বুয়েটে শিক্ষকদের মাধ্যমে কৌশলে ‘ইসকন’ সংগঠনের প্রচার
বুয়েটে শিক্ষকদের মাধ্যমে কৌশলে ‘ইসকন’ সংগঠনের প্রচার
ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম ‘সুমন সাহা’, ইসকন ধর্ম প্রচারক। তার আইডি (https://www.facebook.com/saha.sumon/) দেখলে বুঝতে পারবেন, বহু আগে থেকেই দেশ বিদেশে ইসকন ধর্ম প্রচারে সে কাজ করেছে । কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে মুসলিম শিশুদের ‘হরে কৃষ্ণ’ শ্লোগান উচ্চারণ করানো ইসকন সংগঠনের ফুড ফর লাইফ কার্যক্রমের সাথেও সম্পৃক্ত সে। ২০১৬ সালে সে নিয়োগ পায় বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগে শিক্ষক হিসেবে।
উল্লেখ্য, ২৮শে মে ২০১৯ তারিখে সাউথ এশিয়ান মনিটরে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিলো- “মন্দির সংখ্যায় ভারতকে ছাড়িয়ে, বাংলাদেশে ইসকনের প্রভাব বাড়ছে”। রিপোর্টটিতে বলা হয়- “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। অভিযোগ রয়েছে ইসকনের ভক্ত-অনুসারি বা দিক্ষিত এমন কমপক্ষে তিন জনকে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর চাপ রয়েছে সংগঠনটির। প্রসঙ্গটি তোলা হলে ইসকনের কেন্দ্রীয় স্বামীবাগ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ঈশ্বর গৌরহরিদাস কোন রাখ ঢাক ছাড়াই বললেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকদের ৩/৪ জন করে ইসকনের ভক্ত-অনুসারি রয়েছেন। আর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রেই ২/৩ জন করে থাকছেন।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওখানেও আমাদের একজন নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ। এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮-২০১৩ মেয়াদে গণিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করা তরুণ এই ব্রহ্মচারী আরও জানান, তার বিভাগে ইসকনের অনুসারি কোন শিক্ষক না থাকলেও উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগে একজন শিক্ষক ছিলেন যিনি পরে বিভাগীয় প্রধানেরও দায়িত্ব পালন করেন। (https://bit.ly/2nqlFal)
প্রসঙ্গত বলতে হয়, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন সংগঠনের সদস্য শিক্ষক হিসেবে থাকলে, ঐ শিক্ষকের মাধ্যমে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঐ সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তারে সহজ হয়। কারণ ছাত্ররা খুব সহজেই শিক্ষকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঐ সংগঠনে যোগদান করে। আর সেই শিক্ষকটি যদি হয় উক্ত সংগঠনের ‘প্রচার এক্সপার্ট’ তবে তো কথাই নেই। ইসকন সেই কাজটি সুকৌশলে করে থাকে। অর্থাৎ বিশেষ কোন উপায় অবলম্বন করে ঐ শিক্ষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনকে চাপ দিয়ে তারা ইসকন ধর্ম প্রচারে এক্সপার্টদের শিক্ষক হিসেবে হিসেবে প্রবেশ করায়, যা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছে, স্বামীবাগ আশ্রমের ব্রহ্মচারী ঈশ্বর গৌরহরিদাস। এবং এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ইসকন বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু হিন্দু ছাত্রকে ইসকন নামক সংগঠনের সক্রিয় সদস্যে পরিণত করেছে।
বিষয়টি নিয়ে আমি এ কারণে লিখলাম, কারণ বাংলাদেশীরা অনেক বিষয়েই সচেতন নয়। ছোটবেলায় হরলিক্সে বিজ্ঞাপনে এক শিশুর ডায়লাগ ছিলো- “আমি তো এমনি এমনি খাই”। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশীরাও ঐ শিশুর মত সব সময় ভাবে সবকিছুই মনে হয় এমনি এমনি হয়। আসলে কোন কিছুই এমনি এমনি হয় না, প্রতিটি ঘটনার পেছনে থাকে কোন বিশেষ গোষ্ঠীর বিশেষ স্বার্থ হাসিলে বিশেষ কোন কার্যক্রম বাস্তবায়ন। সেখানে থাকে সুদূর প্রসারী প্ল্যান বাস্তবায়ন, যার খণ্ড অংশ দেখে সে এমনি এমনি মনে করে। এই যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসকন সদস্য বৃদ্ধি হচ্ছে, এর পেছনে দেশের বিরুদ্ধে গভীর কোন ষড়যন্ত্রের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, যা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ পুরোই বেখবর। কিন্তু একটা সময় যখন তা বিষ্ফোরণ হবে, তখন সাধারণ মানুষের আবরারের মত লাশ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
ছাত্রলীগের ছেলেরা জুনিয়রদের থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় খারাপ ব্যবহারের আশ্রয় নেয়,
চট্টগ্রামের রাস্তায় বসছে এলইডি ...ছাত্রলীগের ছেলেরা জুনিয়রদের থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য অনেক সময় খারাপ ব্যবহারের আশ্রয় নেয়, এটা আমি অস্বীকার করবো না। অনেক ক্ষেত্রে হয়ত মারপিটও করে।
হলের ভেতরে সেটা চড় থাপ্পরও হয় অনেক সময়।
এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে হাড়গোর ভাঙ্গার ঘটনাও ঘটে।
কিন্তু সাধারণ ছাত্রকে পিটিয়ে মেরে ফেলার কালচার এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।
কোন কিছু হলেই পিটিয়ে মেরে ফেলার কালচার এটা মূলতঃ বিজেপি কালচার।
পার্শ্ববর্তী ভারতে এটা বহুল ব্যবহৃত একটি কালচার।
