কর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে স্ট্যাটাসে আপনাদের একটা শ্লোগান শিখিয়েছিলাম-এন.সি- ৩০৯
কর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে স্ট্যাটাসে আপনাদের একটা শ্লোগান শিখিয়েছিলাম-
Related imageকর্পোরেটোক্রেসি নিয়ে স্ট্যাটাসে আপনাদের একটা শ্লোগান শিখিয়েছিলাম-
“উন্নয়ন চাই না, খরচ কমান”
বলেছিলাম- এই শ্লোগানটা হলো – ঠিক কর্পোরেটোক্রেসি’র বিপরীত।
এটা কর্পোরেটোক্রেসির জন্য এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করবে।
কিন্তু সমস্যা হলো জনগণ এ কথাটা বলতে পারে নাই এবং পারছেও না।
বাজেটের মাধ্যমে কিন্তু সেটাই করা হয়,
জনগণের খরচ বাড়ে, আর দেশে বিদেশীদের প্রভাব বাড়ে,
যাকে আমরা বলছি- কর্পোরেটোক্রেসি।
আরেকটা কথা শিখিয়েছিলাম,
সরকারের কোন টাকা নেই, সব টাকা জনগণের টাকা।
সরকার বিভিন্ন পলিসি করে জনগনের থেকে টাকা নেয় এবং সেই টাকা দিয়ে সব কাজ করে।
আসলে ‘টাকা’ বলেও আসলে কোন বাস্তব সম্পদ নেই।
টাকা হলো এক ধরনের ‘চেক’। সেই চেক দিয়ে জনগণের সম্পদ সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
আবার সেই চেক আন্তর্জাতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদের সম্পদ আমেরিকা নিয়ে যায়।
আসলে বর্তমান বাজেটের আলাদা করে সমালোচনা করার কোন বিষয় দেখি না,
পুরো সিস্টেমরটার মধ্যে গলদ। তবে সিস্টেমটা যদি আমরা ধরতে পারি,
তখন আলোচনা ও সমালোচনা করা আমাদের জন্য সহজ হয়।
কারণ জনগণের সম্পদ কিভাবে সরকার ও তার ভায়া হলে সম্রাজ্যবাদীরা নিয়ে যাচ্ছে,
সেটা জনগণ বুঝতে পারে না। বুঝতে পারলে আলোচনা-সমালোচনা সহজ হয়।
পুরো বাজেট নিয়ে আসলে একবারে আলোচনা করলে আলোচনা অনেক বড় হয়ে যাবে।
কিন্তু এই ছবিটা আমি তৈরী করেছি, যেন পুরো বিষয়টি এক নজরে দেখা যায়।
আজকে আমার লিখিত স্ট্যাটাস নাই, এ ছবিটার উপর ভালোভাবে স্ট্যাডি করুন।
পুরো বিষয়টি ধরতে পারলে খণ্ড খণ্ড বিষয় নিয়ে আলোচনা সহজ হবে।
বি:দ্র: কোন বিষয় অস্পষ্ট হলে কমেন্ট করুণ, উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।
No photo description available.
পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে একজন বাঙালী শ্রমিক মারা গেছে,। এন.সি- ৩০৮
পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে একজন বাঙালী শ্রমিক মারা গেছে,
Image result for স্প্রিং
পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে একজন বাঙালী শ্রমিক মারা গেছে,
“সেই শ্রমিককে নাকি চাইনিজ শ্রমিকরা গুম করতে চাইছিলো”,
এই খবর ছড়িয়ে পরার পর সব বাঙালী শ্রমিক একসাথে চাইনিজদের উপর হামলা করছে, ভাংচুর করছে।
চাইনিজ-বাঙালী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অনেকে আহত এবং ১ চাইনিজ নিহত হইছে।
মোটামুটি এতটুকু খবর সব মিডিয়ায় আসছে। তবে এখানে আরো খবর হইলো-
প্রথম যে শ্রমিকটা মারা যায়, সে একজন হিন্দু শ্রমিক ছিলো, যার নাম সাবিন্দ্র দাস।
তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এবং সে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পার্মানেন্ট কেউ না,
হবিগঞ্জে সে বাড়ি বাড়ি গ্যাসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো, তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লারের কাজ করানোর জন্য আনা হয়। এবং সে একজন গোড়া হিন্দু হিসেবেই পরিচিত ছিলো।
কালেরকণ্ঠ নিউজ করেছে, শ্রমিক মৃত্যুর পর গুজব ছড়ানো হয় এবং সেই গুজব থেকেই দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিডিয়াতে প্রকাশ- গুজবটি ছিলো দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার লাশ গুম করতে চেয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।(https://bit.ly/2WTupkS)
তবে গুজবের বিস্তৃতি যে আরো বেশি ছিলো, তা বোঝা যায় সময় নিউজের লাইভ শুনলে। সেখানে একজন বাঙালী বলছে, (০০:৫৫ এর সময়) ঐ হিন্দু শ্রমিককে চীনারা লাথি মেরে নিচে ফেলে হত্যা করছে, এই খবর তার কানে আসছে। (https://bit.ly/2FjX0Ks)
তবে এত এত টাকা ইনভেস্ট করে, চাইনিজরা একটা সামান্য হিন্দু শ্রমিক মেরে কি ফায়দা নিবে, কিংবা কেনই বা তাদের প্রজেক্ট হুমকির মুখে ফেলবে, সেটার ক্যালকুলেশন মেলানো যাচ্ছে না।
এ কারণেই অনুধাবন করার যায়, হিন্দু শ্রমিক মৃত্যুর পর সেখানে কোন একটি বিশেষ মহল গুজব রটিয়ে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেছে। কথা হলো ঐ বিশেষ মহলটি আসলে কে ??
