেশ সরকারের 'জেনারেশন ব্রেকথ্রু' নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এই শ্রেণীকক্ষটি তৈরি হয়েছে। কক্ষটির নাম দেয়া হয়েছে 'কিশোর কিশোরী কর্নার'। আর এখানে তারা পড়ছে 'জেমস' নামে একটি কোর্স যেটির পূর্ণরূপ দাঁড়ায় 'জেন্ডার ইকুয়িটি মুভমেন্ট ইন স্কুলস'। কোর্সটি অনেকটা পশ্চিমা দেশগুলোর বিদ্যালয়ে পড়ানো সেক্স এডুকেশন বা যৌন শিক্ষার আদলে সাজানো।..........” (https://bbc.in/2HIONCa)
এতক্ষণ তো বিবিসির খবর পড়লেন, এবার আসুন আমরা অন্য সোর্সগুলো থেকে স্কুলে যৌন শিক্ষা’র বিষয়টি যাচাই করে দেখি।
প্রথমে আমরা দেখবো, 'জেনারেশন ব্রেকথ্রু' নামক পাইলট প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে কে এবং কত টাকা ?
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট (https://bit.ly/2UWQtel) বলছে, এই পাইলট প্রকল্পে ফান্ড দিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বা ইউএনএফপিএ। টাকার পরিমাণ ২.২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এখানে আমার প্রশ্ন,
--যৌন শিক্ষার বিষয়টি তো শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত । তাহলে এই ফান্ড তো দেয়ার কথা ছিলো জাতিসংঘের শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর। আর যদি স্বাস্থ্য বিষয়ক দিক থেকে চিন্তা করি, তবে ফান্ড দেয়ার কথা ছিলো জাতিসংঘের অধীনস্থ ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু’ এর । কিন্তু টাকা ‘জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল’ দিবে কেন?
--তারমানে এই শিক্ষাটা কি জনসংখ্যা’র সাথে সম্পৃক্ত ? মানে এমন কোন শিক্ষা যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাসে সহায়ক হবে ?
--কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ শিক্ষা তো বিবাহিত দম্পত্তিদের দেয়া হচ্ছে, কিন্তু স্কুলের বাচ্চাদের কেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শিখতে হবে ?
বাংলাদেশে এই শিক্ষা দেয়ার সময় বলা হচ্ছে, বাচ্চাদের জড়তা কাটানো হচ্ছে, বাচ্চাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান, প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান, বয়ঃসন্ধি সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আসলে এই শিক্ষার আড়লে কি উদ্দেশ্য আছে ?
যেহেতু বাংলাদেশে এই শিক্ষাটি পাইলট প্রকল্প করে নতুন করে আনতে চাওয়া হচ্ছে, তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে লুকাছাপা করা হবে। তাই যেসব দেশে এই শিক্ষা চালু আছে, তারা কেন এই শিক্ষা প্রণয়ন করতে চাইছে, সেটা আগে বোঝা দরকার।
তাদের ওয়েবসাইট ঘেটে আমি যেটা বুঝলাম, যারা মুখে যত সুন্দর কথাই বলুক, স্কুলে বাচ্চাদের ‘যৌনশিক্ষা’ দেয়ার মূল উদ্দেশ্য-
“তুমি ভয় জয় করে সেক্স করো, সমস্যার (গর্ভধারণ, যৌনরোগ) সমাধান (জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি/সেভগার্ড) শিখিয়ে দিচ্ছি।”
(https://bit.ly/2CzpmQa)
যেহেতু কিশোরী মেয়েদের অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ আটকানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য, তাই ফান্ডও দিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিষয়ক সংস্থা।
স্কুলে যৌনশিক্ষা দেয়া বিষয়টি সারা বিশ্বজুড়ে একটি বিতর্কিত বিষয়। অনেক দেশেই এর বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ হয়েছে। গার্জিয়ানরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে স্কুলে যৌন শিক্ষা বন্ধ করার জন্য।
ক) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে স্কুলে যৌন শিক্ষার বিরুদ্ধে গার্জিয়ানদের প্রতিবাদ - https://bit.ly/2TcfrsN
খ) কানাডার অনটারিওতে গার্জিয়ানদের প্রতিবাদ (https://bit.ly/2FCqe7J)
এই সব যৌন শিক্ষার বইয়ে কি থাকে ?