বিরোধী পক্ষকে তারা হাত-পা ভাঙ্গার জন্য মারে না,
একেবারে হত্যার জন্য মারে।
আর বিজেপি যেহেতু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, সেহেতু তাদের বিরোধীপক্ষ মূলত নিয়মিত ধর্ম-কর্ম পালন করা মুসলিমরা। বুয়েটের আবরার ছেলেটা সম্ভবত সেরকম ধার্মীক মুসলমান ছিলো। আর সেই বিজেপি কালচারটাই বাস্তবায়ন গতকালকে দেখা গেলো।
আমার দেখা- শোভন-রব্বানী প্যানেল হয়ত দুর্নীতি করেছিলো, কিন্তু তারা কিন্তু ডাইরেক্ট ফিল্ডে মারামারি করতো না। কিন্তু লিখক ভট্টাচার্য এসেই ঘোষণা দিলো মারামারি করার। প্রকাশ্যে মারামারি করলো, চেয়ার টেনে নিলো, নানান অভদ্র আচরণ কররো। আজকাল মিডিয়া ও স্ম্যার্ট পলিটিক্সের যুগে এগুলো একদম বে-মানান। এসব অভদ্র আচরণ করা মূলত বিজেপির সংস্কৃতি। এজন্য বিজেপির এ ধরনের আচরণকে সবাই গো-মূত্রখোরদের কালচার হিসেবে ছিঃ ছিঃ করে।
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার যেমন উগ্র মারামারির জন্য কুখ্যাত ছিলো,
ঠিক তেমনি ঢাবির বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসও এই মারামারির জন্য কুখ্যাত। শুভ্র জ্যোতি টিকাদার যেমন শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলতো, ঠিক তেমনি সনজিতও নিজ দলের সিনিয়র নেতাকে জনসম্মুখে পিটাতে অভ্যস্ত। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিনকে সে ৮ তলা থেকে মারতে মারতে নিচে নামানোর ঘটনা সবার জানা।
একটি বিষয় এখন মোটামুটি শিওর, ছাত্রলীগের মধ্যে এখন ব্যাপক হারে বিজেপিপন্থী ইনফিলট্রেট করেছে। এবং সময়ের পরিক্রমায় তারা নেতৃস্থানীয় পদেও চলে এসেছে। ছাত্রলীগের সবাই খারাপ আমি এটা বলবো না, যদি সবাই খারাপ হতো, তবে একটা সংগঠন কখন টিকে থাকতে পারে না। তবে ছাত্রলীগের মধ্যে বিশেষ করে নেতৃস্থানীয় পদে এই বিজেপিপন্থীদের অনুপ্রবেশ খুব খারাপ লক্ষণ। একটা সংগঠনকে যদি ধ্বংস করে দিতে চাও, তবে তার মধ্যে এক্সট্রিমিজম প্রবেশ করিয়ে দাও, ছাত্রলীগের মধ্যে বিজেপিন্থীরা কিন্তু সেটাই করছে। সমাজের যে অংশটা ছাত্রলীগের শত্রু ছিলো না, তাদেরকেও ছাত্রলীগের শত্রু বানিয়ে দিচ্ছে। আমি ছাত্রলীগের মধ্যে থাকা সেই ভালো মহলটিকে বলবো, আপনারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন, আপনাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করা সেই বিজেপিপন্থীদের কিক আউট করুন। সংস্কার করে বিজেপিপন্থীমুক্ত ছাত্রলীগ তৈরী করুন। শুধু দায় এড়ানো বহিষ্কার করেই শেষ রক্ষা হবে না, বরং মূল যায়গায় হাত দিতে হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নিন, নয়ত ছাত্রলীগের বিদায় ঘণ্টা বিজেপিন্থীরা দ্রুত বাজিয়ে দিবে নিশ্চিত।
আবরারকে হত্যা করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয় পূজা মণ্ডপ থেকেই
জোনাক বাতি | 763716 | কালের কণ্ঠ | kalerkanthoআবরারকে হত্যা করার দিক নির্দেশনা দেয়া হয় পূজা মণ্ডপ থেকেই
স্ট্যাটাসটা ছিলো ভারত বিরোধী। ঐ পূজা মণ্ডপে এমন কোন ভারতীয় এজেন্ট ছিলো যে ছাত্রলীগ দিয়ে কাজটি করায়। হতে পারে ঐ ভারতীয় এজেন্ট সে সব ছাত্রলীগের ছেলেকে মণ্ডপে ডাক দেয়
অথবা মণ্ডপে তাদের সাথে কথা হয়। মদ খাওয়ানো ছাড়াও আর্থিক লেনদেন হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
শুধু মদ্যপ হয়ে খুন করেছে, এটা স্বাভাবিক নয়। কারণ মাতাল হলে এ ধরনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়া এবং সেখান থেকে গভীর মমার্থ খুজে বের করার মত মানসিক শক্তি থাকার কথা নয়। বরং পূজা মণ্ডপ থেকেই তাদেরকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আবরারকে উপর্যুপুরি পেটানোর জন্য। আরো সহজ ভাষায় বলতে, অর্থাৎ ছাত্রলীগ ছেলেদের মদ খাওয়ায় আববারের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে দেয়া হয়। অর্থাৎ জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাওয়া লোকগুলোকে লেলিয়ে দেয়া হয় আবারের বিরুদ্ধে, যা মুভিগুলোতে আমরা হরহামেশা দেখি থাকি।
এখানে লক্ষণীয়,স্ট্যাটাসে এমন কিছু ছিলো না, যেটা দেখে ছাত্রলীগ ক্ষেপে যেতে পারে, তাই স্ট্যাটাসের কারণে ছাত্রলীগ ক্ষেপেছে এটা বলা যায় না।
বরং পূজা মণ্ডপ বা সেখানকার কোন ভারতীয় এজেন্টদের বিরুদ্ধে বিষয়টি যায়।
তার দিক নিদের্শনায় কাজটি হয়। মাঝখান দিয়ে শুধু পেটানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ছাত্রলীগ সদস্যদের।
এটা হঠাৎ করে পিটাতে গিয়ে কোন খুন নয়, বরং ইনটেনশেনালী পিটাতে গিয়ে খুন।
বুয়েটের সাথে ভারত ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধের অনেক কারণ আছে-
আবারও জ্বলছে 'গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা ...বুয়েটের সাথে ভারত ও হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধের অনেক কারণ আছে-
১) বুয়েট তৈরী হয়েছে পাকিস্তান আমলে, পাকিস্তান সরকার সেটা করছে। তাই সৃষ্টিগতভাবে বুয়েট একটি ভারতবিরোধী সংগঠন।