এখানে জানার প্রয়োজন-
১. পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র কোন বিচ্ছিন্ন প্রজেক্ট নয়, বরং পায়রা সমুদ্রবন্দরের একটি অংশ হিসেবে বলা হয়। যে পায়রায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ পেয়েছে চীন। তবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর চীনের স্ট্রিং অব পালর্স বা মুক্তার মালা পলিসির অংশ হিসেবে তৈরী হচ্ছে।
২. গত ৩রা এপ্রিলের খরব- ভারতীয় মিডিয়া এএনআই একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়, যার শিরোনাম ছিলো- “পায়রা বন্দরের দখল নিতে পারে চীন”। প্রতিবেদনে বলা হয়- চীনের রাষ্টায়ত্ত দুই প্রতিষ্ঠান চায়না হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ইতিমধ্যে পায়রা বন্দরের মূল কাঠামোসহ স্থাপনা নির্মাণে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করেছে।..... পায়রা বন্দরকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের পর শ্রীলংকার হাম্বানটোটা এবং পায়রা বন্দরের দখলের মাধ্যমে নেকলেস আকৃতিতে ভারতকে ঘিরে ফেলতে চায় চীন। উপস্থিতি বাড়াতে চায় বঙ্গোপসাগরে। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল চীনের ওয়ানবেল্ট ওয়ানবেল্ট উদ্যোগে যোগ দেয়া দেশগুলোর সম্মেলন হবে। এএনআই’র দাবি, এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে চীন।” (https://bit.ly/2RqW9MBhttps://bit.ly/2IqPhfj)
৩. লক্ষণীয় চীনের মুক্তারমালা পলিসি বিস্তারে বাংলাদেশের পায়রা সমুদ্রবন্দরে চীনের ইনভেস্টমেন্টের ঘোর বিরোধী ভারত। এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে ভারতে ডেকে নিয়ে নিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ভারতকে দিতে বলে দিল্লী। তারা বলে বাংলাদেশ যেন চীনের মুক্তারমালার সাথে যুক্ত না হয়ে ভারতের ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের সাথে যুক্ত হয়। (https://bit.ly/2MYxNvk)
৪. আসলে বঙ্গপোসাগরে চীনা পলিসির বিপরীতের ভারতের এত চিৎকার পেছনে আসলে ভারত নেই, আছে আমেরিকা। চীনকে সামাল দিতে ভারত এখানে আমেরিকার আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। এই তো ৫ দিন আগেও খবর আসলো- বঙ্গপোসাগরে চীনের উত্থান ঠেকাতে বাংলাদেশসহ ৩টি দেশে ইনভেস্টের জন্য কংগ্রেসের কাছে ৩০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে ট্র্যাম্প। (https://bit.ly/2WO9TlS)
৫. পুরো ঘটনা অবলোকনে আমার কাছে মনে হয়েছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হিন্দু শ্রমিকের মৃত্যুর পর গুজব রটানো ও সংঘর্ষের ঘটনার সাথে চীনকে দমাতে ভারত-আমেরিকার নীতির কোন যোগসূত্র থাকতে পারে।
তাহলে কি আমরা বাংলাদেশকে চীনের ঋণের ফাঁদে ফেলানোর পরিকল্পনার বিরোধীতা করবো না ?
অবশ্যই করবো, তবে সেটা শুধু চীনের ক্ষেত্রে নয়, বরং চীন, জাপান, ভারত, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আইডিবি, আমেরিকাসহ সবার করবো, তাহলেই ব্যালেন্স রক্ষা হবে।
আসলে একটা একটু জানিয়ে রাখা দরকার, আওয়ামী সরকার পায়রা সমুদ্র বন্দর দিচ্ছে চীনকে, আর চট্টগ্রাম গভীর সমুদ্রবন্দর দিচ্ছে ভারতকে। এখানে আওয়ামী সরকার চীন ও ভারতের মধ্যে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করেছে। মূলত: চীন পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশে আরো ১০টি বড় বড় প্রকল্প করতেছে মুক্তার মালা ও ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ) পলিসির অংশ হিসেবে। (https://bit.ly/2WVf1cQ)
অপরদিকে ভারত চট্টগ্রাম গভীর সমুদ্রবন্দর, নৌ-রুটগুলো খনন, পুরান ঢাকার ব্যবসা শেষ করে বুড়িগঙ্গার তীরে পর্যটন স্পট বানানো এবং রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নৌ বন্দর করতেছে চীনকে সামাল দিতে আমেরিকার পিভট ট্যু এশিয়া ও ভারতের লুট ইস্ট পলিসির অংশ হিসেবে।
এখন কথা হলো, এই যে বাংলাদেশে এত বড় বড় বিদেশী প্রকল্প হচ্ছে, এগুলোর কোনটার টাকা কিন্তু বিদেশীরা ফ্রি দিচ্ছে না। বরং তারা বাকিতে মালামাল ও শ্রম দিয়ে প্রজেক্টগুলো করে দিচ্ছে, এবং বছর বছর তার খরচ সুদে আসলে জনগণকে (বাজেট থেকে) পরিশোধ করতে হচ্ছে।
আমার কথা হলো, এত বড় বড় প্রজেক্ট তো আমাদের দেশের জনগণের এখন দরকার নাই, দরকার হলো আমেরিকা-চীন-ভারতের। তাদের স্বার্থে দ্রুত এসব প্রজেক্ট তৈরী করা হচ্ছে, কিন্তু তার খরচ বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণকে। অথচ সেই খরচ ও খেয়াল যদি ওদের প্রজেক্টের পেছনে ব্যয় না করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতগুলোর পেছনে দেয়া যেতো, তবে বাংলাদেশকে বহুগুনে উন্নতি করা সম্ভব ছিলো। অথচ, তাদের প্রয়োজনে তাদের বানানোর প্রজেক্টগুলোর সুদ-আসলে খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যয় বেড়ে চলেছে।, নষ্ট হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসরকারী খাত, বেকার ও দরিদ্র হয়ে পড়ছে অসংখ্য মানুষ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৭ বছর হয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা এতটুকু ছিলো যে আমরা নিজেরাই চেষ্টা করলে স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতাম। কিন্তু বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী আর্থিক লোভ আর যে কারণেই হোক চীন-আমেরিকার দ্বন্দ্বের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। দেশের উৎপাদনশীলতার দিকে খেয়াল না দিয়ে বিদেশীদের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে চলেছে। আমি আজ থেকে দুই বছর আগে বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম- আমেরিকা-চীনের প্রক্সি ওয়ার জোন হিসেব ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে আমেরিকা-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ যত শক্ত হচ্ছে, বিষয়টি তত স্পষ্ট হতে চলেছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের উপর আমেরিকা-চীনের সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের বিষয়টি যদি সঠিকভাবে সামাল না দেয়া যায় এবং বাংলাদেশের যদি স্বতন্ত্র অবস্থান না থাকে, তবে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মত ধ্বংসস্তুপে (সেটা অর্থনৈতিকভাবেও হতে পারে) পরিণত হতে সময় লাগবে না।
আজকে শনিবার ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এন.সি- ৩০৭
আজকে শনিবার ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
Image result for স্প্রিং
আজকে শনিবার ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী দেশের দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
আমি আপনাদের আগেও বলেছি, এখনও বলছি- ভুলেও আপনার সন্তানকে এ ফ্রি ওষুধ খাওয়াবেন না। এবং আপনার বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজন-পরিচিতদের নিষেধ করুন, কেউ যেন তার সন্তানকে এ ফ্রি ওষুধ না খাওয়ায়।
কারণ এ ক্যাম্পেপেইনে একটা শিশুকে জোর করে ওভারডোজের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে, এটা অনেক ক্ষতিকর। এ সম্পর্কে আমি আগে স্ট্যাটাসে বলেছিলাম-
“..............................
