বোরকা ও হিজাব পরিধান করায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এন.সি-২৯৫

বোরকা ও হিজাব পরিধান করায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
Related image
বোরকা ও হিজাব পরিধান করায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হয়রানি করাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনায় জড়িত স্কুল বা কলেজের কর্তৃপক্ষ/প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
এই রুলের কারণে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রীদের বোরকা/হিজাব পড়াতে বাধা দিলে ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
আমার মনে হয়, এই বিষয়টি সকল ছাত্রী ও গার্জিয়ানদের জানিয়ে দেয়া উচিত, যেন তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে, দায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিজ নিজ এলাকার কোর্ট বা থানার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
https://www.facebook.com/noyonchatterjee5/videos/939377379771200/?t=42
গতকাল প্রায় সব মিডিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউএসটিসির ধর্ষক শিক্ষক মাসুদ মাহমুদের পক্ষে সংবাদ করেছে। এন.সি- ২৯৪
তকাল প্রায় সব মিডিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউএসটিসির ধর্ষক শিক্ষক মাসুদ মাহমুদের পক্ষে সংবাদ করেছে।

Related image
গতকাল প্রায় সব মিডিয়া চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউএসটিসির ধর্ষক শিক্ষক মাসুদ মাহমুদের পক্ষে সংবাদ করেছে।
১) প্রথম আলো: “‘ধর ধর’ বলে প্রবীণ অধ্যাপকের গায়ে কেরোসিন ঢাললেন শিক্ষার্থী” (https://bit.ly/2xrLloE)
২) কালেরকণ্ঠ: ‘যৌন হয়রানি’ না ষড়যন্ত্র! ইউএসটিসিতে প্রবীণ শিক্ষককে গায়ে কেরোসিন ঢেলে লাঞ্ছনা (https://bit.ly/2Jk9zXb)
৩) বাংলাট্রিবিউন: ইউএসটিসিতে শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন ঢালার অভিযোগে শিক্ষার্থী আটক (https://bit.ly/2KRYWON)
৪) বিডিনিউজ২৪: শিক্ষকের গায়ে কেরোসিন! (https://bit.ly/2NrzWzO)
৫) ডেইলি স্টার: Protests at USTC: Students try to set teacher afire (https://bit.ly/2LA4JIj)
আদৌ ঐ ছাত্র ঐ শিক্ষকের গায়ে কোরোসিন ঢেলেছে কি না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
যদি ঢেলেও থাকে ধরে নেই, তবে এ ধরনের ঘটনা কেন তৈরী হলো, কেন এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলো, সেটা নিয়ে খবর করার দরকার ছিলো আগে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সবাই সে খবরটি এড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য চট্টগ্রামের ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা গত প্রায় ৩ মাস যাবত ঐ ধর্ষক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন-প্রতিবাদ করছে, কিন্তু অনেক দলিল-প্রমাণ থাকার পরও বিষ্ময়কর কারণে প্রশাসন ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, বরং যে সকল ছাত্রী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছিলো।
ইউজিসি’র চেয়্যারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগগুলো হুবুহু বর্ণনা করা হলো-
“জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ জানাতে চাচ্ছি যে, আমাদের ইংরেজী বিভাগের উপদেষ্টা ও শিক্ষক জনাব মাসুদ মাহমুদ দ্বারা আমরা শ্রেণীকক্ষে অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক কথাবার্তা দ্বারা প্রতিনিয়ত লাঞ্চিত হচ্ছি। তিনি শ্রেণী কক্ষে বিভিন্ন অশ্লীল ও প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করেন। যেমন-
১। স্যার শ্রেণীকক্ষে অপ্রাসঙ্গিক যৌনউত্তেজনামূলক কথা বলেন, যা আমাদের পাঠ্যের সাথে সংযুক্ত নয়।
২। যৌন উত্তেজনামূলক কথা বলার সময় স্যার শ্রেণীকক্ষে ছেলেদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন এবং বলেন, ছেলেরা থাকলে আমার কথায় মজা পেতো।
৩। ভুলে যোগাযোগের কারণে একদিন শ্রেণীকক্ষে সবাই অনুপস্থিত ছিলো, তখন উনার কাছে ক্ষমা চেয়ে ভুল হয়ে গেছে বলতে গেলে স্যার ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, একা আসলে আমি তোমাকে রেপ করে দিতাম ?
৪। মেয়েদের প্রিয়ড ও ছেলেদের মাস্টারবেশন নিয়ে প্রায়শঃই কথা বলেন।
৫। মায়ের সাথে ছেলের সেক্সুয়্যাল রিলেশনশীপ এবং বাবার সাথে মেয়ের সেক্সুয়্যাল রিলেশনশীপ নিয়ে কথা বলেন।
৬। বিবাহিত মেয়েদের সাথে অনেক অশোভন কথা বলেন। যেমন-
--আমার কথাগুলো তোমাদের মজা লাগবে না, কারণ তোমরা সব কিছু করে…….
---একজন পার্টনারের সাথে বেশিদিন শারীরিক সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, পরিবর্তন প্রয়োজন।
---একটা মেয়ের যে পরিমাণ সেক্স থাকে, সে চাইলে ৫টা ছেলেকে তৃপ্ত করতে পারে।
---একবার কোন এক পড়া প্রসঙ্গে স্যার বলতে গিয়ে বলেন, `Suck’ করলে যে তৃপ্তি আছে, তা একমাত্র একটা মেয়েই জানে।
এ ধরনের অগণিত অশোভন মন্তব্য নিয়মিত করে থাকেন থাকেন উক্ত স্যার।
৭। ছেলেদের বীর্য নিয়ে কথা বলেন, আরো বলেন যে, এখন ছেলেদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়, ছেলেরা অক্ষম হওয়ার কারণে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, মেয়েদের উচিত ছেলেদের সাথে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে তো এটা সম্ভব হয় না।
৮। ছাত্রীরা লজ্জা পেলে তিনি বলেন, কি হয়েছে তোমাদের ? আমার কথা শুনে কি তোমাদের সুড়সুড়ি লাগে ?