২) বুয়েটের সাথে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মামলা চলতেছে। বুয়েট বলে ঢাকেশ্বরী মন্দির আমার যায়গা দখল করছে, আর ঢাকেশ্বরী মন্দির বলে পুরোটা বুয়েটই মন্দিরের যায়গায় বানানো হইছে। বুয়েট যেন তাদের যায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরী হওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে বাধা দিছিলো, বুয়েট হওয়ার সময় সেটা দিতে পারে নাই। বুয়েট থেকে যে মেধাবী ছাত্ররা বের হয়, তাদেরকে ভারত নিজের মেধাবীদের তুলনায় থ্রেট মনে করে। যেমন ২০১৬ সালের বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সামিটের উদাহরণ দেই, তখন কিভাবে গরুর মাংশের অজুহাত দিয়ে সেই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছিলো হিন্দুত্ববাদীরা, অথচ ঐ অনুষ্ঠানটি হলে বাংলাদেশের স্বার্থে এবং ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ হতো। তাই গ্যাঞ্জাম লাগায় যত বুয়েট বন্ধ রাখা যায়, তত ভারতের লাভ।
৪) ২০১২ সালে মুক্তমনা ব্লগে কিছু হিন্দুর ক্ষোভ দেখেছিলাম বুয়েটের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ ছিলো- বুয়েটের ছাত্রতা তুলনামূলক ইসলাম ধর্ম চর্চা বেশি করে। এছাড়া বুয়েটে কিছু হিন্দু শিক্ষক ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করায় তারা ক্ষেপে থাকে।
৫) বুয়েটে কোন কোন হলে, হলের পক্ষ থেকে নিয়মিত গরুর মাংশের ফেস্টিভাল হয়, উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা এর ঘোর বিরোধী, এবং বিভিন্ন সিস্টেমে তা বন্ধ করতে চায়।
কয়েকদিন আগে ইমরান খানের ভাষণের পর একটা স্ট্যাটাস দিছিলাম,
কয়েকদিন আগে ইমরান খানের ভাষণের পর একটা স্ট্যাটাস দিছিলাম,
বলছিলাম- ‘ইমরান যে তুই অপরাধী’ থিউরী ব্যবহার করছে,
বাংলাদেশীরা এখনও সেই যোগ্যতা অর্জন করে নাই,
বাংলাদেশীদের উচিত ইমরান খানের থেকে শিক্ষা নেয়া।
কুলকুলতি কুলবতী,তোমার তোলে দিয়ে ...সম্প্রতি বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর কিন্তু বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গেছে,
বাংলাদেশীরা এখনও ‘তুই অপরাধী’ এ কথাটা বলতে পারে না।
তাহলে বাংলাদেশীদের আসলে এখন কোন যোগ্যতা পয়দা হয় নাই।
গতকাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির রিপোর্টে (https://bit.ly/2VqsyoF) একটি বিষয় স্পষ্ট হয়-
যেই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আবরার হত্যা, অর্থাৎ ফেসবুকে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট ইত্যাদি,
সেই উপলক্ষটা তৈরী করে ‘অমিত সাহা’। সেই আবরারের মোবাইল চেক করে এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করে, তারপর তাকে পিটানোর দায়িত্ব নেয় অন্য সবাই। কিন্তু এরপরেও ‘অমিত সাহা’ নামটি আশ্চর্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় এবং সবাই (পুলিশ, মামলার এজহার, ছাত্রলীগের বহিষ্কার লিস্ট এমনকি মিডিয়া থেকে) অমিত সাহা’র নামটি রহস্যজনকভাবে লুকিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে অমিত সাহা তার নিকট লোকজন নিয়ে বিভিন্ন প্রমাণ সাজানোর চেষ্টা করে, সেই দিন ঘটনার সময় সে উপস্থিতই ছিলো না।
পুরো ঘটনায় যেটা দেখা যায়-
১) অমিত সাহা যে মূল সূচনাকারী, এ কথাটা বুয়েটে অনেক ছাত্রই জানে। কিন্তু তারা এ কথাটা প্রকাশ্যে বলতে পারতেছে না। হাজার হাজার স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল করতে পারতেছে না, বলতে পারতেছে না- অমিত তুই অপরাধী।
২) পুলিশ বলতে পারতেছে না, অমিত সাহা অপরাধী। মামলার আসামীর তালিকায় তার নাম রাখা হয় নাই। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে বার বার জিজ্ঞেস করা হলেও সে অমিতের নামটা জানে না। এমনকি বলতেছে, ঐ রুমে তিনজন থাকতো (তাও অমিত ছিলো না)। পুলিশ অপরাধীকে অপরাধী বলতে পারতেছে না।
৩) ছাত্রলীগ আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, এটা ঠিক। কিন্তু কোন সদস্যের প্ররোচনায় তারা কাজটি করেছে, এ কথাটা তারা বলতে পারতেছে না। প্রয়োজনে নিজের ১১ জন সদস্যকে সে খুনি হিসেবে প্রচার করতেছে, কিন্তু অপরাধীর কথাটা তারা প্রকাশ্যে মুখে উচ্চারণ করতে পারতেছে না। বলতে পারতেছে না- ঐ ঘটনার সূচনাকারী অমিত সাহা।
৪) ভিসি থেকে শুরু করে প্রভোস্ট, সবাই নিজে গালি খাচ্ছে, কিন্তু ঘটনাটা কেন ঘটলো, কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে হলো- সেটা বলতে পারতেছে না।
এই ঘটনা শুধু এবার নয়-
প্রিয়া সাহা বা তার হ্যাজবেন্ডকে বাংলাদেশ অপরাধী বলতে পারে নাই।
হিন্দুদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত ইসরাইলের মোসাদের সাথে মিটিং করে বাংলাদেশের বারাংবার অরাজকতা করার ঘোষণা দিচ্ছে, করছেও। কিন্তু সরকার একবারও বলতে পারে নাই- ওরা অপরাধী।
রানা দাস গুপ্ত, গোবিন্দ প্রামণিকরা বার বার রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করে যাচ্ছে, বিদেশী শক্তিকে উস্কানি দিচ্ছে বাংলাদেশের হামলার জন্য কিন্তু তারপরও তারা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে, অপরাধী হিসেবে তাদের ঘোষনা করা যায় নাই। এর কারণ ইমরান খান উগ্রহিন্দুত্ববাদকে যেভাবে প্রকাশ্যে উন্মোচন করেছে, সেই সাহস আমাদের কারো নেই। আমি ইমরান খানের ভাষনের সেই অংশটুকু দিচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ এটা মুখস্ত করুক এবং সেভাবে উগ্রহিন্দুত্ববাদকে তুই অপরাধী হিসেবে বলতে শিখুক, হয়ত এই চর্চাটা আগামীতে বাংলাদেশকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবে।