পাঠক, আপনি যদি সাধারণ কোন ব্যক্তি হোন, তবে ইংরেজীতে গুগল করুন, ভিটামিন এ ক্যাপসুলের সেফ ডোজ কত ?
উত্তর পাবেন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪ হাজার আইইউ, আর বড় ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার আইইউ (https://bit.ly/2FIe52x)। এর বেশি নেওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য অনেক ভিটামিন ওয়াটার সলিবল, যা অতিরিক্ত হলে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। কিন্তু ভিটামিন এ ফ্যাট সলিবল, যা শরীরের মধ্যে থেকে যায়, এবং অতিরিক্ত হলে সমস্যা তৈরী করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের নামে বাচ্চাদেরকে যে ভিটামিন এ ক্যাপসুলগুলো খাওয়ানো হচ্ছে সেগুলো দুই ধরনের।
- ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর জন্য ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল যার পরিমাণ ১ লক্ষ আইইউ
- ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর জন্য ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল যার পরিমাণ ২ লক্ষ আইইউ, তা সহ্য মাত্রার থেকে অনেকগুন বেশি। (https://bit.ly/2FQoZ5n)
অতিরিক্ত ভিটামিন হওয়া শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়া তৈরী করে যাকে বলে হাইপারভিটামিনোসিস। এই বিষক্রিয়ায় –
১। শিশুদের করোটির হাঁড় অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে যায় ।
২।দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় ।
৩।হাঁড়ে ব্যাথা হয় ও ফুলে যায় ।
৪।সচেতনায় পরিবর্তন আসে ।
৫।ক্ষুধা কমে যায় ।
৬।মাথা ঝিমঝিম করে ।
৭।ঘুম ঘুম ভাব লেগেই থাকে ।
৮।মাথা ব্যাথা করে ।
৯। হৃদপিণ্ডের কপাটিকা শক্ত হয়ে যায় ।
১০।আক্রান্ত ব্যাক্তি দ্রুত রেগে যায় ।
১১। লিভার নষ্ট হয়ে যায় ।
১২।বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া ।
১৩।দৈহিক ওজন কমে যায় ।
১৪।ত্বক ও চুলের রং পরিবর্তন হয়ে যায় এবং চুল পড়ে যায় ।
১৫।ত্বক ও চুল তেলতেলে হয়ে যায় এবং ত্বক হলদেটে বর্ণ ধারণ করে ।
১৬।স্বতঃস্ফুর্তভাবে হাঁড় চটে যায় ।
১৭।ঠোঁটের কোণে ফাঁটল বা চিড় ধরে ।
১৮। কোমা, মৃত্যু
(https://bit.ly/2R3QgDq)
পাঠক ! যে শিশুটির শরীরে ভিটামিন এ’র অভাব আছে, তাকে না হয় এক-দুই বার ওভার ডোজ দেয়া গেলো, কিন্তু যার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ আছে, তাকে ওভার ডোজ দিলো তো সমস্যা হবে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সম্রাজ্যবাদীদের বেধে দেয়া শ্লোগান “বাদ যাবে না একটি শিশু” (https://bit.ly/2R6g9CB), ইহুদি মাস্টারপ্লান এসডিজি বাস্তবায়ন করতে আমাদেরকে থার্ডওয়ার্ল্ড কান্টি ট্যাগ লাগিয়ে আড়াই কোটি শিশুকে গণহারে ওভারডোজ দেয়া হচ্ছে, যা তার দেহে বিষক্রিয়া বা হাইপারভিটামিনোসিস তৈরী করতে পারে। আমরা বাচ্চাটিকে এতকষ্ট করে ওষুধ খাওয়াাচ্ছি সুস্থ সবল প্রজন্ম পাওয়ার জন্য, কিন্তু ৫ বছরে ১০ বার ওভার ডোজের ওষধ খাওয়ানোর ফলে যদি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার দায় নেবে কে?......................................” (https://bit.ly/2L7Ic5q)
উল্লেখ্য গত বছর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর জামালপুরের একটি এলাকায় ১ শিশু নিহত ও ৫শ’ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।
(https://www.facebook.com/IndependentTVNews/videos/367424350479811/)
এখানে লক্ষ্যনীয়,
সম্রাজ্যবাদীদের কথা হলো- বাংলাদেশ একটা থার্ডওয়ার্ড কান্ট্রি, তাই এর সব শিশুর শরীরে ভিটামিন এ –এর অভাব আছে, তাই সবাইকে গণহারে ওভারডোজ ভিটামিন এ দেয়া যাবে। অথচ এটা কিন্তু বাস্তবসম্মত কোন বিষয় নয়। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন সস্তা সবজীতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। সেক্ষেত্রে আদৌ বাংলাদেশে কতজন মানুষ ভিটামিন এ’র অভাবে তা পরিমাপের বিষয়। অথচ সেটা পরিমাপ না করে গণহারে সবাইকে ওভারডোজ ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো কোন বিজ্ঞানসম্মত সমাধান হতে পারে না। তাছাড়া কথিত উন্নত বিশ্বে যেখানে ওভারডোজ ভিটামিন এ খাওয়ানো নিষেধ, যেখানে আমাদের কেন তৃতীয় বিশ্ব ট্যাগ লাগিয়ে সব শিশুকে গণহারে ওভারডোজ ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে?
আমি জানি, অনেকে বলবে, আপকি কি ডাক্তার ? ডাক্তারি বিদ্যা সম্পর্কে আপনার কতটুকু অভিজ্ঞতা আছে ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) যেখানে বিষয়টি করতে বলেছে, সেখানে আপনার কি যোগ্যতা আছে এর বিরোধীতা করার ?