৯। যেসব বিবাহিত ছাত্রীর বাচ্চা আছে তাদের চেহারায় ক্লান্তি দেখলে তিনি বলেন, বাচ্চাদের দুধ খাওয়াবা বাসায় গিয়ে। তোমরা বাচ্চার জন্য দুধমা আনো গিয়ে।
১০। মেয়েরা অস্বস্তি বোধ করলে বলেন, আমার ক্লাসে লজ্জা পাওয়া যাবে না। আমার ক্লাসে আসতে হলে ২/৩টা বিয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে হবে।
১১। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে গেলে তোমাদের ফেল করিয়ে দেয়া হবে। আমাকে খুশি করতে হবে। আমাকে কিভাবে খুশি করতে হয়, সেটা তোমরা মেয়েরাই ভালো জানো, কেননা এসব ছলাকলা তোমাদের রপ্ত আছে।
১২। অশালীন কথায় ইতস্তত বোধ করলে তিনি বলেন, “ক্লান্ত বোধ করতেছো ? এত ক্লান্ত মেয়েকে বিয়ে করবে কে ? যদি তোমাদের বিয়ে না হয়, তবে আমার কাছে চলে এসো”।
১৩। কোন বিবাহিতা ছাত্রী ভালো মার্কস পেলে তাকে বলেন, “যাও যাও আজকে বাসায় দিয়ে স্বামীকে বইলো কোলে নিয়ে বেশি করে আদর করতে।”
১৪। কোন বিবাহিতা ছাত্রীর স্বামী বিদেশে থাকলে বলতেন, “তোমরা হাসব্যান্ড কোথায় ? বিদেশে ? তুমি তো জেন্ডার জোনে আছো। তোমার তো সব কিছু শুকায় যাচ্ছে।” “পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে কোথায় যাবা? জামাইয়ের কাছে যাবা ? জামাইয়ের কাছে যেন যাচ্ছো, আমার কাছে আসো, আমি তোমাদেরকে চাই।”
১৫। তিনি অনেক বিবাহিো ছাত্রীকে বলেন, “তুমি কেন বাচ্চা নিছো ? তুমি বাচ্চাকে দুধ খাওয়াও ? এই জন্যই তো তোমার শরীরের এই অবস্থা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ালে তোমার ফিজিক্যাল এট্র্যাকশন চলে যাবে। দেখা যাবে ছেলেরা আর তোমার দিকে তাকাচ্ছে না।
(এই লিঙ্কে https://bit.ly/2JoeXsk ছাত্রীদের নিজমুখে জবানবন্দি এবং ভিডিও’র ৮:০৪ সময়ে ইউজিসি’র চেয়্যারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠির স্ক্রিনশট পাবেন)
একটা সময় মানুষ ইভটিজিং বলতো, পরে সরকার তা পরিবর্তন করে যৌন হয়রানী’ শব্দের প্রচলন করে। এর কারণ, কিছু ধর্ষক যেমন লিঙ্গ দিয়ে ধর্ষণ করে পৈচাশিক আনন্দ পায়, তেমনি মাসুদ মাহমুদের মত কুলাঙ্গাররা মুখের ভাষা দিয়ে নারীদের ধর্ষণ করে, আনন্দ লাভ করতে চায়। তাই লিঙ্গনির্ভর ধর্ষকের সাথে জিহ্বা নির্ভর ধর্ষক মাসুদ মাহমুদের কোন পার্থক্য দেখি না।
কিন্তু অবাক করার মত বিষয়, যেসব মিডিয়া এতদিন মুখে মুখে নিজেদের নারী অধিকারের পক্ষে এবং নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার বলে দাবী করতো, শুধুমাত্র দলীয় মতাদর্শ (বামপন্থী) মিল থাকার কারণে তারা সবাই একযোগে ধর্ষক মাসুদ মাহমুদের পক্ষ নিচ্ছে এবং যেসব সাহসী ছাত্র ঐ ধর্ষক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলো তাদেরকে আগুন দেয়ার মিথ্যা ঘটনা পক্ষে বলে জেলে ভরেছে। গণমাধ্যমের এই নিঃকৃষ্ট অধঃপতনের স্বাক্ষী থাকবে সবাই, ছি:।
আমেরিকায় উবার চালকরা নাকি আত্মহত্যা করতেছে । এন.সি- ২৯৩
আমেরিকায় উবার চালকরা নাকি আত্মহত্যা করতেছে
খবরে প্রায় দেখি-
আমেরিকায় উবার চালকরা নাকি আত্মহত্যা করতেছে
ভারতে কৃষকরা নাকি আত্মহত্যা করতেছে
তখন বুঝি, এটাই হইলো কর্পোরেটোক্রেসি।
কর্পোরেট সম্রাজ্যবাদীরা আপনাকে সরাসরি হত্যা করবে না, কিন্তু এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হবে, যেন আপনি নিজেই আত্মহত্যা করেন।
Related imageআজকে গাজীপুরে স্পিনিং মিলে আগুন দেখে আমার সেই কর্পোরেটোক্রেসির থাবার কথা মনে পড়ছে বার বার। কারণ-
১) শিল্পখাতে গ্যাসের দাম ৩৮% বৃদ্ধি, ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
২) কর্পোরেট ট্যাক্স ৪০%, ১০০ টাকা ইনকাম করলে ৪০ টাকা সরকারকে দিতে হবে।
৩) পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে আসার সূতার সাথে প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে ঘাম ঝড়ানো অবস্থা।
৪) ব্যাংকের ঋণের বোঝা, উচ্চ হারে সুদ।
৫) কিস্তি শোধ করতে না পেরে খেলাপী হয়ে গেছে্ এখন নতুন ঋণও নিতে পারতেছে না। ব্যাংক টাকার জন্য প্রেসার দিতেছে, নয়ত মামলা করবে।
এত সব চাপ থেকে বাচতে স্পিনিং মিল মালিকরা যদি নিজেরাই নিজেদের প্রতিষ্ঠানে আগুন দেয়, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে ভয়ের কথা হইলো- কর্পোরেটোক্রেসি যত বাড়বে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই প্রবণতা ততই বাড়তে থাকবে।