ইমরান খান-
“আমি আরএসএস সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে চাই। নরেন্দ্র মোদি আরএসএস এর আজীবন সদস্য। আরএসএস এমন একটি সংগঠন যেটি এডলফ হিটলার এবং মুসোলিনীর হিংস্র আদর্শে অনুপ্রাণিত। নাৎসীরা যে পদ্ধতিতে অন্য সকল জাতি হতে নিজেদের সেরা ভাবতো। একইভাবে আরএসএসও নিজেদের সবার চেয়ে সেরা মনে করে।
আরএসএস ভারত থেকে মুসলমানদের জাতিগত নিধনে বিশ্বাসী, এটা সবাই জানে। আরএসএস হিন্দুত্ববাদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। তারা মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। তারা বিশ্বাস করে মুসলিম শাসনের ফলে হিন্দুত্ববাদের সোনালী যুগের অবসান ঘটেছে। তারা সরাসরি মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়। এটা সবাই জানে। গুগল করে আপনি জানতে পারবেন আরএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা গোলকওয়ার। এই ঘৃণার আদর্শ ১৯৪৮ সালে হত্যা করেছে ভারতের অবিসংবাদিত নেতা গান্ধীকে।
এই ঘৃণার আদর্শ আরএসএস এর গুন্ডাদেরকে মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২ হাজার মুসলিমকে জবাই করতে প্রেরণা দিয়েছিল। মোদির নির্দেশে গেরুয়া পাঞ্জাবী পরে ৩ দিন ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল আরএসএস এর সন্ত্রাসীরা। তাদের তান্ডবে ২ হাজার মুসলিম নিহত হয় এবং গৃহহীন হয় দেড় লাখ মুসলিম। 
আবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -১
আবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -১
অ্যানালাইসিস ক্লাস করানোর সময় আমি আপনাদের যে কোন ইনসিডেন্টে দুটি অংশের কথা শিখিয়েছিলাম। একটির নাম দিয়েছিলাম- রিয়েল ফেস, অন্যটি আর্টিফিসিয়াল ফেস।
আমি বলেছিলাম- যে কোন এক্টর চাইবে- ঘটনাকে রিয়েল ফেস থেকে আর্টিফিশিয়াল ফেসের দিকে নিয়ে যেতে। এবং প্রতিপক্ষ যত আর্টিফিশিয়াল ফেসে আঘাত করবে, এটা বরং তার সফলতা হিসেবেই গণ্য হবে।
ঢাকা উত্তরে বসেছে ৩৩৪৩টি এলইডি বাতিআবরার হত্যাকাণ্ডে আমরা একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি।
এই ঘটনায় রিয়েল ফেস হলো অমিত সাহা, যাকে এক্টররা লুকাতে চাইছে। কারণ- সেটার মধ্যে রয়ে গেছে মূল গোমর।
আর ছাত্রলীগ হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ফেস। এটা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নিজেরাই উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। তারাই চাচ্ছে সেখানে যেন আঘাত হয়।
অনেকে এই ঘটনায় ছাত্রলীগকে দোষারোপ করে ভাবতেছে, এর মাধ্যমে সফলতা আসবে।
কিন্তু না, এটা ভুল। আপনাকে বিষয়টা বুঝতে হবে।
আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ যেটুকু ওজন বহন করতে পারবে, সেটা তারা স্বেচ্ছায় নিতে চাচ্ছে।
অর্থাৎ তার ১০ জন কর্মীর ফাসি হোক এটাতে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না।
এমনকি তারা খুনি সংগঠন হিসেবে প্রচার পাক, এটাতেও তাদের সমস্যা নাই।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, শুধু অমিত সাহার নাম প্রকাশটি নিয়ে।
অর্থাৎ আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের নিজের ১০ জন লোককে ফাঁসি দেয়ার ক্ষমতা আছে।
কিন্তু আসামী লিস্টে অমিত সাহা’র নাম উঠানোর ক্ষমতা নাই, এটা তার কাছে অনেক বেশি ওজনদার।
এবং আওয়ামীলীগ এই অংশটাকে নিজের দুর্বল অংশ বলে মনে করে। এই জন্য সে নিজের শরীর দিয়ে তার দুর্বল অংশটা ঢাকার চেষ্টা করে।
আওয়ামীলীগের দুর্বলতা কোথায় ?
হিন্দুত্ব বা ভারতকে আওয়ামীলীগ অসন্তুষ্ট করতে চায় না। কারণ আওয়ামীগের বিশ্বাস (!) এতে তার সাথে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হবে, এবং সে কারণে তার ক্ষমতায় সমস্যা হতে পারে। এ কারণে হিন্দুত্ব বা ভারত প্রসঙ্গ আসলে আওয়ামীলীগ ‘নো-কম্প্রোমাইজ’ নীতি ফলো করে। জনগণকে প্রয়োজনে কিক করে ফেলে দিবে, কিন্তু তাদের কথার বাইরে যায় না। এর উদাহরণ হিসেবে তিনটি ঘটনা টানা যায়।
একটি- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখানে সব জনগণ বিরুদ্ধে গেলেও আওয়ামীলীগ সেখানে তোয়াক্কা করেনি।
দ্বিতীয়টি- নাসিরনগরের ঘটনা। যাকে উপলক্ষ করে মুসলমানদের তুলোধুনা করেছিলো আওয়ামীলীগ। পরবর্তীতে অবশ্য ভারতীয় পার্লামেন্টে একজনের বক্তব্য শুনেছিলাম- তারা ভারত থেকে আওয়ামীলীগকে ফোন করেছিলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
তৃতীয়টি- সরকারী চাকুরীতে ব্যাপক হারে হিন্দু নিয়োগ, যা ঘটে থাকে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের ফোনের মাধ্যমে। আমার জানা মতে, এই ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের দৌরাত্বের কারণে আজকে মুসলিম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা হিন্দু পুলিশদের ইন্ডিয়ান হাই কমিশন পাওয়ারের কাছে অতিষ্ঠ।
আওয়ামীলীগের ভারত বা হিন্দুত্ব নিয়ে এ ভীতি কতটুকু সত্য ?