বাংলাদেশে যেহেতু বিষয়টি নতুন এসেছে, তাই এখনও হয়ত প্রকাশ্যে অনেক কিছু বলছে না। কিন্তু যেসব দেশের স্কুলে বেশ কিছুদিন ধরে এই শিক্ষাটি চালু আছে, আসুন দেখি তাদের বইয়ে কি দেয়া হচ্ছে-
---- ব্রিটেনের ৫-৭ বছরের বাচ্চাদের স্কুলে যৌন শিক্ষার নামে কি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, এই লিঙ্কে দেখুন- (https://bit.ly/2WshG97)
--- ব্রাজিলে বাচ্চাদের যৌন শিক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিজেই। সে স্কুলে বাচ্চাদের বই নিয়ে দেখাচ্ছে বইগুলোর মধ্যে কি ধরনের জিনিস আছে - https://bit.ly/2FCqsM7
উল্লেখ্য পৃথিবীর ১০টি শীর্ষ ধর্ষণ সংগঠিত হয়, এমন রাষ্ট্রগুলো-
১) যুক্তরাষ্ট্র, ২) দক্ষিণ আফ্রিকা, ৩) সুইডেন, ৪) ভারত, ৫) যুক্তরাজ্য, ৬) জার্মানি, ৭) ফ্রান্স, ৮) কানাডা, ৯) শ্রীলঙ্কা, ১০) ইথিওপিয়া (https://bit.ly/2HIJr9Y)
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই ১০টি দেশেই স্কুলে অনেক দিন ধরে যৌনশিক্ষা চালু আছে। যদিও দাবী করা হয়, যৌন শিক্ষা চালু হলে ছেলে-মেয়েরা কাছাকাছি আসলে এই নির্যাতন কমবে, কিন্তু বাস্তবে এতদিন ধরে যৌন শিক্ষা চালু থাকলেও ঐসব দেশে যৌন নির্যাতন কমে নাই, বরং বেড়ে গেছে।
এখন কথা হলো, বাংলাদেশেও স্কুলে যৌনশিক্ষা চালু হলে, বাংলাদেশেও যে ঐ শীর্ষ ধর্ষণপ্রবণ রাষ্ট্রের তালিকায় অবস্থান নিবে না তার কি গ্যারান্টি ?
স্কুলে যৌন শিক্ষা চালু হলে কি সমস্যা হবে ?
ক) এতদিন যৌন বিষয়ক শিক্ষা পারিবারিকভাবে ও বিশ্বাসভাজন ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেই হয়ে আসছিলো। কিন্তু স্কুলে যখন এই যৌন শিক্ষা দেয়া শুরু হবে, তখন এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন আসবে। যেমন- ধরুন, ক্লাসে কোন পুরুষ শিক্ষক ছাত্রীদের যৌনশিক্ষা দিচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে ছাত্রী-শিক্ষকের মধ্যে অনেক বিষয় বাধন উন্মুক্ত হবে। এমত অবস্থায় ঐ পুরুষ শিক্ষকটি ঐ ছাত্রীদের উপর কোনভাবে সুযোগ নিবে কি না ? ঐ শিক্ষকটি আসলে কতটুকু বিশ্বস্ত ? ঐ শিক্ষকটি যে যৌনশিক্ষা দেয়ার নাম করে ছাত্রীটিকে নিপীড়ন করবে না, তার কি গ্যারান্টি ? দেখা যাবে, স্কুলগুলো এই শিক্ষা চালু হলে ছাত্রী নিপীড়ন সকল বাধন ভেঙ্গে উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
খ) একজন পুরুষ মহিলার মধ্যে কিভাবে বায়োলোজিকাল সম্পর্ক ঘটে - এই শিক্ষাটা দিতে কত সময়ের দরকার ? ৫ মিনিট, ১০ মিনিট ?