ঈদ আসলেই শুরু হয়ে যায় কোরবানীর গরু নিয়ে অপপ্রচার । এন.সি- ২৯২
ঈদ আসলেই শুরু হয়ে যায় কোরবানীর 
গরু নিয়ে অপপ্রচার

Image result for স্প্রিং
ঈদ আসলেই শুরু হয়ে যায় কোরবানীর গরু নিয়ে অপপ্রচার
“আমে ফরমালিন, গরুতে স্টেরয়েড- এগুলো হলো দেশী শিল্পকে ধ্বংস করতে গুজব”। কোরবানীর ঈদ আসলেই বিদেশী মদদপুষ্ট মিডিয়াগুলো উঠে পড়ে লাগে, দেশী গরুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে এবং প্রশাসনকে দিয়ে দেশী শিল্পের লাগাম টেনে ধরতে। সেই প্ল্যানেই সম্প্রতি বিবিসি খবর করেছে, ঈদ সামনে রেখে বাড়ছে গরু মোটা করার ওষুধের চোরাচালান (https://bbc.in/2KYOiFS)
পাঠক কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করুন-
১. গরু মোটাতাজা করতে স্টেরয়েড কোন ক্ষতিকর ওষুধ নয়। অ্যালার্জি টাইপের রোগের জন্য হরহামেশা মানুষের শরীরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। যারা বডি বিল্ডিং করে তারা স্টেরয়েড নিয়মিত নেয়। অনেক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে গেলে তাকে স্টেরয়েড দেয় ডাক্তাররা। তাই স্টেরয়েড মানেই খারাপ, এ ধরনের বার্তা ছড়ানো সম্পূর্ণ অমূলক ও গুজব।
২. আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহ সাহেব এ সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “পশু মোটা-তাজাকরণ বা গ্রুথ হরমোন বাড়ানোর জন্য যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা সহনীয় পর্যায়ে। এতে গরুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং মানুষের শরীরের জন্যও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ এই ধরনের ওষুধ গরুকে খাওয়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া ৭৭ কেজি মাংসের মধ্যে যে পরিমান স্টেরয়েড থাকে তার সমপরিমান স্টেরয়েড থাকে একটি ডিমে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে কিছু সবজি আছে যার মধ্যে প্রচুর স্টেরয়েড থাকে। কিন্তু এতে তো আমাদের শরীরের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। বরং উপকারই হচ্ছে।” (https://bit.ly/2NvULtP)
৩. স্টেরয়েড দিয়ে মানুষ যেখানে মোটাতাজা হচ্ছে, সেখানে গরু মোটাতাজাকরণ অবশ্যই একটি বিজ্ঞানসমর্থিত সিস্টেম। যদিও বাংলাদেশের অধিকাংশ খারামী বর্তমানে বিশেষজ্ঞ পদ্ধতি মেনেই গরু মোটাতাজা করে। এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৯০ থেকে ১২০ দিন আগে থেকে গরুর লালন-পালন ও খাদ্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করা হয়।
৪. ঝামেলা হইলো, “মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০” আইনের হাস্যকর ধারা – ১৪ নিয়ে। যেখানে আছে-“মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে এন্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা যাইবে না৷”।
মজার বিষয় হইলো, মানুষের মধ্যে যেখানে হরহামেশা স্টেরয়েড প্রয়োগ হচ্ছে, মানুষের খাদ্য যেখানে কীটনাশক ছাড়া চাষ হচ্ছে না, সেখানে পশুখাদ্যে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ, বিষয়টি খুব হাস্যকর হয়ে যায়। আমার মনে হয়, এ ধরনের দেশীশিল্প বিরোধী আইন শুদ্ধ/পরিবর্তন করা জরুরী।
৫. চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ডা. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, “এক মাসে স্টেরয়েড ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে সে বেশি পরিমাণে স্টেরয়েড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকবে। এটা পশুর জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ওই পশুর মাংস যারা খায় তাদের জন্যও ক্ষতিকর। পশুকে স্টেরয়েড বা হরমোন প্রয়োগ করা হলে তা পশুর প্রস্রাব বন্ধ করে দেয়। ফলে পশুর চামড়ার নিচে পানি জমতে থাকে এবং তা ফুলে যাওয়ায় পশু স্বাস্থ্যবান দেখায় “(https://bbc.in/2KYOiFS)
পাঠক, প্রফেসর হুমায়ুন কবির সাহেবের বক্তব্য বলে দিচ্ছে, খুব কম সময়ের মধ্যে স্টেরয়েড ব্যবহার করলে পশু স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে পড়ে। প্রস্রাব বন্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যে কোন সময় মারা যেতে পারে। এতটুকু তথ্য জানার পর আপনি নিজে নিজেকে খামারি হিসেবে কল্পনা করুন তো একবার। আপনার এত কষ্টের/দামের গরুকে কি এমন কোন ওষধ খাওয়াবেন, যার মাধ্যমে পশুটি মারা যেতে পারে ? ৫-১০ দিন ধরে গরুটি হাটে আসে, গরু অসুস্থ হয়ে গেলে তো পাবলিক তা কিনবেই না, তাহলে খামারি কি গরুকে মোটাতাজা দেখাতে গরুর প্রস্রাব বন্ধ করে অসুস্থ করে পাঠাবে ? আপনার গরুর জন্য বেশি মায়া, নাকি ঐ ব্যবসায়ী/খামারির ? এমনিতেই তো গরুর দাম বেশি, তারমধ্যে দাম বাড়াতে কোন গর্দভও তো নিজ গরুকে এমন হুমকির মুখে ফেলবে না। এটা যে পুরোটাই গুজব, সামান্য চিন্তা করলেই তো বের করা সম্ভব।