মোটেও সত্য না। এটা আওয়ামীলীগের ‘ফলস বিলিভ’। এই ভীতির পক্ষে আওয়ামীলীগ কিছু না করলে আওয়ামীলীগের ক্ষমতার ক্ষতি হবে এই বিশ্বাসের আসলে কোন ভিত্তি নাই। পুরোটাই আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের ভুয়া কল্পনা। অথচ এই ফলস বিলিভের কারণে ভারতকে খুশি করাতে গিফট দিতে গিয়ে আজকে আওয়ামীলীগ একটি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে।
ভারত বা হিন্দুত্ব ভীতি যে ফলস বিভিল, তার দুটি প্রমাণ দিচ্ছি।
এক, বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ সংযুক্ত হওয়া। আওয়ামীলীগ মুখের উপর না করে দিছিলো। কিন্তু এর প্রতিদানে ভারত কিছুই করতে পারে নাই।
দুই, সম্প্রতি বাংলাদেশের উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা হুমকি দিছিলো পূজার জন্য রংপুর নির্বাচন পেছানোর জন্য। কিন্তু সরকার সেটাকে পাত্তা দেয় নাই। এতে হিন্দুত্ববাদীরা কিছুই উল্টাতে পারে নাই।
কথায় বলে, “বনের বাঘের খায় না, মনের বাঘের খায়”।
আমার মনে হয়- আওয়ামীলীগের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ অবস্থায় তাদের নীতি নির্ধারকদের হিন্দুত্ব ও ভারত নামক মনের বাঘের খপ্পর থেকে বাড়িয়ে আসা খুব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।
(চলবে)
মাত্র ১ মাস আগেই ইসকনের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ রায়কে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
মাত্র ১ মাস আগেই ইসকনের পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণ পদ রায়কে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আর সেই ক্ষত্রিয় রাজকেই পাঠানো হয় বুয়েটের আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সমাধান করতে।
আবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -২
আবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -২
পাইকারি দামে ডিজাইনার ঝার বাতি ...কেন অমিত সাহা রিয়েল ফেস ?
এটা বুঝতে হলে, প্রথমে বুঝতে হবে-
-আবরারকে কেন হত্যা করা হলো ?
উত্তর- তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য। যা ইতিমধ্যে পুলিশ, ছাত্রলীগসহ অনেকেই স্বীকার করেছে।
-স্ট্যাটাসে কি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু ছিলো ?
উত্তর- না। ছিলো ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে।
-স্ট্যাটাস যে ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে, প্রথম এই অভিযোগটা নির্ণয় করেছিলো কে ?
উত্তর – অমিত সাহা। (সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেট টিভি)
অর্থাৎ আবরারের স্ট্যাটাস ছিলো ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং সেই অভিযোগটা নির্ণয় করেছিলো অমিত সাহা। অর্থাৎ আবরার ছিলো ভারতবিরোধী, কিন্তু সে ভারত বিরোধীতারাকে অমিত সাহা তার সহযোগী মদ্যপ ছাত্রলীগ সদস্যদের কাছে তুলে দিয়েছিলো তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শবিরোধী ‘শিবির’ নামে। অথ্যাৎ নিজের শত্রুকে অন্যের শত্রু বলে চালিয়ে দিয়ে, অন্যকে দিয়ে নিজের শত্রুকে দমন করা, যা বর্তমানে ইহুদীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
কেন অমিত সাহা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ?
কারণ- ছাত্রলীগকে যদি আপনি শুধু দোষ দেন, তবে তা সর্বোচ্চ ছাত্রলীগ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। আওয়ামীলীগ প্রয়োজনে ১০ জন ছাত্রলীগকে ফাসির আদেশ দিয়ে পরিবেশ ঠাণ্ডা করে ফেলবে। কিন্তু যখনই আপনি অমিতকে দোষী করবেন, তখন তা সিরিয়াল মত অমিত সাহা থেকে ভারতের সাথে চূক্তি পর্যন্ত আসবে। তখন আঘাতটা পড়বে ভারতীয় অধিপত্যবাদের উপর। ডিস্ট্রার্ব হবে বাংলাদেশে তৈরী হতে থাকা ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে। কিন্তু যতক্ষণ আপনার আক্রমণ হবে ছাত্রলীগ, ততক্ষণ ভারতীয় ভারতীয় আধিপত্যবাদ থাকবে নিরাপদ। সেখানে আঘাতটা আসবে না।
এটা কি অমিত সাহা’র প্রতি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী ?
সম্প্রদায়েদের বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরকৃত দৃষ্টিভঙ্গী বলতে পারেন। কারণ হিন্দু সেই ব্যক্তি, যে হিন্দু ধর্ম অনুসরণ করে। অপরদিকে হিন্দু ধর্মের একটি কার্যক্রম বলতে পারেন ‘অখণ্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠা। তাই যে কোন হিন্দু ধর্মীক সেটা ভারতীয় হোক আর বাংলাদেশী হোক অখণ্ড ভারতের পক্ষে কাজ করবে এবং অখণ্ড ভারত বিরোধী যে কোন কার্যক্রমের বিরোধীতা করবে। যেহেতু অমিত সাহা একজন ধার্মীক হিন্দু, সেহেতু এই কাজটা যে ধর্মীয় কাজের অংশ হিসেবেই করবে, এটা নিদ্বির্ধায় মেনে নেয়া যায়।
চূক্তির মধ্যে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কি পেলেন ?
অনেক কিছুই আছে। বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যার ৩ পাশে ভারত, এটা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার বড় অন্তরায়। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর নেহেরুর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়েছিলো ভারতের মাঝখানে মুসলিম শাসিত হায়দ্রাবাদের অস্তিত্ব’ মিটিয়ে দিতে হবে। মাত্র ১ বছরের মধ্যে তা করা হয়েছিলো। সে দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তো অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়, আর মোদি নিয়োগ দেয়ার পর হিন্দুত্ববাদীদের অন্যতম চাহিদা সে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করবে। । সে দিক বিবেচনায় এবারে শেখ হাসিনার সাথে মোদির চূক্তিগুলোর মধ্যে অনেক গোপন জিনিস লুকিয়ে আছে, যা বাংলাদেশকে গ্রাস করার স্টেপ বলা যায়। যেমন- শুধু ফেনী নদী নিয়ে যদি চিন্তা করি, তবে একটাই যথেষ্ট। ফেনী নদীর সাথে তুলনা করা যায় ভারতের ‘চিকেনস নেক’র সাথে। চিকেনস নেকের অপর নাম হলো শিলিগুড়ি করিডর। চিকেন নেকের এমন একটি যায়গায় যেখানের এক পাশে নেপাল, অন্যপাশে বাংলাদেশ। মাঝখানে মাত্র ২১ কিলো যায়গা। এই ২১ কিলো যায়গা যদি দখল করে নেয়া যায়, তবে মূল ভারত থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণ কাটা পড়ে। এ কারণে ভারত এই চিকেনস নেক নিয়ে খুব সতর্ক থাকে এবং কারো সাথে কোন ধরনের ক্রিয়া কলাপ সহ্য করে না।
একইভাবে ফেনী নদীও হলো বাংলাদেশের একটি কাটা দাগ, যার মাধ্যমে মূল বাংলাদেশের সাথে ৫টি জেলা- চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা যুক্ত হয়েছে। ফেনী নদী দিয়ে যদি বাংলাদেশকে কেটে ফেলা যায়, তবে এই ৫টি জেলা বাংলাদেশ থেকে পৃথক হয়ে ভারতের ত্রিপুরার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে, ভারত লাভ করবে বিশাল সমুদ্র অঞ্চলসহ সমুদ্র সম্পদ। উল্লেখ্য কিছুদিন আগে ভারতের ত্রিপুরার কিছু সংগঠন এই অংশটি বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতের সাথে সংযুক্ত করার দাবী তুলেছিলো। এ অবস্থায় মানবিক কারণে হোক আর পানি নেয়ার কারণে হোক, ফেনী নদীতে ভারতের যে কোন ধরনের প্রবেশাধিকার কখনই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তা দেশের স্বার্বভৌম ও স্বাধীনতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
আবরারের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে কিভাবে ?