কিন্তু বছরের পর বছর যৌন শিক্ষার নামে কি শিক্ষা দেয়া হবে ? কি কি নতুন টপিকস আলোচনা হবে ? ব্রিটেনের যৌন শিক্ষা ক্লাসে ৫+ বছরের বাচ্চাদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে- “অ্যানাল ইন্টারকোর্স, বাই সেক্সুয়াল, ক্লিটোরিস, অ্যানাস,ইরিকশন, হোমোসেক্সুয়াল, ইনসেস্ট, মাস্টারবেশন, অর্গাজম, ওরাল সেক্স, প্রসটিটিউট” এই আলোচনার প্রভাবে সব কিছু সহজ হয়ে গেলে কতদিনের মধ্যে তা প্ল্যাকটিক্যালে গড়াবে তা নিয়েও আলোচনা করার দরকার।
গ) যৌন শিক্ষার মধ্যে অন্যতম পাঠ্য হবে সমকামীতা বা গে/লেসবিয়ান/বাইসেক্সুয়াল শিক্ষা। যে ছেলে বা মেয়েটি এখনও সেক্স কি বুঝে উঠে নাই তাকে যখন গে/লেসবিয়ান সম্পর্কে ধারণা দেয়া হবে, তখন দেখা যাবে যৌন ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়ার পর সে সঠিক যৌনতা ছেড়ে গে/লেসবিয়ান হয়ে গেছে। গে/লেসবিয়ান হওয়া মানে একটি জাতিকে আনপ্রডাক্টটিভ করে দেয়া।
ঘ) যারা এই শিক্ষা দিচ্ছে, তাদের মূলে উদ্দেশ্য কিশোরীরা যেন গর্ভধারণ না করে কিংবা কেউ যেন যৌনরোগে আক্রান্ত না হয়। খুব ভালো কথা। সেক্স করে তারপর কেন গর্ভধারণ বা যৌনরোগের কথা ভাবতে হবে ?
আমরা এমন শিক্ষা চালু করি, তোমরা ছোট বয়সে অবৈধ সেক্স করো না, তাহলেই তো গর্ভধারণও হয় না এবং যৌনরোগও হয় না। বর্তমানে আমরা সমাজে নৈতিকতা শিক্ষার মাধ্যমে কিন্তু সেটাই দিচ্ছি। কিন্তু তারা নৈতিকতা শিক্ষার বাধন তুলে বাচ্চাদের সেক্সও করতে দিতে চাইছে, আবার গভর্ধারণ ও যৌনরোগ আটকাতে চাইছে, বিষয়টি কেমন হলো ?
বিবিসির রিপোর্ট আপনারা দেখেছেন,
“স্কুলে বাচ্চারা বলছে, আমাদের কাছে এইসব কথা বলা খুব সহজ হয়ে গেছে। আমরা ফ্রি এসব কথা বলতে পারছি, আমাদের বাধা আসছে না। ”
তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, “আহ! দেশ বোধ হয় খুব এগিয়ে গেলো”।
আচ্ছা, এসব কথা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা কি জরুরী কোন বিষয় ? এই আলোচনা করলেই কি দেশ এগিয়ে যাবে ? বিভিন্ন পতিতালয়ে গিয়ে দেখুন, ছোট ছোট কিশোরী পতিতারা এইসব কথা প্রকাশ্যে লজ্জাহীন ভাবে বলছে। তাহলে পতিতালয় গুলো কি অন্য সব স্থান থেকে এগিয়ে নেই ?