৬. উল্লেখ্য সম্প্রতি খরব এসেছে, কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে বাংলাদেশে অবাধে প্রবেশ করছে ভারতীয় জীবানুবাহী গরু। এসব গরুর শরীরে এমন কিছু মিশ্রিত করা হয়েছে যে, গরুগুলোর মৃত্যুর পর তার মাংশে জীবযন্তুও মুখ দিচ্ছে না। (https://bit.ly/2xxeD50)। লক্ষণীয় বিষয় হলো- বিবিসি খবর করেছে ভারত থেকে আসা মোটাতাজা করার ট্যাবলেট নিয়ে, ভারতীয় গরু নিয়ে নয়। অর্থাৎ বিবিসির টার্গেট বাংলাদেশী গরু বিষাক্ত হচ্ছে-এটা প্রমাণ করা। এজন্য বাংলাদেশী গরু পরীক্ষা করার জন্য পশু সম্পদ অধিদফতরকে সে প্রেসারও দেয়। অথচ ভারত থেকে অবাধে জীবানুবাহী গরু প্রবেশ করছে, সেটা নিয়ে বিবিসি কোন খবর করে না এবং প্রশাসনকে সে সব গরু চেক করতেও বলে না।
কোরবানীকে সামনে রেখে দেশী খামারিরা বহুদিন কষ্ট করে বহু খরচ করে গরু প্রস্তুত করে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে বিদেশীমদদপুষ্ট একটি মহল হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠে, দেশী খামারীদের এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিতে। আপনাদের জানিয়ে রাখছি, ঈদ যত সামনে আসবে, এ ধরনের অপপ্রচার ততই বাড়তে থাকবে। তাই জনগণকে এ ব্যাপারে আগে থেকেই সচেতন হতে হবে এবং বিদেশী দালালদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করতে হবে।
ছবি: নাট্য নির্মাতা ও পরিচালক সুমন আনোয়ার । এন.সি- ২৯২
ছবি: নাট্য নির্মাতা ও পরিচালক সুমন আনোয়ার
Image result for স্প্রিংবাংলা নাটক নিয়ে একাত্তর টিভিতে ‘টিভি নাটকে গল্পের আকাল’ শিরোনামে একটা রিপোর্ট করার পর অনেককে দেখলাম বাংলা নাটক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে। তবে আমাকে যদি কেউ কোন মন্তব্য করতে বলে, তবে আমি নাট্য নির্মাতা ও পরিচালক সুমন আনোয়ারকে নিয়ে কথা বলবো। এই লোকটা বাংলা নাটককে পর্নোগ্রাফির পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা আর কারো মধ্যে দেখি নাই। নাটক- ‘টক ঝাল মিষ্টি’, ‘রানীবালা’, টেলিফিল্ম- ‘অন্ধকারের ঢাকা’, এগুলোকে খুব সহজেই এক্সরেটেড নাটক হিসেবে চালানো যায়।
আমার কথা হলো, নাটক যে মাধ্যমেই রিলিজ হোক, এর সেন্সরশীপ দরকার। আর সুমন আনোয়ার যদি আন্ডারগ্রাউন্ডের কেউ হতো, তবে একটা কথা ছিলো, কিন্তু প্রকাশ্যে সুপরিচিত এক্টর-একট্রেস নিয়ে রহস্যের নাম দিয়ে সে যেভাবে চরমমাত্রার অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে, তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
প্রশাসনের উচিত, অশ্লীলতা ছড়িয়ে সমাজকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য সুমন আনোয়ারকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। আর নাট্যজনদের উচিত, এতদিনের গড়ে ওঠা ইন্ডাস্ট্রিকে যারা কলুষিত করতে চায়, তাদের সর্বক্ষেত্রে বয়কট করা।
ছবি: নাট্য নির্মাতা ও পরিচালক সুমন আনোয়ার
‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ নামক কৌতুক সংগঠন বন্ধ হোক -১ । এন.সি- ২৯১
‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ নামক 
কৌতুক সংগঠন বন্ধ হোক -১

Image result for স্প্রিং
‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ নামক কৌতুক সংগঠন বন্ধ হোক -১
ডিএমপির ‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ কার বুদ্ধিতে এসব জিনিস ছড়াচ্ছে তা আমি জানি না।
তবে তাদের বিভিন্ন প্রকাশনা দেখলে বোঝা যায়, যার মাথা থেকেই এ বুদ্ধিগুলো আসছে, সে খুব সিলি বুদ্ধি সম্পন্ন লোক।
যেমন-
একটা পয়েন্টে বলা হইছে- উগ্রবাদের সাথে জড়িয়ে পড়লে আচার-আচরণে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে একটি হলো-“সরকারি অনুদানে তৈরী মসজিদে নামাজ না পড়া।”
স্বাভাবিক দুইটি প্রশ্ন উদয় হতে পারে,
১. বাংলাদেশের মোট মসজিদ সংখ্যা কত ? এবং
২.কতগুলো মসজিদে সরকারী অনুদান পৌছায় ?