আসলে যারা আমাকে এ ধরনের কথা বলবেন, তাদেরকে আমি বলবো, শুধু চিকিৎসা বইগুলো না দেখে দয়া করে বিশ্ব মিডিয়ার দিকেও কিছুটা চোখ রাখুন। অতি সম্প্রতি আমেরিকাতে একটি আলোচিত ঘটনা হচ্ছে, ‘পারডিউ ফার্মার অপিওয়েড কেলেঙ্কারী’। অপিওয়েড হচ্ছে এমন একটি ওষুধ, যা হেরোইন বা মরফিনের মত। এটি প্রায় মৃত্যু পথযাত্রীদের ব্যাথ্যানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পারডিউ ফার্মা বিষয়টিকে এমনভাবে বিপনন করে, যেন তা সাধারণ যে কোন ব্যথ্যা বা সাধারণ মাথাব্যাথার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এতে বহু মানুষ অপিওয়েড আসক্ত হয়ে পড়ে এবং ওষুধ বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এতে ওষুধ কোম্পানির মালিক ইহুদী স্যাকলার পরিবার ফুলে ফেপে উঠে এবং ২০১৫ সালে বিশ্বের অন্যতম ধনী পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এদিকে, অপিওয়েড আসক্ত বা সামান্য ওভারডোজের কারণে অনেক মানুষ মারা যায়। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধের বিরুদ্ধে শত শত মামলা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নামে মার্কিন কংগ্রেস। তদন্তে বেড়িয়ে আসে, ইহুদী স্যাকলার পরিবার তাদের ওষুধের বিক্রি বাড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে গোপনে অর্থায়ন করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কথিত ফেসভ্যালু কাজে লাগিয়ে তারা সবার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে বিপনন বাড়ায়। (https://bit.ly/2WYJ82Thttps://bit.ly/2X4zwnD)
পাঠক ! এখানে চিন্তার বিষয়,, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে বিশ্ব স্বাস্ব্য সংস্থাকে প্রভাবিত করে ইহুদী কর্পোরেট পরিবারগুলো যদি ওষুধের বিক্রি বাড়াতে পারে, তবে আমাদের বাংলাদেশ তো কোন বিষয়ই না।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত পথে ছোট ছোট শিশুদের ফ্রি ওভারডোজের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে, দেখা যাবে এর পেছনেও রয়েছে কোন সম্রাজ্যবাদী ঔষধ কোম্পানির হাত। এ ওভারডোজের ঔষধ খেয়ে বাচ্চারা হয়ত এমন কোন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বা হবে, যার দরুণ বড় ধরনের ব্যবসায়ীক ফায়দা নিবে কোন সম্রাজ্যবাদী ওষুধ কোম্পানি। অথবা এসব ওষুধ প্রযোগে শারীরিক বা মানসিকভাবে দুর্বল ভবিষ্যত প্রজন্ম ইহুদী সম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কিছু করা তো দূরের কথা, সহজেই তাদের দাসত্ব স্বীকার করে নিবে। তাই সাবধান।
Image may contain: 1 person, sleeping, text that says 'সোয়া দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো ভিটামিন ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে শনিবার স্থান'
বাজেট নিয়ে খণ্ড খণ্ড আলোচনা করবো, আগেই বলেছিলাম,। এন.সি- ৩০৬
বাজেট নিয়ে খণ্ড খণ্ড আলোচনা করবো, আগেই বলেছিলাম,
বাজেট নিয়ে খণ্ড খণ্ড আলোচনা করবো, আগেই বলেছিলাম,
বাজেটের বিষয়গুলো সহজে বুঝতে গেলে, কিছু সহজ উদহারণের প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে, আমরা দেশকে একটি পরিবারের সাথে তুলনা করতে পারি,
সরকারকে তুলনা করতে পারি বাবা’র সাথে, আর জনগণকে তুলনা করতে পারি স্ত্রী-সন্তানের সাথে।
Image result for স্প্রিংএকজন বাবা তার পরিবার ( স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে)- কে ১ মাস চালাবে।
এক্ষেত্রে বাবা কি করবে ?
প্রথমে ইনকাম করবে, তারপর সেই টাকা ছেলে-মেয়ের পেছনে খরচ করবে।
হ্যা, কোন ছেলে-মেয়ে যদি সাবলম্বী হয়, তবে সে সংসারের খরচে অংশগ্রহণ করবে।
কিন্তু শুধু স্ত্রী-সন্তানরাই ইনকাম করবে, আর বাবা খরচ করবে, এমনটা কিন্তু হয় না।
হতে পারে। কিন্তু তখন বাবা আর কর্মক্ষম বাবা থাকে না, অবসরে চলে যায়।
কিন্তু যদি এমন হয়, স্ত্রী-সন্তানরা ইনকাম করবে, আর বাবা মনমত খরচ করবে, ইচ্ছামত টাকা উড়াবে, শুধু তাই না, বাইরে থেকে ধার-কর্জ করেও টাকা উড়াবে, আর সেই ঋণ স্ত্রী-সন্তানদের উপর চাপিয়ে দিবে।
ছোটবেলায় হুমায়ুন আহমেদের লেখা আর নওয়াজীশ আলী খানের পরিচালনায় ‘জননী’ নামের একটা নাটক দেখেছিলাম। নাটকের ঘটনা ছিলো- স্ত্রী (ডলি জহুর) ও সন্তান (একজন শাওন) খুব কষ্ট করে সংসার চালায়, সন্তানরা ছাগল পালে, হাস-মুরগী পালে। কিন্তু বাবা (আসাদুজ্জামান নূর) হয় উড়নচণ্ডি। মুখে সারা দিন বড় বড় চেতনার (জ্ঞানের কথা) কথা বলে। কিন্তু কোন কাজ করে না, স্ত্রী-সন্তানদের ঘাড়ের উপর বসে বসে খায়। আর রাতের বেলায় নাচ-গান আর মজমাস্তিতে করে।
কিন্তু মজমাস্তি করতে আরো টাকা দরকার। তখন সন্তানদের লালন করা ছাগল চুরি করে বিক্রি করে, স্ত্রীর বহু কষ্টে জমানো টাকা চুরি করতে চায়। স্ত্রী-সন্তানদের সামান্য সাহায্য করা তো দূরের কথা, কিভাবে তাদের সম্পদ লুটে নিয়ে মোজমাস্তি করবে, সেই ধান্ধায় থাকে।
বর্তমান বাজেট একটু খেয়াল করুন, নাটকের সাথে পুরোপুরি মিলে যাবে।
বাজেটের আয়ের মাত্র ২টি অংশ। প্রথমটি জনগণের থেকে আদায় করা হচ্ছে ট্যাক্স/ভ্যাট/মাসুল, অপরদিকে দেশ-বিদেশ থেকে সুদে ঋণ। যা পরবর্তীতে চাপানো হচ্ছে জনগণের উপরেই। যেখানে বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধ হচ্ছে মোট বাজেটের ১০ ভাগের ১ ভাগ।
অপদিকে বাজেটের প্রায় ৫ ভাগের ১ ভাগ, প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন ভাতা আর পেনশন। এই যে ১৪ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির উপর (মোট জনংসংখ্যার মাত্র ০.৭%) প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ১ বছরে ব্যয় হবে এর আউটপুট কি ? এর ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আর্থিকভাবে কত রিটার্ন আসতেছে ?