দেশ, অর্থনীতি, জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে অনেক আলোচনার দরকার আছে,
দেশকে এগিয়ে নিতে এসব বিষয়ে আরো শেখা ও আলোচনার দরকার। এগুলো নিয়ে আমাদের স্কুলের বাচ্চাদের আমরা এখনও শেখাতে পারিনি ঠিক মত। এ অবস্থায় যদি বাচ্চাদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা ফেলে সেক্স নিয়ে আলোচনায় বসিয়ে দেই, তবে তার প্রভাব কতদূর যাবে ? আপনি শিখিয়ে দেবেন থিউরী, ওরা নেমে যাবে প্ল্যাকটিক্যালে, তারপর কি হবে তা নিজেই ভেবে দেখুন।
একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন, পারিবারিক বাধন ও নৈতিকতার দিকে থেকে আমরা পশ্চিমাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছি। আমাদের এই এগিয়ে থাকা তাদের জন্য হিংসের কারণ। পশ্চিমারা হচ্ছে লেজকাটা শেয়াল, তাদের না আছে পারিবারিক বাধন, না আছে নৈতিকতা। তারা নিজের লেজ কেটে ফেলেছে অনেক আগে এখন আমাদের লেজ কিভাবে কাটতে হবে, কাটলে কত উপকার হবে তার গুন বর্ণনা করছে। এবং কাটার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পয়সাও সরবরাহ করছে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল নাহিদ কেন বিদেশীদের টাকা খেয়ে আমাদের আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করতে নেমেছে, সেজন্য তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো উচিত।
ছবি: ব্রিটেনে স্কুলগুলোতে ৭+ বছরের বাচ্চাদের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে `পৃথিবীতে তুমি কোথা থেকে আসলে’।
মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া। এন.সি -২৩৩
মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ 
করবে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া

জুলাই মাসের শেষ দিকে একটা খবর মিডিয়াতে আসে,
মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করবে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া
Related imageখবরের ভেতর বলছে-
মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানকে এক সাথে কাজ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মাহাথির মোহাম্মাদের মধ্যে। অন্য দিকে তাদের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান।
সরকারি সফরে বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করছেন মাহাথির মোহাম্মাদ। আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রসাদে রজব তাইয়েব এরদোগানের একান্ত বৈঠকের পর দুই নেতা হাজির হন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিবৃতি দেয়া খুব সহজ। কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তাই মুসলিম উম্মার স্বার্থে তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের একসাথে কাজ করা জরুরি।
এরদোগানের সাথে সুর মিলিয়ে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, মুসলিম উম্মাহকে অন্যদের অধীনস্ততা থেকে মুক্ত করতে হবে। এর জন্য মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে এই তিনটি দেশকে (তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়া)।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এ কারণেই আমি এই তিনটি মুসলিম দেশের পারস্পারিক ঐক্য ও সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছি। অন্তত এই তিনটি দেশ ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত যাতে আমরা প্রতিরক্ষাসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে জোর গলায় কথা বলতে পারি। (https://bit.ly/2YHSHn3)