২০০৮ সালে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক জরিপ করে। তাদের জরিপের হিসেবে ঐ সময় বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬টি। (https://bit.ly/2Jryus6)
এবার আসুন, কতগুলো মসজিদ সরকারি অনুদান পায় তার হিসেব করি।
প্রতি বছর বাজেটে কিছু টাকা রাখা হয় মসজিদগুলোকে সংস্কার করার জন্য অনুদান দেয়ার। এই অনুদানের পরিমানটা জানা দরকার। সাবেক ধর্মমন্ত্রীর সংসদে জানিয়েছিলো, “২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৫৬টির অনুকূলে ১১ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৯৯ মসজিদের জন্য ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।” (https://bit.ly/2Xv4Abg)
তাহলে মসজিদ অনুদান পাচ্ছে ৫৩০০ এর মত, অথচ মোট মসজিদ সংখ্যা আড়াই লক্ষ। সে হিসেবে অনুদান পাওয়া মসজিদের সংখ্যা মোট মসজিদের মাত্র ২%।
এবার আসুন অনুদানের অর্থের পরিমাণ দেখি।
৫৩০০ মসজিদ পায় ১১ কোটি ৪৬ লক্ষ
তাহলে প্রতি মসজিদ গড়ে বছরে অনুদান পায় ২১ হাজার টাকার মত।
আমার জানা মতে, মসজিদের প্রতি বরাদ্দের এই টাকা নিয়ে বিরাট দুর্নীতি হয়।
বড় একটা অংশই সরকারি দুর্নীতিবাজরা মেরে খায়।
এরপরও যদি ধরি ২১ হাজার মাত্র ২% মসজিদে পৌছায়,
তবে ঐ টাকা দিয়ে অনেক মসজিদের ১-২ মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হবে ? আপনারাই বলুন ??
বাংলায় একটা কথা আছে, “যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা”
সরকার ২% মসজিদের ২ মাসের বিদ্যুৎ বিলের খরচ দিতে পারে না,
অথচ ডিএমপি’র ঐ কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বলতেছে, সরকারে অনুদানে তৈরী মসজিদে নামাজ না পড়লেই সন্ত্রাসী-উগ্রবাদী! বুঝেন অবস্থা।
এজন্যই বললাম- ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম নামক কৌতুক সংগঠনকে বন্ধ করা হোক।
Image may contain: text that says 'উগ্রবাদের সাথে জড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিলক্ষিত হয় উগ্রবাদ ও সহিংস প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন। 'আক্ষরিক' উগ্র আগ্রহ। প্রতি ঘৃণা এড়িয়ে চলা আচার-অনুষ্ঠান বর্জন বিনোদনমূলক কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকা বাঙালি সংস্কৃতিকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর মনোভাব সরকারী অনুদানে তৈরী মসজিদে নামাজ পড়া সরকারী অনুদানে তৈরী মসজিদে নামাজ না পড়া শিক্ষা অনিয়মিত অনুপস্থিতর হার বৃদ্ধি ও ক্লাসে অমনোযোগিতা গোপনীয়তার উগ্রবাদী প্রচারনা অনুসরন করা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে ধর্মীয় আচারের বিষয়ে ক্রমাগতচাপ প্রয়োগ করা প্রতি ঘৃণা প্রকাশ বনধুদের চলা কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ক্রাইম, ডিএমপি'
কথায় বলে, ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না। এন.সি- ২৯০
কথায় বলে, ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না।
Image result for স্প্রিং
কথায় বলে, ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না।
একটা সময় বাংলাদেশের মানুষ ম্যাশ ম্যাশ করে পাগল ছিলো।
ম্যাশ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, ম্যাশ অমুক, ম্যাশ তমুক।
আমি তখন এক স্ট্যাটাসে বলেছিলাম, বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে ‘সেলিব্রেটি ওরশিপ’ শুরু করেছে,
দেখবেন কয়েকদিন পর এই কৃত্তিম ভ্যালুটা আওয়ামীলীগ গ্রহণ করবে।
আওয়ামীলীগ থেকে মাশরাফিকে মনোনয়ন দিয়ে, সেই ফলাফল নিজের ঘাড়ে তুলবে। (https://bit.ly/2JxcaNt)
মানুষ তখন কতটুকু বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলো, জানি না। কিন্তু কয়েকদিন পর আওয়ামীলীগ ঠিকই মাশরাফিকে মনোনয়ন দিয়ে তার পথে সে হাটতে থাকলো। এখন ঐ পাবলিকগুলাই (যারা ম্যাশ ম্যাশ করে পাগল ছিলো), সারা দিন বলতেছে, ম্যাশরাফিকে যেন অবসরে যায়।
একইভাবে বাংলাদেশে যখন ফ্লাইওভার-মেট্রোরেলের কাজ শুরু হলো, তখন আমি বলেছিলা, এগুলো হলো কর্পোরেটোক্রেসির লক্ষণ। এর মাধ্যমে ধনী শ্রেণী মধ্যবিত্ত হবে, মধ্যবিত্ত দরিদ্র হবে আর দরিদ্র মারা যাবে। মাঝখান দিয়ে রাজনৈতিক নির্ভর এলিট ক্লাস বের হবে, যাদের পাশে থাকবে বিদেশী কর্পোরেট শ্রেণী।
আমার কথা শুনে, অনেকে বলেছিলো- আপনি যাই বলেন, বাংলাদেশে মেট্রোরেল-ফ্লাইওভারের দরকার আছে। এর মাধ্যমে যানজট নিরসন হবে।
আজকে ঐ লোকগুলোকেই দেখছি হাইহুতাশ করতেছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা বন্ধ করে দেয়ার জন্য। বলছে- এটা গাড়িওয়ালাদের সুবিধা করে দিতে হইছে।
তবে এটা ঠিক, এখনও একটা শ্রেণী আছে, যারা মটরসাইকেল, প্রাইভেট কার বা বাস ব্যবহার করে, তারা আবার এ রিকশা বন্ধ করাকে সমর্থন যোগাচ্ছে। আমি চাচা চৌধুরীর এক গল্পের উদারহণ দিয়ে বলেছিলাম, এক ভাইয়ের সমর্থন নিয়ে অন্য ভাইকে শেষ করা হচ্ছে এদের পলিসি। তবে দিন শেষে সবাইকেই শেষ করা হবে। (https://bit.ly/30lgs1A)
কথা হলো, এগুলো অনেক পুরাতন পলিসি। কিন্তু মানুষ এগুলো বুঝে না। যদি বেশি বলেন, তবে বলবে, “আরে ভাই! খালি নতুন নতুন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বের করেন, আপনার মাথায় সমস্যা ?”