যেমন ধরুন, টিএন্ডটি, টেলিটক। এর পেছনে তো জনগণ টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এর বার্ষিক লাভ কত ?
আবার ধরেন বিটিভি। এ বছর তার পেছনে ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
কিন্তু এর আউটপুট কি ? বিভিন্ন প্রাইভেট টিভিগুলোতো ঠিকই সব খরচ দিয়ে লাভ করছে,
তাহলে বিটিভির পেছনে যে জনগণের ২ হাজার কোটি টাকা ইনভেস্ট হলো,
এর দ্বারা জনগণের কোন লাভ না হোক, অন্তত বিটিভির কর্মকর্তা কর্মচারি বেতনের টাকাটা অন্তত আসুক।
সরকারি মালিকানায় অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, জমি আছে, পুকুর আছে, গাছ আছে। সেগুলো নিয়ে এদিক-সেদিক না করে যদি প্রকৃত ব্যবহার করা যায়, তবে সেখান থেকেও প্রচুর ইনকাম করা সম্ভব।
আমার কথা হলো, ১৪ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিকে ইনকাম করে ১৮ কোটি জনগণকে খাওয়াতে হবে না, তাদের ইনকাম দিয়ে অন্তত তাদের বেতন-ভাতা-পেনশন টুকু আসুক। তাহলে বাজেটের ২০% অন্তত বেচে যাবে।
আমার মনে হয়, সরকার নিজেই জানে না, তার কাজটা কি ?
এ কারণে সরকারী লোকজন বেকুবের মত বলছে, “কে দিয়েছে মোবাইল ?”
অথচ সে বুঝতেছে না, এটা বৈশ্বিক প্রযুক্তির বিষ্ফোরণের ফসল। আফ্রিকার সবচেয়ে অনুন্নত দেশের জনগণেরও হাতে হাতে মোবাইল থাকে। এর পেছনে সরকার বা কারো ক্রেডিট নাই।
কিন্তু নিজের অর্জন জানে না বলেই, আরেক জনের ক্রেডিট নিজের নামে চালিয়ে হাসির পাত্র হচ্ছে।
সরকারী অফিসে কাজ করা পাঠকরা মাইন্ড করতে পারেন,
কিন্তু সত্যিই বলতে আমি সরকারী অফিসগুলোতে কোন কাজ দেখি না।
সারাদিন গল্প-গুজব, নির্বাচন নিয়ে কথা, কোন মতে হাজিরা দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়া। অথচ তাদের থেকে আপনি কোন সার্ভিস নিতে যান, আপনার সাথে এমন ব্যবহার করবে, মনে হবে দুনিয়াতে তার থেকে ব্যস্ত মানুষ আর দুইটা নাই।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে এমন অনেক বিএডিসি কর্মকর্তাকে চিনি, যারা মাসে ১ দিন অফিস করেও বেতন নেন। আমি এমনও সরকারি ভার্সিটির শিক্ষককে চিনি, যে ২ বছর ধরে বিদেশে ডিগ্রির কথা বলে গেছেন, সেখানে গিয়ে আলাদা ইনকাম করতেছেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্দেশ্যে ডিগ্রি। কিন্তু সরকারি বেতন কিন্তু একমাসেও মিস হয় নাই। জেলা-উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজ কি ? সারাদিন কিছু দাওয়াত খাওয়া, সপ্তাহে দুই-চারটা বাল্যবিয়ে বন্ধ করা। ব্যস।
অন্যদিকে সরকার প্রতি বছর উন্নয়নে চালচিত্র প্রকাশ করতে স্টেডিয়ামে জনগনের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আতশবাজি পোড়ায়, অথচ এই আতশবাজি দিয়ে মজমাস্তির খরচ কেন জনগণ বহন করবে ?
প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্ট-সেতুমন্ত্রী থেকে শুরু করে অধিকাংশ সরকারী লোকজন জনগণের অর্থ দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নেন, কিন্তু সেই জনগণ সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার পান না।
যাগগে, কথা বললে, অনেক বেড়ে যাবে। আমার কথা হলো-
বাজেটে সরকারের ইনকাম কত, সেটা আলাদা করে দেখানো উচিত।
সরকারি খরচে সরকারী ব্যয় মিটছে কি না, সেটা স্পষ্ট করা জরুরী।
এছাড়া, খনিজ সম্পদ থেকে সরকারের ইনকাম কত সেটা আলাদা করা দরকার।
সরকার তরল গ্যাস আমদানি করে সেই পাহাড়সম ঋণ জনগণের উপর চাপায় দিচ্ছে,
অথচ বাংলাদেশে অনেক গ্যাসের খনি আবিষ্কার হলেও অদৃশ্য কারণে সরকার সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করতেছে না।
আবার বিদেশী রাষ্ট্রকে ট্রানজিট বা করিডর দেয়ার মধ্যে সরকারের অদ্ভূত আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের ভাষ্য “বন্ধু রাষ্ট্র থেকে ট্রানজিট মাসুল নেই কিভাবে?”, অথচ বন্ধুরাষ্ট্রের বড় বড় লরিগুলো জনগণের টাকায় বানানো রাস্তার উপর দিয়ে চলে রাস্তার বারোটা বাজাচ্ছে। উল্লেখ্য পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ট্র্যানজিট/করিডর দিয়ে আজ ধণী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ কিছুই করতে পারতেছে না।
যা হওয়ার হয়ে গেছে, তবে এখন সরকার জনগণের টাকায় পদ্মা সেতু-পায়রা গভীর সমুদ্রসহ বিভিন্ন প্রকল্প বানিয়ে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডের সাথে এবং চট্টগ্রাম গভীর সমুদ্র বন্দর-রাজশাহী আন্তর্জাতিক নৌ বন্দর বানিয়ে ভারতকে নৌ করিডোরের রাস্তা করে দিচ্ছে। দুই বড় রাষ্ট্র যাদের সমন্বিত জনসংখ্যা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক, তারা বাংলাদেশের উপর দিয়ে ব্যবসা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এখন বাংলাদেশের জনগণের তো ওদের ট্রানজিট করিডোরের ফি উপর ভর করে পায়ের উপর পা তুলে খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিলো, কিন্তু সেটা না হয়ে উল্টো দেশের জনগণের বাজার খরচে আগুন ধরে গেছে।
মূল কথা হলো, বাজেটের যে খরচ, সেটা শুধু কেন জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে ?