এ খবরটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, কিন্তু অবাক করার বিষয়-
বাংলাদেশের স্যোশাল মিডিয়াতে খবরটা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা দেখি নাই।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষ ‘ঐক্য’ নামক বিষয়টি ভুলে গেছে।
যেহেতু ৩টি মুসলিম দেশ একত্র হয়েছে মুসলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে,
যেহেতু বাংলাদেশেরও এখানে সমর্থন বা যোগ দেয়া উচিত।
হ্যা এটা ঠিক, হাসিনা সরকার হয়ত সেই ঐক্যে যোগ দিতে চাইবে না।
কিন্তু জনগণের পক্ষ থেকে অন্তত একটা জোড়ালো দাবী তো উঠতে পারে।
আমি দেখেছি কোন ইস্যুতে যদি জনগণ শক্ত ভূমিকায় অবর্তীণ হতে পারে, তবে অবশ্যই সরকারের সেখানে সাড়া মিলে। কিন্তু জনগণকে হতে হবে অবশ্যই শক্ত।
এরকম ৫-৭টা মুসলিম দেশের একটি সম্মিলিত সেনাবাহিনী থাকতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে থাকতে পারে।
তুর্কিরা ন্যাটো ট্রেনিং প্রাপ্ত, তাদের থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
কোন স্থানে মুসলিম নির্যাতন হলে, সেই বাহিনীর ভূমিকা থাকবে।
আর হ্যা এই সম্মিলিত বাহিনীর যদি অর্থ প্রয়োজন হয়, তবে সেখানেও বাংলাদেশ যোগান দিতে পারে।
সেটা বাংলাদেশ সরকারকে দিতে হবে না, এই সম্মিলিত বাহিনী যদি মুসলিমদের পক্ষে কাজ করে,
তবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে তার রক্ত বিক্রি করে সেই বাহিনীর জন্য অর্থ খরচ করবে।
আমি জানি, বাংলাদেশে অনেক ধরনের মানুষ আছে।
তারা কেউ এই ঐক্যের কোন সদস্যের পক্ষ-বিপক্ষে মত থাকতে পারে।
কিন্তু সত্য বলতে কি জানেন, সকল ইস্যুতে সকল মানুষের সাথে কখন ঐক্য হয় না।
সাধারণত ঐক্য হয় দুইভাবে-
১) কোন ইস্যুর পক্ষে।
২) কোন ইস্যুর বিপক্ষে।
সারা বিশ্বজুড়ে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে এটা নিয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বিমত নাই। কেউ ভিন্ন মতের থাকতে পারে, কারো ব্যক্তিগত কাজকর্ম নিয়েও কারো মধ্যে সন্দেহ থাকতে পারে। এমনকি কারো কোন পলিসি নিয়েও দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে তো বিরোধ থাকার কথা না। সুতরাং সেই ইস্যুতে অন্তত ঐক্য করা যায় এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে তা অবশ্যই জরুরী।
মনে রাখবেন – এখন কাশ্মীর নির্যাতন হচ্ছে, রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে, খুব শিঘ্রই হয়ত আসামে নির্যাতন শুরু হবে। কয়েকদিন পর আপনিও বাংলাদেশে বিদেশী শক্তি দ্বারা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তখন যদি একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম শক্তির সাথে বাংলাদেশের সংযোগ থাকে, তবে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অুমসলিম শক্তিগুলো বাংলাদেশে কোন ঘটনা ঘটাতে ১০ বার চিন্তা করবে। আমার মনে হয়, তিনটি দেশের মধ্যে যে ঐক্য হচ্ছে, এটার পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের প্রচারণা চালানো উচিত এবং বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে সরকারের প্রতি দাবী তোলা- “সরকার যেন এই ঐক্যের সাথে সংযোগ স্থাপন করে।”
Image may contain: 3 people, text
দক্ষিণ সুদান আর পূর্ব তীমুর তো স্বাধীন করে দিলো,। এন.সি- ২৩২
দক্ষিণ সুদান আর পূর্ব তীমুর তো স্বাধীন করে দিলো,
Related image
দক্ষিণ সুদান আর পূর্ব তীমুর তো স্বাধীন করে দিলো,
এখন দেখা যাবে কাশ্মীরের বেলায় তথাকথিত আন্তর্জাতিক মহল কি করে।
কারণ কাশ্মীরের স্বাধীন হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ৩৭০ ধারা উঠে গেছে।