ঢাকা শহরকে সুন্দর করতে বস্তি উচ্ছেদ
ঢাকার রাস্তাকে সুন্দর করতে হকার উচ্ছেদ
ঢাকার রাস্তাকে গতিশীল করতে রিকশা উচ্ছেদ
কিন্তু বস্তি, হকার ও রিকশা এগুলো যে ঢাকার অংশ – এটা আমরা ভুলে যাচ্ছি। আমার ঘরের জনসংখ্যা বেড়ে গেছে, তাই আমার ভাই-বোন দুই চারটাকে মেরে ফেলে ঘরটা খালি করি। তখন ঘরটা দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর লাগবে, কি বলেন ?
আমি একটা কথা আগেই বলেছিলাম, ঢাকা শহরে যানজট নিরসনের সমাধান কখন ফ্লাইওভার মেট্রোরেল নয়, সমাধান হলো ঢাকা শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করা। শাসক শ্রেণী ঐ যানজটের মোয়া দেখিয়ে বড় বড় প্রজেক্ট হাতে নিচ্ছে, আর কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে।
আমি এও বলেছিলাম- বিকেন্দ্রীকরণের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন যে নতুন লোকগুলো প্রবেশ করছে তাদের আটকানো। ইউএনএফপিএ ও বিবিএসের তথ্য অনুসারে ঢাকায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে ১৭০০ মানুষ। আপনি ২২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে মেট্রোরেল বানাচ্ছেন, যা বহণ করতে পারবে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার লোক। অথচ ঢাকা শহরে ৩৫ দিনে নতুন প্রবেশ করতেছে ৬০ হাজার লোক। তারমানে মাত্র ৩৫ দিনে ঢাকা শহরে যে লোক প্রবেশ করে এত খরচ করে মেট্রোরেল বানিয়ে শুধু তা সামাল দিতে পারবে! ঢাকার বাইরে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরী। এজন্য ঢাকার ভেতরে ফ্লাইওভার মেট্রোরেলে ইনভেস্ট না করে ঢাকার বাইরে প্রডাক্টিভ খাতে ইনভেস্ট করতে হবে। তখন ঢাকা থেকে লোক সরবে, ঢাকার যানজট নিরসন হবে।
আমি আরো বলেছিলাম মেট্রোরেল ফ্লাইওভারে খরচ পোষাতে মানুষের জীবন ব্যয় বাড়বে। মূল্যস্ফীতি বাড়বে, চাল-ডাল কিনতে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হবে। অন্যদিকে, ঢাকা শহরে যত ইনভেস্ট বাড়বে, তত বিকেন্দ্রীকরণের আশা কমে যাবে। কারণ ঢাকায় ইনভেস্ট হলে ঢাকায় মানুষ রাখতে হবে, নয়ত সেই খরচ পোষাবে কিভাবে ? পাশাপাশি, ঢাকায় যত জনসংখ্যা বাড়বে, তত বাসা ভাড়া বাড়বে, মানুষের হাশফাস বাড়বে, জীবন ব্যয় বাড়বে। পাশাপাশি ঢাকাকে প্যারিস, লস অ্যাঞ্জেলস বানাতে নিয়মিত ছাটাই চলবে, গরীব ছাটাই, রিকশা ব্যান তারই অংশ বিশেষ। কিছু বললে বলবো- “পোষালে থাকো, নয়ত পাকিস্তান চলে যাও। ”
এই যে রিকশার ব্যাপারটা দেখেন, কারো কাছে রিকশা বিরক্তিকর, কিন্তু কারো কাছে রিকশা অতি জরুরী। এক্ষেত্রে সরকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় রিকশার জন্য যেভাবে আলাদা লাইন করে দিয়েছে সেভাবে আলাদা লাইন করে দিতে পারতেো। পাশাপাশি মানুষ যেন রিকশা থেকে অটোরিকশা (সিএনজি) দিকে ঝুকে সেটাও উচিত ছিলো। কিন্তু সেখানেও দুর্নীতি। সেই ১৫-১৬ বছর আগে ঢাকা শহরে মাত্র ১৩ হাজার সিএনজি’র অনুমতি দিয়েছিলো বিআরটিএ। এরপর রহস্যজনক কারণে আর নতুন লাইসেন্স দেয়া হয় না। ফলে সিএনজি অটোরিকশা পরিণত হয় সোনার হরিণে। একটা কার-মাইক্রোবাসের রাস্তায় ছাড়তে যেখানে খরচ হয় ৭-৮ লক্ষ টাকা, সেখানে একটা সিএনজি অটোরিকশার দাম হয়ে দাড়ায় ১০-১২ লক্ষ,তারপরও পাওয়া যায় না। নুতন লাইসেন্স হয় না, ফলে হাত বদল হলেই দাম বাড়ে। কিছুদিন আগে সরকার পুরাতন সিএনজি অটেরিকশা ভেঙ্গে নুতন গাড়ি করেছে, কিন্তু আমার জানা মতে এখনও নতুন রেজিস্ট্রেশন দেয়নি। ফলে জনগণের কোন উপকার হয় না, সব উপকার হয় আমাদানিকারকদের।
অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়ে, সিএনজি মিটারে যায় না, আরে ভাই যে গাড়ির দাম ১০-১২ লক্ষ, জমা হাজার টাকা, যানজট কবলিত ঢাকায় সেটা মিটারে যাবে কিভাবে ? বাস্তবতা বুঝতে হবে অবশ্যই। এ কারণে প্রতি ট্রিপে (যত কমদূরত্ব হোক) ২০০ টাকার নিচে যেতে চায় না সিএনজি চালকরা। সরকার রিকশা উঠিয়ে দেবে ভালো কথা, কিন্তু সেটার স্থলে সিএনজি আনা দরকার ছিলো। বাস কখন রিকশার বিকল্প নয়, তবে সিএনজি সেটা হতে পারতো। সেক্ষেত্রে ভাড়া নিয়ন্ত্রনের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতি কিলো ২০ টাকার মধ্যে। কিন্তু সরকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বাস বলতে চাইছে, এটা ভুল।
প্রথম দেখেই দেখেছি, সরকার প্রাইভেট কার বিরোধী। বলতো- এত এত গাড়ি রাস্তায় নামলে যানজট বাড়বে। এ অজুহাত করে গাড়ি আমদানিতে ৩০০-৮০০% পর্যন্ত ট্যাক্স ধরছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা কমিশন খেয়ে বাংলাদেশে উবার নিয়ে আসলেন, যার ফলশ্রুতিতে গ্যারেজের পুরাতন গাড়িগুলো পর্যন্ত ভাড়ায় খাটতে লেগে গেলো। এবার রাস্তা সয়লাব হয়ে গেলো গাড়িতে। তাহলে এতদিনের নীতি গেলো কোথায় ? তবে যেহেতু জনগণ উবার ব্যবহার করে উপকৃত হয়েছে, তাই হয়ত বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু আলটিমেটলি জনগনের খরচ তো বেড়েছে।
কর্পোরেটোক্রেসি’ পলিসিটাই একরম। একদল লাভের স্বপ্ন দেখবে, অন্য দলকে শেষ করে দেয়া হবে। মাঝখান দিয়ে লাভবান হবে আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ও দেশের দুর্নীতিবাজ শাসক। সাবেক অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত যে বলেছিলো, ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে কোন গরীব থাকবে না, এখন সেটাই হচ্ছে, অর্থাৎ গরীব নিধন কর্মসূচি চলছে, ২০২৪ সালের মধ্যে সব গরীবকে মেরে দেশকে গরীবমুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশে হঠাৎ ধর্ষণ বাড়েছে, এর সমাধান কি ? এন.সি- ২৮৯
বাংলাদেশে হঠাৎ ধর্ষণ বাড়েছে, এর
 সমাধান কি ?

বাংলাদেশে হঠাৎ ধর্ষণ বাড়েছে, এর সমাধান কি ?
Image result for স্প্রিং‘আই লাভ ইউ রাইটিং’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, যদি দেশে পতিতাপল্লীর সংখ্যা বাড়ানো যেতো, তবে ধর্ষণ কমে যেতো।
আওয়ামী বামপন্থী সুলতান মির্জা স্ট্যাটাস দিয়েছে, বাংলাদেশে পর্ন সাইটগুলোর আইপি ব্যান হওয়ার কারণে ধর্ষণ বেড়ে গেছে। ধর্ষন হ্রাসের সমাধান পর্ন সাইট খুলে দেয়া।
বাংলাদেশের ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার খবর হঠাৎ চাওর হচ্ছে। স্কুল থেকে মাদ্রাসা, বাস থেকে ট্রেন, ঘর থেকে পার্ক কোন যায়গায়ই ধর্ষণ বাদ যাচ্ছে না। কথা হলো- প্রত্যেক সমস্যারই সমাধান আছে। কিন্তু কোন সমস্যার উদ্ভব ঘটলেই একটা মহল চাইবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্য। যেমন নারীবাদীরা বলবে-
১. যেহেতু শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে, তাই ধর্ষণের জন্য পোষাক দায়ী নয়। তাই নারীরা যে কোন পোষাক পড়তে পারবে।
২. নারীদের কুংফু প্রশিক্ষণ দিতে হবে,
৩. লিভ টুগেদারের বৈধতা দিতে হবে,
৪. নারীরা পরকীয়া করলেও কিছু বলা যাবে না।
যারা সরকার বিরোধী তারা বলবে-
১. ধর্ষণ বৃদ্ধির পেছনে বিচারহীনতা দায়ী। (এটা ঠিক, কিন্তু সমাধানের কথা বলে না)
২. সরকারি দলের লোকজন ধর্ষণ বৃদ্ধি করছে।
বিষয়গুলো একটু খেয়াল করুন, একেক ব্লকের লোক ধর্ষণ হ্রাসে একেক রকম সমাধান উপস্থিত করছে এবং প্রাপ্ত ফলাফল তার স্বার্থের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। যেমন-
-লুইচ্চা ব্লক চাইছে- পর্ন আর পতিতার স্বাধীনতা,
-নারীবাদী ব্লক চাইছে – লিভটুগেদার, পরকীয়া, পোষাক স্বাধীনতা, কুংফু প্রশিক্ষণ
-এন্টি সরকার ব্লক চাইছে- সরকরের পতন।
কিন্তু কথা হলো- ধর্ষণ বৃদ্ধির খবরে জনগণের ব্লক কি চাইবে ? কোন দাবী তুলবে ধর্ষণ হ্রাসের জন্য ??