সরকারের বাজেটে অবদান কতটুকু সেটা আগে স্পষ্ট করা উচিত।
অন্যের টাকায় মজমাস্তি করা সোজা, কিন্তু সরকার যখন নিজে ইনকাম করবে এবং সেখান থেকে নিজের খরচ বহন করবে, তখন সে হিসেব করেই খরচ করবে। তাছাড়া নিজে যখন সে ব্যয়কারী না হয়েও উৎপাদকও হবে, তখন সে উৎপাদন কি সেটা বুঝবে এবং উৎপাদন বান্ধব হবে। তখন দেশের উন্নতি হবে, এর আগে না।
মিডিয়া হইলো দেশী শিল্পের বিরুদ্ধে ।এন.সি- ৩০৫
মিডিয়া হইলো দেশী শিল্পের বিরুদ্ধে ।
Image result for স্প্রিং
মিডিয়া হইলো দেশী শিল্পের বিরুদ্ধে ।
এজন্য- ৯৬টি গরুর দুধ ও দইয়ের নমুনায় ৯৩টার মধ্যে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, এই ভুয়া জরিপ ভাইরাল করছে। (https://bit.ly/2xcUOA0)
কিন্তু গতকাল হাইকোর্টে উত্থাপিত আরেক রিপোর্টে- ৩০৫টি দুধ ও দইয়ের নমুনায় ৩০৩টি বিশুদ্ধ পাওয়া গেছে, সেই রিপোর্ট কিন্তু হাইলাইট করে নাই। (https://bit.ly/2FwZllo)
আবার হাইকোর্টের বিচারকরাও হইলো ইশপের গল্পের বাঘের মত।
হরিণ শাবক ঝর্ণা পানিতে মুখ দিছে। বাঘ তাই বলে- তুই আমার পানি ঘোলা করলি কেন ?
হরিণ শাবক তখন বলে, আমি তো নিচে, আপনি তো উপরে। আমি আপনার পানি ঘোলা করলাম কিভাবে?
তখন বাঘ বলছিলো- তুই ঘোলা করিস নি তো কি হয়েছে, তোর বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষের কেউ তো ঘোলা করেছে, তাই তোকে আমি খাবো।
মানে একটা না একটা অজুহাতে হরিণ শাবককে খাবে বাঘ, খাওয়াটাই মুখ্য, হরিণ শাবকের দোষ মূখ্য নয়।
এর আগে ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টি নমুনায় ক্ষতিকারক জীবাণু পাওয়া গেছে বিদেশী অর্থপুষ্ট জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির রিপোর্ট নিয়ে কত চোটপাট করলো বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কে এম হাফিজুল আলম’। কিন্তু গতকাল যখন দলিল প্রমাণসহ ৩০৫টি নমুনার মধ্যে ৩০৩টি নমুনা শুদ্ধ দেখানো হলো, তখন তারা কথা ঘুরিয়ে বললো- “লাইসেন্স ছাড়া কেউ দুধ-দই বিক্রি করতে পারবে না, লাইসেন্স ছাড়া কে কে দুধ-দই বিক্রি করে তাদের তালিকা তৈরী করতে হবে।” (https://bit.ly/2xckbSi)
হাইকোর্টের বিচারপতি নামক নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কে এম হাফিজুল আলম যে ইশপের গল্পের বাঘের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশী শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়, তার প্রকৃষ্ট উদহারণ এই বক্তব্য। কৃষি প্রধান অর্থনীতির বাংলাদেশে বহু কৃষক প্রান্তিক পর্যায়ে গরুর দুধ বিক্রি করে, তারা কিভাবে লাইসেন্স করবে ?
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সবার ঈদের ছুটি ৩ দিন, কিন্তু হাইকোর্টের বিচারকদের ১৯ দিন। ব্রিটিশ আমলে বিচারকরা আসতো ব্রিটেন থেকে, তাই তারা বছরের অর্ধেক সময় ছুটি কাটাতো। এখনও সেই ব্রিটিশ নিয়ম অব্যাহত আছে। উচ্চ আদালতের বিচারকরা বছরের অর্ধেক সময় ছুটিতে থাকে। এসিতে ঠাণ্ডা দেয়া থাকে ১৬। সবাই ডাকে ‘মাই লর্ড’ ‘মাই লর্ড’ বলে। আসতে যাইতে প্রভুকে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করে। এই হাইকোর্টের বিচারকরা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের অবস্থা কি করে বুঝবে ? ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেদারল্যান্ডের ফান্ডে বাংলাদেশের গরুর দুধকে খারাপ বানানোর জন্য করা রিপোর্টকে তারা সেটাই গুরুত্ব দেয়, বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পকে ধ্বংস করতে তারাও যে সেই ফান্ডের অংশ পায় না, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেশের ১২ লক্ষ দুগ্ধ খামার শেষ করা আর ১ কোটি লোককে বেকার করা যে তাদের উদ্দেশ্যে নেই, সেটাও তো বলা যায় না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর যাবত ডেনমার্কের অরলা ফুডের (ডানো দুধ) কারসাজিতে দেশের ডেইরী শিল্প ধ্বংসে একটি মহলটিকে বেশ সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ডানো দুধ চাইছে, বাংলাদেশের পুরো মার্কেট তাদের হাতে নিতে, কিন্তু দেশী খামারিরা সক্রিয় থাকায় তারা সফল হতে পারছে না। এখন বাধ্য হয়ে, মিডিয়া, হাইকোর্ট এবং জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি উপর ভর করে বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পকে আঘাত করছে। কিছুদিন আগেও আপনারা দেখেছেন, বাংলাদেশের খামারিরা সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো সাধারণ জনগণের মধ্যে। তারই তারা আমে ফরমালিন আর দুধে জীবাণু- এসব গুজব বেশি খায়। ষড়যন্ত্রগুলো না বুঝলে জনগণকেই বিদেশী শত্রুরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, তা বলা যায় নিশ্চিত।
রেল দুর্ঘটনার খবর দেখতেই আমার চিন্তায় আসলো মেট্রোরেলের কথা। এন.সি-৩০৪
রেল দুর্ঘটনার খবর দেখতেই আমার চিন্তায় আসলো মেট্রোরেলের কথা।
Image result for স্প্রিংরেল দুর্ঘটনার খবর দেখতেই আমার চিন্তায় আসলো মেট্রোরেলের কথা।
আজকে যদি রেল দুর্ঘটনা না হয়ে মেট্রোরেল দুর্ঘটনা হতো, তবে কত জন মারা যেতো ?