যে স্ট্যাটাসের জন্য আবরারকে হত্যা করা হয়, সেটা ছিলো ভারতের এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আবরারকে বলা হচ্ছে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী নব্য যুদ্ধের প্রথম শহীদ। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য- আবরারকে যে কারণে শহীদ হলো, সেটা আড়াল করে সবাই বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, আবরার যে কারণে শহীদ হলো, সেই দিকটি সর্বপ্রথম বিবেচনা করে, সে দিকেই আন্দোলনের লক্ষ্য রাখা উচিত, তবেই আবরারের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।
(চলবে)
আবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -৩
দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত বাতি - Shajgojআবরার হত্যাকাণ্ড : ছাত্রলীগ আর্টিফিশিয়াল ফেস, রিয়েল ফেস ‘অমিত সাহা’ -৩
সরকার কেন ইসকনের ক্ষত্রিয় রাজা কৃষ্ণ পদ রায়কে আবরাকের মৃত্যুর পর পাঠালো ?
অনেকে ভাবতে পারে, পদাতিক বলেই কৃষ্ণ পদ রায়কে পাঠানো হয়েছে । কিন্তু বিষয়টি সেরকম নাও হতে পারে। এই ঘটনায় যে ইসকন বা আন্তর্জাতিক হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক আছে, এই খবর সরকারের কাছে ছিলো, সেটা বুঝেই সে কৃষ্ণ পদ রায়কে মূল করে পাঠায়। এটা বর্তমান সরকারের একটি বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ যে ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে, সমাধানে তাদের মধ্যে থেকে কাউকে পাঠানো, যেন সুন্দরভাবে মিটমাট করতে পারে। যেমন- এর আগের টার্মে সরকার পররাষ্ট্র বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা সম্মুখিন হচ্ছিলো ডেমোক্র্যাটপন্থীদের দিয়ে। এ কারণে সরকার এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছে ডেমোক্র্যাটপন্থী আব্দুল মোমেনকে। একইভাবে গার্মেন্টস সেক্টরেও শ্রমিক বা বৈদেশিকভাবে ঝামেলা করছিলো ডেমোক্র্যাটপন্থীরা। সেজন্য বিজিএমইএ সভাপতি করে দিছে মেয়র আনিসুলের বউ ডেমোক্র্যাট ঘরনার রুবানা হককে। ঠিক একইভাবে সরকার এক্ষেত্রে কৃষ্ণ পদ রায়কে পাঠিয়েছে, ঐ বিশেষগোষ্ঠীর সাথে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের যেন কোন ঝামেলা না হয়, সেটাই ম্যানেজ করার জন্য।
সিসিটিভি ফুটেজের দিকে বেশি লক্ষ্য দিলে মূল খুনীরা আড়াল হয়ে যাবে
সিসিটিভি ক্যামেরাটি ছিলো মূলত বারান্দায়, হলের রুমের ভেতরে না। তাই কে মারছে আর কে উস্কানি দিচ্ছে তা বোঝার কোন উপায় নেই। তাই কেউ যদি আবরারের সাহায্যে এগিয়েও আসে, তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হতে পারে, হয়ত সেই অপরাধী। যেহেতু খুনের ঘটনা ঘটেছে হলের রুমের ভেতরে তাই সিসিটিভি ফুটেজের গুরুত্ব অনেকটাই কম। উল্লেখ্য, অনেক উন্নতরাষ্ট্রে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না, কারণ সিসিটিভি অনেক ক্ষেত্রে ভালো মানুষকে অপরাধী করে দিতে পারে, আবার অপরাধীকে ভালো মানুষ করে দিতে পারে। একেক দিক থেকে একেক রকম মনে হতে পারে। কিছুদিন আগে মিন্নীর ঘটনায় সেটা দেখা গেছে, কলেজ গেটের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে একরকম মনে হয়েছে, আবার হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আরেকরকম মনে হয়েছে।
তাহলে কৃষ্ণ পদ রায় কেন সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তালবাহানা করলো ?