কোন সমাধানগুলো হলে প্রকৃতপর্থেই জনগণের পক্ষে, হ্রাস পাবে ধর্ষণ।
নির্বাচনের আগ মূহুর্তে ইশতেহার : ‘জেগে ওঠো বাংলাদেশ ২০১৮’- শিরোনামে আমি একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছিলাম (https://bit.ly/2G0B47h), সেখানে আমি কিছু ধারা দিয়েছিলাম, আমার মনে হয়েছে, এই ধারাগুলো প্রকৃতঅর্থে নারী নির্যাতন হ্রাস করতে পারে এবং এই দাবীগুলো জনগণের ব্লকের দাবী হওয়া উচিত। আসুন দাবীগুলো দেখি-
১. নারী নির্যাতন বন্ধ করতে নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবে সেটা হোক স্কুল বা মাদ্রাসা। সেখানে ছাত্রীদের জন্য নারী শিক্ষক, নারী স্ট্যাফ থাকবে,পুরুষ থাকতে পারবে না। পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা শপিং কমপ্লেক্স, গণপরিবহণ, হাসপাতাল, পাবলিক টয়লেটও তৈরী করতে হবে। সেখানেও শুধু নারী থাকবে, পুরুষ থাকবে না। নারীদের জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠানে নারীরা কাজ করবে, ফলে অনেক নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান হবে।(১৬.৮)
২. বিয়ের জন্য কোন বয়স নির্ধারণ করা যাবে না। কেউ উপযুক্ত হলে বিয়ে করতে পারবে। সরকারীভাবে বিয়েতে সাহায্য করতে হবে। তবে প্রেম/ব্যাভিচারে ধরা পড়লে আইনত দণ্ড দেয়া হবে। (৮.৫)
৩. অপরাধ, দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস হ্রাসের জন্য সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা বাদ দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা বৃদ্ধি করতে হবে। (২.৩)
৪. ধর্মকে ব্যক্তির মধ্যে আটকে রাখার কূট-পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি সেক্টরে ধর্মীয় নিয়ম-প্রথার চর্চা করতে দিতে হবে। (৮.১)
৫. সমাজে বিশৃঙ্খলতা তৈরী হতে পারে বা অন্যকে অন্যায়ে উব্ধুদ্ধ করতে পারে এমন কোন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা যাবে না। সমাজে সুশৃঙ্খলতা বজায় থাকে, এমন পোশাক-পরিচ্ছেদ নারী-পুরষকে পরিধান করতে বলতে হবে। (৮.১০)
৭. বিজাতীয় সংস্কৃতি প্রমোট করে এমন মিডিয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। মিডিয়ায় অশ্লীলতা বন্ধে কঠোর কার্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। (৮.২),সিনেমা, বিজ্ঞাপন, মডেলিং, পোস্টার যে কোন স্থানে নারীকে পণ্য বানানোর মাধ্যমে অবমাননা নিষিদ্ধ করতে হবে। কেউ করলে তাকে কঠোর শাস্তির ব্যবহার করতে হবে । (১৬.৯)
৮. পর্নগ্রাফী নিষিদ্ধের পাশাপাশি এইজরেস্ট্রিকডেট সকল পেইজ-সাইট বন্ধ করতে হবে।(১৪.৩)
৯. পতিতাবৃত্তি সর্বাধিক অমানবিক কাজ। সংবিধানে ‘পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ’ এই আইন দেশজুড়ে জারি করতে হবে। পতিতাদের বিয়ে ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। (১৬.১৩)
১০. ছোট নয় বড় ও যৌথ পরিবার সুখ ও নিরাপত্তার কারণ, এই ধারণার তৈরী করতে হবে। (৮.৯)
১১. বিচাব বিভাগীয় কার্যক্রম দ্রুততর করতে - সুপ্রীম কোর্টে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। (১.৫) দেশের প্রতি থানায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এবং প্রতিবিভাগে হাইকোর্টের শাখা থাকতে হবে। (১.৬) হাইকোর্টের অতিরিক্ত ছুটি বাতিল করে সরকারী নিয়ম অনুসারে ছুটি দিতে হবে। (১.৭)
১২. শুধু আইন দিয়ে নয়, বরং সর্বত্র ধর্ম ও নৈতিকতার মাধ্যমে অপরাধ হ্রাসের উদ্যোগ নিতে হবে। (১.৮)
কোন একটি আন্দোলন তৈরী হতে অবশ্যই সেখানে মূল ভূমিকা পালন করে জনগণ। জনগণ অনেক কষ্ট করে কিন্তু তার ফল নিয়ে যায় বিভিন্ন দল ও ব্লক। এটা যেন না হয়, সে জন্য জনগণকে আগে থেকেই সচেতন হতে হবে। আগে থেকেই জনগণের দাবী দাওয়াগুলো বার বার বলতে হবে, যেন সমাধানগুলো জনগণের উপকারের জন্যই হয়।