যে শর্তে কাশ্মীর ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃত ছিলো, সেটাই নেই,
যেহেতু সেই শর্তই আর নেই, সেহেতু কাশ্মীরকে স্বাধীন করে দেয়ার কোন বাধা আর থাকতে পারে না।
তবে এখানে একটা বড় ভূমিকা থাকবে, কাশ্মীরী জনগণের।
তাদের শুরুতে অন্তত কিছু একটা করে দেখাতে হবে।
কিছু করে দেখানোর পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে তাদের পক্ষে কাজ করা সহজ হবে।
আর সাধারণ কাশ্মীরীদের মনোভাবটাও বোঝা প্রয়োজন-
তারা কি ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে খুশি,
নাকি নিজস্ব স্বাধীন ভূমির প্রত্যাশী।
তবে নতুন নিয়ম করার কারণ সম্ভবত –
মোদি সরকার কাশ্মীরে তাদের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করবে।
ফলে ইচ্ছা অনিচ্ছায় সেখানে অনেক মুসলিমের বাড়িঘর উচ্ছেদ হবে।
এক্ষেত্রে বেশি আক্রান্ত হবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কাশ্মীরীরা,
ফলে তাদের সাথে ভারত সরকারের দ্বন্দ্ব হওয়া স্বাভাবিক।
এক্ষেত্রে দেখার বিষয়- সেই সব স্থানীয় প্রভাবশালী কাশ্মীরীরা সরকারের দালালী করে থেমে যায়,
নাকি নতুন কিছু করার চিন্তা করে।
যাই হোক, আমি চিন্তা করতেছি অবশ্য অন্য বিষয়।
সম্ভবত ২০১১-১২ সালে যখন ভারতের সমস্ত হিন্দু সংগঠনগুলো একত্র হয়ে মোদিকে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করে, তখন তারা মোদিকে ৩টি শর্ত দিয়েছিলো-
১) ক্ষমতায় গেলে কাশ্মীরের বিশেষ ধারা বিলোপ করতে হবে।
২) অভিন্ন দেওয়ানী আইন প্রবর্তন করতে হবে (৩ তালাক বিল পাশ হওয়া)
৩) রামমন্দির নির্মাণ করা।
গত কয়েকদিনে খুব কম সময়ের ব্যবধানে দেখা গেলো মোদি প্রথম দুটি ওয়াদা পূরণ করলো। এখন বাকি শুধু ৩য় শর্তটা। তবে বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির নির্মাণ এমন একটা ইস্যু, যখন এটা শুরু হয়, তখন শুধু অযোধ্যা না, পুরো ভারত জুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিলো। এমনকি বাংলাদেশেও তার হাওয়া এসে পড়ে। যদি মোদি খুব শিঘ্রই ৩য় ওয়াদাও পূরণ করতে চায়, তবে ভারত উপমহাদেশ জুড়ে একটা বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরী হওয়া খুব অত্যাসন্ন, তা অনুমান করা যায়। এক্ষেত্রে দাঙ্গার প্রধান ভিকটিম মুসলমানদের প্রস্তুত থাকাও তাই খুব জরুরী।
 ২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে। এন.সি- ২৩১
২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে।
Image result for জাহাজ
২০১৫ সালের কথা, রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা রেজওয়ানা বন্যা গিয়েছিলো লন্ডনে। সেখানে গিয়ে ঐ মহিলা লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীদের আহবান করে, তারা যেন মাদ্রাসায় ফান্ডিং না করে বরং কথিত মুক্তবুদ্ধি চর্চায় ফান্ডিং করে। (https://bit.ly/2GSuT5N)
তারও আগের ঘটনা হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা শিতাংশু গুহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলে- “কন্ডিশন পুট করো, মানি ক্যান নট বি স্পেন্ড ইন মাদ্রাসা”। (https://youtu.be/lVXg9ZXJ2-M)
এখান একটি বিষয় স্পষ্ট-
ইসলামবিদ্বেষী মহল সব সময় বলে আসছে- মাদ্রাসার ফান্ডিং যেন বন্ধ করে দেয়া হয়।
আপনারা সবাই জানেন, বাংলাদেশের কোরবানী ঈদে প্রাপ্ত পশুর চামড়া হচ্ছে মাদ্রাসার ফান্ডের একটি বড় অংশ। তাই এই কোরবানীর পশুর চামড়ায় যদি ডিস্ট্রার্ব করা যায়- তবে মাদ্রাসার ফান্ডিং এর একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। তাদের ধারণা- তখনই বন্ধ হয়ে যাবে দেশের অনেক মাদ্রাসা।