গতকালকের রেল দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৫ জন (কারো কারো মতে ২০ জন), আহত হইছে ৩শ’।
রেলের বগি ১০-১৫ ফুট নিচে খালে পরে গেছে, তাই এই দুর্ঘটনা।
কিনতু আজকে যদি মেট্রোরেলের একটা বগি পরে যায়, তখন ?
এক বগিতে যাত্রী থাকবে কম করে ৪-৫শ’ লোক।
আর বগি পরবে ৫-৭ তলা উচু ফ্লাইওভার থেকে।
আর বগি তো একা থাকে না, ৬টা এক সাথে থাকে,
প্রায় ১৭শ’ লোক যদি, ফ্লাইওভার থেকে বগিসহ পড়ে যায়, তখন দুর্ঘটনাটা কতটা ভয়াবহ হবে ?
একবার চিন্তা করেছেন ?
ভারতের গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকটি মেট্রোরেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশেও যে সেকরম ঘটনা ঘটবে না, তা তো বলা যায় না।
আমি শুধু একটা জিনিস চিন্তা করি,
বাংলাদেশ রেলওয়ে একটা আলাদা মন্ত্রনালয়, প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রায় দেড়শ’ বছর।
স্ট্যাফ সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।
এর পরেও রেলওয়ে দৈনিক পরিবহন করে মাত্র আড়াই লক্ষ যাত্রী।
সেখানে মেট্রোরেল কিভাবে দৈনিক ৭ লক্ষ ২০ হাজার যাত্রী পরিবহণ করবে ? (ঘণ্টায় ৬০ হাজার ধরে ১২ ঘণ্টা)।
সে পরিমাণ সক্ষমতা কি আদৌ হবে ?
আজকে ১টা ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো দেখে ট্রেন পড়ে গেছে।
কিন্তু মেট্রোরেলের লাইনগুলোতো প্রতিদিন চেক করতে হবে, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সে ধরনের চেক করবে কি না ?
দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী যাত্রীদের দোষ দিয়ে বলছে, যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে উঠে, তাই দুর্ঘটনা্।
পাঠক ! মেট্রোরেল যখন ঢাকার মধ্যে চলবে তখন ঘন্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করবে, অনেক হুড়োহুড়ি হবে, সেই হুড়োহুড়ি সামাল দেয়ার মত সক্ষমতা কর্তৃপক্ষের আছে কি না ?
যারা রেলে চড়েন, তারা ভালো বলতে পারবেন, রেল স্টেশনগুলোর কতটা করুণ অবস্থা।
কমলাপুর কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে নাই কোন শিডিউল, নাই কোন ভালো ব্যবস্থা।
এক কমলাপুর রেল স্টেশন চালাতে যদি এত সমস্যা হয়,
তবে মেট্রোরেলের জন্য ঢাকার ভেতরে ১৬টি স্টেশন লাগবে, সেই স্টেশন চালানোর মত যোগ্যতা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের আছে কি না ?
১৬টি স্টেশনের সিড়ি দিয়ে যে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লোক উঠানামা করবে, হুড়োহুড়ি করবে, তারা যেন দুঘটনায় পতিত না হয়, সে জন্য প্রটেকশন সরকার দিবে কি না ?
মেট্রোরেল কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন একটা সিস্টেম, যা আগে কখন বাংলাদেশে ছিলো না।
অপরদিকে ট্রেন/বাস অনেক পুরাতন জিনিস, যা বহুদিন যাবত বাংলাদেশে চলে আসতেছে।
এরপরও মাঝে মাঝে খবর আসে, রেলে বগি ফেলে রাখায় নষ্ট হচ্ছে হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
একইভাবে বিআরটিসি বাসগুলোও অযত্নে ফেলে রাখতে রাখতে অনেকগুলো পরিত্যাক্ত হয়ে গেছে।
বাস/রেলের মত বিষয় যদি সরকার পরিচালনা না করতে পারে, তবে মেট্রোরেল চালানোর স্বপ্ন কতটুকু বাস্তব হবে ?
হয়ত বলতে পারেন, আরে ভাই এত ভুল ধরেন কেন ?
সরকার একটা নতুন জিনিস দিচ্ছে, এই তো বেশি ?
না ভাই, সরকার দিচ্ছে না। ২২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে মেট্রোরেল তৈরী হচ্ছে, এটা সরকারী টাকা না, এই টাকা আমাকে আপনাকেই পরিশোধ করতে হবে।
যেহেতু আমার টাকায় একটা প্রকল্প হচ্ছে, তাই ১টা জিনিস দাম দিয়ে কিনলে যেমন আগে আমরা যেমন যাচাই বাছাই করে নেই, আসলে উপকার হবে, না ফালতু খরচ হবে, সেটা বুঝার চেষ্টা করি,
ঠিক তেমনি আমার টাকায় একটা মেট্রোরেল হবে, সেটা কি আদৌ বাস্তব সম্মত কি না, আমার উপকার হবে কি না ? টাকা উসুল হবে তো ?
এসব চিন্তা করে সেটা কেনা উচিত। নয়ত পুরো টাকাটাই পানিতে পড়বে।
ফিজিবিলিটি স্টাডি বা আর্থিক সমীক্ষা :
একটু চিন্তা করুন- মেট্রোরেলের খরচ ২২ হাজার কোটি টাকা, প্রতিদিন সব খরচ, সুদ, মেইনটেইনেন্স বাদে শুধু লাভ করতে হবে ৩ কোটি টাকা। তাহলে ২২ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা উঠবে।
ধরে নিলাম, মূল টাকা, সুদ এবং মেইনটেইনেন্স খরচ ও স্ট্যাফ খরচ দিয়ে দৈনিক আয় করতে হবে ৭ কোটি টাকা।
এখন দৈনিক যাত্রী যদি ৭ লক্ষ হয়, তবে প্রতি যাত্রীর থেকে অবশ্যই ১০০ টাকা নিতে হবে, এর নিচে নেওয়া যাবে না।
অর্থাৎ মেট্রোরেলে উঠলেই ভাড়া হবে নিম্নপক্ষে ১০০ টাকা, দূরত্ব ভেদে আরো বাড়বে।
অর্থাৎ একজন যাত্রী যে দূরত্ব বাসে গেলে ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা বা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দিয়ে যেতে পারে,
সেটা মেট্রোরেলে যেতে হলে তাকে কমপক্ষে ১০০ টাকা গুনতে হবে।
অর্থাৎ মেট্রোরেলে ভাড়া হবে খুবই উচ্চ। এবং পর্যাপ্ত যাত্রী যেন মেট্রোরেলে উঠে, সে জন্য কর্তৃপক্ষ কৌশলের আশ্রয় নিবে।
তারা হানিফ ফ্লাইওভারের দুই পাশের রাস্তার মত রাস্তা কেটে সরু রাখবে, যেন যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মেট্রোরেলে উঠে। প্রয়োজনে ঐ রূট থেকে বাস নিষিদ্ধ হলেও অস্বাভাবিক কিছু থাকবে না।
মেট্রোরেল বেসরকারি হবে, না সরকারী ?