কৃষ্ণ পদ রায়কে যে ছাত্রকে আড়াল করার জন্য পাঠানো হয়েছিলো, ৬ ঘণ্টার লম্বা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তারা শিওর হচ্ছিলো, আসলেই সে সিসিটিভি থেকে আড়াল হয়েছিলো কি না। এর জন্য পুরো সিসিটিভিটা দেখতে তারা সময় নিচ্ছিলো। যখন তারা মোটামুটি শিওর হয়, এটা দিয়ে তাদের মূল গোমর ধরা পড়বে না, তখনই তারা সে হস্তান্তর করে।
শেখ হাসিনা বুয়েটে ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ সহ্য করবে, কিন্তু ভারতকে পানি দেয়া বন্ধ সহ্য করবে না।
আমি আগেই আপনাদের বলেছিলাম, ছাত্রলীগ এখানে আর্টিফিশিয়াল ফেস, কিন্তু ভারতের স্বার্থ রিয়েল ফেস। এ কারণে শেখ হাসিনা বুয়েটে ছাত্রলীগ বন্ধ সহ্য করবে, কিন্তু ভারতকে পানি দেয়া বন্ধ সহ্য করবে না। কারণ তার কাছে ছাত্রলীগের থেকে ভারতের স্বার্থ রক্ষা বেশি জরুরী এবং নিদের্শনাটা সেরকমই হয়েছে। (চলবে)

অনেকে বলছে, আচ্ছা আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে সরকার, পুলিশ, বুয়েট কর্তৃপক্ষ কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে, যা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
The Saturday Newsঅনেকে বলছে, আচ্ছা আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে সরকার, পুলিশ, বুয়েট কর্তৃপক্ষ কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে, যা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। যেমন-
১) আবরারের হত্যার পর ভিসি, প্রভোস্ট ও ছাত্র কল্যান স্যারের অস্বাভাবিক আচরণ,
২) ইসকনের ক্ষত্রিয় রাজা কৃষ্ণ পদ রায়ের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তালবাহানা করা,
৩) মামলায় প্রথমে অমিত সাহার নাম অন্তর্ভূক্ত না করা, পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়ার পরও তাকে গ্রেফতার করতে তালবাহানা করা (অবশেষে প্রতিবাদের মুখে গ্রেফতার)।
৪) ঘটনার পরদিন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সম্ভবত, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশানার, নামের সাথে বাতেন আছে) ঐ রুমে তিন জন থাকতো বলে মিডিয়ার কাছে বলা, মিডিয়ার কাছে ঐ রুমে অমিত সাহা থাকতো তা এড়িয়ে যাওয়া।
৫) আববারের পরিববার ও আত্মীয়দের সাথে পুলিশের রূঢ় আচরণ করা,
৬) বুয়েটে ছাত্র নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ওয়েবসাইটে উঠে আসা তথ্য আইএসপি থেকে ব্লক করা।
৭) আবরারের যে সব বন্ধু ঘটনার গোমর ফাঁস করছিলো, তাদের হেনস্তা করা।
এই যে অস্বাভাবিক আচরণ, তা শুরু হওয়ার সাথে সাথে আমি বলেছিলাম, এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের মূল কারণ হতে পারে ভারতীয় দূতাবাস থেকে ফোন করা হয়েছে।
অনেকে বলেছে, ভাই আপনি কিভাবে বুঝলেন, ভারতীয় দূতাবাস থেকে ফোন করা হয়েছে, আপনার কাছে দলিল আছে ?
আসলে ভাই, সব ঘটনার সব সময় দলিল পাওয়া যায় না।
আমি একজন এ্যানালিস্ট।
আমি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এ্যানালাইসিস করে গ্রাফ তৈরী করি।
সেই গ্রাফের পূর্ববর্তী বিন্দুর থেকে টেনে আনা দাগ থেকে বলি কি ঘটছে বা কি ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে আমি ২টি ঘটনার উদহরণ টানছি, একটু খেয়াল করুন-
১) ২০১৬ সালের শেষ দিকে বি-বাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননা করে। এটা নিয়ে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কোন দ্বন্দ্বে একটি মন্দিরে কিছু ভাংচুর হয়। এই ঘটনার পর সরকার অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। সরকার পুলিশ দিয়ে স্থানীয় মুসলমানদের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী যেভাবে বাড়ি বাড়ি হামলা করেছিলো, ঠিক সেখাবে মুসলমানদের বাড়িঘরগুলো রাতের আধারে দরজা ভেঙ্গে ঢুকে মুসলমানদের ধরে নিয়ে যায়। মামলা দেয়া হয় আড়াই হাজার মুসলমানের নামে। প্রায় হাজার হাজার মুসলমান বাড়িঘর ছেড়ে ধানক্ষেতে আশ্রয় নেয় পুলিশি নির্যাতন থেকে বাচতে। (https://bit.ly/2MFW9Xt)
সেই সময় সরকার হঠাৎ করে কেন মুসলমানদের উপর দমন নিপীড়ন শুরু করলো সেটা আমার মাথায় আসছিলো না, পুরো বিষয়টি অস্বাভাবিক ঠেকছিলো। সে সময় ভারতীয় মিডিয়ায় একটা খবর পেয়ে আমি নিশ্চিত হই হঠাৎ সরকারের এ ধরনের মুসলিম বিরোধী হঠাৎ দমন নিপীড়ন করার কারণটা কি। খবরে প্রকাশ- “ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট করে, 'ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে বলেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানাতে।” (https://bit.ly/2nzAGa3)
অর্থাৎ হঠাৎ মুসলিম নিপীড়নের গোপন রহস্য সুষমা স্বরাজের টুইট।
২) ২০১৭ সালের ঘটনা। রংপুরে টিটু রায় নামক এক হিন্দু ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে। এই ঘটনায় মুসলমানদের ক্ষোভ তৈরী হয়। ক্ষোভ তৈরী হওয়ার কারণ আছে, কারণ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পরও সরকার টিটু রায়কে গ্রেফতার করছিলো না। এক পর্যায়ে মুসলমানরা এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি ছুড়ে। এতে সরকারী হিসেবে ১ জন এবং এলাকাবাসীর হিসেবে ৬ জন মুসলমান মারা যায়। আহত হয় প্রায় ১০০। (https://youtu.be/aJ_9tgWX5Gg)
কিন্তু যখন মুসলিম-পুলিশ সংঘর্ষ চলছিলো, ঠিক ঐ সময় কয়েক কিলোমিটার দূরে কিছু হিন্দুবাড়িতে কে বা করা আগুন দেয়। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধ শত মুসলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা দেো সহস্রাধিকের নামে। ঘরবাড়ি ছাড়া হয় ২০ গ্রামের মুসলিম পুরুষ (https://bit.ly/33mXjgT)।
কিন্তু কয়েকদিন পরে হঠাৎ একটি ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মুসলমানদের আসার আগেই হিন্দুরা নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দেয় (https://youtu.be/r_vG8uazMK4)।
কিন্তু তারপরও সরকার, পুলিশ, প্রশাসন, ও রাজনীতিবিদরা তোয়াজ করতে থাকে হিন্দুদের। তাদের নতুন বাড়ি বানিয়ে দেয়, তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়। (https://bit.ly/2IBD5bi)