সেই টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের পর সবচেয়ে বড় শিল্প ট্যানারি শিল্পের পেছনে লাগে ইসলামবিদ্বেষী মহল। ২০১১ সালে মার্কিনপন্থী আইনজীবি মোনজিল মোর্শেদ পরিবেশ দূষণের অজুহাতে ট্যানারি শিল্প হাজারিবাগ থেকে সরিয়ে সাভারে নিয়ে যেতে রিট করে। সেই রিট ধরে সরকার সাভারের হেমায়েতপুরে একটা যায়গা করে দেয়, কিন্তু সেখানে কোন সুবিধাই নেই একটা ফাকা এলাকা। সেই রিটের আবেদনও ট্যানারি মালিকরা আপিল বিভাগে আটকে রাখে, কিন্তু ২০১৭ সালে এসে ইসকন সদস্য প্রধান বিচারক এসকে সিনহা চূড়ান্ত রায় দেয় সমস্ত ট্যানারি সরে যাওয়ার জন্য।
আপনাদের মনে থাকার কথা, কিছুদিন আগে যখন ঢাকার চকবাজারে আগুন ধরলো, তখন একটি মহল হুট হাট প্রচার শুরু করলো পুরান ঢাকার সমস্ত ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার জন্য। তখন কিন্তু আমি আমার পেইজ থেকে প্রতিবাদ করেছিলাম, বলেছি- পুরান ঢাকার সমস্ত ব্যবসা করে যাবে, সমস্যা নেই। কিন্তু যে স্থানে সরে যাবে সে স্থান কি প্রস্তুত আছে ? আগে স্থান প্রস্তুত করে দাও, তারপর সমস্ত ব্যবসায়ীরা সরে যাবে সমস্যা নাই। কিন্তু যায়গা প্রস্তুত না করে যদি জোরজবরদস্তিমূলকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়, তবে তা নিজ হাতে দেশীয় বাণিজ্য ধ্বংসের নামান্তর হবে। যাই হোক, সে সময় জনগণের প্রতিবাদের কারণে তাড়াহুড়া থেকে সরে আসে সরকার।
কিন্তু ট্যানারির সময় সে রকম কোন প্রতিবাদ হয়নি। যার কারণে হাজারিবাগের বিদ্যুৎ গ্যাস বিচ্ছিন্ন করে এক হিসেবে গলা ধাক্কা দিয়ে ২০১৭ সালে ট্যানারিগুলো বের করে দেয়া হয় (https://bit.ly/2YwY6y4)।
কথা হলো, ট্যানারিগুলো সাভারে চলে যাক সমস্যা নাই । কিন্তু সেই সাভারের এলাকাটা আগে প্রস্তুত করে নেন। ছবিতে দেখুন, সরকার বলছে- ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ (https://bit.ly/2GTKvWD)।
তারমানে এখনও শেষ হয়নি?
আর যদি শেষ না হয়, তবে ২০১৭ সালে কেন ট্যানারিগুলো সরিয়ে দিলেন কেন ?
কেন একটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি শিল্প ধ্বংস করে দিলেন ?
কেন ৫০ লক্ষ লোকের জীবিকা হুমকির মুখে ফেললেন ?
কেন মাদ্রাসার ফান্ডিং এর একটা বড় সোর্স বন্ধ করে দিলেন ?
যদি নতুন ট্যানারি এলাকা প্রস্তুত না করে গলা ধাক্কা দিয়ে কোন শিল্প বের করেন, তবে বুঝতে হবে আপনাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়, আপনাদের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় শিল্প ধ্বংস করা। কারণ একটা ফাকা যায়গায় ট্যানারি মালিকরা গিয়ে কিছুই করতে পারবে না, মোটামুটি তাদের ব্যবসা যদি ৩-৪ বছর আটকে রাখা যায়, তবে বহু ট্যানারি মালিক ব্যবসা ছেড়ে দিবে।
ট্যানারি শিল্পের এ ধরনের অস্থিরতার কারণে চামড়ার দাম অস্বাভাবিক নেমে যায়। ২০১৫-১৬ সালেও যেখানে একটা কাচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। সেখানে চামড়া নগরী ধ্বংস করে ফেলায় এবার চামড়ার রেট হতে পারে ২০০-৩০০ টাকা। গত বছরই দেখা গেছে অনেকে চামড়া নদী ফেলে দিয়েছে, কেউ মাটিতে পুতে ফেলেছে। কারণ একটা চামড়া পরিবহনে যে খরচ তা ট্যানারি পর্যন্ত নিয়ে বিক্রি করে সে পরিমাণ দাম উঠছে না।
এখানে লক্ষণীয়- প্রতি চামড়া থেকে যদি কমকরে ১ হাজার টাকাও মাদ্রাসায় যায়, তবে ১ কোটি চামড়া থেকে ১ হাজার কোটি টাকা মাদ্রাসাগুলো পেতো। ফলে এই টাকাটা মাদ্রাসা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতো, কিন্তু সেখানেই আটকে দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ দূষণের সমাধান কি ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করে দেয়া ?