পাঠক ! দুর্ঘটনা আর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে মেট্রোরেলের দায়িত্ব বেসরকারী সংস্থার হাতেই দিতে হবে।
কিন্তু সমস্যা হবে, সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে উচ্চ।
অপরদিকে যদি সরকার নিজের দায়িত্বে রাখে, তবে আমার দৃষ্টিতে মেট্রোরেল একটি আনন্দ ভ্রমণ পরিবহণের পরিণত হবে।
অধিকাংশ সময় সমস্যা, কারিগরি ত্রুটি নিয়ে এটি ঘণ্টায় ৬০ হাজার কেন, দিনেও ৬ হাজার যাত্রী পরিবহণ করতে পারবে না। দিনে সর্বোচ্চ দুইটা রেল যাইতে পারে। মাঝখান দিয়ে রাস্তা সরু করে এতগুলো বড় বড় পিলার জনগণের জন্য খুবই কষ্টদায়ক হবে।
এক্ষেত্রে সরকার খরচ না তুলতে পেরে ২২ হাজার কোটি টাকা, সুদ এবং বাৎসরিক মেইনটেনেন্স বাবদ হাজার কোটি টাকা ব্যয় জনগণের উপর চাপিয়ে দিবে, যা বাজেটের মাধ্যমে হয়ে জনগণের ট্যাক্স অথবা টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে জনগণের দৈনন্দিন বাজার খরচ থেকে কেটে নেয়া হবে।
ক্ষতিসমূহ-
ক) মেট্রেরেল বানানোর সময় চরম ভোগান্তি,
খ) অসহনীয় যানজট,
গ) ধূলাবালিতে রোগ-ব্যধি
ঘ) বানানোর পর রাস্তা সরু হয়ে যাওয়া,
ঙ) অসম্ভব বেশি ভাড়া,
চ) খরচ তোলার জন্য, পরিবহণ সেক্টরে অরাজকতা,
ছ) বানানোর উচ্চমূল্য ঋণ হিসেবে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া, জনগণের দৈনন্দিন খরচ অসম্ভব বৃদ্ধি পাওয়া।
সোজা ভাষায়, যত আশা দিয়ে অতি ব্যয়বহুল এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, তার সিকি ভাগও এ থেকে আদায় হবে না। উল্টো এটা জনগণের উপর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়াবে।
তবে এটা ঠিক, কিছু হলেও লাভ হবে, প্রেমিক-প্রেমিকার জুটির। তারা ১-২শ’ টাকা খরচ করে কয়েক ঘণ্টা রোলার কোস্টারের আনন্দ পাবে, আর গান গাইবে, “হাওয়া মে উড়তা যায়ে, মেরা লাল দোপাট্টা...মল মল কা হো জি...হো জি।”

পাকিস্তানী এক পত্রিকায় নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে ব্যঙ্গ করছে।এন.সি- ৩০৩
পাকিস্তানী এক পত্রিকায় নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে ব্যঙ্গ করছে।
পাকিস্তানী এক পত্রিকায় নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে ব্যঙ্গ করছে।
এতে অনেকে দেশপ্রেমে উব্ধুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানকে গালাগালি করতেছে।
খুব ভালো কথা।
Image result for স্প্রিংআমি অবশ্য খুজতেছি, কোন পত্রিকা এই কামটা করলো।
খুজে দেখি পত্রিকার নাম দ্য নেশন।
কার্টুনটা দেখে খুব বাস্তব সম্মত মনে হইলো না।
কারণ বাংলাদেশ-আফগানিস্তান না হয় ভয় পেয়ে দৌড় দিচ্ছে মানলাম
কিন্তু বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ দল নিউজল্যান্ডও দৌড় দিচ্ছে এটা মেনে নিতে পারতেছি না্।
আমার মনে হয়, পাকিস্তান দল নিজেও জানে, তার সামর্থ কতটুকু।
তাই বাংলাদেশকে আন্দাজে খাটো করার কথা না, সেখানে নিউজিল্যান্ড তো বহুদূর।
কিন্তু এ ছবিটা যে বানাইছে, আমার ধারণা সে নিজেও ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে ধারণা রাখে না।
যাই হোক, দ্য নেশন পত্রিকার সম্পাদকের নাম হইলো রমিজা নিজামি।
রমিজা নিজামি সম্পর্কে ঘাটতে গিয়ে আমি যতটুকু বুঝলাম,
সে মার্কিন ডেমোক্র্যাট ব্লকের সদস্য।
নারীবাদ, এলজিবিটি অধিকার ও ধর্মনিপক্ষেকতার পক্ষে।
যদিও পাকিস্তান বাংলাদেশের তুলনায় রক্ষণশীল, তবুও তার অবস্থান থেকেই সে খুব কৌশলে ডেমোক্র্যাট মতবাদগুলো প্রচার করে যাচ্ছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে মিডিয়ার মাধ্যমে যারা পাকিস্তানবিরোধী কথিত চেতনা ছড়ায়,
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোন থেকে দ্য নেশন এর রমিজা নিজামি একই ব্লক মেইনটেইন করে।
পার্থক্য হলো- ওরা বাংলাদেশে থেকে পাকিস্তানবিদ্বেষ ছড়ায়,
আর রমিজা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বিদ্বেষ ছড়ায়।
সম্ভবত, এ গ্রুপটা কখন চায় না, ভারতের দুই পাশে দুটি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে কখন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হোক, তাহলে সেটা তাদের স্বার্থে আঘাত হানবে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কৌশলগত কারণেই ইমরান খান চাইছিলো পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হোক, কিন্তু ঐ গ্রুপটি জোর করে চাইছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধকে উস্কে দিতে। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ হুজুগে মাতাল, ক্রিকেট খেলাকেই জীবন-মরণ ভাবে, তাই তারা ক্রিকেটকেই বেছে নিয়েছে সেই দ্ব্ন্দ্ব উস্কানোর জণ্য। দ্য নেশন পত্রিকায় ব্যঙ্গ কাটুর্ন দেখে অন্তত সেটাই বুঝা যায়।