এই ঘটনার সময়ও আমার মনে হয়েছে সরকারের আচরণ অস্বাভাবিক, তারা যেন কিছুই শুনতে চাইছে না। আমি এর কারণ অনুসন্ধান করতে থাকলাম। কিছুদিন ঠিকই খবর প্রকাশিত হলো। খবরে প্রকাশ-
“ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ টুইট বার্তায় বলেছে, বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ ঢাকায় তাদের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকে জানিয়েছেন, নাসিরনগর হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বাড়িঘর পুননির্মাণে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি জানান, হিন্দুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছ থেকে তারা বিস্তারিত প্রতিবেদন পেয়েছেন।” (https://bbc.in/3246SRL)
একই বিষয়ে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় সংসদে দাড়িয়ে সুষমা স্বরাজ বলে-
“‘বাংলাদেশ সরকার এটা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বা হামলার ঘটনায় সেদেশের সরকার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে’।...... বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘৬৭ জন মানুষকে ওই ঘটনায় আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচারপর্ব শুরু হয়েছে এবং অপরাধীরা প্রত্যেকেই কারাগারে রয়েছে। সেভাবেই রংপুরেও একটি ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। (https://bit.ly/30XkHQE)
আসলে ভারতীয় দূতাবাসের ফোন পেলে বাংলাদেশ সরকার যে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক আচরণ করে ও বিজেপি সরকারের মতই মুষলমানদের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায় এটা অনেকবারই দেখা যায়। হয়ত বিষয়টি বি-বাড়িয়ার নাসিরনগর বা রংপুরের অজপাড়াগ্রামে ঘটেছে দেখে অনেকে এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু এখন যখন দেশের কেন্দ্র বুয়েটে করছে, তখন বিষয়টি সবার নজরে পড়েছে। তবে আমার অভিজ্ঞতা হলো- ভারতীয় দূতাবাসের বিশেষ ফোন পেলেই এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরন করতে দেখা যায় সরকারকে। আর আববারের ঘটনাতো আরো বেশি ভারত সংশ্লিষ্ট, কারণ আবরারকে যে কারণে হত্যা করা হয়েছে, সেটা ছিলো ভারতের সাথে চূক্তির বিষয়ে। আর যে অমিত সাহাকে নিয়ে এত গণ্ডগোল সে ইসকন সদস্য এবং তার বাবা-মা এখন ভারতের আছে (মিডিয়ায় ছাত্রলীগের এক নেতার দেয়া তথ্য)। তাই ভারতীয় দূতাবাসের ফোনের কারণে সরকার-প্রশাসন অস্বাভাবিক আচরণ করছে, এটা চিন্তা করা মোটেই অযৌক্তিক হওয়ার কথা নয়।
বুয়েট শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-
আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে ...
বুয়েট শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-
আপনাদের বুয়েটের অনেক বড় ভাই বিভিন্ন ফোন কোম্পানিতে চাকুরী করে। তাদের মাধ্যমে খবর নেন-
অমিত সাহা যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করে সেটা ঘটনার দিন কি বুয়েটের আশেপাশের কোন মোবাইল টাওয়ার নেটওয়ার্কের অধীনে ছিলো, নাকি ১ দিন আগ থেকে শাহজাহানপুর এলাকার মোবাইল টাওয়ার নেটওয়ার্কের আওতায় ছিলো। তাহলেই বের হবে অমিত সাহা সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে।
তখন আর ঘটনার জন্য আপনাদের স্বাক্ষী হতে হবে না, প্রযুক্তি বলে দেবে, অমিত সাহার অবস্থান।
পাশাপাশি তার কললিস্টটাও সংগ্রহ করে রাখেন। সেটা দিয়েও অনেক গোপন জিনিস বের হতে পারে।
বিষয়টি আবরার হত্যার মূল রহস্য উন্মোচনে জরুরী-
কারণ খুনী হয়েও মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বেচে যেতে পারে কোন কোন খুনি।
[মিডিয়া ও কিছু ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে অমিত প্রচার করছে- সে একদিন আগ থেকেই শাহজাহানপুর ছিলো- https://bit.ly/31521yk]
আবরার হত্যার কারণ হিসেবে যেটা উচ্চারণ হয়েছে,
আবরার হত্যার কারণ হিসেবে যেটা উচ্চারণ হয়েছে,
সেটা হলো তার ভারতবিরোধী ফেসবুক স্ট্যাটাস, লাইক, কমেন্ট।
আর এই হত্যার সাথে ঠাণ্ডা মাথার খুনি ও হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে অমিত সাহা।
স্বাভাবিকভাবে তাই কথা উঠেছে বাংলাদেশে বসবাস করা- অখণ্ডভারত তত্ত্বে বিশ্বাসী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি নিয়ে।
অনেকেই তাই বলছে- দেশী হিন্দুরা ভারতের দালাল, ভারতের বিরোধীতা করায় বাংলাদেশী দালাল দিয়ে তাকে হত্যা করছে ভারত।
স্বাভাবিকভাবেই তার দায় চাপছে বাংলাদেশের হিন্দু ও হিন্দু সংগঠনগুলোর উপর।
কিন্তু কথা হলো,
আমরাও কেও চাই না বাংলাদেশের হিন্দু বা হিন্দু সংগঠনগুলোকে দোষ পড়ুক, কিংবা তৈরী হোক কোন সাম্প্রদায়িক পরিবেশ।
কিন্তু সেই সাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরী না হতে দিতে বাংলাদেশের সাধারণ হিন্দু ও হিন্দু সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে । তাদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
অন্তত বিবৃতি দিতে হবে-
ভারতের আগ্রাসনবাদের বিরোধীতা করায় আরবারকে যে হত্যা করা হয়েছে, সেটা তারাও মেনে নিতে পারছে না। এর অপরাধী যেই ধর্মের হোক, আমরা তার সঠিক বিচার চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পাশ্ববর্তী কোন রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিকে আমরা সমর্থণ করতে পারি না, বরং তার বিরোধীতা করি।”
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের অবস্থান করা সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকল সংগঠনকে ( উদাহরণ- হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ইসকন, হিন্দু মহজোট, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, জাগো হিন্দু পরিষদসহ সকল সংগঠন) পৃথকভাবে অন্তত এইটুকু বিবৃতি দিতে হবে। তাদের উপর যে দায় আসতেছে সেটা বন্ধ করতে অন্তত এতটুকু হলেও বলতে হবে।
কিন্তু তারা যদি এক্ষেত্রে নিশ্চুপ থাকে, তখন কিন্তু সন্দেহ তৈরী হবে।
অনেকে বলবে- “তারমানে এটাই সত্য- হিন্দু মানেই ভারতের দালাল ।
র’ এর এজেন্ট । অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার সৈনিক। নয়ত চুপ কেন?”
আমার মনে হয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও হিন্দু সংগঠনগুলোকে এ বিষয়টি ক্লিয়ার করতে হবে দ্রুত।