সত্যি বলতে বাংলাদেশে ট্যানারি শিল্প যতটুকু উঠেছে, পুরোটা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। তাদের যদি আরো হেভি প্রসেসিং মেশিং থাকতো, তবে আরো বেশি দামে উন্নত প্রসেসিং এর চামড়া রপ্তানি করতে পারতো। কিন্তু সরকার সেখানে সহযোগীতা তো দূরের কথা, উল্টো পরিবেশ দূষণের অজুহাত দিয়ে ট্যানারিগুলো সরিয়ে দেয়ার নামে ধ্বংস করে দিলো। এখানে একটি কথা সব সময় মনে রাখবেন- মাথা ব্যাথ্যার সমাধান কিন্তু মাথা কেটে ফেলা নয়। কিন্তু সরকার বার বার সেটাই করে। ট্যানারি বর্জ্য্ নিয়ে যদি সরকার আলাদা প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করে দিতো, তবে সেখান থেকে কোলাজেন, অতঃপর সেখান থেকে মূল্যবান জিলেটিন সংগ্রহ করা যেতো। যেটা রফতানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন সম্ভব ছিলো। কিন্তু কিছুই হলো না।
বাংলাদেশে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ হলে কে লাভবান হবে ?
বাংলাদেশে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ হলে সবচেয়ে লাভবান হবে ভারত। চামড়া বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে- বাংলাদেশের গরুর চামড়া অন্যান্য দেশ, এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতীয় গরুর চামড়া থেকে অনেক মোটা, পুরু ও উন্নতমানের। এ কারণে বাংলাদেশী গরুর চামড়া বিশ্বজুড়ে অনেক চাহিদা। একটা গরুর চামড়া ট্যানারি মালিকরা যে দামে কিনে সেটা প্রসেসিং এর পর কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করতো ইউরোপে । কিন্তু চামড়া শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন ট্যানারি মালিকরা আর চামড়া কিনতে পারছে না, ফলে চামড়ার দাম অনেক পড়ে গেছে। সেই সুযোগ খুব কমমূল্যে চামড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দালালরা এবং লবন দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় জমা করে রাখছে। পরবতীতে সময় সুযোগ মত সীমানা পাড়ি দিয়ে চামড়া পৌছে যাচ্ছে ভারতে ”( https://bit.ly/2yKgbtg)। ফলে বাংলাদেশী চামড়া নিয়ে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে ভারতীয় ট্যানারি ব্যবসায়ীরা, অথচ বাংলাদেশের ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এখন ঋাণের দায়ে ভিক্ষার থালা নিয়ে মাঠে নামার অবস্থা।
এই জন্য আমি সব সময় ‘গুজব’ নিয়ে কথা বলি। আপনারা যদি গুজব বলতে, ৫-১০জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলার উপকরণ বুঝেন, তবে ভুল করবেন। তার থেকে বড় গুজব হলো- বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্য বান্ধব, নিরাপত্তা বান্ধব কথা বলে বাংলাদেশের বড় বড় শিল্পগুলোকে শেষ করে দেয়া। যেমন- আগুনের কথা বলে পুরান ঢাকার ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বংষের ষড়যন্ত্র, সীসা-এন্টিবায়োটিকের কথা বলে দুগ্ধ শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিবেশের কথা বলে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করে দেয়া।
তাই বলছি, যদিও-
মিডিয়া দেশী শিল্পের বিপক্ষে,
বিচারবিভাগ দেশী শিল্পের বিপক্ষে,
সরকার দেশী শিল্পের বিপক্ষে।
কিন্তু তারপরও যদি জনগণ তাদের বানিয়ে দেয়া গুজবে কান না দিয়ে অন্তত দেশী শিল্পের পক্ষে কথা বলে, তবে কিছুটা হলেও ষড়যন্ত্রে বাধা পড়বে। আর সেই বাধাটা হয়ত বাচিয়ে দিতে পারে বড় বড় দেশী শিল্পকে, যার উপর নির্ভর করছে কোটি মানুষের রুটি-রুজি এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা।